বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ
Topic Ads 1
নেপালিরা এখন বন্যায় বিধ্বস্ত, মরদেহে বিপর্যস্ত

নেপালিরা এখন বন্যায় বিধ্বস্ত, মরদেহে বিপর্যস্ত

নদী দিয়ে এখনো মরদেহ ভেসে আসছে। আশপাশে জমে থাকা কাদার স্তূপ আলকাতরার মতো ঘন আকার ধারণ করেছে। সেখানেও লাশ পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু হাসপাতালের মর্গগুলোতে আর জায়গা খালি নেই। যেসব দেহ উদ্ধার হয়েছে, সেগুলোর পরিচয় দ্রুত শনাক্তের জন্য স্বজনদেরকে পাওয়ারপয়েন্ট স্লাইডশোর মাধ্যমে ছবি দেখানো হচ্ছে। বন্যায় বিধ্বস্ত হওয়ার পর নেপালিরা এখন মরদেহ নিয়ে এক বিপর্যস্ত অবস্থার মধ্যে পড়েছে। অনেক মরদেহ এমনভাবে বিকৃত হয়ে গেছে যে চেনার উপায় নেই। সেগুলো পাওয়া যাচ্ছে বসতবাড়ি থেকে বহু দূরের এলাকাতে। নিরাপদে সংরক্ষণের জায়গা ফুরিয়ে আসায় ভারতপুর জেলায় ইতোমধ্যে গণকবর দেওয়া শুরু হয়েছে। প্রতিটি মরদেহে ট্যাগ ও একটি অবস্থান নম্বর লাগানোর আগে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এরপর মরদেহগুলো প্লাস্টিকের ব্যাগে মুড়িয়ে গণকবরে রাখা হচ্ছে। পুলিশের ভাষ্য, পরবর্তীতে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে স্বজনরা এসব দেহ শনাক্ত করতে পারবেন।  দেশটিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মরদেহ উদ্ধার হয়েছে চিতওয়ান জেলায়। সেখানে নদীর তীরজুড়ে ২৫০টির বেশি দেহ পাওয়া গেছে। বিকৃত হওয়ার কারণে মাত্র নয়টির পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। এই জেলার জঙ্গলেও গণকবর তৈরি করা হয়েছে।  মরদেহ শনাক্তকরণের প্রক্রিয়া দ্রুত করতে স্থানীয় কর্মকর্তারা এক ‘মর্মান্তিক’ পদ্ধতি বেছে নিয়েছেন। তারা স্বজনদেরকে মরদেহগুলোর ছবি দেখতে বলছেন। শনাক্ত করার মতো বৈশিষ্ট্য খুঁজে দেখতে বলা হচ্ছে। যেমন- গলার হার, বিয়ের আংটি, উল্কি বা শরীরের কোনো ক্ষতচিহ্ন।  উদ্ধার করা মরদেহগুলোর ছবি পাওয়ারপয়েন্ট স্লাইডশোতে সাজানো হয়েছে। স্বজনদেরকে ধৈর্য নিয়ে একটির পর আরেকটি ছবি দেখতে হচ্ছে। ছবিগুলো নেপাল পুলিশের ওয়েবসাইটেও আপলোড করা হয়েছে। রাজধানী কাঠমান্ডুর একটি মর্গের বাইরের দেয়ালেও ভেতরে থাকা মরদেহগুলোর ছবি টানানো হয়েছে। নেপাল ও তিব্বতে এখনো ৩ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ আছেন বলে জানা যাচ্ছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অনেক এলাকায় এখনো পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। কাদা, পানি ও ধ্বংসাবশেষের স্রোতে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া গ্রামগুলোতে কেবল সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার পৌঁছাতে পারছে। রোববার নেপালের পররাষ্ট্রসচিব অমৃত বাহাদুর রাই বলেন, নিহতদের মরদেহ নিরাপদে সংরক্ষণের জন্য সরকার ১ হাজারের বেশি ফ্রিজার ইউনিট চেয়েছে। নদী উপত্যকার কিছু নিচু এলাকায় এখনো সড়কপথে যাওয়া যাচ্ছে। সেখানে কাদার নিচে চাপা পড়ে থাকা মরদেহ উদ্ধারে হিমশিম খাচ্ছেন অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারীরা।  ত্রিশূলী নদীর তীরের শহর দেবীঘাটে পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট আমাবাদুত্ত ভট্ট বলেন, ‘এটি অত্যন্ত কঠিন কাজ। এখান থেকে আমরা ১০টি মরদেহ উদ্ধার করেছি। বেশিরভাগ বাড়ির প্রথম ও দ্বিতীয় তলা ধ্বংস হয়ে গেছে। সব কাদা সরাতে অনেকদিন লাগবে। তখন মরদেহের আর কী অবশিষ্ট থাকবে, কে জানে।’ দেবীঘাটে বন্যা থেকে বেঁচে যাওয়া মানুষগুলো ধীরে ধীরে নিজেদের ঘরবাড়ির জায়গায় ফিরছেন। সেখানে অনেক বাড়িই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। ৪৯ বছর বয়সী উষা নেপালির বাড়িতে অবশিষ্ট বলতে আছে শুধু কয়েকটি কংক্রিটের ব্লক ও বেঁকে যাওয়া ধাতব কাঠামো। এই বাড়িতেই তিনি চার সন্তান ও তিন নাতি-নাতনিকে বড় করেছেন। কাঁদতে কাঁদতে উষা নেপালি বলেন, ‘এখানেই আমার জীবনের সবকিছু দিয়েছি। এখন জানি না কোথায় যাব, কী করব। গায়ের কাপড় ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। এই জমি এখন আর নিরাপদ নয়, কিন্তু এটাই আমাদের শেষ সম্বল।’ ত্রিশূলী নদীর পাশে বসবাস যে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে তা রোববার আরেকবার দেখা যায়। নদীর পানি হঠাৎ বিপজ্জনকভাবে বেড়ে গেলে উদ্ধারকারীরা দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যান। এরপর দেবীঘাটের অনেক বাসিন্দা ঘরে অবশিষ্ট থাকা কিছু জিনিসপত্র গুছিয়ে নিতে শুরু করেন। তাদের অনেকে স্থায়ীভাবে অন্য এলাকায় পাড়ি জমাবেন। বন্যার সতর্কবার্তা পাওয়ার পরের কয়েক মিনিটে শুধু নিজের স্বর্ণের গয়না নেওয়ার সময় পেয়েছিলেন ৩৬ বছর বয়সী যমুনা মাগার। বাড়ির ধ্বংসাবশেষের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, দেবীঘাটে এরপর কীভাবে বসবাস করবেন তা বুঝতে পারছেন না। যমুনা বলেন, ‘আমরা এর আগেও বন্যার মুখোমুখি হয়েছি। কিন্তু কখনো এমন বন্যার কথা ভাবিনি। আমাদের যা কিছু ছিল, সবই হারিয়ে গেছে। নিজের জীবন, সন্তানদের নিয়ে আমি এতটাই চিন্তিত যে এখানে আর থাকতে চাই না।’

