শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ
Topic Ads 1
ছয় মাস পর উৎপাদনে ফিরল চট্টগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানা

ছয় মাস পর উৎপাদনে ফিরল চট্টগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানা

দীর্ঘ প্রায় ছয় মাস বন্ধ থাকার পর রাষ্ট্রায়ত্ত চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডে (সিইউএফএল) আবার সার উৎপাদন শুরু হয়েছে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার পর কারখানা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও কারিগরি ত্রুটির কারণে উৎপাদনে ফিরতে সময় লাগে। ত্রুটি কাটিয়ে আজ মঙ্গলবার সকালে কারখানাটিতে উৎপাদন শুরু হয়। এতে স্বস্তি ফিরেছে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের মধ্যে। সিইউএফএল সূত্র জানায়, গত মাসের শেষ দিকে গ্যাস সরবরাহ পাওয়ার পর ধাপে ধাপে অ্যামোনিয়া প্ল্যান্ট চালু করা হয়। পরে ইউরিয়া প্ল্যান্টের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি সচল করে উৎপাদনে ফেরার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়। চালুর প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু যান্ত্রিক জটিলতা দেখা দেয়। কারখানার প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজ করে ত্রুটিগুলো কাটিয়ে ওঠেন। আজ দুপুরে সিইউএফএলের উৎপাদন বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক উত্তম চৌধুরী বলেন, ‘সকালে আমাদের উৎপাদন প্রাথমিকভাবে শুরু হয়েছে। গত মাসের শেষের দিকে আমরা গ্যাস পেলেও কারিগরি ত্রুটির কারণে তাৎক্ষণিকভাবে উৎপাদনে ফিরতে পারিনি। এরপর একে একে সব যন্ত্রপাতি সচল করার চেষ্টা করা হয়েছে। আশা করি, আগামীকালের মধ্যে কারখানাটি পুরোপুরি ত্রুটিমুক্ত ও স্বাভাবিক অবস্থায় আসবে।’ সিইউএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, দীর্ঘ প্রায় ছয় মাস পর তাঁরা উৎপাদনে ফিরেছেন। এই সময় উৎপাদন বন্ধ থাকায় যে ক্ষতি হয়েছে, নিয়মিত উৎপাদনের মাধ্যমে তা অল্প সময়ের মধ্যে পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে তাঁরা আশাবাদী। কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়া এলাকায় কাফকোর পাশে সিইউএফএলের অবস্থান। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সার কারখানায় দীর্ঘদিন ধরে গ্যাসসংকট ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। গত আড়াই বছরে গ্যাসসংকট ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কারখানাটি অন্তত ছয় দফা বন্ধ হয়েছে। কারখানার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সিইউএফএল মাত্র পাঁচ দিন উৎপাদনে ছিল। পরে ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি কারখানাটি বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর একই বছরের অক্টোবরে আবার উৎপাদন শুরু হয়। ২০২৫ সালের বিভিন্ন সময়েও গ্যাসসংকট ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কারখানাটি একাধিকবার বন্ধ ও চালুর মধ্য দিয়ে যায়। প্রতিবার উৎপাদন শুরুর পর কিছুদিন চলার মধ্যেই নতুন সংকট দেখা দেয়। এতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনরায় চালুর ব্যয় বেড়েছে। সর্বশেষ ৪ মার্চ উৎপাদন বন্ধ হওয়ার পর ১৫ সেপ্টেম্বর আবার চালু হলো সিইউএফএল। কারখানা সূত্র অনুযায়ী, সিইউএফএল পূর্ণমাত্রায় চালাতে দৈনিক প্রায় ৪৮ থেকে ৫২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না থাকলে কারখানার উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয় না। গ্যাসের চাপ কমে গেলে বা সরবরাহ বন্ধ হলে উৎপাদনও বন্ধ হয়ে যায়। একসময় কারখানাটির দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদনের সক্ষমতা ছিল। পুরোনো যন্ত্রপাতি, দীর্ঘদিন ব্যবহারে বিভিন্ন ইউনিটের সক্ষমতা কমে যাওয়া এবং গ্যাসসংকটসহ নানা কারণে বর্তমানে কারখানাটির উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টনে নেমে এসেছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আশা করছেন, গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত থাকলে এবং বড় ধরনের কারিগরি ত্রুটি না দেখা দিলে কারখানাটির উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে। দেশের কৃষি খাতে ইউরিয়া সারের চাহিদা পূরণে রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানাগুলোর উৎপাদন গুরুত্বপূর্ণ। সিইউএফএলের মতো বড় কারখানা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে আমদানি ও সরবরাহব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়। কারখানাটি এবার দীর্ঘস্থায়ীভাবে সচল রাখা যায় কি না, সেটিই এখন সংশ্লিষ্টদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

