সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ
Topic Ads 1
তীব্র লোডশেডিং, কিছু স্থানে বিদ্যুৎ মিলছে ৫ ঘণ্টা

তীব্র লোডশেডিং, কিছু স্থানে বিদ্যুৎ মিলছে ৫ ঘণ্টা

তীব্র গরমের মধ্যে দেশজুড়ে ভয়াবহ আকার নিয়েছে লোডশেডিং। রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোথাও ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ যাচ্ছে, আবার কোথাও ২৪ ঘণ্টায় বিদ্যুৎ মিলছে মাত্র পাঁচ ঘণ্টা। ফলে জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিশু, বয়স্ক, হাসপাতালে ভর্তি রোগী, শিক্ষার্থী, অটোরিকশাচালক এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা। বিদ্যুৎ সংকটে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, বাড়ছে ব্যবসায়ীদের লোকসান এবং পর্যটন খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির (পিজিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৫৭৩ মেগাওয়াট। সে সময় লোডশেডিং ছিল এক হাজার ৮২১ মেগাওয়াট। একই দিন দুপুরে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৬৩৪ মেগাওয়াট।বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের এক প্রধান প্রকৌশলী জানান, সাম্প্রতিক গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে গেছে। আগে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে প্রায় ৬৮ থেকে ৭০ কোটি ঘনফুটে। ফলে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না।সবচেয়ে সংকটাপন্ন পরিস্থিতি দেখা গেছে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায়। সেখানে ২৪ ঘণ্টায় গড়ে মাত্র পাঁচ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় দিনে ২০ থেকে ২৫ বার পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা পল্লী বিদ্যুতের সাবস্টেশন ঘেরাও করে বিক্ষোভও করেছেন।যশোর, রাজবাড়ী, মুন্সীগঞ্জ, ঝিনাইদহ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও কুয়াকাটাসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ যাওয়া-আসার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন কমে গেছে। অনেক কারখানাকে বাধ্য হয়ে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যার ফলে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটার হোটেলগুলোতেও দীর্ঘ সময় জেনারেটর চালাতে হওয়ায় ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পর্যটকদের বুকিং বাতিলের ঘটনাও ঘটছে।স্বাস্থ্য খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জেনারেটর বিকল বা অনুপস্থিত থাকায় রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে গরমে শ্বাসকষ্ট ও বয়স্ক রোগীরা বেশি কষ্ট পাচ্ছেন।চলমান এইচএসসি পরীক্ষার সময় ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে। অনেককে রাতে মোমবাতি বা চার্জলাইটের আলোয় প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে।বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলো জানিয়েছে, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় বাধ্য হয়েই লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির সম্ভাবনা কম।