নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে লতিফ মোল্লা (৩২) নামে আরও এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) দুপুরে হরিপুর গ্রাম-সংলগ্ন মেঘনা নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে তিনজনে দাঁড়িয়েছে।
নিহত লতিফ মোল্লা নিলক্ষা ইউনিয়নের বীরগাঁও গ্রামের কান্দাপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং শহীদ মিয়ার ছেলে। তিনি মালয়েশিয়া প্রবাসী ছিলেন এবং মাত্র এক সপ্তাহ আগে দেশে ফিরেছিলেন। তার পরিবারে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও দুই কন্যাসন্তান রয়েছে। গত মঙ্গলবার সংঘর্ষের পর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে নিলক্ষা ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নাজিম উদ্দিন (মিষ্টার) ও আলাল মুন্সি (জবা মেম্বার) গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে মঙ্গলবার ভোরে হরিপুর ও দড়িগাঁও গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ শুরু হয়। দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।
সংঘর্ষের সময় কয়েকজন যুবক ও কিশোরকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হেলমেট পরে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে অবস্থান নিতে দেখা যায়, যা এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে অন্তত ১০ জন আহত হন। গুরুতর আহতদের মধ্যে ছিলেন অনিক মিয়া (২০), রাজু (২৮) ও মোবারক হোসেন (৩৩)। তাদের নরসিংদী সদর হাসপাতাল হয়ে ঢাকায় পাঠানো হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অনিক মারা যান।
এরপর বুধবার বিকেলে নিলক্ষা ইউনিয়নের সংঘর্ষে নিখোঁজ কাওসার আহমেদ (৩৭)-এর মরদেহ সদর উপজেলার চরদীঘলদী ইউনিয়নের জিৎরামপুর এলাকায় নদীতে ভাসতে দেখা যায়। পুলিশ পরে মরদেহ উদ্ধার করে।
সবশেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে হরিপুর এলাকার মেঘনা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা তীরে নিয়ে আসেন। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি লতিফ মোল্লার বলে শনাক্ত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় নিহত অনিকের মা নাসিমা খাতুন বাদী হয়ে ৩০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে রায়পুরা থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।