রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ
Topic Ads 1
মোবাইলে কল দেওয়াকে কেন্দ্র করে নারীকে হত্যা, যুবকের মৃত্যুদণ্ড

মোবাইলে কল দেওয়াকে কেন্দ্র করে নারীকে হত্যা, যুবকের মৃত্যুদণ্ড

‎ময়মনসিংহে সাথী আক্তার (৩৮) নামের এক নারীকে হত্যা মামলায় হৃদয় মিয়া (৩২) নামের এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডও করা হয়েছে। ‎‎আজ মঙ্গলবার দুপুরে ময়মনসিংহ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক শামসুদ্দিন এই রায় দেন। আসামির উপস্থিতিতে বিচারক এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আরও বলা হয়, অর্থদণ্ডের টাকা হৃদয়ের সম্পত্তি থেকে আদায় করে নিহতের পরিবারকে প্রদান করতে হবে। সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট আনোয়ার আজিজ টুটুল মামলার রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘মোবাইল কল দেওয়াকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বাগ্‌বিতণ্ডা ঘটে। এরই জেরে হৃদয় মিয়া ছুরিকাঘাত করে সাথী আক্তারকে হত্যা করে।’ ‎মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হৃদয় মিয়া নগরীর জুবলী কোয়াটার এলাকার জয়নাল মিয়ার ছেলে। নিহত সাথী আক্তার একই এলাকার মৃত মোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে। ‎মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২১ মে মোবাইলে কল দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এর জেরে ২৩ মে রাত ২টার দিকে হৃদয় মিয়া আকুয়া জুবলী কোয়ার্টার এলাকায় ভাড়া বাসায় ঢুকে সাথী আক্তারের ওপর হামলা চালায়। এ সময় ছুরি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে সাথী আক্তারকে গুরুতর আহতাবস্থায় ফেলে চলে যায় হৃদয়। পরে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় সাথী আক্তারের বোন শিউলি আক্তার বাদী হয়ে একই এলাকার বাবুল ও হৃদয়ের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পুলিশ ঘটনা তদন্ত করে হৃদয়ের নামে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

