শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ
Topic Ads 1
জিডি করে বাড়ি ফেরার পথেই ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা

জিডি করে বাড়ি ফেরার পথেই ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা

রংপুরের মিঠাপুকুরে জমি ও পারিবারিক বিরোধের জেরে মিজানুর রহমান (৪৬) নামে এক মুদি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে মায়ের সঙ্গে বাড়ি ফেরার পথে রিকশা-ভ্যানের গতিরোধ করে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার বড় হযরতপুর ইউনিয়নের চিথলী পশ্চিমপাড়া (পোড়ারহাট) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মিজানুর ওই গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে। বাড়ির পাশে পোড়ারহাট বাজারে তাঁর একটি মুদি দোকান রয়েছে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিবেশী আব্দুল কাফি মুন্সির সঙ্গে জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মিজানুরের বিরোধ ও মামলা-মোকদ্দমা চলছিল। মঙ্গলবার দুপুরে দোকানের সামনে বসে থাকার সময় প্রতিপক্ষের লোকজন মোটরসাইকেল দিয়ে তাঁর পায়ে ধাক্কা দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে মিজানুরকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে পরিবারের দাবি। পরে মিজানুর তাঁর মা আজুবা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে থানায় জিডি করতে যান। জিডি শেষে রাতে বাড়ি ফেরার পথে দোকানের কাছাকাছি পৌঁছালে একদল ব্যক্তি তাঁদের বহনকারী রিকশা-ভ্যানের পথরোধ করে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, নুরনবী, নুর মোহাম্মদ, মাসুদ, মোস্তাফিজার, কালাম, মাহফুজারসহ ১০ থেকে ১২ জন বঁটি, রামদা, ছুরি ও লাঠি নিয়ে মিজানুরের ওপর হামলা চালান। তাঁকে ভ্যান থেকে নামিয়ে প্রথমে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপানো হয়। এ সময় ছেলেকে রক্ষা করতে আজুবা বেগম হামলাকারীদের কাছে হাতজোড় করে মিনতি করলেও তাঁকে সরিয়ে দিয়ে মিজানুরের ওপর আবারও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। একপর্যায়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় নিহতের মা আজুবা বেগম বুধবার মিঠাপুকুর থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিহতের বোন রেখা বেগম বলেন, তাঁর ভাই নিয়মিত ফোন করে পরিবারের খোঁজখবর নিতেন। তাঁকে বিনা দোষে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করেন তিনি। প্রতিবেশী দেলোয়ার হোসেন ও আব্দুল করিম বলেন, মিজানুরকে ভ্যান থেকে নামিয়ে প্রথমে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।