জমি নিয়ে বিরোধ, মুরাদনগরে বোন ও ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যা

কুমিল্লার মুরাদনগরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বোন ও ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে আবু মিয়া নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। গতকাল সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার ২১ নম্বর বাবুটিপাড়া ইউনিয়নের দারানীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত খালেদা আক্তার দারানীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষিকা। তাঁর স্বামীর নাম মো. জসিম উদ্দিন। নিহত মনজুরুল আলম টুটু খালেদা আক্তারের ভাইয়ের ছেলে। তাঁর বাবার নাম মো. বাচ্চু মিয়া। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আবু মিয়ার সঙ্গে নিহতদের জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জেরে সোমবার সন্ধ্যায় ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে দুজনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন তিনি। স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে দাউদকান্দি মডেল থানা-পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ দুটি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনাস্থল মুরাদনগর থানা এলাকায় হওয়ায় মুরাদনগর থানা-পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

জমি নিয়ে বিরোধ, মুরাদনগরে বোন ও ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যা

বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফিরছিলেন, কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে সংঘর্ষে মাইক্রোবাসের ৪ যাত্রী নিহত

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে কাভার্ড ভ্যানের সঙ্গে সংঘর্ষে মাইক্রোবাসের চার যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত আটজন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। গতকাল শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ২টা ৩০ মিনিটের দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কর্ণফুলীর শিকলবাহা চৌমুহনী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় পাওয়া গেছে—মো. ফেরদৌস আলম (৫), মিফতাহ (১৭) ও মাইক্রোবাসের চালক মুন্না (৪০)। অন্যজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদ এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে একটি যাত্রীবাহী মাইক্রোবাস কক্সবাজারের ঈদগাহের উদ্দেশে রওনা হয়। রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটের দিকে মাইক্রোবাসটি শিকলবাহা চৌমুহনী এলাকায় পৌঁছালে ইউটার্ন নেওয়া একটি কাভার্ড ভ্যানের সঙ্গে সেটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসটির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ফেরদৌস আলম ও মিফতাহ মারা যায়। আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাইক্রোবাসের চালক মুন্নাসহ আরও দুজনের মৃত্যু হয়। তাঁদের মধ্যে একজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। কর্ণফুলী থানার পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনায় অন্তত ১১ জন আহত হন। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর আহমদ জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে দুজনের মৃত্যু হয়। আহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার পর কাভার্ড ভ্যানটি জব্দ করা হয়েছে। তবে এর চালক ও তাঁর সহকারী পালিয়ে গেছেন।

বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফিরছিলেন, কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে সংঘর্ষে মাইক্রোবাসের ৪ যাত্রী নিহত

