বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ
Topic Ads 1
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে কথিত দালালদের হামলায় রোগী ও স্বজন আহত

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে কথিত দালালদের হামলায় রোগী ও স্বজন আহত

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে কথিত দালাল চক্রের সদস্যদের সঙ্গে রোগীর স্বজনদের মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এতে কানিজা আফরোজ (৪০) ও তাঁর ছেলে মো. তাজ (২৩) আহত হয়েছেন। আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালের ক্যাশ কাউন্টারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত কানিজা আফরোজ চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের বালুবাগান এলাকার বাসিন্দা ফজলুর রহমান বিপ্লবের স্ত্রী। ঘটনার পর তাঁকে জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাঁর মাথায় দুটি সেলাই দেওয়া হয়েছে। কানিজা আফরোজের অভিযোগ, তাঁর ছেলে তাজ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। গতকাল মঙ্গলবার চিকিৎসক তাঁকে সিবিসি (কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট) পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন। সরকারি হাসপাতালে ওই পরীক্ষা করা হয় কি না, তা জানতে ছেলেকে নিয়ে আজ সকালে হাসপাতালের ক্যাশ কাউন্টারে যান তিনি। কানিজা আফরোজ বলেন, এ সময় লিটন নামে এক ব্যক্তি তাঁদের কাছে এসে সরকারি হাসপাতালে সিবিসি পরীক্ষা করা হয় না বলে বাইরে থেকে পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেন। এ নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন মিলে তাঁকে ও তাঁর ছেলেকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। কানিজা আফরোজ আরও বলেন, মারধরের সময় তাঁর মাথায় আঘাত লাগে এবং মাথা ফেটে যায়। পরে হাসপাতালেই তাঁর মাথায় দুটি সেলাই দেওয়া হয়। তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত লিটনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ঘটনার পর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে সরিয়ে দেন। পরে কানিজা আফরোজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে যান বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) মাহবুব রহমান বলেন, ‘রোগী ও হাসপাতাল এলাকায় সক্রিয় বলে অভিযোগ থাকা একটি চক্রের সদস্যদের মধ্যে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। আহত ব্যক্তি আইনি সহায়তা চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।’ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন বলেন, ‘হাসপাতালে মারামারির ঘটনায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রেমিকার বাড়িতে ঢুকে হাত কেটে কবজি বিচ্ছিন্ন করল প্রেমিক

মেহেরপুর শহরে গভীর রাতে এক তরুণীর বাড়িতে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে তার প্রেমিকের বিরুদ্ধে। হামলায় ওই তরুণীর ডান হাত কবজির ওপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। মেয়েকে বাঁচাতে এগিয়ে গিয়ে আহত হয়েছেন তার বাবা ও মাও। ঘটনার পর অভিযুক্ত যুবক পালিয়ে গেলেও তাকে ধরতে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে শহরের লর্ড মার্কেট এলাকায় ইলেকট্রনিক ব্যবসায়ী সেলিম হোসেনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত শাওন শহরের মল্লিকপাড়া এলাকার হোটেল ব্যবসায়ী আবু তালেবের ছেলে। হামলায় আহত তিনজন হলেন সেলিম হোসেন, তার স্ত্রী রেবেকা খাতুন এবং তাদের মেয়ে স্মৃতি আক্তার। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, শাওন ও স্মৃতি আক্তারের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি তাদের মধ্যে কোনো বিরোধ তৈরি হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ওই সম্পর্কের সূত্র ধরেই হামলার ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার রাত দেড়টার দিকে সায়ন ওই বাড়িতে প্রবেশ করে তার মেয়ে স্মৃতি আক্তারের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। একপর্যায়ে কুপিয়ে স্মৃতির ডান হাত কবজি বিচ্ছিন্ন করে দেয়। মেয়ের চিৎকার শুনে পাশের কক্ষ থেকে তার বাবা-মা এগিয়ে এলে তাদেরও কুপিয়ে আহত করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত যুবক। হামলার পর দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন শাওন। পরে স্থানীয়রা আহত তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। খবর পেয়ে মেহেরপুর সদর থানা পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে ধরতে অভিযান শুরু করে। মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ন কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযুক্ত শাওনকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। হামলার কারণ ও পূর্ববিরোধের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রেমিকার বাড়িতে ঢুকে হাত কেটে কবজি বিচ্ছিন্ন করল প্রেমিক

জুয়ার প্রতিবাদ করে আইসিইউতে কলেজশিক্ষক, স্ত্রীর কোলজুড়ে নবজাতক

মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় হামলার শিকার হয়ে আট দিন ধরে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন লালমনিরহাট সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক আরিফুল ইসলাম (৩৫)। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও এখনো তাঁর জ্ঞান ফেরেনি।আরিফুল ইসলাম লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের সীমান্তঘেঁষা গন্ধমরুয়া এলাকার আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে।মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মাদক, জুয়া, বাল্যবিয়েসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ নামে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠেছে। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ শিক্ষক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এই আন্দোলনের জেলা কমিটিতে রয়েছেন।এরই ধারাবাহিকতায় আরিফুল ইসলাম নিজ এলাকায় মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে স্থানীয়দের সচেতন করছিলেন। এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, গন্ধমরুয়া গ্রামের রহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত।মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, আরিফুল তাঁদের ডেকে অনলাইন জুয়া থেকে সরে আসার আহ্বান জানান। অন্যথায় বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হবে বলে সতর্ক করেন। এরপর থেকেই তাঁর ওপর ক্ষোভ তৈরি হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।গত ১ আগস্ট কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে আরিফুলের ওপর আগে থেকে ওত পেতে থাকা একটি দল হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করে গুরুতর আহত করে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। আট দিন ধরে চিকিৎসাধীন থাকলেও এখনো তাঁর জ্ঞান ফেরেনি।এদিকে, আরিফুলের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী গত বৃহস্পতিবার অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দিয়েছেন।আরিফুলের বাবা আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘আট দিন ধরে আইসিইউতে আমার ছেলে মৃত্যুর প্রহর গুনছে। অন্যদিকে তাঁর স্ত্রী অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ছেলে সন্তানের জন্ম দিয়েছে। একদিকে ছেলে, অন্যদিকে ছেলের বউ ও নবজাতক—দুই দিক সামলাতে গিয়ে আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি।’তিনি আরও বলেন, ‘সমাজকে আলোকিত করতে গিয়ে আজ আমার ছেলে অন্ধকারে মৃত্যুর প্রহর গুনছে।’নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, রহিদুল ও তাঁর সহযোগীরা এলাকায় অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত। তাঁদের কারণে অনেক তরুণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তাঁরা। জুয়ার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে হামলা বা মিথ্যা মামলার ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।তাঁদের দাবি, আরিফুল শুধু অনলাইন জুয়া নয়, বিভিন্ন সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করতেন। এ কারণে তাঁর ওপর হামলা করা হয়েছে।এ ঘটনায় আরিফুলের বাবা আবু বক্কর সিদ্দিক বাদী হয়ে গত ২ আগস্ট রহিদুলকে প্রধান আসামি করে ১০ জনের বিরুদ্ধে আদিতমারী থানায় মামলা করেন।পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলার পর আটজন আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নিতে পরিবারকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তবে প্রধান অভিযুক্ত রহিদুল পলাতক থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব সজীব বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত করে নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। প্রধান অভিযুক্ত পলাতক থাকায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তাঁকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জুয়ার প্রতিবাদ করে আইসিইউতে কলেজশিক্ষক, স্ত্রীর কোলজুড়ে নবজাতক