সিলেট নগরীর একটি বাসা থেকে আব্দুস সাত্তার (৯০), তার স্ত্রী ও এক তরুণীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে নগরীর রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসা থেকে রক্তাক্ত লাশগুলো উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
নিহত আব্দুস সাত্তার ওই এলাকার প্রবীণ মুরব্বী হিসেবে পরিচিত। তার স্ত্রী মালু বেগমের বয়স আনুমানিক ৭৬ বছর। নিহত অপর তরুণীর বয়স প্রায় ২৫ বছর। প্রাথমিকভাবে তাকে গৃহকর্মী বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ওই তরুণী আব্দুস সাত্তারের মেয়ে। নিকট আত্মীয়রা ঘটনাস্থলে না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম তিনজনের লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, লাশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বুধবার সকালে বাসার ভেতরে রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখে তারা পুলিশকে খবর দেন। পরে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি থানা পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে।
পরে সিআইডি ও পিবিআইয়ের ক্রাইম সিন ইউনিটও ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বুধবার সকালের কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা প্রাচীরঘেরা ওই বাসায় প্রবেশ করে তিনজনকে হত্যা করে পালিয়ে যায়। নিহতদের শরীরে অন্য কোনো আঘাতের চিহ্ন রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর বাসার একটি বাথরুম ভেতর থেকে লক অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে দরজা খুলে দেন। তবে বাথরুমের ভেতর থেকে সন্দেহজনক কোনো কিছু পাওয়া যায়নি।
পুলিশের ধারণা, হত্যাকাণ্ডের পর ঘাতকেরা ওই বাথরুমে গিয়ে হাত-মুখ ধুয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং জড়িতদের শনাক্তে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে।