বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ
Topic Ads 1
সকালে খালি পেটে শিঙাড়া খাওয়া কতটা ক্ষতিকর?

সকালে খালি পেটে শিঙাড়া খাওয়া কতটা ক্ষতিকর?

চায়ের আড্ডা হোক কিংবা সকালের নাশতা, শিঙাড়া অনেকেরই পছন্দের খাবার। কম দাম ও সহজলভ্যতার কারণে রাস্তার পাশের দোকান থেকে শুরু করে অফিসের নাশতার টেবিলেও বেশ পরিচিত এই মুখরোচক খাবার। তবে শিঙাড়া খাওয়ার পর কারো কারো পেটে গ্যাস, বুকজ্বালা, ঢেকুর ওঠা কিংবা পেট ভার হয়ে থাকার মতো অস্বস্তি দেখা দেয়। বিশেষ করে যাদের অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা বদহজমের সমস্যা রয়েছে, শিঙাড়া খেলে তাদের উপসর্গ আরও বেড়ে যেতে পারে। সাধারণত ময়দার আবরণে আলু ও মসলার পুর দিয়ে ডুবো তেলে ভাজা হয় শিঙাড়া। এ কারণে এতে চর্বি ও ক্যালরির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হতে পারে। খালি পেটে শিঙাড়া খেলে যেসব সমস্যা হতে পারে তেল ও চর্বি বেশি থাকা খাবার কিছু মানুষের ক্ষেত্রে পাকস্থলীর অ্যাসিড খাদ্যনালিতে উঠে আসার প্রবণতা বাড়াতে পারে। এর ফলে বুকজ্বালা, টক ঢেকুর ওঠা কিংবা গলায় অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে। যাদের আগে থেকেই অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এ ধরনের অস্বস্তি বেশি হতে পারে। ডুবো তেলে ভাজা খাবার পাকস্থলী থেকে হজম হয়ে বের হতে তুলনামূলক বেশি সময় নিতে পারে। তাই একসঙ্গে বেশি শিঙাড়া খেলে পেট ফাঁপা, ভার হয়ে থাকা কিংবা বমি বমি ভাব দেখা দিতে পারে। শিঙাড়ায় কতটা ক্যালরি থাকবে, তা নির্ভর করে এর আকার, পুরের উপকরণ ও ভাজার পদ্ধতির ওপর। ফলে সব শিঙাড়ার ক্যালরির পরিমাণ এক নয়। তবে নিয়মিত বেশি পরিমাণে খেলে শরীরের দৈনিক চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণের আশঙ্কা থাকে। দীর্ঘদিন এমন অভ্যাস চলতে থাকলে ওজন বেড়ে যেতে পারে। নিয়মিত অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত ও ভাজাপোড়া খাবার খাওয়ার অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে খাদ্যাভ্যাসে ভারসাম্য না থাকলে ওজন বৃদ্ধি, রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যাওয়া এবং হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই সকালের নাশতায় নিয়মিত শিঙাড়ার ওপর নির্ভর না করে পুষ্টিকর ও সুষম খাবার বেছে নেওয়া ভালো।

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে কী করবেন, কী এড়িয়ে চলবেন

গর্ভধারণের পর প্রথম তিন মাস মা ও অনাগত শিশুর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়ে শিশুর শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো গঠিত হতে শুরু করে। পাশাপাশি মায়ের শরীরেও নানা ধরনের পরিবর্তন দেখা দেয়। বমি বমি ভাব, ক্লান্তি, স্তনে ব্যথা ও মেজাজের পরিবর্তনের মতো উপসর্গ এ সময়ে স্বাভাবিকভাবেই হতে পারে।গর্ভাবস্থার প্রতিটি পর্যায়ে মায়ের পুষ্টি, শারীরিক সুস্থতা ও মানসিক স্বাস্থ্যের প্রয়োজন ভিন্ন হতে পারে। তাই প্রথম ত্রৈমাসিকে কিছু বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকা জরুরি।দ্রুত প্রসবপূর্ব চিকিৎসা শুরু করুনগর্ভধারণ নিশ্চিত হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রথম সাক্ষাতেই আগে থেকে থাকা কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা, নিয়মিত খাওয়া ওষুধসহ প্রয়োজনীয় তথ্য চিকিৎসককে জানাতে হবে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত কোনো ওষুধ হঠাৎ বন্ধ করাও ঠিক নয়।ফলিক অ্যাসিড গ্রহণ করুনগর্ভাবস্থার শুরুতে শিশুর স্বাভাবিক বিকাশে ফলিক অ্যাসিড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সাধারণভাবে গর্ভধারণের আগে থেকে শুরু করে প্রথম ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত প্রতিদিন ৪০০ মাইক্রোগ্রাম ফলিক অ্যাসিড গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়। এটি স্পাইনা বাইফিডার মতো নিউরাল টিউবের ত্রুটির ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।তবে কিছু নারীর ক্ষেত্রে বেশি মাত্রার ফলিক অ্যাসিড প্রয়োজন হতে পারে। তাই নিজের জন্য উপযুক্ত মাত্রা নির্ধারণে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।অল্প অল্প করে পুষ্টিকর খাবার খানপ্রথম তিন মাসে বমি বমি ভাব বা খাবারে অনীহা দেখা দিতে পারে। এ সময় একবারে বেশি খাবার না খেয়ে অল্প পরিমাণে বারবার খাওয়া তুলনামূলক সহজ হতে পারে।খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফল, পূর্ণ শস্য, ডাল, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার বা উপযুক্ত বিকল্প এবং প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখার চেষ্টা করা উচিত।নিয়মিত শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকুনগর্ভাবস্থায় শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা সাধারণত উপকারী। শরীর স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করলে হাঁটা, সাঁতার বা গর্ভাবস্থার উপযোগী হালকা ব্যায়াম করা যেতে পারে।তবে গর্ভধারণের আগে নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস না থাকলে হঠাৎ কঠিন ব্যায়াম শুরু করা উচিত নয়। ধীরে ধীরে শরীরকে অভ্যস্ত করা ভালো।যেসব বিষয় এড়িয়ে চলবেনমদ ও ধূমপান: গর্ভাবস্থায় মদ, ধূমপান ও অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্য থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকা উচিত।নিজে থেকে ওষুধ খাবেন না: সাধারণ ব্যথানাশক, ভেষজ ওষুধ কিংবা বিভিন্ন ধরনের সাপ্লিমেন্টও গর্ভাবস্থায় সবসময় নিরাপদ নাও হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ বা সম্পূরক গ্রহণ করা উচিত নয়।অতিরিক্ত গরম ও ক্লান্তি এড়িয়ে চলুন: ব্যায়ামের সময় অতিরিক্ত পরিশ্রম না করে পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। শরীর ক্লান্ত লাগলে বিশ্রাম নেওয়া বা ব্যায়ামের গতি কমানো উচিত।কঠোর ডায়েট করবেন না: গর্ভাবস্থা ওজন কমানোর জন্য ক্র্যাশ ডায়েট বা অপ্রয়োজনীয় খাদ্যবিধিনিষেধ অনুসরণের সময় নয়। এ সময়ে প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করতে বৈচিত্র্যময় ও সুষম খাবারের দিকে মনোযোগ দেওয়া জরুরি। গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে মায়ের নিজের যত্নের পাশাপাশি নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে নিজে থেকে সিদ্ধান্ত না নিয়ে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে কী করবেন, কী এড়িয়ে চলবেন

ক্যানসারের ইঙ্গিত হতে পারে এই ৫ লক্ষণ, যা সহজেই এড়িয়ে যান অনেকে

ফুসফুসের ক্যানসার বলতেই অনেকের মনে দীর্ঘস্থায়ী কাশি বা কাশির সঙ্গে রক্ত ওঠার কথা আসে। তবে রোগটির প্রাথমিক পর্যায়ের কিছু উপসর্গ খুবই সূক্ষ্ম হতে পারে। অনেক সময় এসব পরিবর্তনকে বয়স, ক্লান্তি কিংবা দৈনন্দিন জীবনযাপনের স্বাভাবিক সমস্যা মনে করে এড়িয়ে যাওয়া হয়।চিকিৎসকদের মতে, শরীরে দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিক কোনো পরিবর্তন থাকলে সেটিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।১. কাঁধ ও ওপরের পিঠে ব্যথাফুসফুসের ওপরের অংশে কিছু টিউমার আশপাশের স্নায়ুর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এতে কাঁধ, ওপরের পিঠ কিংবা বাহুর ভেতরের দিকে ব্যথা হতে পারে। বিশেষ করে প্যানকোস্ট টিউমারের ক্ষেত্রে এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। অনেকেই এটিকে কাঁধের সমস্যা, অতিরিক্ত পরিশ্রম বা আর্থ্রাইটিসের সঙ্গে মিলিয়ে ফেলেন।২. ধীরে ধীরে বাড়তে থাকা শ্বাসকষ্টসিঁড়ি ভাঙা বা স্বাভাবিক কাজ করার সময় আগের তুলনায় দ্রুত হাঁপিয়ে ওঠাকে অনেকেই বয়স, ওজন বা শারীরিক পরিশ্রমের অভাবের কারণে হয়েছে বলে মনে করেন। কিন্তু কোনো পরিবর্তন ছাড়াই যদি দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্ট বাড়তে থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।ফুসফুসের টিউমার শ্বাসনালিতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। আবার ফুসফুসের চারপাশে তরল জমলেও শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে।৩. বারবার বুকে সংক্রমণবারবার ব্রঙ্কাইটিস, নিউমোনিয়া কিংবা দীর্ঘস্থায়ী সর্দি-কাশি হলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। কোনো টিউমার শ্বাসনালির পথ আটকে দিলে সেখানে শ্লেষ্মা জমে বারবার সংক্রমণ হতে পারে। চিকিৎসার পরও যদি একই ধরনের সমস্যা ফিরে আসে, তাহলে কারণ খুঁজে দেখা জরুরি।৪. আঙুলের ডগার আকৃতিতে পরিবর্তনফুসফুসের ক্যানসারের সঙ্গে ‘ফিঙ্গার ক্লাবিং’-এর সম্পর্ক থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে আঙুলের ডগা অস্বাভাবিকভাবে মোটা বা নরম হয়ে যেতে পারে এবং নখ নিচের দিকে বাঁকতে পারে।তবে এ ধরনের পরিবর্তন শুধু ফুসফুসের ক্যানসারের কারণেই হয় না। অন্য শারীরিক সমস্যার কারণেও এটি দেখা দিতে পারে।৫. দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি ও অকারণে ওজন কমে যাওয়াপর্যাপ্ত বিশ্রামের পরও যদি দীর্ঘদিন ক্লান্তি থাকে এবং খাদ্যাভ্যাস বা দৈনন্দিন রুটিনে পরিবর্তন না থাকা সত্ত্বেও অস্বাভাবিকভাবে ওজন কমতে থাকে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। ক্যানসারসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে।শরীরে দীর্ঘস্থায়ী বা অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে নিজে থেকে কারণ নির্ধারণ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে কারণ শনাক্ত করতে পারেন। তবে এসব লক্ষণ থাকলেই যে ফুসফুসের ক্যানসার হয়েছে, এমন নয়। অন্যান্য অনেক রোগ বা শারীরিক সমস্যার কারণেও একই ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

ক্যানসারের ইঙ্গিত হতে পারে এই ৫ লক্ষণ, যা সহজেই এড়িয়ে যান অনেকে