শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ
Topic Ads 1
জমি নিয়ে বিরোধ, মুরাদনগরে বোন ও ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যা

জমি নিয়ে বিরোধ, মুরাদনগরে বোন ও ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যা

কুমিল্লার মুরাদনগরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বোন ও ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে আবু মিয়া নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। গতকাল সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার ২১ নম্বর বাবুটিপাড়া ইউনিয়নের দারানীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত খালেদা আক্তার দারানীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষিকা। তাঁর স্বামীর নাম মো. জসিম উদ্দিন। নিহত মনজুরুল আলম টুটু খালেদা আক্তারের ভাইয়ের ছেলে। তাঁর বাবার নাম মো. বাচ্চু মিয়া। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আবু মিয়ার সঙ্গে নিহতদের জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জেরে সোমবার সন্ধ্যায় ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে দুজনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন তিনি। স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে দাউদকান্দি মডেল থানা-পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ দুটি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনাস্থল মুরাদনগর থানা এলাকায় হওয়ায় মুরাদনগর থানা-পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

নারীদের গোসলের ছবি তোলার জেরে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৫০

হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে নারীদের গোসলের সময় ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। আজ রোববার সকালে উপজেলার পুকড়া ইউনিয়নের কাটখাল গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ সেপ্টেম্বর স্থানীয় বিএনপি নেতা কাজী লুৎফুর রহমানের বাড়ির পেছনের পুকুরে তাঁদের পরিবারের নারীরা গোসল করছিলেন। এ সময় একই গ্রামের বাসিন্দা ও বিএনপি নেতা এজারত মিয়ার পক্ষের দুই ছেলে গোপনে ওই নারীদের ছবি তোলেন। পরবর্তীতে ঘটনাটি কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বিরোধ ও চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এরই জের ধরে রোববার সকালে কাজী লুৎফুর রহমান ও এজারত মিয়ার সমর্থকেরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হন। খবর পেয়ে বানিয়াচং থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিন রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাজমুল হক জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং পুনরায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

নারীদের গোসলের ছবি তোলার জেরে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৫০

ফ্রিজের পেছনে মাটি জমিয়েছিল ইঁদুর, সরাতে গিয়ে প্রাণ গেল শিক্ষার্থীর

পিরোজপুরের নাজিরপুরে নিজ ঘরে ফ্রিজের পেছনের জমে থাকা ইঁদুরের মাটি সরাতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে নরোত্তম মৃধা (২২) নামে এক নার্সিং শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার নাজিরপুর সদর ইউনিয়নের হরিপাগলা গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নরোত্তম মৃধা ওই গ্রামের গৌতম মৃধার ছেলে। তিনি বিএসসি ইন নার্সিংয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে নরোত্তম নিজ ঘরের ফ্রিজের পেছনে জমে থাকা ইঁদুরের তোলা মাটি পরিষ্কার করছিলেন। এ সময় অসাবধানতাবশত ফ্রিজের বিদ্যুৎ সংযোগের তারে জড়িয়ে পড়ে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। এ সময় স্বজনদের চিৎকারে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ড. শিমুল কৌশিক সাহা জানান, বেলা ১১টার দিকে ওই যুবককে হাসপাতালে আনা হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা হয়েছে।

ফ্রিজের পেছনে মাটি জমিয়েছিল ইঁদুর, সরাতে গিয়ে প্রাণ গেল শিক্ষার্থীর

অপারেশন ডেভিল হান্ট: পিরোজপুরে দুই নারীসহ গ্রেপ্তার ৮

পিরোজপুরের নাজিরপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে দুই নারীসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাত থেকে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ভোররাত পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’-এর আওতায় নাজিরপুর সদর ইউনিয়নের সাতকাছিমা গ্রাম থেকে নওশের হোসেনের মেয়ে কোহিনুর বেগম (৪০) এবং শেখমাটিয়া ইউনিয়নের ষোলশত গ্রাম থেকে অনুজ মজুমদারের স্ত্রী জুঁই মিস্ত্রিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শ্রীরামকাঠি ইউনিয়নের মধ্য জয়পুর এলাকা থেকে হানিফ শেখের ছেলে মো. রাসেল শেখ (৩৫), নাজিরপুর সদর ইউনিয়নের কাঠালিয়া এলাকা থেকে অহিদুল ইসলামের ছেলে মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন (২০), শ্রীরামকাঠি ইউনিয়নের জয়পুর এলাকা থেকে কামাল হাওলাদারের ছেলে সবুজ হাওলাদার ও আনিসুর রহমানের ছেলে সাইফুল ইসলাম এবং মাটিভাঙা ইউনিয়নের বড়ইবুনিয়া এলাকা থেকে এনামুল হকের ছেলে আনিস শেখকে (৩৩) গ্রেপ্তার করা হয়। নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার আটজনের মধ্যে দুজন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি, দুজন ভ্রাম্যমাণ আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত মাদকসেবী, দুজন ‘ডেভিল হান্ট’ অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া নারী, একজন নিয়মিত মামলার আসামি এবং একজন পরোয়ানাভুক্ত আসামি রয়েছেন। ওসি আরও বলেন, উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও মাদকমুক্ত করতে এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অপারেশন ডেভিল হান্ট: পিরোজপুরে দুই নারীসহ গ্রেপ্তার ৮