চট্টগ্রামে দুই শিশুর পেটে মিলল সাড়ে ৭ হাজার ইয়াবা

মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে ৯ ও ১২ বছর বয়সী দুই শিশুর পেটে করে চট্টগ্রামে পাচার করা হচ্ছিল সাড়ে ৭ হাজারের বেশি ইয়াবা। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার তৈলারদ্বীপে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে এক নারীসহ দুই শিশুকে আটক করে র‍্যাব-৭। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়ার পর পয়োনিষ্কাশনের মাধ্যমে ধাপে ধাপে শিশু দুটির পেট থেকে এসব ইয়াবা বের করে আনা হয়। আটক দুই শিশুর নাম শাহরিয়ার (১২) ও আবু বকর (৯)। তাদের বিস্তারিত পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। র‍্যাবের দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ এড়াতে অপরাধী চক্র শিশুদের ব্যবহার করে ইয়াবা পাচারের এই বিপজ্জনক পথ বেছে নিয়েছে। র‍্যাব-৭ এর অধিনায়ক মো. লে. কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বাচ্চা দুটির পেটের ভেতর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭ হাজার ইয়াবা পাওয়া গেছে। ক্যাপসুলের ভেতরে এসব ইয়াবা ছিল। একেকটি ক্যাপসুলে ৪০ থেকে ৫০টি করে ইয়াবা পাওয়া গেছে। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার গণনা চলছে। গণনা শেষে প্রকৃত সংখ্যা জানা যাবে।’ তিনি বলেন, বর্তমানে দুই শিশু সুস্থ আছে। তবে তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ইয়াবা পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা করা হবে। র‍্যাবের অধিনায়ক আরও বলেন, আটক নারীর সঙ্গে দুই শিশুর কোনো রক্তের সম্পর্ক নেই বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ওই নারীই শিশু দুটিকে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলেন। র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে, শিশু দুটির সঙ্গে কথা বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন, ইয়াবা পাচারের জন্য একজন ব্যক্তি তাঁদের জনপ্রতি ৪ হাজার টাকা করে মোট ৮ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। চট্টগ্রামে চালান পৌঁছে দেওয়ার পর তাঁদের আরও টাকা দেওয়ার কথা ছিল। এর আগেও তাঁরা দুবার পেটের ভেতরে করে ইয়াবা নিয়ে চট্টগ্রামে এসেছিল বলে র‍্যাবকে জানিয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে দুই শিশুসহ ওই নারীকে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে শিশু দুটিকে পেডিয়াট্রিক সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়। গতকাল রোববার বিকেল পৌনে ৫টা পর্যন্ত শিশু দুটির পেট থেকে প্রায় ৬ হাজার ইয়াবা বের করে আনা হয়। এরপর রাতের দিকে তাঁদের পেট থেকে ক্যাপসুলে থাকা সাড়ে ৭ হাজারের বেশি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে র‍্যাব সূত্রে জানা যায়। এক্স-রে করে শিশু দুটির পেটের ভেতরে বিপুলসংখ্যক সন্দেহজনক বস্তুর উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছিল। পরবর্তী এক্স-রেতে তাঁদের পেট পরিষ্কার পাওয়া যায়। চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান বলেন, সাধারণত ইয়াবা প্লাস্টিকে পেঁচিয়ে ছোট ছোট ক্যাপসুলের মতো বানিয়ে গিলে পেটে নেওয়া হয়। এভাবে মাদক বহন করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কোনো ক্যাপসুল দুর্ঘটনাবশত অন্ত্রে আটকে গেলে বা ফুটো হয়ে গেলে বহনকারীর গুরুতর শারীরিক জটিলতা এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। তিনি বলেন, ক্যাপসুলের ভেতরের মাদকদ্রব্য শরীরে ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত বিষক্রিয়া হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। র‍্যাব-৭-এর অধিনায়ক জানান, শিশু দুটিকে হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে ইয়াবা পাচারের সঙ্গে জড়িত চক্রের সদস্যদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে। এ ঘটনায় আজ সোমবার বিস্তারিত ব্রিফিং করা হবে বলেও জানান তিনি।

চট্টগ্রামে দুই শিশুর পেটে মিলল সাড়ে ৭ হাজার ইয়াবা

সপরিবারে ‘নিখোঁজ’ ব্যবসায়ী, বন্ধকী স্বর্ণ আত্মসাতের অভিযোগ

চাঁদপুরে গ্রাহকদের বন্ধক রাখা স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করে পিন্টু দাস নামে এক ব্যবসায়ী সপরিবারে পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। তবে পিন্টু দাস নিখোঁজ না কি আত্মগোপনে রয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত করে জানাতে পারেনি পুলিশ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পিন্টু দাসের বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায়। ৫-৬ মাস আগে তিনি চাঁদপুর শহরের আখন্দ মার্কেটে দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। মার্কেটের নিচতলায় ‘এসকে শিল্পালয়’ নামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছিল তাঁর। সেখানে বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক কম টাকায় স্বর্ণ বন্ধক রেখে টাকা দিতেন তিনি। আজ বুধবার পিন্টু দাসের স্বজন ও চাঁদপুর শহরের গুয়াখোলা রোডের বাসিন্দা উপমা দে জানান, স্ত্রী রিমি, ছেলে প্রিয়ম ও রুপম দাসকে নিয়ে শহরে ভাড়া বাসায় থাকতেন পিন্টু দাস। বিভিন্ন কারণে তিনি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। আজ বাসায় গিয়ে তাঁদের পাওয়া যায়নি। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, পিন্টু দাস স্বর্ণ বন্ধক রেখে টাকা দেওয়ার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে স্বর্ণ বন্ধক নিয়ে টাকা দেওয়ার পর নির্ধারিত সময়ে স্বর্ণ ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সমিতি থেকেও ব্যবসার জন্য ঋণ নেওয়ায় তিনি আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন। শহরের রঘুনাথপুরের বাসিন্দা রাসেল খান বলেন, পিন্টু দাসের কাছে আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার ৫০ হাজার টাকায় বন্ধক রেখেছিলাম। পরে টাকা ফেরত দিয়ে স্বর্ণালংকার নিতে গেলে পিন্টু দাস আমাকে একদিন পর যেতে বলেন। এরপর জানতে পারি, সপরিবারে তিনি বাসা ছেড়ে চলে গেছেন। এ ঘটনায় সদর থানায় অভিযোগ দিয়েছি। শহরের দক্ষিণ গুণরাজদীর বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম ১২ আনা এবং শুভঙ্কর মজুমদার ১০ আনা স্বর্ণ পিন্টু দাসের কাছে বন্ধক রাখার দাবি করেছেন। বন্ধকী স্বর্ণ ফেরত পাওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন তারাও। বিষয়টি নিয়ে সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফেরদৌস বলেন, পিন্টু দাস সপরিবারে আত্মগোপনে থাকলে খুঁজে পাওয়া কঠিন। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকেও কোনো নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়নি। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ বলেন, পিন্টু দাসসহ তাঁর পরিবারের ৪ সদস্যকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানতে পেরেছি। তাঁর কাছে বন্ধক রাখা স্বর্ণ অনেকে তা ফেরত পাচ্ছেন না। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।

