মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ
Topic Ads 1
মৃত্যুর ৮ মাস পর দেশে ফিরল লিবিয়াপ্রবাসীর মরদেহ

মৃত্যুর ৮ মাস পর দেশে ফিরল লিবিয়াপ্রবাসীর মরদেহ

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের গুরুড়া গ্রামের তরিকুল ইসলাম (২৬) লিবিয়ায় মৃত্যুর ৮ মাস পর নিজ গ্রামে ফিরেছেন। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় তার মরদেহ গ্রামে পৌঁছায়। গ্রামবাসী জানান, গ্রামের দরিদ্র কৃষক জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে তরিকুল ইসলাম প্রায় সাত-আট বছর আগে ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় কয়েক লাখ টাকা খরচ করে লিবিয়ায় যান। সেখানে তিনি একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, লিবিয়ায় অবস্থানকালে গত ৩ জানুয়ারি হঠাৎ তরিকুলের মৃত্যু হয়। তবে কাগজপত্র ও আনুষঙ্গিক জটিলতার কারণে তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘ সময় লাগে।  শনিবার দুপুরে তরিকুলের মরদেহ ঢাকা বিমানবন্দরে পৌঁছায়। বিকেল চারটার দিকে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। বিকেল পাঁচটার দিকে স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে জানাজা হয়। এতে স্বজন, প্রতিবেশীসহ স্থানীয় লোকজন অংশ নেন। জানাজা শেষে রাত ৮টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন একই গ্রামের স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল মোতালেব হোসেন আহমেদ। তিনি বলেন, তরিকুল অবৈধভাবে লিবিয়ায় গিয়েছিলেন। আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে দেশে তাঁর মরদেহ দেরিতে ফিরেছে।

স্বামী হত্যার আসামীর বাড়ি লুটের মামলায় শিশুসহ কারাগারে ফাতেমা, মায়ের জন্য কাঁদছে অপর দু'শিশু

