বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ
Topic Ads 1
বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে মারামারি, সেই শিক্ষক দম্পতিকে দুই প্রান্তে বদলি

বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে মারামারি, সেই শিক্ষক দম্পতিকে দুই প্রান্তে বদলি

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে মারামারির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনায় আসা শিক্ষক দম্পতিকে একই উপজেলার দুই প্রান্তের দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দূরত্ব প্রায় ৩২ কিলোমিটার। প্রথমে সহকারী শিক্ষক আছমা খাতুনকে বদলি করা হয়। পরে তার স্বামী ও আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেনকেও অন্য বিদ্যালয়ে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) ময়মনসিংহ বিভাগীয় উপপরিচালক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেনকে বৈদ্যবাড়ি পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলির আদেশ দেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম সহকারী শিক্ষক আছমা খাতুনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করে তাকে কাহালগাঁও দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করেন। বদলির আদেশ অনুযায়ী, আফজাল হোসেনকে উপজেলার উত্তর প্রান্তের বৈদ্যবাড়ি পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং তার স্ত্রী আছমা খাতুনকে দক্ষিণ প্রান্তের কাহালগাঁও দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। বিদ্যালয় দুটি উপজেলার দুই প্রান্তে অবস্থিত। ফলে এক বিদ্যালয় থেকে অন্যটির দূরত্ব প্রায় ৩২ কিলোমিটার। গত ৫ অক্টোবর ফুলবাড়ীয়া উপজেলার রাঙামাটিয়া ইউনিয়নের আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে শিক্ষক দম্পতির ধস্তাধস্তি ও মারামারির একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার ১০ থেকে ১২ দিন আগে বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে ওই দুই শিক্ষকের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। ২০০৪ সালে তাদের বিয়ে হয়। তাদের এক মেয়ে রয়েছে। উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। প্রায় ১৪ বছর ধরে আফজাল হোসেন ও আছমা খাতুন আলাদা থাকছেন। পারিবারিক বিরোধের জেরে তাদের মধ্যে আদালতে মামলাও চলছে। দুজনই ২০১১ সালের দিকে আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেন। দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের প্রভাব তাদের কর্মস্থলেও পড়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বিদ্যালয়ে তাদের মধ্যে একাধিকবার প্রকাশ্যে ঝগড়া হওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, পরিস্থিতির প্রভাবে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা কমতে থাকে। অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করান। ঘটনার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তদন্ত করেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন বলেন, আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেনকে বৈদ্যবাড়ি পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। এর আগে সহকারী শিক্ষক আছমা খাতুনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করে তাকেও অন্য বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়। তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ঘটনার দৃশ্য দেখা গেছে। শিক্ষক দম্পতির মধ্যে আগে থেকেই মনোমালিন্য ও ঝগড়াঝাঁটি ছিলো। ঘটনার দিন পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের এক সাবেক সহকর্মীর মাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে।

নিজ জেলায় রাষ্ট্রপতি ফখরুলের প্রথম সফর, উচ্ছ্বসিত ঠাকুরগাঁও

রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আসছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আগামী ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর দুই দিনের সরকারি সফরে জন্মভূমি ঠাকুরগাঁওয়ে অবস্থান করবেন তিনি। তাঁর আগমন ঘিরে পুরো জেলায় বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে ঠাকুরগাঁও শহরের বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সাজানো হয়েছে আলোকসজ্জা, বর্ণিল তোরণ, ব্যানার ও ফেস্টুনে। প্রিয় নেতাকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবার নিজ জেলায় বরণ করে নিতে প্রস্তুতি নিয়েছেন স্থানীয়রা। সফরের প্রথম দিন ৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে রাষ্ট্রপতিকে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়ার আয়োজন করা হয়েছে। এতে সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা। ঠাকুরগাঁও নাগরিক সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. আবু মোহাম্মদ খয়রুল কবির বলেন, ‘আমাদের ঘরের সন্তান দেশের সর্বোচ্চ পদে আসীন হয়েছেন—এটি ঠাকুরগাঁওবাসীর জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে একটি স্মরণীয় ও জমকালো সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’ রাষ্ট্রপতির এ সফরে ঠাকুরগাঁওবাসীর জন্য রয়েছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন। সফরের দ্বিতীয় দিন ৭ সেপ্টেম্বর তিনি ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে জামালপুর এলাকায় এ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। এ নিয়ে জেলার শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিক্ষানুরাগীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁও শহর ও তাঁর যাতায়াতের পথে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। অনুষ্ঠানস্থল ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজ জেলায় তাঁর প্রথম সফরকে ঘিরে ঠাকুরগাঁওবাসীর মধ্যে তৈরি হয়েছে গর্ব, আবেগ ও উৎসবের আবহ। চেনা শহর ও চেনা মানুষ এখন অপেক্ষায়—নিজের জেলার সন্তানকে এবার রাষ্ট্রপতি হিসেবে বরণ করে নেওয়ার।

নিজ জেলায় রাষ্ট্রপতি ফখরুলের প্রথম সফর, উচ্ছ্বসিত ঠাকুরগাঁও