ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় পিকআপ ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে তীর্থ বিশ্বাস (১৭) নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার পর শোকে ভেঙে পড়েছেন তার পরিবার। ছেলের মৃত্যুতে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বাবা বলেন, “অনেক জেদ করেছিল, তাই বাধ্য হয়ে মোটরসাইকেল কিনে দিয়েছিলাম। আজ সেই মোটরসাইকেলেই আমার ছেলের প্রাণ গেল। এখন আমি কী নিয়ে বাঁচব?”
সোমবার (২৯ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে ঝিনাইদহ শহরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন তীর্থ বিশ্বাস। বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ভাটই বাজার এলাকায় পৌঁছালে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত তীর্থ বিশ্বাস উপজেলার ভাটই গ্রামের বাসিন্দা তপন কুমার বিশ্বাসের ছেলে। তিনি ভাটই মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভাটই সরকারি কলেজের সামনে একটি পিকআপকে ওভারটেক করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়াগামী আরেকটি পিকআপের সঙ্গে তীর্থের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় তিনি সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ছেলের অকাল মৃত্যুতে শোকাহত বাবা তপন কুমার বিশ্বাস বলেন, মাত্র দুই মাস আগে তীর্থের আবদারের মুখে মোটরসাইকেল কিনে দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, “অনেক জেদ করেছিল। না চাইলেও শেষ পর্যন্ত কিনে দিয়েছিলাম। ভাবিনি সেই মোটরসাইকেলই আমার ছেলেকে কেড়ে নেবে।”
দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে ঝিনাইদহ আরাপপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহানুর আলী জানান, দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত পিকআপটি আটক করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।