২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল কক্সবাজারের মহেশখালীর কুতুবজোম ইউনিয়নের কামিতার পাড়ার 'কবির বাজার-এ ছিলেন মোহাম্মদ কাশেম। কথা কাটাকাটির জেরে বাজার থেকে তাকে তাড়া করে বাড়িতে ঢুকে রাসেলসহ কয়েকজন কুপিয়ে হত্যা করে। ঘটনার পরদিন কাশেমের স্ত্রী ফাতেমা বেগম বাদী হয়ে রাসেলসহ ১০জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। ওই মামলার ৪নম্বর আসামি রাসেল। কাশেম হত্যার ওই ঘটনার এক মাস পর, ২০২৫ সালের ২৪মে ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও জিনিসপত্র লুটপাটের অভিযোগে আদালতে মামলা করেন রাসেলের মা নুর জাহান বেগম। ২০২৫ সালের ৩ আগস্ট করা ওই অভিযোগে কাশেমের স্ত্রী ফাতেমা বেগম, তার শাশুড়ি, ভাসুর, দেবর ও ননদসহ সাতজনকে আসামি করার আবেদন করা হয়। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে মহেশখালী থানাকে তদন্তের দায়িত্ব দেন। মামলাটির তদন্ত করেন উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মোজাহেরুল ইসলাম। তিনি ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করেন। তবে, ওই তদন্ত প্রতিবেদন নিয়েই নানা প্রশ্ন উঠেছে। আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তদন্ত কর্মকর্তা বাদীর দেওয়া সাতজন সাক্ষীর বাইরে আর কারও সাক্ষ্য নেননি। এমনকি সাত সাক্ষীর বক্তব্যেও দাড়ি, কমা, সেমিকোলনসহ প্রায় একই ধরনের ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও তদন্ত প্রতিবেদনে এসআই মোজাহেরুল ইসলাম উল্লেখ করেন, আমি তদন্তভার গ্রহণ করে ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে বাদীনির দেখানো মতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। আলামত জব্দের চেষ্টা করি। বাদীনিকে জিজ্ঞাসাবাদ করি। আমি তদন্তকালে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হইয়া সংশ্লিষ্ট সাক্ষীদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের জবানবন্দী ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬১ ধারা মতে লিপিবদ্ধ করি। বিবাদীদের নাম ঠিকানা যাচাই করি, মামলার ঘটনাটি প্রকাশ্যে ও গোপনীয়ভাবে তদন্ত করি, গুপ্তচর নিয়োগ করি। তবে তদন্ত কর্মকর্তা মোজাহেরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আদালতে দেওয়া অভিযোগের তদন্ত করার ক্ষেত্রে বাদীর দেওয়া সাক্ষীদের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। তাই তাদের বাইরে আর কারও সাক্ষ্য নেওয়া হয়নি। ২৪মে কোনো ঘটনা ঘটেছিল কি না, সেটিই তদন্তে দেখা হয়েছে এবং সাক্ষীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে রাসেলকে কাশেম হত্যা মামলায় “অন্যায়ভাবে” আসামি করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে এসআই মোজাহেরুল ইসলাম বলেন, “এরকম লেখার কোনো সুযোগ নেই, আগের ঘটনা তাই আমার মনে পড়ছে না। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের ২৪ মে সকাল ৮টার দিকে ফাতেমা বেগম, তার শাশুড়ি, ভাসুর, দেবর ও ননদরা নুর জাহান বেগমের বাড়িঘর ভাঙচুর করে বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে যান। জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তদন্তে ওই ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। একই প্রতিবেদনে বলা হয়, নুর জাহান বেগমের বাড়ির পাশে সংঘটিত একটি হত্যা মামলায় তার ছেলে মোহাম্মদ রাসেলকে অন্যায়ভাবে আসামি করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই হত্যা মামলার ভিকটিম ছিলেন মুহাম্মদ কাশেম। অথচ তদন্ত প্রতিবেদনে কাশেম হত্যার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। এদিকে ফাতেমা বেগমের বিরুদ্ধে করা মামলার তিন সাক্ষী নুরুন্নাহার, মুন্নি আকতার ও মোতাহারা বেগমের সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, ফাতেমা বেগমের বিরুদ্ধে করা মামলায় তারা কোনো সাক্ষ্য দেননি। এমনকি সাক্ষীদের তালিকায় তাদের নাম কীভাবে এসেছে, সেটিও তারা জানেন না। ২০২৫ সালের ২৪মে কোনো ঘটনা ঘটেছিল কি না জানতে চাইলে তারা বলেন, ওইদিন কোনো ঘটনা ঘটেনি। তাদের দাবি, মামলায় যে ঘরবাড়ি ভাঙচুরের কথা বলা হয়েছে, সেগুলো ২৩ এপ্রিল মুহাম্মদ কাশেম হত্যার দিন উত্তেজিত এলাকাবাসী ভেঙে ফেলেছিল। এতে কাশেমের পরিবারের কেউ জড়িত ছিলেন না। এ বিষয়ে মিজানুর রহমান, আয়েশা বেগম, মমতাজ বেগমসহ একাধিক স্থানীয় বাসিন্দার সঙ্গে কথা হয়। তারাও দাবি করেন, ২৪ মে ঘরবাড়ি ভাঙচুরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তাদের