দেশের পরিচিত বাইসাইকেল ট্রাভেলার ও সমাজসেবক, রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ওয়াগ্গা ইউনিয়নের তরুণ অভিযাত্রী বীর কুমার তনচংগ্যা এবার শুরু করতে যাচ্ছেন এক ব্যতিক্রমধর্মী আন্তর্জাতিক সাইকেল অভিযান। সার্ক স্টিকার ভিসা হাতে পাওয়ার পর আগামী ১৪ আগস্ট কক্সবাজারের জিরো পয়েন্ট থেকে নেপালের উদ্দেশে সাইকেল যাত্রা শুরু করবেন তিনি।
‘সি টু হিমালয়াস’ (Sea to Himalayas) শিরোনামের এই অভিযানে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত থেকে স্থলপথে সাইকেল চালিয়ে নেপালে পৌঁছে বিশ্বের অন্যতম কঠিন চারটি ট্রেইল—মানাসলু সার্কিট, অন্নপূর্ণা সার্কিট, অন্নপূর্ণা বেস ক্যাম্প (এবিসি) এবং এভারেস্ট বেস ক্যাম্প (ইবিসি)—অতিক্রম করার লক্ষ্য নিয়েছেন তিনি। পুরো অভিযানে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা বহন করবেন বলে জানিয়েছেন এই তরুণ অভিযাত্রী।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে আলাপকালে বীর কুমার তনচংগ্যা জানান, সাধারণত বাংলাদেশি অভিযাত্রীরা বিমানে নেপাল গিয়ে সেখান থেকে সাইকেল অভিযান শুরু করেন। তবে তিনি প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকত থেকে স্থলপথে সাইকেল চালিয়ে নেপালে পৌঁছে পুরো অভিযান সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নিয়েছেন।
তিনি জানান, কক্সবাজার থেকে যাত্রা শুরু করে প্রথমে ঢাকা, এরপর পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর হয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি অতিক্রম করে নেপালে প্রবেশ করবেন। দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির ফল হিসেবে এই অভিযান বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছেন তিনি। এ জন্য ভিসা, অনুমতি ও অন্যান্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কাপ্তাই, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও ঢাকায় একাধিকবার যেতে হয়েছে। নানা প্রতিবন্ধকতা ও আর্থিক সংকটের মধ্যেও তিনি প্রস্তুতি চালিয়ে গেছেন।
অভিযানের প্রস্তুতিতে দেশের পরিচিত সাইক্লিস্ট রাকিবুল ইসলাম এবং পর্বতারোহী বাবর আলীর সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে উল্লেখ করেন বীর কুমার। পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং রাঙামাটির সামাজিক ও প্রশাসনিক মহলের সহযোগিতার জন্যও তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বীর কুমার বলেন, “এই অভিযান শুধু আমার ব্যক্তিগত স্বপ্ন নয়। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরা এবং দেশের অ্যাডভেঞ্চার পর্যটনের সম্ভাবনাকে বিশ্ববাসীর সামনে উপস্থাপন করাই আমার অন্যতম লক্ষ্য।”
তবে ৯০ দিনের সার্ক স্টিকার ভিসার সময়সীমার মধ্যে পুরো অভিযান সম্পন্ন করা এবং প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করাকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। এ জন্য করপোরেট প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন সংগঠন, শুভানুধ্যায়ী এবং দেশবাসীর সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা কামনা করেছেন।
আগামী ১৪ আগস্ট শুরু হতে যাওয়া এই অভিযানে বীর কুমার তনচংগ্যার সফলতা কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের প্রত্যাশা, তিনি নিরাপদে অভিযান সম্পন্ন করে বাংলাদেশের জন্য নতুন গৌরব বয়ে আনবেন এবং বিশ্বমঞ্চে দেশের পতাকাকে আরও উজ্জ্বল করবেন।
উল্লেখ্য, এর আগে বীর কুমার তনচংগ্যা সাইকেলে ভারতের ১০টি রাজ্য ভ্রমণ সম্পন্ন করেছেন। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে যাত্রা শুরু করে প্রায় ৭১ দিনে ৫ হাজার ৭০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে ২০২৪ সালের মার্চে দেশে ফেরেন তিনি। এছাড়া বাংলাদেশের দীর্ঘতম ক্রস-কান্ট্রি রুট টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া এবং দেশের ৬৪টি জেলা সাইকেলে ভ্রমণের কৃতিত্বও রয়েছে তার।
বীর কুমার তনচংগ্যা কাপ্তাই ব্লাড ব্যাংক ও ওয়াগ্গা ভলান্টিয়ারের প্রতিষ্ঠাতা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি স্বেচ্ছায় রক্তদান, মানবসেবা এবং জলবায়ু ন্যায্যতা বিষয়ে জনসচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।