মুন্সীগঞ্জ, ১৮ জুন: মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় সোহেল মুন্সী (৩৯) নামে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে ঘর থেকে ডেকে এনে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। হত্যাকাণ্ডের পর তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় তারা।
বুধবার (১৭ জুন) গভীর রাতে উপজেলার গাঁওদিয়া ইউনিয়নের কালুরগাঁও গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত সোহেল মুন্সী ওই গ্রামের মৃত ইসমাইল মুন্সীর ছেলে এবং স্থানীয়ভাবে ভাঙারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রতিদিনের মতো রাতের খাবার শেষে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন সোহেল। সম্প্রতি তার ঘরে সন্তান জন্ম নেওয়ায় স্ত্রী নুপুর বেগম ও মা শেফালী বেগম পাশের একটি কক্ষে অবস্থান করছিলেন।
রাত আনুমানিক ২টার দিকে বাড়ির উঠান থেকে বিকট শব্দ ও আগুনের আলো দেখতে পেয়ে তারা দ্রুত বাইরে বের হয়ে আসেন। বাইরে এসে দেখতে পান, সোহেলের মোটরসাইকেলটিতে আগুন জ্বলছে এবং কিছু দূরে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে তার মরদেহ।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা গভীর রাতে সোহেলকে ঘুম থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে আসে। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে হত্যা করে। হত্যার পর ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে কিংবা আতঙ্ক ছড়াতে মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
নিহতের মা শেফালী বেগম বলেন, “শব্দ শুনে বাইরে এসে দেখি আমার ছেলে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। আমরা কিছুই বুঝে ওঠার আগেই সব শেষ হয়ে গেছে।”
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। লৌহজং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. বোরহান উল ইসলাম জানান, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হত্যার পেছনের কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।