মোবাইলে কল দেওয়াকে কেন্দ্র করে নারীকে হত্যা, যুবকের মৃত্যুদণ্ড

‎ময়মনসিংহে সাথী আক্তার (৩৮) নামের এক নারীকে হত্যা মামলায় হৃদয় মিয়া (৩২) নামের এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডও করা হয়েছে। ‎‎আজ মঙ্গলবার দুপুরে ময়মনসিংহ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক শামসুদ্দিন এই রায় দেন। আসামির উপস্থিতিতে বিচারক এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আরও বলা হয়, অর্থদণ্ডের টাকা হৃদয়ের সম্পত্তি থেকে আদায় করে নিহতের পরিবারকে প্রদান করতে হবে। সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট আনোয়ার আজিজ টুটুল মামলার রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘মোবাইল কল দেওয়াকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বাগ্‌বিতণ্ডা ঘটে। এরই জেরে হৃদয় মিয়া ছুরিকাঘাত করে সাথী আক্তারকে হত্যা করে।’ ‎মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হৃদয় মিয়া নগরীর জুবলী কোয়াটার এলাকার জয়নাল মিয়ার ছেলে। নিহত সাথী আক্তার একই এলাকার মৃত মোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে। ‎মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২১ মে মোবাইলে কল দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এর জেরে ২৩ মে রাত ২টার দিকে হৃদয় মিয়া আকুয়া জুবলী কোয়ার্টার এলাকায় ভাড়া বাসায় ঢুকে সাথী আক্তারের ওপর হামলা চালায়। এ সময় ছুরি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে সাথী আক্তারকে গুরুতর আহতাবস্থায় ফেলে চলে যায় হৃদয়। পরে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় সাথী আক্তারের বোন শিউলি আক্তার বাদী হয়ে একই এলাকার বাবুল ও হৃদয়ের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পুলিশ ঘটনা তদন্ত করে হৃদয়ের নামে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

