সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ

৩৪ জুলাই: শহীদ মিনার থেকে এক দফার ঘোষণায় নতুন মোড় নেয় আন্দোলন



৩৪ জুলাই: শহীদ মিনার থেকে এক দফার ঘোষণায় নতুন মোড় নেয় আন্দোলন
ফাইল ছবি।

২০২৪ সালের ৩ আগস্ট বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে স্মরণীয়। এদিন রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে আয়োজিত সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম সরকার পতনের এক দফা দাবি ঘোষণা করেন। এর মধ্য দিয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকারবিরোধী গণআন্দোলনের নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করে।

সেদিন সকালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘গণভবনের দরজা খোলা। আমি আন্দোলনরত ছাত্রদের সঙ্গে বসতে চাই এবং তাদের কথা শুনতে চাই। আমি কোনো সংঘাত চাই না।’

তবে বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সমাবেশ থেকে সেই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে নাহিদ ইসলাম এক দফা ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, মানুষের জীবন, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তাদের একমাত্র দাবি হলো তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারের পতন এবং ফ্যাসিবাদের অবসান। একই সঙ্গে আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, গুম ও দমন-পীড়নের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবিও জানান তিনি।

সেদিন বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো মানুষ মিছিল নিয়ে শহীদ মিনারে জড়ো হন। শহীদ মিনার ও আশপাশের সড়ক মানুষের ঢলে ভরে যায়। ‘দফা এক, দাবি এক’, ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাইরে’ এবং ‘জাস্টিস, উই ওয়ান্ট জাস্টিস’সহ বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আরেক সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১৫ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এতে কর ও বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল পরিশোধ থেকে বিরত থাকা, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা এবং প্রবাসীদের ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স না পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়।

একই সময়ে রাজধানীর বাড্ডা, রামপুরা, বনশ্রী, সায়েন্সল্যাব, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল শহীদ মিনারের দিকে আসে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, গাজীপুর, বগুড়া, সিলেট, কুষ্টিয়া, চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়ও বিক্ষোভ ও অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়।

সেদিন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সেনা কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, জনগণের স্বার্থে ও রাষ্ট্রের প্রয়োজনে সেনাবাহিনী সব সময় জনগণের পাশে থাকবে।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের অভিযোগ করেন, একটি মহল গুজব ও অপপ্রচার চালিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানও দাবি করেন, কোটা আন্দোলন রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ নিয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করছে।

৩ আগস্টের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সমাবেশ এবং এক দফা ঘোষণা আন্দোলনের গতিপথে বড় পরিবর্তন আনে। পরবর্তী সময়ে সরকারবিরোধী আন্দোলন আরও বেগবান হয় এবং সেটিই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চূড়ান্ত রূপ লাভের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।

বিষয় : নাহিদ ইসলাম জুলাই গণঅভ্যুত্থান

বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ

সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬


৩৪ জুলাই: শহীদ মিনার থেকে এক দফার ঘোষণায় নতুন মোড় নেয় আন্দোলন

প্রকাশের তারিখ : ০৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

২০২৪ সালের ৩ আগস্ট বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে স্মরণীয়। এদিন রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে আয়োজিত সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম সরকার পতনের এক দফা দাবি ঘোষণা করেন। এর মধ্য দিয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকারবিরোধী গণআন্দোলনের নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করে।

সেদিন সকালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘গণভবনের দরজা খোলা। আমি আন্দোলনরত ছাত্রদের সঙ্গে বসতে চাই এবং তাদের কথা শুনতে চাই। আমি কোনো সংঘাত চাই না।’

তবে বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সমাবেশ থেকে সেই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে নাহিদ ইসলাম এক দফা ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, মানুষের জীবন, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তাদের একমাত্র দাবি হলো তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারের পতন এবং ফ্যাসিবাদের অবসান। একই সঙ্গে আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, গুম ও দমন-পীড়নের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবিও জানান তিনি।

সেদিন বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো মানুষ মিছিল নিয়ে শহীদ মিনারে জড়ো হন। শহীদ মিনার ও আশপাশের সড়ক মানুষের ঢলে ভরে যায়। ‘দফা এক, দাবি এক’, ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাইরে’ এবং ‘জাস্টিস, উই ওয়ান্ট জাস্টিস’সহ বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আরেক সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১৫ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এতে কর ও বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল পরিশোধ থেকে বিরত থাকা, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা এবং প্রবাসীদের ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স না পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়।

একই সময়ে রাজধানীর বাড্ডা, রামপুরা, বনশ্রী, সায়েন্সল্যাব, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল শহীদ মিনারের দিকে আসে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, গাজীপুর, বগুড়া, সিলেট, কুষ্টিয়া, চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়ও বিক্ষোভ ও অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়।

সেদিন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সেনা কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, জনগণের স্বার্থে ও রাষ্ট্রের প্রয়োজনে সেনাবাহিনী সব সময় জনগণের পাশে থাকবে।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের অভিযোগ করেন, একটি মহল গুজব ও অপপ্রচার চালিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানও দাবি করেন, কোটা আন্দোলন রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ নিয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করছে।

৩ আগস্টের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সমাবেশ এবং এক দফা ঘোষণা আন্দোলনের গতিপথে বড় পরিবর্তন আনে। পরবর্তী সময়ে সরকারবিরোধী আন্দোলন আরও বেগবান হয় এবং সেটিই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চূড়ান্ত রূপ লাভের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।


বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ



কপিরাইট © ২০২৬ বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
৩৪ জুলাই: শহীদ মিনার থেকে এক দফার ঘোষণায় নতুন মোড় নেয় আন্দোলন
0:00 0:00
1.0x