বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ
Topic Ads 1
ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধার ২৯ বাংলাদেশি, ২৪ জনই সিলেটের

ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধার ২৯ বাংলাদেশি, ২৪ জনই সিলেটের

লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে দিকভ্রান্ত হয়ে মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছানো ২৯ বাংলাদেশি নাগরিকের মধ্যে ২৭ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৪ জনই সিলেট বিভাগের বাসিন্দা। শনাক্ত হওয়া ২৭ জন সুস্থ হয়ে বর্তমানে মিশরের স্থানীয় পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। বাকি দুই বাংলাদেশি নাগরিক এখনো মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। জীবিত উদ্ধার হওয়া অভিবাসনপ্রত্যাশী সুনামগঞ্জের আব্দুল করিম জানান, নৌকাটিতে থাকা আরও নয় বাংলাদেশি নাগরিক সাগরে মারা গেলে তাদের মরদেহ সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়। সোমবার (৩ আগষ্ট) মানবপাচার চক্রের সহায়তায় লিবিয়ার তবুক এলাকা থেকে একটি নৌকায় সাগর পথে  গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা করেন অভিবাসন প্রত্যাশীরা। ভূমধ্যসাগরে নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেলে এটি দিকভ্রান্ত হয়ে ১০ দিন সাগরে ভাসমান থাকে। পরে গত বৃহষ্পতিবার (১৩ আগষ্ট) নৌকাটি মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছায়। তখন স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অসুস্থ ও অচেতন অবস্থায় বাংলাদেশি নাগরিকদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন। পুলিশ হেফাজতে থাকা ২৭ বাংলাদেশির মধ্যে সিলেট বিভাগের চার জেলার মোট ২৪ জন রয়েছেন। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ সদরের ১২ জন হলেন তায়েবুর রহমান, মো. মাহফুজ মিয়া, মো. লোহানী আহমেদ, বদর উদ্দিন, সোহেল মিয়া, মো. হোসাইন আহমেদ, আলিম উদ্দিন, সাব্বির হোসেন তালহা, এনাম উদ্দিন, আবু সাঈদ এয়াহিয়া, আব্দুল করিম ও মো. মামুন খান। সুনামগঞ্জের দিরাই থেকে নাইম আহমেদ, জগন্নাথপুর থেকে সাইদুল ইসলাম, মো. হোসাইন মিয়া, আরিফ আহমেদ ও হুজাইফা বিন হোসাইন এবং ছাতক থেকে তোফায়েল আহমেদ রয়েছেন তালিকায়। হবিগঞ্জ সদরের মোস্তাকিন ভূঁইয়া এবং আজমিরীগঞ্জের সোহেল মিয়া ও রিয়াজ উদ্দিন আহমদ। সিলেট জেলার রয়েছেন গোয়াইনঘাটের তানভীর হোসেন এবং বিয়ানীবাজারের রাজু মিয়া ও নজরুল ইসলাম। সিলেট বিভাগের বাইরে থাকা বাকি তিন জন হলেন মাদারীপুরের মো. ফারুক, কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের সায়মন মিয়া এবং ভৈরবের মহরম আলী। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা আরও দুই বাংলাদেশি নাগরিকের নামপরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি (শ্রম) মো. জাকির হোসেন জানান, মানবপাচার চক্রের সহায়তায় গত ৩ আগস্ট লিবিয়ার তবুক এলাকা থেকে যাত্রা শুরু করা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নৌকাটি ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার পথে দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ে এবং গত ১৩ আগস্ট মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছায়। অসুস্থ ও অচেতন অবস্থায় উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়, যাদের মধ্যে ২৭ জন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন এবং বর্তমানে মারসা মাতরুহ পুলিশ স্টেশনের সঙ্গে সংযুক্ত একটি অস্থায়ী কারাগারে আটক রয়েছেন। তিনি বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাকি দুই বাংলাদেশি নাগরিকের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি, তবে সুস্থ হয়ে পুলিশ হেফাজতে থাকাদের ছবি ও ঠিকানা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ইতোমধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে। দূতাবাসের এ কর্মকর্তা আরও জানান, এ ঘটনায় কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের মেহেদি হাসান (পিতা মো. সাবু মিয়া) মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরে গত রোববার (১৬ আগষ্ট) বিকেলে একই উপকূল থেকে আরও এক বাংলাদেশি নাগরিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে দুটি মরদেহ মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষিত রয়েছে। মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করতে এবং সাগরে নিখোঁজ নয় বাংলাদেশির নাম, পরিচয় ও ঠিকানা যাচাইয়ের জন্য জীবিত উদ্ধার হওয়া সহযাত্রীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া জরুরি বলে জানিয়েছেন দূতাবাসের কর্মকর্তা। এ বিষয়ে সাক্ষাৎকার গ্রহণের সুযোগ চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ইতোমধ্যে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এছাড়া, নৌকা থেকে শামীম আহমেদ ও হাবিব উল্লাহ নামের দুটি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং হৃদয় পাল, মো. হাবিব উল্লাহ ও নুর আলম নামের তিনটি পাসপোর্ট পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। জাকির হোসেন বলেন, মিশরের প্রচলিত আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট আদালত ও প্রসিকিউশনের সিদ্ধান্তের পর আটক ২৭ বাংলাদেশির বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। একই সঙ্গে মর্গে সংরক্ষিত দুই মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করে তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর দ্রুততম সময়ে আটক বাংলাদেশিদের দেশে ফেরত পাঠানো এবং মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

