রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ

১৯ জুলাই: জুলাই অভ্যুত্থানের সবচেয়ে রক্তাক্ত দিন



১৯ জুলাই: জুলাই অভ্যুত্থানের সবচেয়ে রক্তাক্ত দিন

২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ছিল কোটা সংস্কার আন্দোলন ও ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ দিন। ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দিনভর সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ ও সহিংসতায় রাজপথ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। রাত ১২টা থেকে দেশজুড়ে কারফিউ জারি করা হয় এবং মাঠে নামানো হয় সেনাবাহিনী।

১৮ জুলাইয়ের প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর ১৯ জুলাই আন্দোলনকারীদের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ আরও তীব্র আকার ধারণ করে। রাজধানীর রামপুরা, যাত্রাবাড়ী, উত্তরা, মহাখালী, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, বাড্ডাসহ বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। একই সঙ্গে খুলনা, চট্টগ্রাম, নরসিংদী, রংপুর, রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট ও গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়ও সহিংসতা ঘটে।

সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, ১৯ জুলাই অন্তত ৫৬ জন নিহত হন। আর ১৭ থেকে ১৯ জুলাই—এই তিন দিনে প্রাণ হারান অন্তত ১০৩ জন। গুলিবিদ্ধ শত শত মানুষকে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল, বিশেষ করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

দিনভর সংঘর্ষের পর রাতে তৎকালীন সরকারের সিদ্ধান্তে দেশব্যাপী কারফিউ জারি করা হয় এবং সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। একই রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলামকে আটক করা হয়।
বিজ্ঞাপন

এদিন নরসিংদী জেলা কারাগারে হামলার ঘটনায় কারাগারের গেট ভেঙে ৮২৬ জন বন্দি পালিয়ে যান বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে কারাগার থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুটের ঘটনাও ঘটে।

রাজধানীতে বিআরটিএ কার্যালয়, পিবিআই অফিস, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভবন, পুলিশ বক্সসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। মেট্রোরেলের কাজীপাড়া স্টেশনেও হামলার পর মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। সারা দেশে রেল, দূরপাল্লার বাস ও অনেক আন্তর্জাতিক ফ্লাইটও স্থগিত হয়।

সেদিন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আন্দোলনকারীরা প্রথমে ৮ দফা, পরে ৯ দফা দাবি উত্থাপন করেন এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

১৯ জুলাইয়ের ঘটনাবলি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রাণহানি, কারফিউ, সেনা মোতায়েন, ব্যাপক সহিংসতা এবং রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে দিনটি জুলাই অভ্যুত্থানের সবচেয়ে রক্তাক্ত ও তাৎপর্যপূর্ণ দিনগুলোর একটি হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে।

বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ

রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


১৯ জুলাই: জুলাই অভ্যুত্থানের সবচেয়ে রক্তাক্ত দিন

প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ছিল কোটা সংস্কার আন্দোলন ও ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ দিন। ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দিনভর সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ ও সহিংসতায় রাজপথ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। রাত ১২টা থেকে দেশজুড়ে কারফিউ জারি করা হয় এবং মাঠে নামানো হয় সেনাবাহিনী।

১৮ জুলাইয়ের প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর ১৯ জুলাই আন্দোলনকারীদের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ আরও তীব্র আকার ধারণ করে। রাজধানীর রামপুরা, যাত্রাবাড়ী, উত্তরা, মহাখালী, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, বাড্ডাসহ বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। একই সঙ্গে খুলনা, চট্টগ্রাম, নরসিংদী, রংপুর, রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট ও গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়ও সহিংসতা ঘটে।

সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, ১৯ জুলাই অন্তত ৫৬ জন নিহত হন। আর ১৭ থেকে ১৯ জুলাই—এই তিন দিনে প্রাণ হারান অন্তত ১০৩ জন। গুলিবিদ্ধ শত শত মানুষকে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল, বিশেষ করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

দিনভর সংঘর্ষের পর রাতে তৎকালীন সরকারের সিদ্ধান্তে দেশব্যাপী কারফিউ জারি করা হয় এবং সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। একই রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলামকে আটক করা হয়।
বিজ্ঞাপন

এদিন নরসিংদী জেলা কারাগারে হামলার ঘটনায় কারাগারের গেট ভেঙে ৮২৬ জন বন্দি পালিয়ে যান বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে কারাগার থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুটের ঘটনাও ঘটে।

রাজধানীতে বিআরটিএ কার্যালয়, পিবিআই অফিস, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভবন, পুলিশ বক্সসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। মেট্রোরেলের কাজীপাড়া স্টেশনেও হামলার পর মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। সারা দেশে রেল, দূরপাল্লার বাস ও অনেক আন্তর্জাতিক ফ্লাইটও স্থগিত হয়।

সেদিন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আন্দোলনকারীরা প্রথমে ৮ দফা, পরে ৯ দফা দাবি উত্থাপন করেন এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

১৯ জুলাইয়ের ঘটনাবলি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রাণহানি, কারফিউ, সেনা মোতায়েন, ব্যাপক সহিংসতা এবং রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে দিনটি জুলাই অভ্যুত্থানের সবচেয়ে রক্তাক্ত ও তাৎপর্যপূর্ণ দিনগুলোর একটি হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে।


বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ



কপিরাইট © ২০২৬ বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
১৯ জুলাই: জুলাই অভ্যুত্থানের সবচেয়ে রক্তাক্ত দিন
0:00 0:00
1.0x