বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ
Topic Ads 1
ফেসবুকে পরিচয়ের পর মুঠোফোনে বিয়ে, পরে প্রবাসী জানলেন তাঁর ‘স্ত্রী’ এক তরুণ

ফেসবুকে পরিচয়ের পর মুঠোফোনে বিয়ে, পরে প্রবাসী জানলেন তাঁর ‘স্ত্রী’ এক তরুণ

প্রায় ছয় মাস আগের কথা। ইতালি প্রবাসী খোরশেদ আলীর (৪৮) সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয় সুমাইয়া নামের এক নারীর। মেসেঞ্জারে কথোপকথনের পর তাঁরা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। একপর্যায়ে মুঠোফোনেই বিয়ের কাজ সারেন। এরপর ভিডিও কলে চেহারা দেখতে চাইলেও নানান অজুহাতে নিজেকে আড়ালে রেখেছিলেন সুমাইয়া। গতকাল বুধবার দুপুরে সুমাইয়াকে ভিডিও কল দিলে সেটি ধরেন নাটোরের লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম। ওসি খোরশেদকে জানান, নারী ভেবে যাঁকে তিনি বিয়ে করেছেন, তিনি আসলে নারী নন। তিনি শান্ত আলী নামের এক তরুণ। মেয়েলি কণ্ঠে কথা বলে তিনি এত দিন খোরশেদ আলীকে ঠকিয়ে টাকা নিয়েছেন। খোরশেদের দাবি, বিয়ের পর গত কয়েক মাসে ভরণপোষণসহ নানান কাজে তাঁর কাছ থেকে তিন লাখের বেশি টাকা নেন ওই তরুণ। ভিডিও কলে চেহারা দেখতে চাইলে মুঠোফোনের সামনের ক্যামেরা অকেজো থাকার কথা জানাতেন কথিত সুমাইয়া। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন অজুহাতেও নিজেকে আড়ালে রেখেছিলেন। পুলিশের ভাষ্য, প্রতারণার অভিযোগে গতকাল সকালে লালপুরের গন্ডবিল গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে শান্ত আলী ও তাঁর বাবা শহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের আটকের পরই কথিত সুমাইয়ার পরিচয় প্রকাশ পায়। পুলিশ ভিডিও কলে প্রথমবারের মতো কথিত স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার নামধারী শান্ত আলীকে দেখালে খোরশেদ আলী বলেন, ‘পৃথিবীতে এমন ধরনের প্রতারক থাকতে পারে, তা আমি কখনোই ভাবিনি। ওর সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত।’ পুলিশ জানায়, ২০ বছর বয়সী শান্ত আলী লেখাপড়া জানেন না। তবে প্রযুক্তির ব্যবহারে দক্ষ। মুঠোফোনে বিশেষ অ্যাপ ব্যবহার করে তিনি নারী কণ্ঠে কথা বলতে এবং খুদে বার্তা আদান-প্রদান করতে পারেন। শুধু তা-ই নয়, মুঠোফোনে বিয়ের পর কথিত সুমাইয়ার (শান্ত আলী) বাবা শহিদুল ইসলামের সঙ্গে বহুবার শ্বশুর হিসেবে কথা বলেছেন খোরশেদ আলী। তাঁর কথাবার্তায়ও শান্ত আলীর প্রতারণার বিষয়টি ধরা পড়েনি। পুলিশের ভাষ্য, শহিদুল ইসলাম বিষয়টি জেনেও ছেলেকে প্রতারণার কাজে সহায়তা করেছেন। গতকাল সকালে শান্ত ও শহিদুলকে গ্রেপ্তারের সময় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত দুটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়। এসব মুঠোফোনে খোরশেদ আলীর সঙ্গে খুদে বার্তা বিনিময়ের বহু প্রমাণ পাওয়া গেছে। খোরশেদ আলীর বরাত দিয়ে ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, শান্ত আলী প্রথমে একজন নারীর ছবি দিয়ে একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলেন। পরে ওই প্রবাসীর সঙ্গে মেসেঞ্জারে পরিচিত হন এবং কথাবার্তা শুরু করেন। ফেসবুকে ব্যবহৃত ওই নারীর তিনটি ছবিও তিনি খোরশেদ আলীকে পাঠান। ওসি বলেন, বাড়ির পাশের জমি কেনার কথা বলে একদিনে প্রায় দুই লাখ টাকা নিয়েছেন শান্ত আলী। এ ছাড়া দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার কথা বলেও টাকা নিয়েছেন। এভাবে মোট তিন লাখের বেশি টাকা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় শান্ত আলী ও শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় তাঁদের আদালতে পাঠানো হলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

চার দেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের সতর্ক করল দূতাবাস

রোমানিয়া, বুলগেরিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া ও মলদোভায় বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে সতর্ক ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বুখারেস্টের বাংলাদেশ দূতাবাস।জনসচেতনতামূলক এক বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানানো হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বর্তমানে যোগাযোগ, তথ্য আদান-প্রদান ও পারস্পরিক সম্পৃক্ততার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তবে সেখানে প্রকাশিত বা শেয়ার করা পোস্ট, মন্তব্য, ছবি ও ভিডিও অনেক সময় আইনি বা অন্য ধরনের জটিলতার কারণ হতে পারে।বিশেষ করে ধর্ম, রাজনীতি, জনশৃঙ্খলা, জাতীয় নিরাপত্তা এবং অন্যান্য সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে কোনো কনটেন্ট প্রকাশ বা শেয়ারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে দূতাবাস।কোনো পোস্ট বা তথ্য শেয়ার করার আগে সেটি ভালোভাবে যাচাই এবং তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে দূতাবাস বলেছে, সংশ্লিষ্ট দেশের আইনের পরিপন্থি, হুমকিমূলক, উসকানিমূলক, বৈষম্যমূলক বা আপত্তিকর হিসেবে বিবেচিত হতে পারে—এমন কোনো কনটেন্ট প্রকাশ বা শেয়ার করা উচিত নয়।এ ছাড়া কোনো কনটেন্টের মাধ্যমে সহিংসতা বা উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করা হচ্ছে বলে মনে হতে পারে, এমন বিষয় থেকেও বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের স্থানীয় আইন ও বিধিবিধানের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস। একই সঙ্গে স্থানীয় সামাজিক মূল্যবোধ ও সংবেদনশীলতার প্রতি যথাযথ সম্মান রেখে নিরাপদ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দায়িত্বশীল ব্যবহার ব্যক্তিকে সম্ভাব্য আইনি ও অন্যান্য অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতা থেকে সুরক্ষিত রাখতে সহায়তা করে। পাশাপাশি বিদেশে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশি নাগরিকদের মর্যাদা ও ইতিবাচক ভাবমূর্তি বজায় রাখতেও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। রোমানিয়া, বুলগেরিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া ও মলদোভায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের সচেতন ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সংযত, সম্মানজনক ও আইনসম্মতভাবে ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস।

চার দেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের সতর্ক করল দূতাবাস