৪৫ বছর পর মিলল মোজাফফরের ফোনে জিয়া হত্যার নতুন তথ্য

শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে নতুন তথ্য পাওয়া গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন তদন্তের দায়িত্ব পাওয়া বিশেষ প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা। হত্যাকাণ্ডের স্থান পরিদর্শন করে তিনি জানান, এবার অনেক অমীমাংসিত রহস্যের সুরাহা হবে। আর এসব ঘটনায় তাদের পথ দেখাচ্ছে মোজাফফরের ফোন। গত ১৫ জুলাই রাতে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যায় জড়িত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ৪৫ বছর ধরে পলাতক ছিলেন। ঐতিহাসিক বিভিন্ন বর্ণনা অনুযায়ী, ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জিয়াউর রহমান হত্যার সময় তার কাছেই উপস্থিত ছিলেন মোজাফফর। ঘটনার পর ওই কক্ষে নথিপত্র তল্লাশি এবং মরদেহ সরানোর কাজে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। তিনি গ্রেপ্তার হওয়ার পর কিছু অমীমাংসিত প্রশ্নের উত্তর খোঁজা শুরু হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে কার কী ভূমিকা ছিল, তা জানতে অনুসন্ধান চলছে। খোঁজা হচ্ছে ডিজিটাল এভিডেন্সও। চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসসহ বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করে নতুন কিছু তথ্য পাওয়ার দাবি করেছেন তদন্তের দায়িত্বে থাকা বিশেষ প্রসিকিউটর। জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্তের দায়িত্ব পাওয়া বিশেষ প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা বলেন, জিয়াউর রহমানের মৃত্যুটা নিয়ে কিন্তু এখনো অনেক রহস্য রয়েছে। সে রহস্য উন্মোচনের ক্ষেত্রে মোজাফফর আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। কারণ, তার সঙ্গে দেশের ভেতর এবং দেশের বাইরের বেশ কিছু লোকের যোগাযোগ আমরা পেয়েছি। তারা আসলে কেউ রাষ্ট্রীয় কোনো ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কি না, কেনইবা এতদিন পর মোজাফফরের সঙ্গে তারা যোগাযোগ করেছেন এবং কীভাবে মোজাফফর বাংলাদেশে প্রবেশ করল, কোন কারণে তিনি প্রবেশ করেছেন, কার পৃষ্ঠপোষকতায় তিনি থেকেছেন, কার ছত্রচ্ছায়ায় তিনি ব্যাংকে বিভিন্ন লেনদেন করেছেন সবকিছুই আমরা তদন্তের আওতায় আনছি। জিয়াউর রহমান খুন হওয়ার পর সেনানিবাসে ফিরে আসা কর্মকর্তাদের মধ্যে দৃশ্যমান উচ্ছ্বাস ছিল। সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী ছিলেন মেজর জেনারেল মঞ্জুর। গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাকে পুলিশ হেফাজত থেকে সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত কে দিয়েছিল, সে প্রশ্নেরও উত্তর খোঁজা হচ্ছে। জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্তের দায়িত্ব পাওয়া বিশেষ প্রসিকিউটর আরও বলেন, কেন তৎকালীন প্রশাসক তাকে সেনা হেফাজতে নিয়েছিলেন, কোন আইনের বলে যেহেতু এটা একটি সিভিল হত্যাকাণ্ড, সিভিল এলাকায় মৃত্যু সংঘটিত হয়েছে পুলিশের হেফাজতে থাকা একজন সেনা কর্মকর্তাকে কারা নিয়ে গেল এবং পরবর্তীতে তার মৃত্যুর খবর সেখানে কীভাবে নিশ্চিত করা হলো, তার পোস্টমর্টেম কে করেছিলেন এবং সেখানে যে গুলি করা হয়েছিল, সেই তথ্য থাকলেও কমিশন তা নির্ণয় করতে পারেনি। আসলে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে কে গুলি করেছিল এবং মঞ্জুর কীভাবে নিহত হয়েছিলেন, সে বিষয়টি এখনো অমীমাংসিত। তিনি বলেন, তবে আশা করি, সেই সময়কার জীবিত যেসব সেনা কর্মকর্তা রয়েছেন অথবা তার ইমিডিয়েট জুনিয়ররা যারা রয়েছেন, সেই সঙ্গে গোয়েন্দা ও অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে রিপোর্টগুলো রয়েছে সবকিছুর সমন্বয়ে আমরা হয়তো এই মৃত্যুর কারণ কী ছিল, তা বের করতে পারব। এই ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তারা কী চেয়েছিল, সেটিও তদন্ত করা হবে। তিনি আরও বলেন, আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রেসিডেন্টের পক্ষে একটি সিক্রেট পেপার তারা খোঁজার চেষ্টা করেছিল এ মর্মে আমরা কিছু তথ্য পেয়েছি। সেই সিক্রেট পেপারটি আসলে কী এবং তাকে হত্যা করার পর সে বিষয়টি নিয়ে কেন তাদের এত আগ্রহ ছিল, সেটিও আমরা তদন্ত করছি। হত্যাকাণ্ডে লেফটেন্যান্ট মোসলেহ উদ্দিন, মেজর ফজলুল হক, ক্যাপ্টেন সালাউদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ মো. মুনির এবং ক্যাপ্টেন মো. ইলিয়াসের সম্পৃক্ততাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এই প্রসিকিউটর। সূত্র: চ্যানেল টুয়েন্টিফর

৪৫ বছর পর মিলল মোজাফফরের ফোনে জিয়া হত্যার নতুন তথ্য

হাদি হত্যায় মূল অভিযুক্ত ফয়সাল ও তার স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার স্ত্রী শাহেদা পারভীন সামিয়ার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন। এদিন দুদকের পক্ষে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মো. সাইফুর রহমান অভিযোগসংশ্লিষ্ট ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার স্ত্রী শাহেদা পারভীন সামিয়ার বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে আবেদন করেন। ফয়সাল করিম মাসুদ বর্তমানে ভারতে একটি কারাগারে আটক রয়েছেন। আবেদনে বলা হয়, ফয়সাল করিম ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্টদের ব্যাংক হিসাবে ১২৭ কোটি টাকার লেনদেনের অভিযোগ অনুসন্ধানাধীন রয়েছে। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দেশ ছেড়ে বিদেশে পলায়ন করতে পারেন বলে অনুসন্ধানকালে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়। অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তাদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া একান্ত প্রয়োজন। উল্লেখ্য, গত ৮ মার্চ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ও স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) বনগাঁ সীমান্ত এলাকা থেকে ফয়সালকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে সে দেশটির কারাগারে আটক রয়েছেন। 

হাদি হত্যায় মূল অভিযুক্ত ফয়সাল ও তার স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

