বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ
Topic Ads 1
নারীদের গোসলের ছবি তোলার জেরে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৫০

নারীদের গোসলের ছবি তোলার জেরে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৫০

হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে নারীদের গোসলের সময় ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। আজ রোববার সকালে উপজেলার পুকড়া ইউনিয়নের কাটখাল গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ সেপ্টেম্বর স্থানীয় বিএনপি নেতা কাজী লুৎফুর রহমানের বাড়ির পেছনের পুকুরে তাঁদের পরিবারের নারীরা গোসল করছিলেন। এ সময় একই গ্রামের বাসিন্দা ও বিএনপি নেতা এজারত মিয়ার পক্ষের দুই ছেলে গোপনে ওই নারীদের ছবি তোলেন। পরবর্তীতে ঘটনাটি কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বিরোধ ও চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এরই জের ধরে রোববার সকালে কাজী লুৎফুর রহমান ও এজারত মিয়ার সমর্থকেরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হন। খবর পেয়ে বানিয়াচং থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিন রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাজমুল হক জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং পুনরায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

খোয়াই নদীর বাঁধে আবার ভাঙন

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ বাঁধে দেড় মাস পর আবারও ভাঙন দেখা দিয়েছে। গতকাল রোববার বেলা ১১টার দিকে বাঁধের একটি অংশ ভেঙে নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এতে হবিগঞ্জ সদর ও বাহুবল উপজেলা অর্ধশতাধিক গ্রাম তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা দেখা যাওয়ায় এলাকা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে পরিবার নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে ছুটছেন।  প্রবল বেগে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করায় কয়েকটি গ্রামের রাস্তা ঘাট ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। এতে বিভিন্ন এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বাঁধ ভাঙার কিছুক্ষণ আগে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ মো. জি কে গউছ। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ফিরে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই বাঁধের একটি অংশ ভেঙে নদীর পানি দ্রুত আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এর আগে গত ৯ জুলাই লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর তীররক্ষা বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েন ওই এলাকার বাসিন্দারা। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ড ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ের বিশেষ বরাদ্দে বাঁধ মেরামত শুরু করে। প্রায় দেড় মাস অতিবাহিত হলেও কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সংস্কারকাজে ধীরগতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী। পাউবো সূত্র জানায়, গতকাল রোববার বেলা ১১টার দিকে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে খোয়াই নদীর পানি চুনারুঘাটের বাল্লা পয়েন্টে বিপৎসীমা ১৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে প্রবল বেগে আসা পানির চাপে খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে যায়। এতে ২০-২৫টি গ্রামের রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। প্রবল বেগে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করায় গত রাতেই মধ্যেই অনেক এলাকা তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অনেকেই আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ নিরাপদ স্থানে উঠেছেন। সুঘর গ্রামের বাসিন্দা সুমন মিয়া বলেন, ‘সঠিক সময়ে বাঁধ মেরামত না হওয়ায় আমাদের দ্বিতীয়বার ভাঙনের কবলে পড়তে হয়েছে। বাঁধ ভেঙে বাড়ির চারপাশের হাওরের পাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছি আমরা।’ চরহামুয়ার আব্দুল হক বলেন, ‘মাত্র দেড় মাসের ব্যবধানে বাঁধটি আবারও ভেঙে গেল। গত বন্যায় কৃষকদের যে ক্ষতি হয়েছিল, সেটি তারা এখনও পুষিয়ে উঠতে পারেননি। এরই মধ্যে আবারও বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় কৃষকরা সর্বস্বান্ত হবেন।’ বনগাঁও গ্রামের শফিক মিয়ার ভাষ্য, ‘বাঁধ মেরামতের কর্তৃপক্ষের অবহেলা রয়েছে। তা না হলে বাঁধ মেরামতের এত দিন লাগার কথা নয়। তিনি জানান, বাঁধ ভেঙে যাওযায় সবার মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। অনেকেই আসবাব সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি বাসাবাড়ি ছাড়তে শুরু করেছে। হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইদুর রহমান জানান, আসাম ও ত্রিপুরায় প্রচুর বৃষ্টিপাতের কারণে উজানের পানি প্রবেশ করেছে। এর ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই খোয়াই নদীতে পানি চলে আসায় বাধঁটি ভেঙে গেছে। পানি কমলে দ্রুত সময়ের মধ্যে বাঁধ মেরামতের চেষ্টা করা হবে। বাঁধ মেরামতে অনিয়ম ও কাজে ধীরগতির অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমাদের জানামতে এখন পর্যন্ত কোনো অনিয়ম হয়নি। আমরা বাঁধ মেরামতের কাজ দ্রুত সময়ে সম্পন্ন করার চেষ্টা করেছি। প্রায় ৫০ ভাগ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছিল। তবে বর্ষার মৌসুমে প্রচুর বৃষ্টিপাতের কারণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।’

খোয়াই নদীর বাঁধে আবার ভাঙন

ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধার ২৯ বাংলাদেশি, ২৪ জনই সিলেটের

লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে দিকভ্রান্ত হয়ে মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছানো ২৯ বাংলাদেশি নাগরিকের মধ্যে ২৭ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৪ জনই সিলেট বিভাগের বাসিন্দা। শনাক্ত হওয়া ২৭ জন সুস্থ হয়ে বর্তমানে মিশরের স্থানীয় পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। বাকি দুই বাংলাদেশি নাগরিক এখনো মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। জীবিত উদ্ধার হওয়া অভিবাসনপ্রত্যাশী সুনামগঞ্জের আব্দুল করিম জানান, নৌকাটিতে থাকা আরও নয় বাংলাদেশি নাগরিক সাগরে মারা গেলে তাদের মরদেহ সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়। সোমবার (৩ আগষ্ট) মানবপাচার চক্রের সহায়তায় লিবিয়ার তবুক এলাকা থেকে একটি নৌকায় সাগর পথে  গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা করেন অভিবাসন প্রত্যাশীরা। ভূমধ্যসাগরে নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেলে এটি দিকভ্রান্ত হয়ে ১০ দিন সাগরে ভাসমান থাকে। পরে গত বৃহষ্পতিবার (১৩ আগষ্ট) নৌকাটি মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছায়। তখন স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অসুস্থ ও অচেতন অবস্থায় বাংলাদেশি নাগরিকদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন। পুলিশ হেফাজতে থাকা ২৭ বাংলাদেশির মধ্যে সিলেট বিভাগের চার জেলার মোট ২৪ জন রয়েছেন। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ সদরের ১২ জন হলেন তায়েবুর রহমান, মো. মাহফুজ মিয়া, মো. লোহানী আহমেদ, বদর উদ্দিন, সোহেল মিয়া, মো. হোসাইন আহমেদ, আলিম উদ্দিন, সাব্বির হোসেন তালহা, এনাম উদ্দিন, আবু সাঈদ এয়াহিয়া, আব্দুল করিম ও মো. মামুন খান। সুনামগঞ্জের দিরাই থেকে নাইম আহমেদ, জগন্নাথপুর থেকে সাইদুল ইসলাম, মো. হোসাইন মিয়া, আরিফ আহমেদ ও হুজাইফা বিন হোসাইন এবং ছাতক থেকে তোফায়েল আহমেদ রয়েছেন তালিকায়। হবিগঞ্জ সদরের মোস্তাকিন ভূঁইয়া এবং আজমিরীগঞ্জের সোহেল মিয়া ও রিয়াজ উদ্দিন আহমদ। সিলেট জেলার রয়েছেন গোয়াইনঘাটের তানভীর হোসেন এবং বিয়ানীবাজারের রাজু মিয়া ও নজরুল ইসলাম। সিলেট বিভাগের বাইরে থাকা বাকি তিন জন হলেন মাদারীপুরের মো. ফারুক, কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের সায়মন মিয়া এবং ভৈরবের মহরম আলী। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা আরও দুই বাংলাদেশি নাগরিকের নামপরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি (শ্রম) মো. জাকির হোসেন জানান, মানবপাচার চক্রের সহায়তায় গত ৩ আগস্ট লিবিয়ার তবুক এলাকা থেকে যাত্রা শুরু করা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নৌকাটি ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার পথে দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ে এবং গত ১৩ আগস্ট মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছায়। অসুস্থ ও অচেতন অবস্থায় উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়, যাদের মধ্যে ২৭ জন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন এবং বর্তমানে মারসা মাতরুহ পুলিশ স্টেশনের সঙ্গে সংযুক্ত একটি অস্থায়ী কারাগারে আটক রয়েছেন। তিনি বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাকি দুই বাংলাদেশি নাগরিকের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি, তবে সুস্থ হয়ে পুলিশ হেফাজতে থাকাদের ছবি ও ঠিকানা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ইতোমধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে। দূতাবাসের এ কর্মকর্তা আরও জানান, এ ঘটনায় কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের মেহেদি হাসান (পিতা মো. সাবু মিয়া) মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরে গত রোববার (১৬ আগষ্ট) বিকেলে একই উপকূল থেকে আরও এক বাংলাদেশি নাগরিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে দুটি মরদেহ মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষিত রয়েছে। মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করতে এবং সাগরে নিখোঁজ নয় বাংলাদেশির নাম, পরিচয় ও ঠিকানা যাচাইয়ের জন্য জীবিত উদ্ধার হওয়া সহযাত্রীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া জরুরি বলে জানিয়েছেন দূতাবাসের কর্মকর্তা। এ বিষয়ে সাক্ষাৎকার গ্রহণের সুযোগ চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ইতোমধ্যে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এছাড়া, নৌকা থেকে শামীম আহমেদ ও হাবিব উল্লাহ নামের দুটি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং হৃদয় পাল, মো. হাবিব উল্লাহ ও নুর আলম নামের তিনটি পাসপোর্ট পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। জাকির হোসেন বলেন, মিশরের প্রচলিত আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট আদালত ও প্রসিকিউশনের সিদ্ধান্তের পর আটক ২৭ বাংলাদেশির বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। একই সঙ্গে মর্গে সংরক্ষিত দুই মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করে তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর দ্রুততম সময়ে আটক বাংলাদেশিদের দেশে ফেরত পাঠানো এবং মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধার ২৯ বাংলাদেশি, ২৪ জনই সিলেটের