ভাষ্য, কাশেমকে হত্যার পর তার পরিবারকে চাপে ফেলতে এবং প্রতিশোধ নিতে পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়েছে। এরই মধ্যে ওই মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন কাশেমের স্ত্রী ফাতেমা বেগম, তার শাশুড়ি রাশেদা বেগম এবং বেড়াতে আসা মেয়ে নাছিমা আকতার। ফাতেমা বেগমের শাশুড়ি রাশেদা বেগম জানান, ৩১ আগস্ট রাতে মহেশখালী থানা পুলিশের একটি দল তাদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে, পুত্রবধূ ফাতেমা বেগম এবং বেড়াতে আসা মেয়ে নাছিমা আকতারকে গ্রেপ্তার করে। তখনই তারা জানতে পারেন, তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পরে ১সেপ্টেম্বর আদালতে হাজির করা হলে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত মহেশখালী দুজনকে জামিন দেন। তবে দেড় বছরের শিশুসহ ফাতেমা বেগমকে কারাগারে পাঠানো হয়। রাশেদা বেগম বলেন, আমার ছেলেকে হত্যা করে আমাদের বিরুদ্ধেই উল্টো মিথ্যা মামলা করেছে। আমরা জানতেই পারিনি যে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, পুলিশ তদন্ত করেছে এবং ওয়ারেন্ট হয়েছে। এখন আমার পুত্রবধূকে কারাগারে পাঠিয়ে আসামিরা আমাদের হুমকি দিচ্ছে। ফাতেমা বেগমের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, মাটির দেয়াল ও টিনের চাল দিয়ে তৈরি তিন কক্ষের ছোট্ট একটি ঘর। এই বাড়িতেই তিন সন্তানকে নিয়ে শাশুড়ির সঙ্গে থাকতেন ফাতেমা। ফাতেমার দুই মেয়ে রাজমিন আকতার চতুর্থ শ্রেণিতে এবং মিশকাত জান্নাত প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। বর্তমানে তারা কুতুবজোমের তাজিয়াকাটা সুমাইয়া (রা.) এতিমখানায় থাকে। মাকে কাছে না পেয়ে কান্নাকাটি করছে শিশু দুটি। ফাতেমা কারাগারে যাওয়ার পর একদিকে দেড় বছরের শিশুটি মায়ের সঙ্গে কারাগারে, অন্যদিকে দুই শিশু সন্তান এতিমখানায়। স্বামীকে হারানোর পর এবার সন্তানদের কাছ থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়েছেন ফাতেমা। কুতুবজোম ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মাহমুদুল হক বলেন, ২০২৫ সালের ২৪মে কোনো ঘটনা ঘটেনি। কারও ঘরবাড়ি ভাঙচুরও করা হয়নি। কাশেমকে হত্যার পর তার পরিবারকে দুর্বল করতে তার স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে এই মামলা করা হয়েছে। সেই মামলায় দেড় বছরের শিশুসহ ফাতেমা এখন কারাগারে। আর বাড়িতে ছোট ছোট দুটি শিশু মাকে ছাড়া রয়েছে। কুতুবজোম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শেখ কামাল বলেন, ঘটনা জানার পর তিনি ইউপি সদস্যকে এলাকায় পাঠিয়েছিলেন। তার কাছে জানতে পারেন, নিহত কাশেম ও অভিযুক্ত রাসেল আত্মীয়। সামান্য টাকার বিষয়ে দুইজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এর একপর্যায়ে দলবদ্ধভাবে কবির বাজার থেকে দৌড়ানি দিয়ে ঘরের দরজার সামনে কাশেমকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। চেয়ারম্যানের ভাষ্য, এ সময় নিহতের পরিবার শোক পালন করছিলেন। তখন উত্তেজিত লোকজন তাদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই আসামিপক্ষ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। তিনি বলেন, ওই মামলায় গত ১ সেপ্টেম্বর তিনজনকে পুলিশ ওয়ারেন্টমূলে গ্রেপ্তার করে। এ সময় দুজন জামিন পেলেও কোলের সন্তানসহ একজনকে আদালত কারাগারে পাঠান। ওই মামলায় ফাতেমা বেগমের জামিন চাইতে তিনি বিনা ফিতে আদালতে যাবেন। মামলার তদন্ত তদারকি কর্মকর্তা প্রতুল সেন বলেন, ওসি তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে থানার প্রতিটি মামলার তদন্ত তদারকির দায়িত্ব তার। এই মামলার বিস্তারিত তার মনে নেই। তিনি জেনে পরে জানাবেন। আর সব সাক্ষীর জবানবন্দি যদি একই হয়, আদালতের দৃষ্টিগোচর হলে আদালত তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। এ বিষয়ে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাচ্চাসহ ফাতেমা কারাগারে থাকার বিষয়টি জেনেছি। মামলা সংক্রান্ত বিষয়গুলো আদালতের এখতিয়ারাধীন। আইন তার নিজ গতিতে চলবে। মানবিক দিক বিবেচনা করে ওনাকে (ফাতেমার চাহিদামতে) প্রয়োজনীয় আইনী সহায়তা দিতে জেলা লিগ্যাল এইডের দৃষ্টিগোচর করা হয়েছে। পাশাপাশি জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতিকেও বিষয়টি দেখভাল করতে অনুরোধ করা হবে। ডিসি আরো বলেন, এতিমখানায় থাকা ফাতেমার অপর দু'সন্তানের প্রয়োজনীয় দেখভাল করতে মহেশখালীর ইউএনওকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