বাবাকে হত্যার অভিযোগ মেয়ের বিরুদ্ধে, আড়াই মাস পর মরদেহ উত্তোলন

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় ব্যাংকে জমা থাকা প্রায় ১৮ লাখ টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে অসুস্থ বৃদ্ধ বাবাকে হত্যা করা হয়েছে—এমন অভিযোগে দায়ের করা মামলার তদন্তে আড়াই মাস পর আদালতের নির্দেশে কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করেছে প্রশাসন।বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল ইসলাম হাবিব বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার নলডাঙ্গা এলাকার একটি কবরস্থান থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোস্তাফিজুর রহমানের উপস্থিতিতে মরদেহটি উত্তোলন করা হয়।নিহত ব্যক্তি উপজেলার তালুক সাহাবাজ গ্রামের বাসিন্দা তৈয়ব আলী সরকার। গত ২৩ জুন তাঁর বড় মেয়ে কহিনুর বেগম বাদী হয়ে ছোট বোন রহিমা বেগমসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও দুইজনকে আসামি করা হয়েছে।মামলার অন্য আসামিরা হলেন রহিমা বেগমের মেয়ে সুমাইয়া আক্তার, তার স্বামী হামিদুল ইসলাম এবং নলডাঙ্গা ইসলামী ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপক সোহাগ মিয়া।পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, তৈয়ব আলীর ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১৮ লাখ টাকা জমা ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, সেই অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে তাঁর ছোট মেয়ে রহিমা বেগম চেক বই চুরি করেন। বিষয়টি জানতে পেরে ২০২৫ সালের ১২ জানুয়ারি তৈয়ব আলী ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানান এবং তাঁর হিসাব থেকে যেন কোনো অর্থ উত্তোলন করা না হয়, সে বিষয়ে অনুরোধ করেন।মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, চলতি বছরের ১৪ মার্চ চিকিৎসার কথা বলে রহিমা বেগম বাবাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। পরে বড় মেয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে নিতে চাইলে তাতে বাধা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে জোরপূর্বক চেকে স্বাক্ষর নিয়ে দুই দফায় ব্যাংক থেকে ১৭ লাখ ৭২ হাজার ৬৩৮ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।এজাহারে আরও বলা হয়, অর্থ উত্তোলনের বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় গত ১৯ মে রাতে অন্যান্য আসামিদের সহযোগিতায় বালিশ চাপা দিয়ে তৈয়ব আলীকে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাটি গোপন রাখতে দ্রুত তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন, মরদেহ উত্তোলনের পর প্রথমে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে উন্নত ময়নাতদন্তের জন্য বুধবার সকালে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।তিনি জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এরপর তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাবাকে হত্যার অভিযোগ মেয়ের বিরুদ্ধে, আড়াই মাস পর মরদেহ উত্তোলন

যে হত্যাকাণ্ডে কেঁদেছিল দেশবাসী, শুধু কান্নার অধিকার ছিল না স্ত্রী-কন্যার

টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর একরামুল হক নিহত হওয়ার ঘটনায় আলোচিত সেই ফোনালাপের অডিও দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। পরিবারের দাবি, ঘটনার পর শুধু স্বজন হারানোর শোকই নয়, দীর্ঘদিন নিরাপত্তাহীনতা ও নজরদারির মধ্যেও জীবন কাটাতে হয়েছে তাদের। আট বছর পর এ ঘটনায় বিচার প্রক্রিয়ায় নতুন অগ্রগতি হয়েছে। ২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে একরামুল হক নিহত হওয়ার আগে মোবাইল ফোনে পরিবারের সঙ্গে তার শেষ কথোপকথনের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেই অডিওতে তার বড় মেয়ে তাহিয়া হকের প্রশ্ন—“আব্বু, তুমি কান্না করতেছ যে?”—দেশব্যাপী আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর তারা টেকনাফ ছেড়ে চট্টগ্রামে চলে যেতে বাধ্য হন। নিরাপত্তার কারণে তারা বর্তমান ঠিকানা প্রকাশ করতে চান না। একরামের স্ত্রী আয়েশা বেগমের অভিযোগ, দীর্ঘদিন তারা নজরদারি ও বিভিন্ন ধরনের চাপের মুখে ছিলেন। মামলা করার চেষ্টায়ও নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। একরামুল হকের স্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, তার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, একরাম কোনো মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না এবং তাকে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদিসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। আয়েশা বেগম বলেন, তার স্বামীর হত্যার ন্যায়বিচারই এখন তাদের পরিবারের একমাত্র প্রত্যাশা। তিনি অভিযোগ করেন, যারা তার পরিবারকে এই পরিস্থিতির মুখোমুখি করেছে, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেখতে চান।

যে হত্যাকাণ্ডে কেঁদেছিল দেশবাসী, শুধু কান্নার অধিকার ছিল না স্ত্রী-কন্যার