ঢাকা, ১৭ জুন: রাজধানীর আদাবরে বিকাশ এজেন্টকে কুপিয়ে টাকা ছিনতাই এবং পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ফরিদ উদ্দিন বাবু ওরফে ‘এক্সেল বাবু’সহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র্যাব-২ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নাঈমুল হাসান।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। তাদের মধ্যে এক্সেল বাবুকে ‘কব্জি কাটা গ্রুপ’-এর প্রধান আনোয়ার ও বর্তমান সেকেন্ড-ইন-কমান্ড আবু সাঈদের গুরু ও পৃষ্ঠপোষক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— ফরিদ উদ্দিন বাবু ওরফে এক্সেল বাবু, আবু সাঈদ, রাশেদ খন্দকার, মো. লিটন, মো. তসির এবং মো. তরিকুল ইসলাম। মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত মোহাম্মদপুর, আদাবর ও মিরপুর এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
অভিযানকালে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল, ধারালো চাপাতি এবং কয়েকটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ জুন সকালে আদাবরের শেখেরটেক-৭ এলাকায় একটি বিকাশ এজেন্টের দোকানে ঢুকে সশস্ত্র ছিনতাইকারীরা দোকান মালিককে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে তারা প্রায় ৩ লাখ টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর পুলিশ অভিযানে গেলে ছিনতাইকারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে আদাবর থানার ওসি জাইদুল ইসলাম এবং এসআই তরুণ আহত হন। আত্মরক্ষার্থে পুলিশের পাল্টা গুলিতে আমির ও রুবেল নামে দুই ছিনতাইকারী আহত হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় মূলহোতা ও পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করে র্যাব গোয়েন্দা অভিযান শুরু করে এবং এক্সেল বাবুসহ বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-২ অধিনায়ক বলেন, “এক্সেল বাবু নিজেই কব্জি কাটা গ্রুপের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। এ ধরনের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর পেছনের পৃষ্ঠপোষকদের আইনের আওতায় আনতে না পারলে অপরাধ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।”
তিনি আরও বলেন, দ্রুত বিচার ও কার্যকর শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে ছিনতাইকারী ও সন্ত্রাসী চক্রের দৌরাত্ম্য অনেকাংশে কমে আসবে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাবোধ আরও বৃদ্ধি পাবে।