মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ
Topic Ads 1
বিয়ের জন্য ধর্ম বদলের অভিযোগ, যুবকের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা

বিয়ের জন্য ধর্ম বদলের অভিযোগ, যুবকের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা

মুসলিম পরিচয়ে এক তরুণীকে বিয়ে করার প্রায় আট বছর পর ধর্ম পরিবর্তন করে অন্য এক তরুণীকে বিয়ের অভিযোগ উঠেছে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের যুবক অর্জুন ধর হীরা ওরফে হীরা মিয়ার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রথম স্ত্রী শিপুল আক্তার খানম আদালতে প্রতারণার মামলা করেছেন। মামলায় হীরার মা কৃষ্ণা রানী ঘোষকেও আসামি করা হয়েছে। মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বাদীপক্ষের আইনজীবী মোশারফ হোসেন শুভ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে গত ২০ জুলাই নেত্রকোনা সদর আমলি আদালতে মামলাটি করেন শিপুল। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নেত্রকোনা পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জামান আলী বলেন, মামলার তদন্ত চলছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। অভিযোগ অনুযায়ী, অর্জুন ধর হীরা খালিয়াজুরী উপজেলার শালদীঘা গ্রামের বাসিন্দা। অন্যদিকে তাঁর প্রথম স্ত্রী শিপুল আক্তার খানম মোহনগঞ্জ পৌরশহরের দৌলতপুর এলাকার বাসিন্দা। মামলার নথি ও বাদীপক্ষের অভিযোগ থেকে জানা যায়, মোহনগঞ্জ পৌরশহরের দৌলতপুর এলাকায় বসবাসের সময় শিপুলের সঙ্গে হীরার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০১৪ সালে আদালতের মাধ্যমে অ্যাফিডেভিট করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন হীরা। এ সময় তিনি নিজের নাম পরিবর্তন করে মো. হীরা মিয়া রাখেন এবং মুসলিম রীতি অনুযায়ী শিপুলকে বিয়ে করেন। ২০১৫ সালে তাঁদের একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। মুসলিম নামানুসারে তার নাম রাখা হয় জান্নাতুল হিয়া। ২০২২ সালে তাঁদের একটি ছেলে সন্তান জন্ম নেয়, যার নাম রাখা হয় আব্দুল্লাহ। শিপুলের অভিযোগ, মুসলিম পরিচয়ে থাকার সময় হীরা নামাজ-রোজাও পালন করতেন। তবে বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও তিনি তাঁদের বিয়ে কাবিন রেজিস্ট্রি করেননি। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে দ্বিতীয় সন্তান জন্মের পর হীরা তাঁর মা কৃষ্ণা রানীর প্ররোচনায় আবার হিন্দু ধর্মে ফিরে যান। এরপর পাশের এলাকার এক হিন্দু তরুণীকে গোপনে বিয়ে করেন। বিষয়টি জানতে পেরে শিপুল কারণ জানতে চাইলে তাঁকে যৌতুকের দাবিতে মারধর ও শারীরিক-মানসিক নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। হীরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায়ও তাঁকে নির্যাতন করতেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, বিষয়টি জানার পর শিপুলের ওপর নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায়। পরে প্রতিকার চেয়ে ২০২৫ সালের ২০ মে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন তিনি। এরপর উভয় পক্ষের সম্মতিতে ২০২৫ সালের ৪ জুন নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে একটি আপসনামা ও অ্যাফিডেভিট করা হয়। সেখানে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ বহন, জমি কিনে বাড়ি নির্মাণসহ বিভিন্ন শর্ত উল্লেখ করা হয়। তবে শিপুলের অভিযোগ, অ্যাফিডেভিটের পরও হীরা কোনো শর্ত পূরণ করেননি। শিপুলের দাবি, পরে হীরা কোনো শর্তই পূরণ করবেন না বলে জানিয়ে দেন। এ সময় তাঁর শাশুড়ি কৃষ্ণা রানী ঘোষও তাঁকে ‘যা পারিস কর’ বলে চলে যান বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। শিপুল খানম বলেন, স্বামী ও শাশুড়ি পরস্পর যোগসাজশ ও প্ররোচনার মাধ্যমে তাঁর সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে প্রতারণা করেছেন। দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ ও তাদের বাবার পরিচয় নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন বলেও জানান। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অর্জুন ধর হীরা বলেন, ‘অনেক আগেই আমি শিপুলকে ডিভোর্স দিয়েছি। এরপর আমি কী করব, সেটা তাঁর জানার বিষয় নয়।’ এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।