স্বামী হত্যার আসামীর বাড়ি লুটের মামলায় শিশুসহ কারাগারে ফাতেমা, মায়ের জন্য কাঁদছে অপর দু'শিশু

পবিত্র কাবা শরীফকে সাক্ষী রেখে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিলেন বিএনপি নেতা

সৌদি আরবে পবিত্র কাবা শরীফের সামনে দাঁড়িয়ে কাবা শরীফকে সাক্ষী রেখে বিএনপির রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন মো. সাদ্দাম হাওলাদার নামে এক বিএনপি নেতা। সাদ্দাম হাওলাদার বর্তমানে জিয়া সাইবার ফোর্সের বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি। একইসঙ্গে বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সাংগঠনিক পদ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকেও পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। সোমবার (৩১ আগস্ট) নিজের ফেসবুক আইডি থেকে পবিত্র কাবা শরীফকে সাক্ষী রেখে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ার একটি ভিডিও পোস্ট করেন তিনি। একইসঙ্গে ওই ভিডিও'র কমেন্টে দীর্ঘ একটি স্ট্যাটাস লিখে বিএনপির রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দেন তিনি।যেটি মুহুর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়েছে। তবে হঠাৎ করে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির রাজনীতি ছাড়ার এমন সিদ্ধান্তের পিছনে কোন রহস্য রয়েছে কিনা, সেই ব্যাপারে সাদ্দাম হোসেনের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তিনি সৌদি আরবে অবস্থান করায় কোন বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। ফেসবুক পোস্টে মো. সাদ্দাম লিখেন, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। প্রিয় বাংলাদেশ, প্রিয় মাতৃভূমি, প্রিয় জন্মভূমি বরিশালের গৌরনদী-আগৈলঝাড়াবাসী আপনারা সবাই কেমন আছেন। আশা করি সকলে ভালো আছেন, আমিও আল্লাহর অশেষ রহমতে ও আপনাদের দোয়া এবং ভালোবাসায় অনেক ভালো আছি। শুকরিয়া আলহামদুলিল্লাহ্।  আপনারা সকলেই অবগত আছেন যে, বাংলাদেশের বৃহত্তম দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সঙ্গে দীর্ঘদিন যাবত আমি, আমার পরিবার বাবা ও চাচাসহ বংশের ৯০% সকলেই এই দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম। আমি, মো. সাদ্দাম হাওলাদার, জাতীয় উপ-নির্বাচন কমিটির (সাবেক) সদস্য ও ৪নং মডেল গৈলা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক প্রার্থী ও একজন একটিভ সদস্য এবং বর্তমানে আগৈলঝাড়া উপজেলা জিয়া সাইবার ফোর্সের সহ-সভাপতি দায়িত্বরত অবস্থায় আছি।  বিএনপির এই নেতা বলেন, আপনারা সকলেই জানেন, বর্তমানে আমি একজন সৌদি প্রবাসী ও রেমিটেন্সযোদ্ধা, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতি প্রেক্ষাপটে আমার দ্বারা রাজনীতি করা সম্ভব নয়। আমরা বই পুস্তকে পড়েছিলাম রাজনীতি হল জনগণের সেবা করা, এখন দেখছি ভিন্ন হাজারও কথা/অভিযোগ থাকলেও দলের প্রতি আমার বিন্দু পরিমাণ কোন অভিযোগ নেই। আমি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ভালোবাসি, ভালোবাসি দেশ নায়ক তারেক রহমানের সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকে, ভালোবাসি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে।  আমি কোন বড় রাজনীতিবিদ না বা ত্যাগী নেতাকর্মী নয় ,আমার চাইতে হাজারও লক্ষ কোটি নেতাকর্মী এখন দলের কাছে বোঝা ও অবহেলিত। তাই আমি স্ব-সম্মানে সজ্ঞানে বাংলাদেশ নামক সকল রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছি এবং পদত্যাগ করলাম। আজকের পর থেকে আমি কোন দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় জানিয়ে সাদ্দাম বলেন, আল্লাহতায়ালার ঘর পবিত্র কাবা শরীফকে সামনে রেখে তওবা করলাম, সকলে আমার জন্য দোয়া করবেন এবং আমার রাজনৈতিক জীবনে যদি জানা/অজানা কাউকে বিন্দু পরিমাণ কষ্ট দিয়ে থাকি তাহলে আমাকে আপনাদের কারও ছেলে, ভাই, বন্ধু বা সন্তান হিসেবে ক্ষমা করে দিবেন। আমি সকলের কাছে বিনয়ের সঙ্গে মাফ চাই। সবশেষে বিশেষ দ্রষ্টব্য দিয়ে তিনি লিখেন, রাজনীতি ছিল আমার আবেগ ও মনের খোড়াক, ভেবে ছিলাম জনগণের সেবা করবো। তবে সেটা রাজনীতি দিয়ে হইলো না, তবে রাজনীতির বাইরে ওযে মানব সেবা করা যায়, সেটা আমি সাদ্দাম প্রমাণ করে দিবে আল্লাহভরসা। বিগতদিনে যেমন অসহায় হতদরিদ্র মানুষের পাশে সর্বদা ছিলাম, ভবিষ্যতে আমার সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ। এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোল্লা বশির আহমেদ পান্না বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তাছাড়া সাদ্দাম হাওলাদার কর্মের সুবাধে দীর্ঘদিন থেকে সৌদি আরবে রয়েছেন। কারও সাথে কোন ধরনের বিরোধ থেকে সাদ্দাম হাওলাদার ক্ষোভের কারণে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কিনা সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তিনি আরও বলেন, পাশাপাশি সাদ্দাম হাওলাদার লিখিতভাবে কোন পদত্যাগপত্র না পাঠিয়ে কি কারণে ফেসবুকে ভিডিও ছেড়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছেন, সে ব্যাপারেও খোঁজখবর নিয়ে বিস্তারিত বলা যাবে।        