নেপালে এখনো নিখোঁজ শত শত বিদেশি নাগরিক

নেপালে আকস্মিক বন্যার পর এখনো শত শত বিদেশি পর্যটকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নেপাল পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একাধিক দেশের নাগরিক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। বিভিন্ন দেশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী নিখোঁজের তালিকা: ভারত: দিল্লির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ২৭৫ জন ভারতীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। চীন: চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১০০ জন চীনা নাগরিকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্র: মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৯০ জন মার্কিন নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। ইউক্রেন: নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বন্যার পর থেকে ৬২ জন ইউক্রেনীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। মালয়েশিয়া: ফিশটেইল ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের সঙ্গে ভ্রমণরত ৫১ জন মালয়েশীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়া: অস্ট্রেলিয়ার সহকারী অভিবাসনমন্ত্রী জানিয়েছেন, ৪৩ জন অস্ট্রেলীয় নাগরিকের এখনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। যুক্তরাজ্য: নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৩৩ জন ব্রিটিশ নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। এ ছাড়া চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভির প্রতিবেদনে তিব্বতে ১৫ জন ব্রিটিশ নাগরিক নিখোঁজ থাকার কথা বলা হয়েছে। তবে তাদের মধ্যে কতজন নেপালের নিখোঁজের তালিকায় রয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়। কানাডা: কানাডার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৩০ জন কানাডীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডস ও নিউজিল্যান্ডের কয়েকজন পর্যটকও নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন বলে জানা গেছে। নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের উদ্ধারে নেপালে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নেপালে এখনো নিখোঁজ শত শত বিদেশি নাগরিক

