বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ
Topic Ads 1
বাংলাদেশে কানাডার বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান রাষ্ট্রপতির

বাংলাদেশে কানাডার বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান রাষ্ট্রপতির

বাংলাদেশে কানাডার বিনিয়োগ আরও বৃদ্ধির জন্য দেশটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বাসসকে এ তথ্য জানিয়েছেন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি গণতন্ত্র চর্চায় কানাডার দীর্ঘ ঐতিহ্যের প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশেও এক্ষেত্রে কানাডার সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে গণতন্ত্র ও সংসদীয় রীতির অনুপস্থিতির কারণে বর্তমান সরকারকে বেগ পেতে হচ্ছে এবং সরকার গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছে। এ সময় কানাডার হাইকমিশনার জানান, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ বার্ষিক চার বিলিয়ন কানাডীয় ডলার ছাড়িয়েছে এবং এক্ষেত্রে বাণিজ্য সম্প্রসারণের আরও সুযোগ রয়েছে। এ সময় রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশে কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, সার, আইটি, আউটসোর্সিংসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে অধিকতর সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান। এ সময় কানাডার হাইকমিশনার দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর আসন্ন বাংলাদেশ সফরের বিষয়টি রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। একইসাথে তিনি রোহিঙ্গা ইস্যুতে কানাডা সরকারের সহযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, কানাডা সরকার এ পর্যন্ত প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলারের সহযোগিতা প্রদান করেছে। অব্যাহত সহযোগিতার জন্য রাষ্ট্রপতি কানাডা সরকারকে ধন্যবাদ জানান এবং রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে স্বেচ্ছায় ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তনে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টিতে কানাডাকে কার্যকর ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানান। তিনি শিক্ষাক্ষেত্রে, বিশেষ করে কারিগরি, প্রযুক্তি, নার্সিং ও চিকিৎসা খাতে কানাডার সহযোগিতা বৃদ্ধির অনুরোধ জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন, এক লাখেরও অধিক বাংলাদেশি কানাডার উন্নয়নে অবদান রাখছে। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিবগণ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া কানাডার পক্ষে রাজনৈতিক কাউন্সেলর মার্কাস ডেভিস উপস্থিত ছিলেন। বিডি-প্রতিদিন/জেডআর

যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে ভিসা বন্ড ব্যবস্থা আরও সহজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

বাংলাদেশের ব্যবসায়ী ও প্রকৃত পর্যটকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের ক্ষেত্রে বর্তমানে চালু ‘ভিসা বন্ড’ ব্যবস্থা পর্যালোচনা ও সহজ করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটসহ দেশের কৃষি খাতের উন্নয়নে অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ ও সহযোগিতার কথা স্মরণ করে এ খাতে মার্কিন অধিকতর বিনিয়োগ ও সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেন। রাষ্ট্রপতি এ সময় দেশের জ্বালানি খাতের উন্নয়নে মার্কিন প্রতিষ্ঠান শেভরনের বিনিয়োগ ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন এবং বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি, অবকাঠামো, স্বাস্থ্য, ও উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর শিল্পসহ বিভিন্ন খাতের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি এ সময় বিভিন্ন খাতে প্রযুক্তি ও দক্ষতা হস্তান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। রাষ্ট্রপতি রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করেন। এ প্রসঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূত সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন এবং আসিয়ান দেশসমূহের সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ করেন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান মার্কিন রাষ্ট্রদূত। রাষ্ট্রপতি মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ও বাণিজ্য অংশীদার। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশ সকল দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণে বিশ্বাসী উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ, পারস্পরিক সম্মান ও সমতার নীতিকে সর্বাগ্রে গুরুত্ব দেয় বাংলাদেশ। ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিন্ন স্বার্থ সুরক্ষার মাধ্যমে আরও সম্প্রসারিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পাদিত পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির (Agreement on Reciprocal Trade) প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে উভয় দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে এ চুক্তিকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক করার সুযোগ রয়েছে, রাষ্ট্রপতি বলেন। এ সময় মার্কিন রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করতে তাঁর দেশের আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিবেরা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে ভিসা বন্ড ব্যবস্থা আরও সহজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদন

সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল ১০টা ২২ মিনিটে জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রবেশ করে বীর শহীদদের প্রতি তিনি শ্রদ্ধা জানান। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের অগণিত বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন তিনি। এ সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। ​শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জাতীয় স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইয়ে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে স্বাক্ষর করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির এই সফরকে কেন্দ্র করে স্মৃতিসৌধ ও এর আশপাশের এলাকায় নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এর আগে শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে বঙ্গভবনের দরবার হলে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন বিএনপির সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদন

জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানালেন নতুন রাষ্ট্রপতি

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (২১ আগস্ট) জুমার নামাজের পর তিনি শ্রদ্ধা জানান বলে জানিয়েছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান। আরও পড়ুনআরও পড়ুনসন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির শপথ নেবেন মির্জা ফখরুল তিনি বলেন, নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে শপথ নেওয়ার আগেই জুমার নামাজের পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, সুরা ফতেহা পাঠ ও মোনাজাত করেছেন।

জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানালেন নতুন রাষ্ট্রপতি

মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে ইসির প্রজ্ঞাপন

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নির্বাচিত ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার রাতে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ। বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১-এর ১১ ধারা এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিধিমালা, ১৯৯১-এর ১২ (৬) বিধি অনুযায়ী নির্বাচনি কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ঘোষণার ভিত্তিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত ঘোষণা করা হলো। প্রজ্ঞাপনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাবা হিসেবে মির্জা রুহুল আমিনের নাম এবং ঠিকানা হিসেবে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ঠাকুরগাঁও পৌরসভার কালিবাড়ী গ্রামের ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে।

মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে ইসির প্রজ্ঞাপন

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে দলীয় এমপিদের প্রতি মির্জা ফখরুলের আহ্বান

বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ও সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের সংসদ সদস্যদের কাছে আবেগঘন বক্তব্য রেখে বৃহস্পতিবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের সরকারি দলীয় সভাকক্ষে বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় বক্তব্য দেন মির্জা ফখরুল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভাটি প্রায় দেড় ঘণ্টা স্থায়ী হয়। সভায় উপস্থিত কয়েকজন সংসদ সদস্যের ভাষ্য অনুযায়ী, বক্তব্যের শুরুতেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মির্জা ফখরুল। কয়েক মিনিটের মধ্যে কয়েকবার কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। এ সময় সভায় আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয় এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। বক্তব্যে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও দলটির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করেন ফখরুল। দলের প্রতি তাদের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন তার ওপর আস্থা রেখে বিভিন্ন দায়িত্ব দেওয়ায় বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। দলের সঙ্গে দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার কথা স্মরণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দায়িত্ব পালনকালে কোনো ভুল বা অনিচ্ছাকৃতভাবে কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকলে তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, বিএনপি তাকে অনেক সম্মান ও দায়িত্ব দিয়েছে। সারা জীবন সেই সম্মান অক্ষুণ্ন রাখার চেষ্টা করবেন তিনি। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কখনো আপস করবেন না বলেও অঙ্গীকার করেন। সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে বঙ্গভবনে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, সেখানে গেলে সহকর্মীদের মিস করবেন। এ সময় তিনি দলের নেতাকর্মীদের কাছে দোয়া চান এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। এর আগে সভায় চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম মনি সংসদ সদস্যদের স্বাগত জানান এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটদানের পদ্ধতি সম্পর্কে তাদের অবহিত করেন। তিনিও মির্জা ফখরুলের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। চিফ হুইপ জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে এবং মির্জা ফখরুল নিজেও ভোট দেবেন। তিনি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করলে তার ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য হবে। পরে সভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনিও বিএনপির সংসদ সদস্যদের মির্জা ফখরুলকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ, সেলিমা রহমান ও এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ দলের অন্যান্য সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচিত হলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। সে ক্ষেত্রে বুধবারের সংসদীয় দলের সভাটিই একজন সংসদ সদস্য হিসেবে তার শেষ সভা হতে পারে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে দলীয় এমপিদের প্রতি মির্জা ফখরুলের আহ্বান

