বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ
Topic Ads 1
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে জোটের শীর্ষ নেতাদের জরুরি বৈঠক শেষে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়।বৈঠক শেষে জোটের অন্যতম প্রধান শরিক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে অলি আহমদের নাম ঘোষণা করেন। তিনি জানান, জোটের শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সর্বসম্মতিক্রমে অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ড. হামিদুর রহমান আযাদ, জাগপার সভাপতি রাশেদ প্রধান, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীসহ জোটের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।এর আগে শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে এককভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়। পরে শরিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর অলি আহমদকে জোটের প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়।নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ক্ষমতাসীন দল বিএনপিও ইতোমধ্যে নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে।১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে অলি আহমদের নাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। জাতীয় সংসদের বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের ভোটেই দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার কথা।

৩৪ জুলাই: শহীদ মিনার থেকে এক দফার ঘোষণায় নতুন মোড় নেয় আন্দোলন

২০২৪ সালের ৩ আগস্ট বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে স্মরণীয়। এদিন রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে আয়োজিত সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম সরকার পতনের এক দফা দাবি ঘোষণা করেন। এর মধ্য দিয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন সরকারবিরোধী গণআন্দোলনের নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করে।সেদিন সকালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘গণভবনের দরজা খোলা। আমি আন্দোলনরত ছাত্রদের সঙ্গে বসতে চাই এবং তাদের কথা শুনতে চাই। আমি কোনো সংঘাত চাই না।’তবে বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সমাবেশ থেকে সেই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে নাহিদ ইসলাম এক দফা ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, মানুষের জীবন, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তাদের একমাত্র দাবি হলো তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারের পতন এবং ফ্যাসিবাদের অবসান। একই সঙ্গে আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, গুম ও দমন-পীড়নের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবিও জানান তিনি।সেদিন বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো মানুষ মিছিল নিয়ে শহীদ মিনারে জড়ো হন। শহীদ মিনার ও আশপাশের সড়ক মানুষের ঢলে ভরে যায়। ‘দফা এক, দাবি এক’, ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাইরে’ এবং ‘জাস্টিস, উই ওয়ান্ট জাস্টিস’সহ বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আরেক সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১৫ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এতে কর ও বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল পরিশোধ থেকে বিরত থাকা, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা এবং প্রবাসীদের ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স না পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়।একই সময়ে রাজধানীর বাড্ডা, রামপুরা, বনশ্রী, সায়েন্সল্যাব, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল শহীদ মিনারের দিকে আসে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, গাজীপুর, বগুড়া, সিলেট, কুষ্টিয়া, চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়ও বিক্ষোভ ও অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়।সেদিন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সেনা কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, জনগণের স্বার্থে ও রাষ্ট্রের প্রয়োজনে সেনাবাহিনী সব সময় জনগণের পাশে থাকবে।অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের অভিযোগ করেন, একটি মহল গুজব ও অপপ্রচার চালিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানও দাবি করেন, কোটা আন্দোলন রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ নিয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করছে।৩ আগস্টের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সমাবেশ এবং এক দফা ঘোষণা আন্দোলনের গতিপথে বড় পরিবর্তন আনে। পরবর্তী সময়ে সরকারবিরোধী আন্দোলন আরও বেগবান হয় এবং সেটিই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চূড়ান্ত রূপ লাভের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।

৩৪ জুলাই: শহীদ মিনার থেকে এক দফার ঘোষণায় নতুন মোড় নেয় আন্দোলন