ঢাকা-ময়মনসিংহ-জামালপুর রেলপথে একের পর এক ইঞ্জিন বিকল, লাইনচ্যুতি ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ট্রেন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সময়সূচি ভেঙে পড়ছে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি জুন মাসেই দুটি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়েছে এবং তিনটি ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল হয়েছে। এর আগে মে মাসে আটটি ও এপ্রিল মাসে ছয়টি ইঞ্জিন বিকলের ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ গফরগাঁও এলাকায় জামালপুর এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে প্রায় দুই ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। একই দিনে বিজয় এক্সপ্রেসের ইঞ্জিনে আগুন ধরে এবং পরে বিকল্প ইঞ্জিনও বিকল হয়ে যায়।
এর আগে তিস্তা এক্সপ্রেসের এসি কোচে আগুন, ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেসের পাওয়ার কার লাইনচ্যুতি এবং উদ্ধারকারী ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনাও ঘটে। এসব ঘটনায় রেলপথে যাত্রীসেবা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
রেলওয়ের কর্মকর্তাদের মতে, অধিকাংশ ইঞ্জিনই পুরোনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় অতিরিক্ত গরম হয়ে বিকল হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি রেললাইনে পাথর, স্লিপার ও নাট-বল্টুর ঘাটতির কারণে লাইনের অবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে নিরাপত্তার স্বার্থে অনেক জায়গায় ধীরগতিতে ট্রেন চালাতে হচ্ছে।
ময়মনসিংহ অঞ্চলে বর্তমানে ১৮ জোড়া ট্রেন চলাচল করলেও ইঞ্জিন ও কোচ সংকটের কারণে কয়েকটি মেইল ও লোকাল ট্রেন বন্ধ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন ইঞ্জিন সংযোজন এবং রেলপথের ব্যাপক সংস্কার ছাড়া এ সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শ্রীপুর থেকে ময়মনসিংহ হয়ে মোহনগঞ্জ ও জারিয়া পর্যন্ত রেলপথ সংস্কারের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। সংস্কার কাজ সম্পন্ন হলে লাইনচ্যুতি কমবে, ট্রেনের গতি বাড়বে এবং যাত্রীসেবার মান উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।