সপরিবারে ‘নিখোঁজ’ ব্যবসায়ী, বন্ধকী স্বর্ণ আত্মসাতের অভিযোগ

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে ৫১ লাখ টাকার সিগারেট ও আইফোন জব্দ

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুবাই থেকে আসা এক ফ্লাইটের তিন যাত্রীর কাছ থেকে এবং পরিত্যক্ত অবস্থায় প্রায় ৫১ লাখ টাকার অবৈধ সিগারেট ও আইফোনের বড় একটি চালান জব্দ করা হয়েছে। আজ সোমবার সকালে দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ‘BG-148’ ফ্লাইটে তল্লাশি চালিয়ে এসব সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল। বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সকাল ৯টা ২০ মিনিটে দুবাই থেকে আসা ওই ফ্লাইটের তিনজন যাত্রীর ব্যাগেজে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ৭৮২ কার্টন ইজি ব্র্যান্ডের অবৈধ সিগারেট ও ১৩টি আইফোন উদ্ধার করা হয়। পরবর্তী সময়ে বিমানবন্দরের ব্যাগেজ বেল্ট এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় আরও ১ হাজার ২০ কার্টন সিগারেট উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা সর্বমোট ১ হাজার ৮০২ কার্টন সিগারেটের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩৬ লাখ ৪ হাজার টাকা এবং আইফোনগুলোর দাম প্রায় ১৫ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা পণ্যের মোট বাজারমূল্য ৫১ লাখ চার হাজার টাকা। অনুমোদিত সীমার অতিরিক্ত ও অবৈধভাবে এসব পণ্য বহনে জড়িত থাকার অভিযোগে তিন যাত্রীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁরা হলেন ফেনীর ছাগলনাইয়ার অধিবাসী মঈনুল আবদিন ও আব্দুল মান্নান এবং ফেনী সদরের বাসিন্দা নুরুল আলম রিয়াদ। জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল জানান, জব্দ করা পণ্যের চালানটি ডিটেনশন মেমোরেন্ডাম (ডিএম) মূলে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের হেফাজতে হস্তান্তর করা হয়েছে। আটক তিন যাত্রীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও কাস্টমস ইন্টেলিজেন্স শাখার পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে ৫১ লাখ টাকার সিগারেট ও আইফোন জব্দ

চট্টগ্রামে চোরাই স্বর্ণ বিক্রির ১৫ লাখ টাকাসহ তিনজন গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের আকবরশাহ থানার একটি চুরির মামলায় অভিযান চালিয়ে চোরাই স্বর্ণ বিক্রির নগদ ১৪ লাখ ৮৮ হাজার ৮০০ টাকা ও স্বর্ণের ওজন মাপার একটি ডিজিটাল নিক্তিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।শনিবার (৮ আগস্ট) নগরের কোতোয়ালি থানাধীন হাজারী গলিসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সেতু দাস প্রকাশ সালাউদ্দিন (৪৩), মোহাম্মদ আলী (৪৩) ও দেবব্রত বণিক প্রকাশ বলাই বণিক (৩৭)।সেতু দাসের বাড়ি চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানার বড় উঠান এলাকায়। মোহাম্মদ আলীর বাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় এবং দেবব্রত বণিক প্রকাশ বলাই বণিকের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায়।চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সহকারী কমিশনার আমিনুর রশিদ জানান, আকবরশাহ থানার একটি চুরির মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে চোরাই স্বর্ণ বিক্রির নগদ টাকা ও স্বর্ণের ওজন মাপার ডিজিটাল নিক্তি উদ্ধার করা হয়।তিনি বলেন, গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নিতে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

