বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ
Topic Ads 1
দেশে ১৮ বছরের আগেই বিয়ে হচ্ছে ৪৭.২ শতাংশ নারীর : ইউনিসেফ

দেশে ১৮ বছরের আগেই বিয়ে হচ্ছে ৪৭.২ শতাংশ নারীর : ইউনিসেফ

বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ এখনো বড় উদ্বেগের বিষয়। ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের ৪৭ দশমিক ২ শতাংশের বিয়ে হয়েছে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই। তাদের মধ্যে ১৩ দশমিক ৪ শতাংশের বিয়ে হয়েছে ১৫ বছর বয়সের আগেই। বাংলাদেশ মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (এমআইসিএস) ২০২৫-এর তথ্য তুলে ধরে এ চিত্র জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)। সংস্থাটি বলছে, বাল্যবিবাহ বন্ধ, মেয়েদের শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। বাংলাদেশে তিন দিনের সফর শেষে শিশুদের কল্যাণে তিনটি জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল। তার প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে বাল্যবিবাহ বন্ধ করে মেয়েদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগের সরকারি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন এবং রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা। ইউনিসেফের মতে, বাল্যবিবাহের কারণে মেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। একই সঙ্গে অল্প বয়সে গর্ভধারণের ঝুঁকি তৈরি হয়। এতে তাদের শারীরিক সুস্থতা ও ব্যক্তিগত বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয় এবং ভবিষ্যতে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে। বাংলাদেশ সফরের সময় ঢাকার কড়াইল বস্তির পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেন ক্যাথরিন রাসেল। এ ছাড়া কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পাওয়া ১৪ বছর বয়সী বুশরার সঙ্গে সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ক্যাথরিন রাসেল বলেন, ইউনিসেফের সহায়তায় পরিচালিত একটি শিশু সুরক্ষা কেন্দ্রের কমিউনিটি নেতারা বুশরার বাবাকে সঙ্গে নিয়ে তাকে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা করেছেন। তিনি বলেন, মেয়েদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা গেলে তা তাদের, তাদের কমিউনিটি ও বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়তে সহায়তা করবে। ঢাকা সফরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ক্যাথরিন রাসেল। এ সময় শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর সরকারি অঙ্গীকারের প্রশংসা করেন তিনি। পাশাপাশি সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন। ক্যাথরিন রাসেল বলেন, বাজেটের মধ্য দিয়েই অগ্রাধিকার প্রতিফলিত হয়। শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও সুরক্ষায় বিনিয়োগ মানে বাংলাদেশের ভবিষ্যতে বিনিয়োগ। রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না করার আহ্বান জানিয়ে ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক বলেন, সহিংসতা, বাস্তুচ্যুতি ও অনিশ্চয়তায় রোহিঙ্গা শিশুরা অনেক কিছু হারিয়েছে। এখন তাদের শিক্ষা থেকেও বঞ্চিত হতে দেওয়া যাবে না। এ শিশুদের পাশাপাশি আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর শিশুদের জন্যও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

কেরানীগঞ্জে ১১ বছরের শিশুর বিয়ে, বর-কনের বাবা-ঘটকের কারাদণ্ড

ঢাকার কেরানীগঞ্জে ১১ বছরের এক শিশুর বাল্যবিবাহের ঘটনায় বর, মেয়ের বাবা ও ঘটককে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই ঘটনায় ছেলের বোনকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া বিয়ের সঙ্গে জড়িত কাজীকে আটকের চেষ্টা চলছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) কেরানীগঞ্জ উপজেলার শাক্তা ইউনিয়নের রামেরকান্দা ও কোলচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এসব দণ্ড দেওয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—বর ফরহাদ (১৯), মেয়ের বাবা আজিজুল হক (৪০) এবং ঘটক হাসান (৪৫)। এর মধ্যে বর ফরহাদকে এক মাসের কারাদণ্ড এবং আজিজুল হক ও ঘটক হাসানকে ১৫ দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ছেলের বোনকে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। জানা গেছে, প্রায় এক সপ্তাহ আগে রামেরকান্দা গ্রামের ভাড়াটে ১১ বছর বয়সী ওই মেয়ের সঙ্গে কোর্ট ম্যারেজ হয় কোলচর গ্রামের ভাড়াটে ফরহাদের। বাল্যবিবাহের বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে। মেয়ের বাবা আজিজুল হকের অভিযোগ, তার মেয়েকে ছেলের পরিবারের লোকজন জোর করে বিয়ে করেছে। এ বিয়েতে তাদের পরিবারের কোনো সম্মতি ছিল না এবং কোনো কাগজে তারা স্বাক্ষরও করেননি। তিনি বলেন, আমরা বিচার চাইতে এসে আসামি হলাম। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ছেলের মা বলেন, দুই পক্ষের সম্মতিতেই বিয়ে হয়েছে। তার দাবি, তারা বড় মেয়েকে দেখতে গিয়েছিলেন। পরে মেয়ের পরিবারের আগ্রহেই ছোট মেয়ের সঙ্গে তার ছেলের বিয়ে দেওয়া হয়। ছেলের মায়ের আরও অভিযোগ, তৃতীয় পক্ষের একজন তাদের কাছে দুই বোতল মদ চেয়েছিলেন। সেই আবদার পূরণ করতে না পারায় পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে ঝামেলা তৈরি হয়েছে। কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওমর ফারুক বলেন, বাল্যবিবাহ বন্ধে উপজেলা প্রশাসন বদ্ধপরিকর। বিষয়টি জানতে পেরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। বাল্যবিবাহ আয়োজন ও সহযোগিতার দায়ে বর, মেয়ের বাবা ও ঘটককে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কাজীকেও আটকের চেষ্টা চলছে।

কেরানীগঞ্জে ১১ বছরের শিশুর বিয়ে, বর-কনের বাবা-ঘটকের কারাদণ্ড