রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ
Topic Ads 1
দুর্বিষহ দিন কাটাচ্ছেন জো বাইডেন, ক্যানসার ছড়িয়ে পড়েছে শরীরে

দুর্বিষহ দিন কাটাচ্ছেন জো বাইডেন, ক্যানসার ছড়িয়ে পড়েছে শরীরে

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ সময় পার করছেন। তাঁর ছোট ছেলে হান্টার বাইডেন জানিয়েছেন, বাবার ক্যানসার শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়েছে এবং তিনি প্রচণ্ড শারীরিক কষ্টের মধ্যে রয়েছেন।সম্প্রতি বিবিসির ‘নিউজ নাইট’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে কথা বলেন হান্টার বাইডেন। তিনি বলেন, জো বাইডেনের বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত কঠিন। তাঁকে এভাবে কষ্ট পেতে দেখা পরিবারের জন্যও বেদনাদায়ক।হান্টার জানান, তাঁর বাবার ক্যানসার হাড়সহ শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়েছে। এ কারণে তিনি প্রচণ্ড যন্ত্রণায় রয়েছেন।২০২৫ সালের মে মাসে জো বাইডেন প্রথমবারের মতো তাঁর ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় চিকিৎসকেরা তাঁর শরীরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া প্রোস্টেট ক্যানসার শনাক্ত করেন। তখনই ক্যানসার তাঁর হাড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল বলে জানানো হয়।এর প্রায় ১০ মাস আগে, ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড় থেকে সরে দাঁড়ান বাইডেন। তার আগে ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়ন পাওয়ার পথে এগিয়ে থাকলেও বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে দলের ভেতরে-বাইরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।২০২৪ সালের ২৭ জুন ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রথম প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কে বাইডেনের পারফরম্যান্স সেই উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দেয়। বিতর্কে তাঁকে আড়ষ্ট ও দুর্বল দেখায় এবং কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তিনি কথার খেই হারিয়ে ফেলেন।হান্টার বাইডেন জানান, তিনি ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের বাড়ি থেকে ওই বিতর্ক দেখেছিলেন। বাবাকে মঞ্চে দেখেই তাঁর মনে হয়েছিল, কিছু একটা সমস্যা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, বাবার চোখেমুখে এমন শূন্যতা তিনি আগে কখনো দেখেননি।পরে বাইডেনের ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি সামনে আসার পর ওই বিতর্কের পারফরম্যান্স নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। হান্টারের দাবি, কয়েক মাস পর তাঁর বাবার স্টেজ-৪ প্রোস্টেট ক্যানসার এবং মেটাস্ট্যাটিক বোন ক্যানসার ধরা পড়ে।এদিকে জো বাইডেনের প্রেসিডেন্ট থাকাকালে তাঁর ছেলে হান্টার বাইডেনও বিভিন্ন বিতর্কে জড়িয়েছিলেন। ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে বাবার রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে করে আসছিলেন রিপাবলিকানরা।২০২৪ সালে মাদকাসক্ত অবস্থায় আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগে হান্টার দোষী সাব্যস্ত হন। একই বছর ফেডারেল কর ফাঁকির মামলাতেও তিনি দোষ স্বীকার করেন।এরপর প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর জো বাইডেন তাঁর ছেলেকে পূর্ণ ও নিঃশর্ত ক্ষমা করেন। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনাও হয়।সাক্ষাৎকারে হান্টার নিজেও স্বীকার করেন, বাবার এই সিদ্ধান্তটি বিতর্কিত ছিল। তবে একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নিয়ে তাঁর বাবার আশঙ্কা পরবর্তী সময়ে সত্য প্রমাণিত হয়েছে।জো বাইডেনের বর্তমান শারীরিক অবস্থা নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে হান্টারের বক্তব্যই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বিস্তারিত তথ্যগুলোর একটি। ক্যানসার ছড়িয়ে পড়ায় সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্টের চিকিৎসা ও শারীরিক অবস্থা নিয়ে তাঁর পরিবার উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে।