চট্টগ্রামে চোরাই স্বর্ণ বিক্রির ১৫ লাখ টাকাসহ তিনজন গ্রেপ্তার

সমুদ্র থেকে হিমালয় কন্যার কাছে: সাইকেলে নেপাল অভিযানে বীর কুমার তনচংগ্যা

দেশের পরিচিত বাইসাইকেল ট্রাভেলার ও সমাজসেবক, রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ওয়াগ্গা ইউনিয়নের তরুণ অভিযাত্রী বীর কুমার তনচংগ্যা এবার শুরু করতে যাচ্ছেন এক ব্যতিক্রমধর্মী আন্তর্জাতিক সাইকেল অভিযান। সার্ক স্টিকার ভিসা হাতে পাওয়ার পর আগামী ১৪ আগস্ট কক্সবাজারের জিরো পয়েন্ট থেকে নেপালের উদ্দেশে সাইকেল যাত্রা শুরু করবেন তিনি।‘সি টু হিমালয়াস’ (Sea to Himalayas) শিরোনামের এই অভিযানে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত থেকে স্থলপথে সাইকেল চালিয়ে নেপালে পৌঁছে বিশ্বের অন্যতম কঠিন চারটি ট্রেইল—মানাসলু সার্কিট, অন্নপূর্ণা সার্কিট, অন্নপূর্ণা বেস ক্যাম্প (এবিসি) এবং এভারেস্ট বেস ক্যাম্প (ইবিসি)—অতিক্রম করার লক্ষ্য নিয়েছেন তিনি। পুরো অভিযানে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা বহন করবেন বলে জানিয়েছেন এই তরুণ অভিযাত্রী।বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে আলাপকালে বীর কুমার তনচংগ্যা জানান, সাধারণত বাংলাদেশি অভিযাত্রীরা বিমানে নেপাল গিয়ে সেখান থেকে সাইকেল অভিযান শুরু করেন। তবে তিনি প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকত থেকে স্থলপথে সাইকেল চালিয়ে নেপালে পৌঁছে পুরো অভিযান সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নিয়েছেন।তিনি জানান, কক্সবাজার থেকে যাত্রা শুরু করে প্রথমে ঢাকা, এরপর পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর হয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি অতিক্রম করে নেপালে প্রবেশ করবেন। দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির ফল হিসেবে এই অভিযান বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছেন তিনি। এ জন্য ভিসা, অনুমতি ও অন্যান্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কাপ্তাই, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও ঢাকায় একাধিকবার যেতে হয়েছে। নানা প্রতিবন্ধকতা ও আর্থিক সংকটের মধ্যেও তিনি প্রস্তুতি চালিয়ে গেছেন।অভিযানের প্রস্তুতিতে দেশের পরিচিত সাইক্লিস্ট রাকিবুল ইসলাম এবং পর্বতারোহী বাবর আলীর সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে উল্লেখ করেন বীর কুমার। পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং রাঙামাটির সামাজিক ও প্রশাসনিক মহলের সহযোগিতার জন্যও তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।বীর কুমার বলেন, “এই অভিযান শুধু আমার ব্যক্তিগত স্বপ্ন নয়। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরা এবং দেশের অ্যাডভেঞ্চার পর্যটনের সম্ভাবনাকে বিশ্ববাসীর সামনে উপস্থাপন করাই আমার অন্যতম লক্ষ্য।”তবে ৯০ দিনের সার্ক স্টিকার ভিসার সময়সীমার মধ্যে পুরো অভিযান সম্পন্ন করা এবং প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করাকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। এ জন্য করপোরেট প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন সংগঠন, শুভানুধ্যায়ী এবং দেশবাসীর সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা কামনা করেছেন।আগামী ১৪ আগস্ট শুরু হতে যাওয়া এই অভিযানে বীর কুমার তনচংগ্যার সফলতা কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের প্রত্যাশা, তিনি নিরাপদে অভিযান সম্পন্ন করে বাংলাদেশের জন্য নতুন গৌরব বয়ে আনবেন এবং বিশ্বমঞ্চে দেশের পতাকাকে আরও উজ্জ্বল করবেন।উল্লেখ্য, এর আগে বীর কুমার তনচংগ্যা সাইকেলে ভারতের ১০টি রাজ্য ভ্রমণ সম্পন্ন করেছেন। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে যাত্রা শুরু করে প্রায় ৭১ দিনে ৫ হাজার ৭০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে ২০২৪ সালের মার্চে দেশে ফেরেন তিনি। এছাড়া বাংলাদেশের দীর্ঘতম ক্রস-কান্ট্রি রুট টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া এবং দেশের ৬৪টি জেলা সাইকেলে ভ্রমণের কৃতিত্বও রয়েছে তার।বীর কুমার তনচংগ্যা কাপ্তাই ব্লাড ব্যাংক ও ওয়াগ্গা ভলান্টিয়ারের প্রতিষ্ঠাতা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি স্বেচ্ছায় রক্তদান, মানবসেবা এবং জলবায়ু ন্যায্যতা বিষয়ে জনসচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