পবিত্র কাবা শরীফকে সাক্ষী রেখে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিলেন বিএনপি নেতা

ছয় বছরে একই পরিবারের ৪ প্রাণ নিয়ে গেছে ক্যানসার, এখন আক্রান্ত আরও দুইজন

রাজশাহীর মোহনপুরে একটি পরিবারে গত ছয় বছরে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে পরিবারের এক নারী চতুর্থ পর্যায়ের ব্রেন ক্যানসার এবং তাঁর দেবর চতুর্থ পর্যায়ের কোলন ক্যানসারে আক্রান্ত। স্বামীকে হারিয়ে সন্তানদের নিয়ে কঠিন সময় পার করছেন ওই নারী। পরিবারের আর্থিক সংকটের পাশাপাশি দুই শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়েও দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। মোহনপুর উপজেলার আতানারায়ণপুর গ্রামে পরিবারটির বাড়ি। পরিবারের সদস্যরা জানান, ইসরাত জাহান পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার ছোট ভাই জুনায়েদ ইসলামের বয়স পাঁচ বছর। ইসরাতের বাবা এসারুল ইসলাম ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসার জন্য পরিবারের সঙ্গে কয়েকবার ভারতে যেতে হয়েছিল। তখন হাসপাতালে বসে রংপেনসিল দিয়ে বাংলাদেশের প্রকৃতি ও জাতীয় স্মৃতিসৌধের ছবি আঁকত ইসরাত। দীর্ঘ চিকিৎসার পর বাবাকে আর বাঁচানো যায়নি। এখন সেই ছবিগুলোই বাবার স্মৃতি হয়ে আছে তার কাছে। পরিবারটির ওপর ক্যানসারের আঘাত অবশ্য নতুন নয়। পাঁচ ভাইয়ের এই পরিবারে গত ছয় বছরে চারজন ক্যানসারে মারা গেছেন। ২০১৯ সালের দিকে প্রায় ৪৬ বছর বয়সে লিভার ক্যানসারে মারা যান মেজ ভাই সাদরুল ইসলাম। ২০২২ সালে ৮০ বছর বয়সে মারা যান বাবা আবদুল হামিদ। একই বছর বা এর কাছাকাছি সময়ে লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত হন আরেক ভাই মামুন অর রশিদ, যিনি ২০২৪ সালে মারা যান। এর প্রায় এক বছর দুই মাস আগে ৪০ বছর বয়সে মারা যান এসারুল ইসলাম। স্বামীর মৃত্যুর এক মাস পর ইসরাতের মা মোসা. ঝরনার ব্রেন ক্যানসার শনাক্ত হয়। বর্তমানে তিনি চতুর্থ পর্যায়ের ক্যানসারে আক্রান্ত। নিয়মিত কেমোথেরাপি নিতে হচ্ছে তাঁকে। এর মধ্যে স্ট্রোক করায় তাঁর ডান হাত ও ডান পা অবশ হয়ে গেছে। ঢাকায় মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারও করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, এরপর থেকে তিনি অনেক কিছু ঠিকমতো মনে রাখতে পারেন না এবং কথা বলতেও কষ্ট হয়। এ ছাড়া ইসরাতের বড় চাচা শফিকুল ইসলামের ২০২২ সালের দিকে কোলন ক্যানসার ধরা পড়ে। স্থানীয় একটি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক শফিকুল অস্ত্রোপচার করিয়েছেন। বর্তমানে তিনিও চিকিৎসাধীন এবং তাঁর ক্যানসার চতুর্থ পর্যায়ে রয়েছে। এসারুল ইসলাম মোহনপুর মহিলা কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করার পর ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন তিনি। ২০১১ সালে গাজীপুরের মেয়ে ঝরনার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। পরে তাঁরা ঢাকায় এবং এরপর মোহনপুর উপজেলা সদরে বসবাস শুরু করেন। স্বামীর চিকিৎসার জন্য সোনালী ব্যাংক থেকে প্রায় আট লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিল পরিবারটি। এর মধ্যে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা এখনো বাকি। ঝরনা জানান, সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে ৫০ হাজার টাকা অনুদান মঞ্জুর হলেও ব্যাংক হিসাব স্থগিত থাকায় সেই টাকা এখনো তুলতে পারেননি। বাড়ির ভিটা ছাড়া তাঁদের উল্লেখযোগ্য কোনো সম্পদ নেই। সম্প্রতি মুঠোফোন বিক্রি করে তিন মাসের বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেছেন তিনি। পরিবারের সদস্যরা জানান, ইসরাত পড়াশোনার প্রতি অত্যন্ত আগ্রহী। হাতে কাগজ পেলেই পড়তে বসে যায়। দেয়ালে কোনো লেখা দেখলেও থেমে পড়ে। উপজেলা সদরে থাকার সময় পড়াশোনা ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় প্রায়ই ভালো ফল করত সে। ভবিষ্যতে ঢাকায় গিয়ে পড়াশোনা করার ইচ্ছাও রয়েছে তার। প্রায় এক মাস আগে বড় চাচার স্ত্রী শাবানা বেগমের কাছ থেকে ৮০০ টাকা নিয়ে বই-খাতা হাতে একাই ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছিল ইসরাত। পরে মোহনপুর বাস টার্মিনালের এক পরিবহনকর্মী বিষয়টি বুঝতে পেরে তার মাকে ফোন করেন। এরপর ঝরনা গিয়ে মেয়েকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন। ইসরাতের ছোট ভাই জুনায়েদ তুলনামূলক চঞ্চল। সে রান্নার প্রস্তুতিতেও মাকে সহযোগিতা করে। অন্যদিকে, বাবাকে হারানোর পর ইসরাত অনেকটাই চুপচাপ হয়ে গেছে। বাবার সঙ্গে তোলা ছবি এবং ভারতে বসে আঁকা ছবিগুলোই এখন তার প্রিয় স্মৃতি। পরিবারের আরেক সদস্য আনোয়ার হোসেন পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে বর্তমানে সুস্থ আছেন। তবে তিনি হেপাটাইটিস বি পজিটিভ। ৩৮ বছর বয়সী আনোয়ার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তাঁর মতে, ক্যানসারপ্রবণ পরিবারগুলোর জন্য সরকারি সহায়তা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। মোহনপুর উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের শিশু সুরক্ষা সমাজকর্মী ফেরদৌসী হক নিয়মিত পরিবারটির খোঁজ রাখছেন। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ইমাম হোসেন শামীম জানান, পরিবারটিকে ৫০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রোগী কল্যাণ ফাউন্ডেশন থেকে কিছু ওষুধের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। তবে এই সহায়তা যথেষ্ট নয়। দুই শিশুর ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে প্রয়োজনে রাজশাহী শহরের এসওএস শিশু পল্লীর সঙ্গে যোগাযোগের প্রস্তুতিও রয়েছে। জনস্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্যানসারের চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল হওয়ায় নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য নিয়মিত চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৪ সালের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২০২২ সালে বছরে আনুমানিক ১ লাখ ৬৭ হাজার ২৫৬ জন নতুন করে ক্যানসারে আক্রান্ত হন এবং একই সময়ে প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার ৫৯৮ জনের মৃত্যু হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে ক্যানসার চিকিৎসার সুযোগ ও কেন্দ্রের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম। ফলে ঢাকার বাইরে থাকা অনেক পরিবারকে চিকিৎসার জন্য দূর-দূরান্তে যেতে হয়। এতে চিকিৎসার খরচের পাশাপাশি যাতায়াত ও অন্যান্য ব্যয়ও বাড়ে। মোহনপুরের এই পরিবারটির ক্ষেত্রে ক্যানসারের দীর্ঘস্থায়ী চিকিৎসা, স্বজন হারানোর শোক এবং আর্থিক সংকটের সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে দুই শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা। পরিবারের সদস্যদের প্রত্যাশা, চিকিৎসার পাশাপাশি শিশু দুটির পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায় থেকে সহযোগিতা পাওয়া যাবে।

