সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ

অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের দুর্নীতির তদন্তের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর



অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের দুর্নীতির তদন্তের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের শাসনামলে সংঘটিত সব ধরনের দুর্নীতি, অনিয়ম ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) এ বিষয়ে তদন্তের নির্দেশনা দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।

রোববার (২৮ জুন) রাতে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ বক্তব্য দেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের সময়কাল ছিল অস্থিরতায় পরিপূর্ণ। সে সময়ের বিভিন্ন কার্যক্রম, অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে যাঁরা এখন প্রশ্ন তুলছেন, তাঁদের ভূমিকাও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, "অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে কোথায় দুর্নীতি হয়েছে, কীভাবে হয়েছে, কারা জড়িত ছিল—সবকিছু দুদকের মাধ্যমে তদন্ত করে জাতির সামনে তুলে ধরা হোক।"

বিজ্ঞাপন

টিআইবির প্রতিবেদন উল্লেখ

সালাহউদ্দিন আহমদ দাবি করেন, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) একটি প্রতিবেদনে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কে সর্বোচ্চ দুর্নীতির সময় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই এবং যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাঁদেরও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

'ইকোনমিকস অব প্লান্ডারিং' মন্তব্য

আওয়ামী লীগের গত ১৬ বছরের শাসনামলকে "ইকোনমিকস অব প্লান্ডারিং" (লুটপাটের অর্থনীতি) হিসেবে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওই সময়ে ব্যাংক খাত, উন্নয়ন প্রকল্প, কর অব্যাহতি এবং অর্থ পাচারের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ রাষ্ট্রীয় সম্পদ অপচয় হয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে, রাজনৈতিক বিবেচনায় ঋণ বিতরণ করা হয়েছে এবং ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের অনিয়ম ঘটেছে। তিনি আরও দাবি করেন, প্রতিবছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অবৈধভাবে বিদেশে পাচার হয়েছে এবং গত ১৫ বছরে উন্নয়ন প্রকল্প থেকেই প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলার আত্মসাৎ হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন খাত মিলিয়ে প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকা দেশ থেকে পাচার হয়েছে বলে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রস্তুত করা অর্থনৈতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

বাজেট নিয়ে সরকারের অবস্থান

প্রস্তাবিত বাজেটকে "নিউ ইকোনমিক অর্ডার" বা নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা হিসেবে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হলো দরিদ্র মানুষের হাতে অর্থ পৌঁছে দিয়ে অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রবাহ সৃষ্টি করা।

তিনি বলেন, এবারের বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর নতুন কোনো কর আরোপ করা হয়নি। অতীতের মতো বাজেট ঘোষণার পর বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতাও এবার দেখা যায়নি।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণের কথাও তুলে ধরে তিনি জানান, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য সহায়তা অব্যাহত থাকবে। এ খাতে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল রূপান্তর এবং মানবসম্পদ উন্নয়নকে বাজেটের প্রধান অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

বিদেশি ঋণ ও অবকাঠামো উন্নয়ন

বিদেশি ঋণ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের প্রায় সব দেশই ঋণ নিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করে। তবে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বাড়িয়ে ঋণনির্ভরতা কমানোর পথে এগোতে চায়। এ জন্য তিস্তা প্রকল্প ও পদ্মা ব্যারাজের মতো বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে অপরাধের অভিযোগ গ্রহণের প্রবণতা আগের তুলনায় বেড়েছে। অনেক ঘটনা আগে মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হতো না, এখন দ্রুত মামলা গ্রহণ, আসামি গ্রেপ্তার এবং বিচারিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলার সংখ্যা বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি অপরাধ বৃদ্ধির চেয়ে অভিযোগ নথিভুক্ত হওয়ার হার বাড়ার প্রতিফলন। সরকার এসব অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, জুয়া, মাদক ও সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং পুলিশ একটি কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে।

বক্তব্যের শেষদিকে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে বাজেট পাস হবে এবং এটি দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠন ও জনগণের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ

সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬


অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের দুর্নীতির তদন্তের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬

featured Image

অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের শাসনামলে সংঘটিত সব ধরনের দুর্নীতি, অনিয়ম ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) এ বিষয়ে তদন্তের নির্দেশনা দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।

রোববার (২৮ জুন) রাতে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ বক্তব্য দেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের সময়কাল ছিল অস্থিরতায় পরিপূর্ণ। সে সময়ের বিভিন্ন কার্যক্রম, অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে যাঁরা এখন প্রশ্ন তুলছেন, তাঁদের ভূমিকাও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, "অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে কোথায় দুর্নীতি হয়েছে, কীভাবে হয়েছে, কারা জড়িত ছিল—সবকিছু দুদকের মাধ্যমে তদন্ত করে জাতির সামনে তুলে ধরা হোক।"

বিজ্ঞাপন

টিআইবির প্রতিবেদন উল্লেখ

সালাহউদ্দিন আহমদ দাবি করেন, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) একটি প্রতিবেদনে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কে সর্বোচ্চ দুর্নীতির সময় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই এবং যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাঁদেরও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

'ইকোনমিকস অব প্লান্ডারিং' মন্তব্য

আওয়ামী লীগের গত ১৬ বছরের শাসনামলকে "ইকোনমিকস অব প্লান্ডারিং" (লুটপাটের অর্থনীতি) হিসেবে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওই সময়ে ব্যাংক খাত, উন্নয়ন প্রকল্প, কর অব্যাহতি এবং অর্থ পাচারের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ রাষ্ট্রীয় সম্পদ অপচয় হয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে, রাজনৈতিক বিবেচনায় ঋণ বিতরণ করা হয়েছে এবং ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের অনিয়ম ঘটেছে। তিনি আরও দাবি করেন, প্রতিবছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অবৈধভাবে বিদেশে পাচার হয়েছে এবং গত ১৫ বছরে উন্নয়ন প্রকল্প থেকেই প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলার আত্মসাৎ হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন খাত মিলিয়ে প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকা দেশ থেকে পাচার হয়েছে বলে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রস্তুত করা অর্থনৈতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

বাজেট নিয়ে সরকারের অবস্থান

প্রস্তাবিত বাজেটকে "নিউ ইকোনমিক অর্ডার" বা নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা হিসেবে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হলো দরিদ্র মানুষের হাতে অর্থ পৌঁছে দিয়ে অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রবাহ সৃষ্টি করা।

তিনি বলেন, এবারের বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর নতুন কোনো কর আরোপ করা হয়নি। অতীতের মতো বাজেট ঘোষণার পর বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতাও এবার দেখা যায়নি।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণের কথাও তুলে ধরে তিনি জানান, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য সহায়তা অব্যাহত থাকবে। এ খাতে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল রূপান্তর এবং মানবসম্পদ উন্নয়নকে বাজেটের প্রধান অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

বিদেশি ঋণ ও অবকাঠামো উন্নয়ন

বিদেশি ঋণ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের প্রায় সব দেশই ঋণ নিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করে। তবে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বাড়িয়ে ঋণনির্ভরতা কমানোর পথে এগোতে চায়। এ জন্য তিস্তা প্রকল্প ও পদ্মা ব্যারাজের মতো বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে অপরাধের অভিযোগ গ্রহণের প্রবণতা আগের তুলনায় বেড়েছে। অনেক ঘটনা আগে মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হতো না, এখন দ্রুত মামলা গ্রহণ, আসামি গ্রেপ্তার এবং বিচারিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলার সংখ্যা বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি অপরাধ বৃদ্ধির চেয়ে অভিযোগ নথিভুক্ত হওয়ার হার বাড়ার প্রতিফলন। সরকার এসব অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, জুয়া, মাদক ও সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং পুলিশ একটি কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে।

বক্তব্যের শেষদিকে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে বাজেট পাস হবে এবং এটি দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠন ও জনগণের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ



কপিরাইট © ২০২৬ বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের দুর্নীতির তদন্তের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
0:00 0:00
1.0x