চীনের তিব্বতে ২৩ দেশের ২৬১ জনসহ নিখোঁজ ৫৪৬, বাড়ছে মৃতের সংখ্যা

চীন-নেপাল সীমান্তে তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের জিরং পোর্টে কাদা ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়াও ২৩টি দেশের ২৬১ জন বিদেশী নাগরিকসহ মোট ৫৪৬ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। রোববার (৩০ আগস্ট) আনাদোলু এজেন্সির বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। চীনা পররাষ্ট্র, জননিরাপত্তা, সংস্কৃতি ও পর্যটন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের যৌথ অনুসন্ধান ও তথ্য যাচাইয়ের পর এই সর্বশেষ পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়। বেইজিংভিত্তিক সিনহুয়া সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, চীন সীমান্ত এলাকার মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় আন্তর্জাতিক উদ্ধার ও তথ্য আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে নেপালের ১০৪ জন, ভারতের ৪৯ জন, লাটভিয়ার ৩৩ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ জন, ব্রিটেনের ১৫ জন, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার ৬ জন করে, দক্ষিণ আফ্রিকার ৪ জন, মালয়েশিয়া, জার্মানি ও রাশিয়ার ৩ জন করে, আয়ারল্যান্ড, এস্তোনিয়া, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস ও নিউজিল্যান্ডের ২ জন করে এবং কাজাখস্তান, ফিনল্যান্ড, লিথুয়ানিয়া, পর্তুগাল, ইউক্রেন, স্পেন ও হাঙ্গেরির ১ জন করে নাগরিক রয়েছেন। চাইনিজ কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দূতাবাস ও কনস্যুলেটকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছে। এদিকে পাশ্ববর্তী দেশ নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩৪ জনে পৌঁছেছে এবং প্রায় ২ হাজার ৫০০ জন মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে সরকারী হিসাব ও স্থানীয় গণমাধ্যম থেকে জানা গেছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

চীনের তিব্বতে ২৩ দেশের ২৬১ জনসহ নিখোঁজ ৫৪৬, বাড়ছে মৃতের সংখ্যা

‘যোদ্ধার’ মতো বেঁচে ফেরা ৯৭ বছরের বৃদ্ধা এখন নেপালের নতুন প্রতীক

নেপালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া ৯৭ বছর বয়সী গুণ মায়া বোহারা উদ্ধার পেয়ে আশার প্রতীক ও বন্যার নতুন মুখ হয়ে উঠেছেন।  রোববার (৩০ আগস্ট) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চার ঘণ্টার দীর্ঘ চেষ্টার পর পুলিশ ও নেপাল সেনাবাহিনী তাকে একটি এক্সেভেটর বা কোদালের ভেতরে বসিয়ে নিরাপদে বের করে আনে। একটি বৃদ্ধাশ্রম ভেঙে পড়ার পর গুণ মায়া বোহারা তার ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে বিবিসি নেপালি। খবর পেয়ে কাঠমান্ডু থেকে ছুটে আসা তার নাতি দীপক বোহারা জানান, উদ্ধারপ্রাপ্ত বৃদ্ধাকে যুদ্ধ জয় করে ফেরা ‘এক যোদ্ধার’ মতো দেখাচ্ছিল। এক্সেভেটরের বাকেটে করে কাদামাখা পোশাকে এই বৃদ্ধাকে নিয়ে আসার দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তিনি কীভাবে এই ধ্বংসস্তূপের নিচে বেঁচে ছিলেন তা বলতে পারছেন না বলে দ্য টাইমসের বরাতে ল্য পারিসিয়েন জানিয়েছে। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। রসুয়া জেলায় হিমবাহ ধসের কারণে ভোটেকোশী নদীতে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় এ পর্যন্ত অন্তত ৬৭৬টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ৩০০ জনেরও বেশি ভারতীয় নাগরিকসহ প্রায় ৩ হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। দেশটির আবহাওয়া বিভাগ নতুন করে বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সতর্কতা জারি করায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নেপালের অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগলে জানিয়েছেন, এই মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির পর পুনর্গঠন কাজের জন্য দেশটিকে ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন হবে, যা তাদের পুরো অর্থনীতির প্রায় দশ ভাগের এক ভাগ।

