মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ
Topic Ads 1
বাড়ির ছাদে জিনসেং চাষ করে সফলতা দেখছেন আইনুল

বাড়ির ছাদে জিনসেং চাষ করে সফলতা দেখছেন আইনুল

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার মধ্য দৌলতপুর গ্রামের আইনুল ইসলাম চাকরির পাশাপাশি জিনসেং চাষ করে বাড়তি আয়ের পথ তৈরি করেছেন। প্রথমে বাড়ির ছাদে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ শুরু করলেও সাফল্য পাওয়ার পর এখন ১০ কাঠা জমি চুক্তিতে নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে জিনসেং আবাদ করছেন তিনি। ওই জমিতে রয়েছে প্রায় ১০ হাজার জিনসেং গাছ।স্নাতক পাস করা আইনুল স্থানীয় একটি ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে চাকরি করেন। পাশাপাশি জিনসেং চাষ ও বিক্রি করে পাওয়া আয় দিয়ে স্ত্রী, দুই মেয়ে ও বাবা-মাসহ ছয় সদস্যের সংসার চালাচ্ছেন। তার দাবি, এই অতিরিক্ত আয়ের কারণে সংসারে আর্থিক স্বচ্ছলতা এসেছে।আইনুল ইসলাম জানান, ২০২০ সালে করোনাকালে ইউটিউবের মাধ্যমে ঔষধি উদ্ভিদ জিনসেং সম্পর্কে জানতে পারেন তিনি। চাষের জন্য জমি না থাকায় বাড়ির ছাদেই বস্তায় বেলে দোআঁশ মাটি ভরে জিনসেংয়ের চারা রোপণ করেন। ইউটিউব থেকে শেখা পদ্ধতি অনুসরণ করে এক বছরের মধ্যে ভালো ফলন পান। পরে উৎপাদিত গাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করে ছাদের পাশাপাশি চুক্তিতে নেওয়া জমিতেও বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু করেন।মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়ির ছাদে লাগানো জিনসেং গাছের পরিচর্যা করছেন আইনুল। তাকে সহযোগিতা করছেন স্ত্রী হাসিনা আক্তার। আইনুল জানান, একটি জিনসেং গাছ পরিপূর্ণ হতে প্রায় এক বছর সময় লাগে এবং সারা বছরই এর মূল সংগ্রহ করা যায়।জিনসেং সংগ্রহের পর তা রোদে শুকিয়ে গুঁড়া করেন আইনুল। পরে অনলাইন ও স্থানীয়ভাবে সেই পাউডার বিক্রি করেন। প্রতি ১০০ গ্রাম জিনসেং পাউডার বিক্রি করছেন ১ হাজার ২০০ টাকায়।আইনুলের ভাষ্য, ইট, বস্তা, বাঁশ ও জৈব সারসহ বিভিন্ন খরচ বাদ দিয়ে জিনসেং চাষ থেকে প্রতি মাসে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা আয় হয়। চাকরির পাশাপাশি এই বাড়তি আয় তার পরিবারের আর্থিক অবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে।জিনসেং চাষের বিষয়ে আইনুল বলেন, ইন্টারনেটে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, ঔষধি এই উদ্ভিদের বিভিন্ন ব্যবহার রয়েছে এবং বাজারে এর চাহিদাও রয়েছে। তুলনামূলক কম শ্রমে চাষ করা যায় বলে ফাঁকা পড়ে থাকা ছাদেও এটি আবাদ করা সম্ভব। এ কারণেই অন্য ফসলের পরিবর্তে জিনসেং চাষকে বেছে নিয়েছেন তিনি।স্থানীয় কয়েকজন ওষুধ বিক্রেতা জানান, বিভিন্ন ভেষজ ও খাদ্যপণ্যে জিনসেং ব্যবহার করা হয়। বাজারে চাহিদা থাকায় তারা আইনুলের কাছ থেকে জিনসেং পাউডার কিনে বিক্রি করেন। বাগমারা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক বলেন, ঔষধি উদ্ভিদ হিসেবে জিনসেংয়ের বিভিন্ন ব্যবহার রয়েছে। মানুষের চাহিদার কথা বিবেচনা করে আইনুল ইসলাম বাণিজ্যিকভাবে জিনসেং চাষের উদ্যোগ নিয়েছেন। এটি একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ।