বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ
Topic Ads 1
মোবাইলে কল দেওয়াকে কেন্দ্র করে নারীকে হত্যা, যুবকের মৃত্যুদণ্ড

মোবাইলে কল দেওয়াকে কেন্দ্র করে নারীকে হত্যা, যুবকের মৃত্যুদণ্ড

‎ময়মনসিংহে সাথী আক্তার (৩৮) নামের এক নারীকে হত্যা মামলায় হৃদয় মিয়া (৩২) নামের এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডও করা হয়েছে। ‎‎আজ মঙ্গলবার দুপুরে ময়মনসিংহ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক শামসুদ্দিন এই রায় দেন। আসামির উপস্থিতিতে বিচারক এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আরও বলা হয়, অর্থদণ্ডের টাকা হৃদয়ের সম্পত্তি থেকে আদায় করে নিহতের পরিবারকে প্রদান করতে হবে। সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট আনোয়ার আজিজ টুটুল মামলার রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘মোবাইল কল দেওয়াকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বাগ্‌বিতণ্ডা ঘটে। এরই জেরে হৃদয় মিয়া ছুরিকাঘাত করে সাথী আক্তারকে হত্যা করে।’ ‎মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হৃদয় মিয়া নগরীর জুবলী কোয়াটার এলাকার জয়নাল মিয়ার ছেলে। নিহত সাথী আক্তার একই এলাকার মৃত মোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে। ‎মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২১ মে মোবাইলে কল দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এর জেরে ২৩ মে রাত ২টার দিকে হৃদয় মিয়া আকুয়া জুবলী কোয়ার্টার এলাকায় ভাড়া বাসায় ঢুকে সাথী আক্তারের ওপর হামলা চালায়। এ সময় ছুরি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে সাথী আক্তারকে গুরুতর আহতাবস্থায় ফেলে চলে যায় হৃদয়। পরে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় সাথী আক্তারের বোন শিউলি আক্তার বাদী হয়ে একই এলাকার বাবুল ও হৃদয়ের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পুলিশ ঘটনা তদন্ত করে হৃদয়ের নামে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

বগুড়ায় মেয়েকে ধর্ষণ মামলায় বাবার মৃত্যুদণ্ড

বগুড়ায় নিজ মেয়েকে ধর্ষণের মামলায় আব্দুল খালেক (৫১) নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে বগুড়া শিশু দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা দায়রা জজ মারুফ হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল খালেক শেরপুর উপজেলার বাগড়া বস্তি এলাকার বাসিন্দা। বগুড়া শিশু দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট আলী আসগর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর ভোর সাড়ে ৪টার দিকে খালেক তাঁর মেয়েকে ধর্ষণ করেন। ওই সময় শিশুটির সৎ মা স্থানীয় একটি চাতালে ধান সিদ্ধ করার কাজে গিয়েছিলেন। ঘটনার পর বিষয়টি কাউকে জানালে মেয়েকে হত্যার হুমকি দেন খালেক। এরপর শিশুটির আচরণে পরিবর্তন দেখা দেয়। বাড়ির কাজ ঠিকমতো না করায় সৎ মা তাকে মারধর করতে থাকেন। একপর্যায়ে শিশুটি সৎ মাকে বিষয়টি জানায়। তবে স্বামীর বিরুদ্ধে মেয়ের অভিযোগ বিশ্বাস না করে তিনি শিশুটির ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে নির্যাতন থেকে বাঁচতে শিশুটি তার দুই সহপাঠীকে ঘটনাটি জানায়। তাদের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় বাসিন্দারা থানায় অভিযোগ করেন। এরপর ২০২০ সালের ৩১ অক্টোবর শিশুটির মা ও আসামির দ্বিতীয় স্ত্রী শেরপুর থানায় স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত মামলার একমাত্র আসামি আব্দুল খালেককে মৃত্যুদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানা করেন। আদালতের পিপি জানান, ভুক্তভোগী মেয়েটি বর্তমানে তার সৎ মায়ের হেফাজতে রয়েছে।

বগুড়ায় মেয়েকে ধর্ষণ মামলায় বাবার মৃত্যুদণ্ড