‘যোদ্ধার’ মতো বেঁচে ফেরা ৯৭ বছরের বৃদ্ধা এখন নেপালের নতুন প্রতীক

ভয়াবহ বন্যার ক্ষত না শুকাতেই নেপালে ফের বন্যার সতর্কতা

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় শুক্রবারও (২৮ আগস্ট) কাদা ও ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। এর মধ্যেই নতুন করে তৈরি হওয়া একটি হ্রদ পানিতে উপচে পড়ায় ফের বন্যা দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এ খবর জানিয়েছে। নেপালের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতায় নিয়োজিত সব নিরাপত্তা কর্মী, উদ্ধারকর্মী এবং সাধারণ জনগণকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকতে বলা হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নেপাল পুলিশের মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফলে এপিকে বলেন, কর্তৃপক্ষ উচ্চ সতর্কতায় থাকলেও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি জানান, উদ্ধার কাজ বন্ধ হয়নি। চীনা রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভিতে প্রদর্শিত স্যাটেলাইট চিত্র থেকে জানা গেছে, বুধবার যে স্থানে হিমবাহ ধসের ঘটনা ঘটেছিল ঠিক একই এলাকায় নতুন এই হ্রদটি তৈরি হয়েছে। নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্যাটেলাইট চিত্র এবং প্রাথমিক মূল্যায়নে দেখা গেছে যে নদীর উজানের গতিপথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এর ফলে একটি বর্ধমান হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে, যা যেকোনও সময় ফেটে গিয়ে নিম্নাঞ্চলে হঠাৎ আবার বন্যা ঘটাতে পারে।

ভয়াবহ বন্যার ক্ষত না শুকাতেই নেপালে ফের বন্যার সতর্কতা

নতুন করে উপচে পড়ল হ্রদ, প্রাণে বাঁচতে ফের ছুটছে নেপাল-তিব্বতের মানুষ

নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তে ভূমিধসে সৃষ্ট একটি কৃত্রিম হ্রদের পানি উপচে পড়তে শুরু করায় ভাটি অঞ্চলে নতুন করে বিধ্বংসী বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সীমান্তসংলগ্ন দুই দেশেই উদ্ধার তৎপরতা সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। নদীর পানি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার শঙ্কায় নেপালের রাসুয়া জেলাসহ ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ছেড়ে উঁচু পাহাড়ে আশ্রয় নিতে শুরু করেছেন। হ্রদটির প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে বড় ধরনের জলচ্ছ্বাসের আশঙ্কায় চীনের সব উদ্ধারকর্মী ও প্রয়োজনীয় যানবাহনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি নিশ্চিত করেছে। নেপাল অংশেও উদ্ধার তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। চীনা প্রকৌশলীদের তথ্যানুযায়ী, শুক্রবার হ্রদটিতে আটকে থাকা পানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫ লাখ ঘনমিটারে, যা আগের দিনের হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি। সম্ভাব্য বিপর্যয় ঠেকাতে আকাশপথে ড্রোনের মাধ্যমে হ্রদের ত্রিমাত্রিক নকশা তৈরি করে সার্বিক পরিস্থিতি নজরদারি করছে চীনের একটি বিশেষজ্ঞ দল। গত বুধবার হিমবাহ ধসের পর পাহাড়ি নদী দিয়ে নেমে আসা কাদা, পাথর ও বরফের তীব্র স্রোতে নেপালে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে প্রায় এক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ৫৪০ জন বিদেশি পর্যটক ও তীর্থযাত্রী রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ওই আকস্মিক বন্যায় কাঠমান্ডুর সঙ্গে তিব্বতের লাসাকে যুক্তকারী গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, একাধিক জলবিদ্যুৎকেন্দ্র, কালভার্ট ও পাকা সেতু ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়ে পুরো এলাকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। নেপালের রাসুয়া জেলার জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা নরেন্দ্র পারিয়ার জানিয়েছেন, হ্রদের পানি বৃদ্ধির পর স্থানীয় জনপদে জরুরি সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে এবং নদীতীরবর্তী অঞ্চলে পানির উচ্চতা ক্রমেই বাড়ছে। অন্যদিকে চীনের জিরং কাউন্টিতেও ধ্বংসস্তূপ জমে থাকায় শুক্রবার পর্যন্ত সীমান্ত পারাপার এলাকায় পৌঁছাতে পারেননি চীনা উদ্ধারকর্মীরা। সিসিটিভির তথ্য অনুযায়ী, তিব্বতের এই অংশে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন এবং ২৬০ জন বিদেশি নাগরিকসহ নিখোঁজ রয়েছেন ৫৫৮ জন। হিমালয় অঞ্চলের এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় নেপালকে সব ধরনের জরুরি সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এই পরিস্থিতিকে অভূতপূর্ব উল্লেখ করে বলেন, ‘এমন বিধ্বংসী রূপ আগে কখনো দেখা যায়নি, যেখানে অত্যন্ত মজবুত ও সুনির্মিত ভবনগুলো টুথপিকের মতো নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এটি অত্যন্ত ভয়াবহ এক দুর্যোগ। আমরা সেখানে সহায়তা পাঠাচ্ছি এবং দেশটির নেতাদের জানিয়ে দিয়েছি যে তাদের প্রয়োজনে যা চাওয়া হবে, আমরা তা-ই সরবরাহ করব।’