বিশ্বকাপে মেসিকে মেরে ফেলার ষড়যন্ত্র, বেরিয়ে এল ভয়াবহ সব তথ্য

বিশ্বকাপ চলাকালে আর্জেন্টিনার তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসিকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে একটি নিরাপত্তা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেসিকে লক্ষ্য করে স্টেডিয়ামে বোমা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছিল কয়েকজন।যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে মেসির পাশাপাশি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, কিলিয়ান এমবাপেসহ আরও কয়েকজন তারকা ফুটবলার হুমকি ও নিরাপত্তাঝুঁকির মুখে পড়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।মেসিকে ঘিরে একাধিক হুমকিইন্টারন্যাশনাল পুলিশ কোঅপারেশন সেন্টার (আইপিসিসি) ও এফবিআইয়ের নিরাপত্তা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে স্পেনের সংবাদমাধ্যম ইনফরমাসিওন ডট ইএস এসব তথ্য প্রকাশ করেছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা ও মিশরের ম্যাচের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক ব্যক্তি হুমকি দিয়ে লিখেছিলেন, তিনি আটলান্টা স্টেডিয়ামে প্রবেশ করে শরীরে বাঁধা বোমা দিয়ে মেসিকে হত্যার চেষ্টা করবেন।এরপর ডালাস বিমানবন্দর থেকে আরেক ব্যক্তি ফোন করে দাবি করেন, তিনি আরও দুজনের সঙ্গে বাড়িতে তৈরি বোমা ও একটি এআর-১৫ রাইফেল নিয়ে স্টেডিয়ামের দিকে যাচ্ছেন। তাদের লক্ষ্য ছিল পুলিশ ও খেলোয়াড়দের ওপর হামলা চালানো। ওই ব্যক্তি বিশেষভাবে মেসির নামও উল্লেখ করেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।আরেক ঘটনায় ম্যাচ চলাকালে পুলিশকে ফোন করে এক ব্যক্তি স্টেডিয়ামের ময়লার ঝুড়িতে তিনটি বোমা রাখার দাবি করেন। খবর পাওয়ার পর বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল, প্রশিক্ষিত কুকুর ও তাদের হ্যান্ডলাররা স্টেডিয়ামে তল্লাশি চালান।প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পুরো টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তা হুমকি পাওয়া খেলোয়াড়দের মধ্যে মেসি অন্যতম ছিলেন।রোনালদোকেও ঘিরে নিরাপত্তাঝুঁকিক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকেও একাধিকবার নিরাপত্তাঝুঁকির মুখে পড়তে হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।১৪ জুন ফিফার এক কর্মী রোনালদোর অবস্থান সম্পর্কে তথ্য জানতে চাওয়া এক সন্দেহভাজন ব্যক্তির বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে জানান। দুই দিন পর হিউস্টন পুলিশ ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করে এবং রোনালদোর হোটেল থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করে।টরন্টোতেও রোনালদোর সঙ্গে লিফটে ওঠার চেষ্টা করা এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। ওই ব্যক্তি দাবি করেছিলেন, তিনি শুধু রোনালদোর সঙ্গে সেলফি তুলতে চেয়েছিলেন।এ ছাড়া মিয়ামিতে এক ব্যক্তি রোনালদোর কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচেও রোনালদোর জার্সি পরা এক ব্যক্তি মাঠে ঢুকে পড়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।এমবাপেকেও অনলাইনে হুমকিনিরাপত্তাঝুঁকির তালিকায় ছিলেন ফ্রান্সের তারকা কিলিয়ান এমবাপেও। ফ্রান্স-প্যারাগুয়ে ম্যাচে প্যারাগুয়ের গোলরক্ষকের সঙ্গে তার বাগ্‌বিতণ্ডার পর অনলাইনে তাকে নিয়ে বিভিন্ন আপত্তিকর ও জাতিবিদ্বেষী মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫ ও ৬ জুলাই প্যারাগুয়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমবাপের ছবি ব্যবহার করে তৈরি একটি পুতুল পোড়ানোর ঘটনাও সামনে আসে।বিশ্বকাপের মতো বড় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে তারকা খেলোয়াড়দের ঘিরে এমন নিরাপত্তাঝুঁকি আয়োজকদের জন্যও বড় উদ্বেগের বিষয়। নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর এসব তথ্যের পর খেলোয়াড়দের সুরক্ষা ও স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।

বিশ্বকাপে মেসিকে মেরে ফেলার ষড়যন্ত্র, বেরিয়ে এল ভয়াবহ সব তথ্য