আমার সহধর্মিণী আমার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি: মির্জা ফখরুল

নিজের স্ত্রী রাহাত আরা বেগমকে জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাজনৈতিক জীবনের নানা কঠিন সময়ে স্ত্রীর সাহস, ত্যাগ ও সহযোগিতার কথাও স্মরণ করেছেন তিনি।সম্প্রতি একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া ভিডিও সাক্ষাৎকারে পারিবারিক জীবন ও রাজনীতিতে স্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন মির্জা ফখরুল।স্ত্রী সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমার সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম আমার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি। আমি আল্লাহর কাছে সবসময় শুকরিয়া আদায় করি। আমি খুব ভাগ্যবান যে তার সঙ্গে আমার বিয়ে হয়েছিল। তিনি আমার জীবনসঙ্গী হয়েছেন।’মির্জা ফখরুল জানান, বিয়ের পর থেকেই তার কর্মজীবনে বিভিন্ন জায়গায় বদলি ও পদায়ন হয়েছে। পরে তিনি রাজনীতিতে যুক্ত হন। ফলে তার জীবন অনেকটা অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে চলেছে। এই সময়ে স্ত্রী তাকে সবসময় সহযোগিতা করেছেন।তিনি জানান, তার স্ত্রী দীর্ঘদিন একটি বীমা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন। চাকরির পাশাপাশি সন্তানদের পড়াশোনা ও পরিবারের দায়িত্বও সামলাতে হয়েছে তাকে। মেয়েদের হলিক্রস স্কুলে পড়ানোর সময় পরিবারের সদস্যদের গণপরিবহনে যাতায়াতসহ নানা ধরনের কষ্ট করতে হয়েছে।মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তিনি নিজে চাকরি করেছেন, দীর্ঘদিন ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে কাজ করেছেন। তার চেষ্টাতেই আমার মেয়েরা লেখাপড়া শিখেছে। হলিক্রসে পড়াশোনা করেছে এবং অনেক কষ্ট করেছেন। আমার মেয়েরা ও আমার স্ত্রী টেম্পোতে যাতায়াত করত। এই কষ্টটা তিনি অনেক করেছেন।’রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন সংকটময় সময়েও স্ত্রীর দৃঢ়তার কথা তুলে ধরেন বিএনপির এই নেতা। তিনি জানান, রাজনৈতিক কারণে পুলিশ তাকে নিয়ে যাওয়ার সময়ও স্ত্রী সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন।মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রত্যেকটা বিপদের সময় উনি সাহস করে দাঁড়াতেন। আমাকে যখন পুলিশ নিয়ে যাচ্ছে, তখন উনি খুব সাহস করে আমার ব্যাগ গুছিয়ে দিয়েছেন। ২০২৩ বা ২০১৪ সালের দিকে এক রাতে পুলিশ রেইড করল। উনি বললেন, আমি দরজা খুলব না। ভোর হওয়ার আগে পর্যন্ত আমি দরজা খুলব না। ইতোমধ্যে মিডিয়াতে খবর দেওয়ায় মিডিয়ার লোকজন চলে এসেছে। পরে ভোরবেলা উনি দরজা খুলেছেন, আমাকে পুলিশ নিয়ে গেছে।’স্ত্রীর এমন সাহসিকতার প্রশংসা করে মির্জা ফখরুল বলেন, রাজনীতি করার কারণে স্ত্রী কখনো তার ওপর বিরক্ত হননি। বরং প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তিনি সবসময় পাশে থেকেছেন।দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নানা চড়াই-উতরাইয়ে স্ত্রীর সহযোগিতা ও ত্যাগের মূল্য অনেক বলেও উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল।

আমার সহধর্মিণী আমার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি: মির্জা ফখরুল