সমুদ্র থেকে হিমালয় কন্যার কাছে: সাইকেলে নেপাল অভিযানে বীর কুমার তনচংগ্যা

দাওয়াত দিতে এসে কিলঘুষিতে মধ্যবয়সীর মৃত্যু, মেয়ের শ্বশুর-শাশুড়িসহ আটক ৩

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় ছেলের শ্বশুরবাড়িতে দাওয়াত দিতে এসে দাওয়াতে যাওয়া-না যাওয়া নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়ের বাবা মো. আবুল বাশার (৫০) নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।নিহতের পরিবারের দাবি, মেয়ের শ্বশুর, শাশুড়ি ও ননদের জামাই মারধর করলে গুরুতর আহত হন আবুল বাশার। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের নাল্লা গ্রামের উত্তরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত আবুল বাশার ওই গ্রামের মৃত চেরাগ আলীর ছেলে। তিনি পেশায় দিনমজুর ছিলেন।স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনরা জানান, ঘটনার আগে আবুল বাশার স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে ছিলেন। পরে জানতে পারেন, মেয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাদের বাড়িতে এসেছেন। এরপর তিনি কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে বাড়িতে যান।স্বজনদের ভাষ্য, অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে ময়না আক্তারের গর্ভধারণের পাঁচ মাস পূর্তি উপলক্ষে আগামী শুক্রবার আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে দাওয়াত দিতে মেয়ের শ্বশুর আব্দুল মতিন, শাশুড়ি রোজিনা বেগম এবং ননদের জামাই মো. হৃদয় তাদের বাড়িতে আসেন। তবে একই দিনে ভাতিজার বিয়ে থাকায় আবুল বাশার ওই অনুষ্ঠানে যেতে অপারগতার কথা জানান। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।পরিবারের অভিযোগ, একপর্যায়ে অতিথিরা চলে যেতে চাইলে আবুল বাশার তাদের খেয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন। তখন আব্দুল মতিন তার গলা চেপে ধরে বুকে ঘুষি মারেন। এ সময় রোজিনা বেগম ও হৃদয়ও তাকে মারধর করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করে গণপিটুনি দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তাদের হেফাজতে নেয়।আটক ব্যক্তিরা হলেন—দেবিদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের রঘুরামপুর গ্রামের আব্দুল মতিন, তার স্ত্রী রোজিনা বেগম এবং তাদের মেয়ের জামাই মো. হৃদয়।নিহতের স্ত্রী ঝর্না বেগম অভিযোগ করেন, প্রায় এক বছর আগে তাদের মেয়ে ময়না আক্তারের সঙ্গে আব্দুল মতিনের ছেলে মহিউদ্দিনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে মেয়েকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।তিনি আরও বলেন, অনুষ্ঠানে দাওয়াতের পাশাপাশি খাসির মাংস ও বিভিন্ন ধরনের নাশতা নিয়ে যেতে বলা হয়েছিল। কিন্তু অন্য পারিবারিক অনুষ্ঠানে যাওয়ার কারণে তার স্বামী রাজি না হওয়ায় অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধর করেন।ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মেয়ের শ্বশুর, শাশুড়ি ও ননদের জামাইকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

দাওয়াত দিতে এসে কিলঘুষিতে মধ্যবয়সীর মৃত্যু, মেয়ের শ্বশুর-শাশুড়িসহ আটক ৩