ছয় বছরে একই পরিবারের ৪ প্রাণ নিয়ে গেছে ক্যানসার, এখন আক্রান্ত আরও দুইজন

১২০ শিক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ৭ জন, অনুপস্থিতির জন্য জন্মনিয়ন্ত্রণকে দায়ী করলেন শিক্ষক

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার মৈশানী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে কাগজে-কলমে শিক্ষার্থী ১২০ জন। শিক্ষক রয়েছেন ১১ জন এবং কর্মচারী দুজন। তবে সরেজমিনে গিয়ে বিদ্যালয়ে পাওয়া গেছে মাত্র সাত শিক্ষার্থী।মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ষষ্ঠ শ্রেণিতে একজন, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণিতে কোনো শিক্ষার্থী নেই। নবম ও দশম শ্রেণিতে উপস্থিত ছিল তিনজন করে শিক্ষার্থী। নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের এমন নগণ্য উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।শিক্ষার্থী সংকটের কারণ হিসেবে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পঙ্কজ কুমার মণ্ডল জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির কারণে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমে যাওয়া, স্বল্প সন্তান পরিবার এবং এলাকার ভৌগোলিক পরিবেশকে দায়ী করেছেন।তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থী সংকটের পেছনে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমে যাওয়া, স্বল্প সন্তান পরিবার এবং এলাকার ভৌগোলিক পরিবেশ দায়ী।’এদিকে বিদ্যালয়টির এসএসসি ফলাফলও হতাশাজনক। ২০২৬ সালে ১১ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র একজন। এর আগে ২০২৫ সালে আট পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছিল একজন। অর্থাৎ দুই বছরে ১৯ পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র দুজন।গত ১০ আগস্ট বিদ্যালয়টির এসএসসি ফলাফল নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে নেছারাবাদসহ পিরোজপুরে আলোচনা শুরু হয়। এর পরদিন বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে নথিতে ১২০ শিক্ষার্থী থাকলেও শ্রেণিকক্ষে হাতে গোনা কয়েকজনকে পাওয়া যায়।এতে প্রশ্ন উঠেছে, কাগজে থাকা বাকি ১১৩ শিক্ষার্থী কোথায়? নিয়মিত পাঠদানে সাত-আটজনের বেশি শিক্ষার্থী উপস্থিত না থাকলে বিদ্যালয়ের নথিতে ১২০ শিক্ষার্থীর হিসাব কীভাবে রয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা পর্ষিয়া রানী হালদার শিক্ষার্থী সংকটের পেছনে বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, ওয়াশরুমের সমস্যা এবং শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে না পারার বিষয়গুলো উল্লেখ করেন।তিনি জানান, এসএসসি পরীক্ষায় অন্তত ১০ থেকে ১২ জন পরীক্ষার্থী দেখানোর প্রয়োজন হয়। এ কারণে পাশের সপ্তগ্রাম সম্মিলনী বিদ্যালয়ের টেস্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারা কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ফরম পূরণ করিয়ে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জহিরুল আলম বলেন, বিদ্যালয় থেকে ১১ শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে একজন পাস করেছে। অন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের বিষয়টিও তাঁর জানা আছে। এ বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে তথ্য চাওয়া হবে।

১২০ শিক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ৭ জন, অনুপস্থিতির জন্য জন্মনিয়ন্ত্রণকে দায়ী করলেন শিক্ষক