অক্সিজেন ‘না’ পেয়ে মারা গেল হাম উপসর্গের শিশু

সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে আইসিইউ ও অক্সিজেন না পাওয়ার অভিযোগে আট মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৮ আগস্ট) হাসপাতালের বারান্দায় দাঁড়িয়ে সন্তান হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিশুটির বাবা-মা।মৃত শিশুটির নাম আয়ান। তার বাড়ি সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার এলাকায়।পরিবার সূত্রে জানা গেছে, হাম উপসর্গ দেখা দেওয়ায় আয়ানকে শুক্রবার সন্ধ্যায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউ সিট না পাওয়ায় শনিবার দুপুর ১২টার দিকে তাকে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে নেওয়া হয়।শিশুটির বাবা মোরশেদ আলমের অভিযোগ, হাসপাতালে নেওয়ার পর আয়ানের অক্সিজেন প্রয়োজনের কথা জানানো হয়। আইসিইউতে নেওয়ার অনুরোধ করলেও তাকে জরুরি বিভাগে প্রায় এক ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। পরে আইসিইউতে নেওয়ার সময় চিকিৎসকেরা জানান, শিশুটি আর বেঁচে নেই।সন্তান মারা যাওয়ার পর আইসিইউতে নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তুলে মোরশেদ আলম বলেন, রোগী মারা যাওয়ার পর কীভাবে আইসিইউতে শয্যা খালি হলো—এ বিষয়টি তিনি বুঝতে পারছেন না।তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিশুটিকে যখন হাসপাতালে আনা হয়, তখন আইসিইউতে কোনো শয্যা খালি ছিল না। জরুরি বিভাগে পর্যবেক্ষণে রাখার পর একটি শয্যা খালি হলে শিশুটিকে সেখানে নেওয়া হয়। তখনই তার মৃত্যু হয়।শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান বলেন, কোনো রোগীর আইসিইউ প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তবে পরিবারটি আইসিইউতে শয্যা খালি আছে কি না নিশ্চিত না হয়েই শিশুটিকে নিয়ে হাসপাতালে আসে। হাসপাতালে আনার সময় আইসিইউতে কোনো শয্যা খালি ছিল না।তিনি বলেন, পরে একটি শয্যা খালি হলে শিশুটিকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। তবে তখন শিশুটির মৃত্যু হয়।হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বিশেষায়িত এ হাসপাতালের আইসিইউতে মোট ১৪টি শয্যা রয়েছে। শনিবার সেখানে কোনো শয্যাই খালি ছিল না। একই দিনে হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ৯০ জন শিশু ভর্তি ছিল।

অক্সিজেন ‘না’ পেয়ে মারা গেল হাম উপসর্গের শিশু