মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ

জুলাই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত জাতিসংঘ করায় কেউ প্রশ্ন তুলতে পারছে না: শফিকুল আলম



জুলাই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত জাতিসংঘ করায় কেউ প্রশ্ন তুলতে পারছে না: শফিকুল আলম

সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রেস সচিব ও ডেইলি ওয়াদা পত্রিকার সম্পাদক শফিকুল আলম বলেছেন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত জাতিসংঘের মাধ্যমে করানোর সিদ্ধান্ত ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। জাতিসংঘের নিরপেক্ষ তদন্তের ফলে এ বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশ্নবিদ্ধ করার সুযোগ তৈরি হয়নি।

রোববার (১২ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ‘জুলাই রেভুলেশন অ্যালায়েন্স’ আয়োজিত ‘অ্যাকাউন্টিবিলিটি, জাস্টিস অ্যান্ড হিলিং ইন পোস্ট জুলাই বাংলাদেশ’ শীর্ষক সিম্পোজিয়ামে তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুল আলম বলেন, প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস ও তার মন্ত্রিসভা শুরু থেকেই দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে জুলাই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত একটি আন্তর্জাতিক ও নিরপেক্ষ সংস্থার মাধ্যমে করা হবে। সেই অনুযায়ী জাতিসংঘ তদন্ত করে ১২৭ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য।

তিনি দাবি করেন, যদি তদন্তটি দেশের কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত হতো, তাহলে প্রতিবেদনটির নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নানা বিতর্ক সৃষ্টি করা হতো। বিদেশি আইনজীবী নিয়োগ করে প্রতিবেদনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টাও হতে পারত। কিন্তু জাতিসংঘের তদন্তের কারণে সেই সুযোগ আর তৈরি হয়নি।

জুলাই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শফিকুল আলম বলেন, এ ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া উচিত নয়। তারা পৃথিবীর যেখানেই থাকুক, তাদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে গোয়েন্দা সংস্থা ও প্রসিকিউটরদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী বিশেষ সংস্থা গঠনের প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রতি তিন মাস অন্তর অভিযুক্তদের অবস্থান ও অগ্রগতির বিষয়ে জনগণকে হালনাগাদ তথ্য জানানো উচিত। পাশাপাশি তারা কারও সঙ্গে যোগাযোগ করছে কি না, সেটিও নিয়মিত নজরদারির আওতায় রাখতে হবে।
বিজ্ঞাপন

অতীতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় দায়ীদের অনেকেই শাস্তি এড়িয়ে গেছে উল্লেখ করে শফিকুল আলম বলেন, সেই দায়মুক্তির সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে এবার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি পোস্ট-জুলাই বাংলাদেশে ট্রমা সাপোর্ট, পুনর্মিলন (রিকনসিলিয়েশন) এবং ট্রানজিশনাল জাস্টিসের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করলেও বলেন, এসব উদ্যোগ যেন কোনোভাবেই অপরাধীদের দায়মুক্তির বার্তা না দেয়। যারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন, তাদের আগে দায় স্বীকার ও ক্ষমা চাইতে হবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত ১৮ মাস ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। এ সময়ে নিহত ও আহতদের শনাক্ত করা এবং তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে। তবে কোনো ক্ষতিপূরণই স্বজন হারানোর বেদনার সমান হতে পারে না।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এই আন্দোলনের চেতনা ধারণ করে শহীদ পরিবার, আহত ব্যক্তি এবং আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে একটি বৃহত্তর ‘জুলাই পরিবার’ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ

মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬


জুলাই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত জাতিসংঘ করায় কেউ প্রশ্ন তুলতে পারছে না: শফিকুল আলম

প্রকাশের তারিখ : ১২ জুলাই ২০২৬

featured Image

সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রেস সচিব ও ডেইলি ওয়াদা পত্রিকার সম্পাদক শফিকুল আলম বলেছেন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত জাতিসংঘের মাধ্যমে করানোর সিদ্ধান্ত ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। জাতিসংঘের নিরপেক্ষ তদন্তের ফলে এ বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশ্নবিদ্ধ করার সুযোগ তৈরি হয়নি।

রোববার (১২ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ‘জুলাই রেভুলেশন অ্যালায়েন্স’ আয়োজিত ‘অ্যাকাউন্টিবিলিটি, জাস্টিস অ্যান্ড হিলিং ইন পোস্ট জুলাই বাংলাদেশ’ শীর্ষক সিম্পোজিয়ামে তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুল আলম বলেন, প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস ও তার মন্ত্রিসভা শুরু থেকেই দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে জুলাই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত একটি আন্তর্জাতিক ও নিরপেক্ষ সংস্থার মাধ্যমে করা হবে। সেই অনুযায়ী জাতিসংঘ তদন্ত করে ১২৭ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য।

তিনি দাবি করেন, যদি তদন্তটি দেশের কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত হতো, তাহলে প্রতিবেদনটির নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নানা বিতর্ক সৃষ্টি করা হতো। বিদেশি আইনজীবী নিয়োগ করে প্রতিবেদনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টাও হতে পারত। কিন্তু জাতিসংঘের তদন্তের কারণে সেই সুযোগ আর তৈরি হয়নি।

জুলাই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শফিকুল আলম বলেন, এ ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া উচিত নয়। তারা পৃথিবীর যেখানেই থাকুক, তাদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে গোয়েন্দা সংস্থা ও প্রসিকিউটরদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী বিশেষ সংস্থা গঠনের প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রতি তিন মাস অন্তর অভিযুক্তদের অবস্থান ও অগ্রগতির বিষয়ে জনগণকে হালনাগাদ তথ্য জানানো উচিত। পাশাপাশি তারা কারও সঙ্গে যোগাযোগ করছে কি না, সেটিও নিয়মিত নজরদারির আওতায় রাখতে হবে।
বিজ্ঞাপন

অতীতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় দায়ীদের অনেকেই শাস্তি এড়িয়ে গেছে উল্লেখ করে শফিকুল আলম বলেন, সেই দায়মুক্তির সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে এবার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি পোস্ট-জুলাই বাংলাদেশে ট্রমা সাপোর্ট, পুনর্মিলন (রিকনসিলিয়েশন) এবং ট্রানজিশনাল জাস্টিসের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করলেও বলেন, এসব উদ্যোগ যেন কোনোভাবেই অপরাধীদের দায়মুক্তির বার্তা না দেয়। যারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন, তাদের আগে দায় স্বীকার ও ক্ষমা চাইতে হবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত ১৮ মাস ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। এ সময়ে নিহত ও আহতদের শনাক্ত করা এবং তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে। তবে কোনো ক্ষতিপূরণই স্বজন হারানোর বেদনার সমান হতে পারে না।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এই আন্দোলনের চেতনা ধারণ করে শহীদ পরিবার, আহত ব্যক্তি এবং আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে একটি বৃহত্তর ‘জুলাই পরিবার’ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।


বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ



কপিরাইট © ২০২৬ বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
জুলাই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত জাতিসংঘ করায় কেউ প্রশ্ন তুলতে পারছে না: শফিকুল আলম
0:00 0:00
1.0x