মায়ের মরদেহ নিয়ে নির্ঘুম রাত, শেষমেশ উঠানেই কবর

গাজীপুরের শ্রীপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মৃত্যুর পরও এক নারীর মরদেহ দাফন করা নিয়ে চরম সংকট তৈরি হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, দাফনের জায়গা না থাকায় প্রায় এক দিন ধরে মরদেহটি বাড়ির বারান্দায় পড়ে ছিল। স্থানীয় মাতব্বর, রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কয়েক দফা সালিসে বসলেও কোনো সমাধান হয়নি। শেষ পর্যন্ত বসতঘরের দরজার পাশের উঠানেই মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন স্বজনরা।মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে শ্রীপুর উপজেলার ২ নম্বর মাওনা ইউনিয়নের আক্তাপাড়া গ্রামে। মৃত নারীর নাম শ্রীমতি মেনোকা (৬০)। তিনি মান্দাই জনগোষ্ঠীর অনুসারী এবং আক্তাপাড়া গ্রামের শ্রী গোপালের স্ত্রী। বার্ধক্যজনিত কারণে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে তার মৃত্যু হয়।স্বজনদের ভাষ্য, গোপাল ও তার পরিবার বংশপরম্পরায় কয়েক দশক ধরে ওই গ্রামে বসবাস করছেন। বর্তমানে প্রায় এক শতাংশ জমির ওপর নির্মিত একটি ছোট ঘরে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস করছেন গোপাল।পরিবারের দাবি, প্রায় এক বছর আগে প্রতিবেশী ছফর উদ্দিনের কাছ থেকে দেড় লাখ টাকায় আরও এক শতাংশ জমি কেনেন গোপাল। তবে মিউটেশন জটিলতার কারণে জমিটি রেজিস্ট্রি করা সম্ভব হয়নি। নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে সই-স্বাক্ষর নেওয়ার পর জমির পুরো টাকা পরিশোধ করা হয়েছিল বলেও দাবি পরিবারের।তবে এখন সেই জমি বিক্রির বিষয়টি অস্বীকার করছেন ছফর উদ্দিন। ফলে ওই জমিতে মেনোকার মরদেহ দাফন করতে গেলেও বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ স্বজনদের।মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, মেনোকার মরদেহ বাড়ির বারান্দায় রাখা হয়েছে। পাশে স্বজনরা অবস্থান করছেন। বাড়ির পাশে কবর খননের চেষ্টা করা হলেও এতে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।মেনোকার ভাই নিবারণ বলেন, ‘আমার ভগ্নিপতি এই জমি কিনেছিলেন। ভেবেছিলেন, প্রয়োজনে ঘরের পাশে স্বজনদের দাফন করা যাবে। এখন জমি কেনার বিষয়টিই অস্বীকার করা হচ্ছে। কবর খনন করতে গেলে ছফর উদ্দিন ও তার স্ত্রী-সন্তানরা লাঠিসোঁটা নিয়ে মারমুখী আচরণ করেন।’তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান, রাজনৈতিক নেতা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা দুপুরের পর থেকে কয়েক দফা সালিসে বসলেও কোনো সমাধান হয়নি।নিহত মেনোকার ছেলে শ্রী সুনিল বলেন, ‘আমাদের পাশে দাঁড়ানোর মতো কাউকে পেলাম না। মায়ের মরদেহ নিয়ে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছি। মেম্বার-চেয়ারম্যান, থানা পুলিশ—সবার কাছে গিয়েছি। কয়েক দফা সালিস হয়েছে, কিন্তু কবর খনন করতে দেওয়া হয়নি।’তিনি আরও বলেন, ‘আমরা নিচু জাতের মানুষ বলে হয়তো আমাদের কথা কেউ গুরুত্ব দিচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে ঘরের দরজার পাশের উঠানেই মায়ের কবর খননের প্রস্তুতি নিচ্ছি।’তবে জমি বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ছফর উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘আমি তার কাছে কোনো জমি বিক্রি করিনি। কোনো টাকা-পয়সাও নিইনি। আমার জমিতে মান্দাই সম্প্রদায়ের ওই নারীকে দাফন করতে দেব না।’মাওনা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক বলেন, ‘ছফর উদ্দিনকে অনেক বুঝিয়েছি। কিন্তু তিনি কারও কথা মানছেন না। এ কারণে কোনো সমাধান হয়নি। এখন পরিবারটি ঘরের দরজার পাশে উঠানেই দাফনের ব্যবস্থা করছে।’শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সাধ্যমতো বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের স্বজনদের আদালতের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ ভূঁইয়া বলেন, ‘একজন আমাকে মেসেজের মাধ্যমে বিষয়টি জানিয়েছেন। পরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দিয়েছিলাম। তিনি শেষ পর্যন্ত কী করেছেন, সে বিষয়ে আমাকে আর আপডেট জানানো হয়নি।’

মায়ের মরদেহ নিয়ে নির্ঘুম রাত, শেষমেশ উঠানেই কবর

উখিয়ায় পুলিশ ক্যাম্পের ওয়াশরুম থেকে এএসআইয়ের মরদেহ উদ্ধার

কক্সবাজারের উখিয়ায় একটি পুলিশ ক্যাম্পের ওয়াশরুমের ভেতর থেকে রুবেল হোসেন নামে এক সহকারী উপ-পরিদর্শকের (এএসআই) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।শনিবার (৮ আগস্ট) ভোর ৫টার দিকে উখিয়ার ইরানি পাহাড় পুলিশ ক্যাম্পের ওয়াশরুমের স্টিলের দরজা কেটে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, শুক্রবার বিকেলে নিয়মিত রোলকলে এএসআই রুবেল অনুপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ সময় তাকে না পাওয়ায় ক্যাম্পের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।শনিবার ভোরে ক্যাম্পের বাবুর্চি শরীফ রান্নার কাজে ওয়াশরুমে যাওয়ার সময় দেখেন, দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে তিনি রুবেল হোসেনকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন।পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও চিকিৎসক ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ওয়াশরুমের স্টিলের দরজা কেটে রুবেলকে বের করে আনা হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।পুলিশ জানায়, মরদেহের কাছ থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, গোসলের তোয়ালে, টর্চ লাইট ও সিগারেট উদ্ধার করা হয়েছে।পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ওয়াশরুম ব্যবহারের সময় হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে আইনগত তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

উখিয়ায় পুলিশ ক্যাম্পের ওয়াশরুম থেকে এএসআইয়ের মরদেহ উদ্ধার