নতুন করে উপচে পড়ল হ্রদ, প্রাণে বাঁচতে ফের ছুটছে নেপাল-তিব্বতের মানুষ

টানা ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত দিল্লি, রেড অ্যালার্ট জারি

টানা দুই দিনের ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লি। প্রবল বর্ষণের কারণে শহরের বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় আবহাওয়া দপ্তর রেড অ্যালার্ট জারি করেছে।মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের এক বিজ্ঞপ্তির বরাতে জানা গেছে, প্রতিকূল আবহাওয়া থাকলেও দিল্লি বিমানবন্দরের ফ্লাইট চলাচল বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।ভারতের আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি) মঙ্গলবার সকাল পৌনে সাতটার পূর্বাভাসে জানায়, দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় পরবর্তী তিন ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত এবং ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।সোমবার অতিবৃষ্টির কারণে দিল্লির বিভিন্ন সড়কে হাঁটুপানি জমে যায়। সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। খারাপ আবহাওয়ার কারণে ওই দিন তিনটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটসহ মোট ১৫টি ফ্লাইট জয়পুর, চণ্ডীগড় ও লখনউতে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়।আইএমডির বিজ্ঞানী ড. শশী কান্ত জানান, উত্তর দিক থেকে আসা শুষ্ক বাতাসের সঙ্গে বঙ্গোপসাগরের লঘুচাপ থেকে আসা জলীয় বাষ্পপূর্ণ পুবালি বাতাসের সংঘর্ষের ফলে দিল্লিতে টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এদিকে ভারী বৃষ্টিতে দিল্লির পার্শ্ববর্তী গুরগাঁওয়ের রাজীব চক, ইফকো চক ও রেলওয়ে রোডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কও পানিতে ডুবে গেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় স্থানীয় প্রশাসন স্কুলের কার্যক্রম অনলাইনে পরিচালনা এবং অফিসগুলোতে কর্মীদের ঘরে থেকে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে।

টানা ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত দিল্লি, রেড অ্যালার্ট জারি

টানা ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত দিল্লি, রেড অ্যালার্ট জারি

টানা দুই দিনের ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লি। প্রবল বর্ষণের কারণে শহরের বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় আবহাওয়া দপ্তর রেড অ্যালার্ট জারি করেছে।মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের এক বিজ্ঞপ্তির বরাতে জানা গেছে, প্রতিকূল আবহাওয়া থাকলেও দিল্লি বিমানবন্দরের ফ্লাইট চলাচল বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।ভারতের আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি) মঙ্গলবার সকাল পৌনে সাতটার পূর্বাভাসে জানায়, দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় পরবর্তী তিন ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত এবং ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।সোমবার অতিবৃষ্টির কারণে দিল্লির বিভিন্ন সড়কে হাঁটুপানি জমে যায়। সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। খারাপ আবহাওয়ার কারণে ওই দিন তিনটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটসহ মোট ১৫টি ফ্লাইট জয়পুর, চণ্ডীগড় ও লখনউতে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়।আইএমডির বিজ্ঞানী ড. শশী কান্ত জানান, উত্তর দিক থেকে আসা শুষ্ক বাতাসের সঙ্গে বঙ্গোপসাগরের লঘুচাপ থেকে আসা জলীয় বাষ্পপূর্ণ পুবালি বাতাসের সংঘর্ষের ফলে দিল্লিতে টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এদিকে ভারী বৃষ্টিতে দিল্লির পার্শ্ববর্তী গুরগাঁওয়ের রাজীব চক, ইফকো চক ও রেলওয়ে রোডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কও পানিতে ডুবে গেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় স্থানীয় প্রশাসন স্কুলের কার্যক্রম অনলাইনে পরিচালনা এবং অফিসগুলোতে কর্মীদের ঘরে থেকে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে।

টানা ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত দিল্লি, রেড অ্যালার্ট জারি