বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ
Topic Ads 1
গাজীপুরে ব্রিফকেসে নারীর খণ্ডিত লাশের ঘটনায় গ্রেফতার মিল্টন

গাজীপুরে ব্রিফকেসে নারীর খণ্ডিত লাশের ঘটনায় গ্রেফতার মিল্টন

গাজীপুরের জয়দেবপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে পানিতে ব্রিফকেস ও বস্তায় নারীর খণ্ডিত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পিবিআই জানিয়েছে, গ্রেফতার তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এর আগে, গত ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে পানিতে ব্রিফকেসে এক খণ্ড এবং অন্যত্র বস্তায় আরেক খণ্ড অর্ধগলিত অবস্থায় অজ্ঞাতনামা নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়। পিবিআই আরো জানিয়েছে, পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান আনসারীর নেতৃত্বে ক্রাইমসিন টিম বিভিন্ন ডকুমেন্ট বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের পরিচয় শনাক্ত এবং হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে। নিহতের নাম ডলি আক্তার ওরফে কালিয়া (৩০)। তিনি মুক্তাগাছা থানার পাহাড়পাবইজান গ্রামের সোহেল (৪৪)-এর ছোট বোন। স্বামীর সাথে বিবাহবিচ্ছেদের পর তিনি গাজীপুরের জয়দেবপুর থানাধীন বানিয়ারচালা মেম্বারবাড়ী এলাকায় একাই বসবাস করতেন। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই সোহেল অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে জয়দেবপুর থানায় মামলা করেন। ১২ সেপ্টেম্বর দায়ের করা মামলায় পেনাল কোডের ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। একই দিন পিবিআই গাজীপুর জেলা স্ব-উদ্যোগে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে। পিবিআই জানায়, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ১২ সেপ্টেম্বর ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে মো: মিশন ইসলাম, তার মা বানু আক্তার এবং মিশনের বন্ধু মো: মিজানুর রহমান মিল্টনকে গ্রেফতার করেন। পিবিআই জানিয়েছে, মিশনের দেখানো মতে তার ঘর থেকে লাশ খণ্ডিত করতে ব্যবহৃত বটি দা, লাশ প্যাকেজিংয়ে ব্যবহৃত স্কচটেপ, স্যুটকেস কেনার সিসিটিভি ফুটেজ, ভিকটিমের জাতীয় পরিচয়পত্র, বাটন মোবাইল ফোন ও জুতা উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল রোববার তিন আসামিই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পিবিআইয়ের তদন্ত অনুযায়ী, প্রায় পাঁচ বছর আগে তামান্না গার্মেন্টসে মিশনের সাথে ডলির পরিচয় হয় এবং তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের প্রতিশ্রুতি নিয়ে বিরোধ ও আর্থিক বিষয়কে কেন্দ্র করে মিশনের ক্ষোভ তৈরি হয়। তদন্ত সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে ডলি মিশনের বাসায় গেলে তার মা বানু আক্তারের সাথে কথাকাটাকাটি হয়। পরে মিশন ও ডলি একই কক্ষে অবস্থান করেন। পিবিআই জানায়, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মিশন ডলিকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানোর পর শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। ডলি ঘুমিয়ে পড়লে রাত আনুমানিক ২টার দিকে লুঙ্গি দিয়ে গলায় প্যাঁচ দিয়ে ও পা দিয়ে চেপে ধরে শ্বাসরোধ করা হয়। পরে বালিশ দিয়ে মুখ চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এরপর লাশ চৌকির নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। পরদিন মিশন স্যুটকেস কিনে বটি ও ব্লেড দিয়ে লাশ কোমর থেকে দুই খণ্ড করেন। পরে মিশন ও তার মা বানু আক্তার মিশনের বন্ধু মিজানুর রহমান মিল্টনের সহযোগিতা নেন। তদন্ত সংস্থাটি জানায়, মিশনের বাড়িতে থাকা স্যুটকেস ও বস্তা নিয়ে তারা অটোতে রাজেন্দ্রপুর এবং সেখান থেকে সিএনজিতে ভবানীপুর যায়। পরে ভবানীপুর ব্রিজের ওপর থেকে মিশন ও মিল্টন লাশভর্তি স্যুটকেস ও বস্তা খালে ফেলে দেন। ঘটনার সাথে আরো কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

ঢামেকে ফেলে যাওয়া কিশোরীর পরিচয় শনাক্ত, গ্রেফতার ৩

রাজধানীর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত কিশোরীর পরিচয় শনাক্ত করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ। নিহত কিশোরীর নাম মিম আক্তার (১৫)। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এ তথ্য জানান। গ্রেফতাররা হলেন এ বি এম আব্দুর রাজ্জাক (৪৭), মো: ফয়সল আহমেদ (৩৫) ও রাহেমা খাতুন রেশমা (২৯)। নিয়াজ মেহেদী জানান, গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা ১০ মিনিটে রাজধানীর ডেমরা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উল্লেখ্য, বুধবার ১২ আগস্ট ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে এক কিশোরীর লাশ ফেলে চলে যায় অজ্ঞাত ব্যক্তিরা। পরে শাহবাগ থানায় খবর দেয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। এরপর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নিহত কিশোরীর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে শাহবাগ থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) শাহবাগ থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অপরাধ আড়াল করার উদ্দেশ্যে আসামিরা মিম আক্তারের লাশ হাসপাতালে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। গ্রেফতার এড়াতে তারা নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় এলাকার বাসা ছেড়ে রাতারাতি সপরিবারে অন্যত্র আত্মগোপন করে। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি নিয়মিত মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

ঢামেকে ফেলে যাওয়া কিশোরীর পরিচয় শনাক্ত, গ্রেফতার ৩

মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসা থেকে ৩ জনের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়

সিলেট নগরীর একটি বাসা থেকে আব্দুস সাত্তার (৯০), তার স্ত্রী ও এক তরুণীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে নগরীর রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসা থেকে রক্তাক্ত লাশগুলো উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।নিহত আব্দুস সাত্তার ওই এলাকার প্রবীণ মুরব্বী হিসেবে পরিচিত। তার স্ত্রী মালু বেগমের বয়স আনুমানিক ৭৬ বছর। নিহত অপর তরুণীর বয়স প্রায় ২৫ বছর। প্রাথমিকভাবে তাকে গৃহকর্মী বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ওই তরুণী আব্দুস সাত্তারের মেয়ে। নিকট আত্মীয়রা ঘটনাস্থলে না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম তিনজনের লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, লাশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।স্থানীয়রা জানান, বুধবার সকালে বাসার ভেতরে রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখে তারা পুলিশকে খবর দেন। পরে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি থানা পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে।পরে সিআইডি ও পিবিআইয়ের ক্রাইম সিন ইউনিটও ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বুধবার সকালের কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা প্রাচীরঘেরা ওই বাসায় প্রবেশ করে তিনজনকে হত্যা করে পালিয়ে যায়। নিহতদের শরীরে অন্য কোনো আঘাতের চিহ্ন রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর বাসার একটি বাথরুম ভেতর থেকে লক অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে দরজা খুলে দেন। তবে বাথরুমের ভেতর থেকে সন্দেহজনক কোনো কিছু পাওয়া যায়নি।পুলিশের ধারণা, হত্যাকাণ্ডের পর ঘাতকেরা ওই বাথরুমে গিয়ে হাত-মুখ ধুয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং জড়িতদের শনাক্তে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে।

মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসা থেকে ৩ জনের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়