মোবাইলে কল দেওয়াকে কেন্দ্র করে নারীকে হত্যা, যুবকের মৃত্যুদণ্ড

চট্টগ্রামে দুই শিশুর পেটে মিলল সাড়ে ৭ হাজার ইয়াবা

মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে ৯ ও ১২ বছর বয়সী দুই শিশুর পেটে করে চট্টগ্রামে পাচার করা হচ্ছিল সাড়ে ৭ হাজারের বেশি ইয়াবা। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার তৈলারদ্বীপে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে এক নারীসহ দুই শিশুকে আটক করে র‍্যাব-৭। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়ার পর পয়োনিষ্কাশনের মাধ্যমে ধাপে ধাপে শিশু দুটির পেট থেকে এসব ইয়াবা বের করে আনা হয়। আটক দুই শিশুর নাম শাহরিয়ার (১২) ও আবু বকর (৯)। তাদের বিস্তারিত পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। র‍্যাবের দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ এড়াতে অপরাধী চক্র শিশুদের ব্যবহার করে ইয়াবা পাচারের এই বিপজ্জনক পথ বেছে নিয়েছে। র‍্যাব-৭ এর অধিনায়ক মো. লে. কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বাচ্চা দুটির পেটের ভেতর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭ হাজার ইয়াবা পাওয়া গেছে। ক্যাপসুলের ভেতরে এসব ইয়াবা ছিল। একেকটি ক্যাপসুলে ৪০ থেকে ৫০টি করে ইয়াবা পাওয়া গেছে। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার গণনা চলছে। গণনা শেষে প্রকৃত সংখ্যা জানা যাবে।’ তিনি বলেন, বর্তমানে দুই শিশু সুস্থ আছে। তবে তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ইয়াবা পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা করা হবে। র‍্যাবের অধিনায়ক আরও বলেন, আটক নারীর সঙ্গে দুই শিশুর কোনো রক্তের সম্পর্ক নেই বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ওই নারীই শিশু দুটিকে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলেন। র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে, শিশু দুটির সঙ্গে কথা বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন, ইয়াবা পাচারের জন্য একজন ব্যক্তি তাঁদের জনপ্রতি ৪ হাজার টাকা করে মোট ৮ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। চট্টগ্রামে চালান পৌঁছে দেওয়ার পর তাঁদের আরও টাকা দেওয়ার কথা ছিল। এর আগেও তাঁরা দুবার পেটের ভেতরে করে ইয়াবা নিয়ে চট্টগ্রামে এসেছিল বলে র‍্যাবকে জানিয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে দুই শিশুসহ ওই নারীকে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে শিশু দুটিকে পেডিয়াট্রিক সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়। গতকাল রোববার বিকেল পৌনে ৫টা পর্যন্ত শিশু দুটির পেট থেকে প্রায় ৬ হাজার ইয়াবা বের করে আনা হয়। এরপর রাতের দিকে তাঁদের পেট থেকে ক্যাপসুলে থাকা সাড়ে ৭ হাজারের বেশি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে র‍্যাব সূত্রে জানা যায়। এক্স-রে করে শিশু দুটির পেটের ভেতরে বিপুলসংখ্যক সন্দেহজনক বস্তুর উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছিল। পরবর্তী এক্স-রেতে তাঁদের পেট পরিষ্কার পাওয়া যায়। চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান বলেন, সাধারণত ইয়াবা প্লাস্টিকে পেঁচিয়ে ছোট ছোট ক্যাপসুলের মতো বানিয়ে গিলে পেটে নেওয়া হয়। এভাবে মাদক বহন করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কোনো ক্যাপসুল দুর্ঘটনাবশত অন্ত্রে আটকে গেলে বা ফুটো হয়ে গেলে বহনকারীর গুরুতর শারীরিক জটিলতা এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। তিনি বলেন, ক্যাপসুলের ভেতরের মাদকদ্রব্য শরীরে ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত বিষক্রিয়া হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। র‍্যাব-৭-এর অধিনায়ক জানান, শিশু দুটিকে হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে ইয়াবা পাচারের সঙ্গে জড়িত চক্রের সদস্যদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে। এ ঘটনায় আজ সোমবার বিস্তারিত ব্রিফিং করা হবে বলেও জানান তিনি।

চট্টগ্রামে দুই শিশুর পেটে মিলল সাড়ে ৭ হাজার ইয়াবা

নড়াইলে শিক্ষার্থীদের ধর্ষণের অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার

নড়াইলে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ধর্ষণের অভিযোগে মাহবুবুর রহমান (২৫) নামে এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার মাহবুবুর রহমান নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামের আলমগীর সরদারের ছেলে ও নড়াইল পৌরসভার ডুমুরতলা তাফসির উদ্দিন হাফেজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক। পুলিশ জানায়, গত ২৭ আগস্ট রাত দেড়টার দিকে ডুমুরতলা তাফসির উদ্দিন হাফেজিয়া মাদ্রাসার এক শিশু শিক্ষার্থী ধর্ষণের শিকার হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরদিন ২৮ আগস্ট ওই ঘটনাটি জানাজানি হয়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষক মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে গতকাল (৫ সেপ্টেম্বর) সদর থানার মামলা করেন। পরে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তে গিয়ে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মাদ্রাসার আরও পাঁচ শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ পায় পুলিশ। পুলিশ জানায়, মামলা রজুর ১০ ঘণ্টার মধ্যে নড়াইল সদর থানার ওসি (তদন্ত) অজয় কুমার কুন্ডুর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকার গাছা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত আসামি মাহবুবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। নড়াইল সদর থানার ওসি (তদন্ত) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

নড়াইলে শিক্ষার্থীদের ধর্ষণের অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার

রমেক হাসপাতালে এক মাসের মধ্যে নতুন করে আইসিইউ বেড চালু হবে: ত্রাণমন্ত্রী

রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে আগামী এক মাসের মধ্যে নতুন করে আইসিইউ (নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র) বেড চালু করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেছেন, অ্যানেসথেসিয়ার চিকিৎসক না থাকায় এত দিন আইসিইউ চালু করা সম্ভব হয়নি। ইতিমধ্যে চিকিৎসক পদায়ন হয়েছে, আগামী এক মাসের মধ্যে নতুন করে আইসিইউ বেড চালু করতে পারব। আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে রমেক হাসপাতালে বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সার্ভিস বিল্ডিংয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মন্ত্রী। দেশের স্বাস্থ্য খাতের সংকট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘১৭টি বছর জুলুম এবং নানা অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে শুধু স্বাস্থ্য খাত নয়, দেশের প্রত্যেকটা খাতই ধ্বংসের শেষ প্রান্তে উপনীত হয়েছে। আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন স্বাস্থ্য খাতকে।’ হাসপাতালের জনবল সংকটের কথা উল্লেখ করে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘সারা বাংলাদেশেই জনবল সংকট। আমরা নিয়োগের মধ্যে চলে গিয়েছি। অল্প সময়ের মধ্যে নিয়োগ সম্পন্ন হয়ে গেলে এই হাসপাতালের জনবল চাহিদা পূরণের চেষ্টা করব।’ রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজন হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রসঙ্গেও কথা বলেন ত্রাণমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের পেছনে কেউ জড়িত থাকলে তাঁদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।’ তদন্তে সময় লাগার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা আছে, তাই সময় লাগছে। তবে আমরা চাই, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে যারা দোষী এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনে যদি কেউ জড়িত থাকে, তাদের আইনের আওতায় আনা সবচেয়ে জরুরি।’ আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘আশা করি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে কিছুদিনের মধ্যেই অভিযোগপত্র দিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচার কাজ শেষ হবে।’

রমেক হাসপাতালে এক মাসের মধ্যে নতুন করে আইসিইউ বেড চালু হবে: ত্রাণমন্ত্রী

চোর সন্দেহে যুবককে নির্যাতন, পায়ের রগ কাটার পর হাসপাতালে মৃত্যু

বগুড়ায় চোর সন্দেহে শামিম হোসেন (৩৫) নামে এক যুবককে নির্যাতনের পর পায়ের রগ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছেন নিহতের স্বজনেরা। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ভোরে বগুড়া সদর উপজেলার নিশিন্দারা ইউনিয়নের বারপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শামিম হোসেন সদর উপজেলার নামুজা ইউনিয়নের চৌমুহনী এলাকার আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে। নিহতের স্বজনেরা জানান, শামিমের ভায়রার জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে সোমবার বিকেলে বারপুর গ্রামে যান তিনি। রাতে শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করেন। ভোররাত ৩টার দিকে গ্রামের সড়কে হাঁটাহাঁটি করার সময় তাঁকে চোর সন্দেহে নিশিন্দারা ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এ বি এম শাফিসহ কয়েকজন আটক করেন। স্বজনদের ভাষ্য, আটকের পর শামিমকে মারধর ও নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে তাঁর পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে একটি পরিত্যক্ত স্থানে ফেলে রাখা হয়। খবর পেয়ে গ্রাম পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নিহতের স্বজনেরা অভিযোগ করেন, ইউপি সদস্য এ বি এম শাফিসহ কয়েকজন এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তবে ইউপি সদস্য শফি বলেন, তিনি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়ে বাড়িতে অবস্থান করছেন। ভোররাতে এলাকার এক যুবক ফোন করে চোর সন্দেহে একজনকে আটকের বিষয়টি জানান। তখন তিনি ওই যুবককে ইউনিয়ন পরিষদে আটকে রাখার পরামর্শ দেন। বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলী বলেন, চোর সন্দেহে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এদিকে, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে নিহতের স্বজনেরা নিশিন্দারা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে বগুড়া-নামুজা সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করেন। পুলিশ জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে প্রায় এক ঘণ্টা পর তাঁরা অবরোধ তুলে নেন।

চোর সন্দেহে যুবককে নির্যাতন, পায়ের রগ কাটার পর হাসপাতালে মৃত্যু

গত ১৭ বছরের শতভাগ বিদ্যুতায়নের সাইনবোর্ড ছিল শুভঙ্করের ফাঁকি: বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট আজকে তৈরি হয়নি, এটি দীর্ঘদিনের সমস্যা বলে মন্তব্য করেছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের কাছে বিদ্যুৎ ও গ্যাস পৌঁছে দিতে স্থায়ী সমাধানের পরিকল্পনা করছে। এ জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন। আজ সোমবার সকালে নরসিংদী জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জেলার আইনশৃঙ্খলা, উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম সমন্বয়ের লক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছর বিভিন্ন জায়গায় সাইনবোর্ড টানিয়ে বলা হতো, ওই এলাকা শতভাগ বিদ্যুতায়িত হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এসবই ছিল ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’। বিদ্যুতের স্থায়ী সমাধান না করে কুইক রেন্টালের নামে বিশেষ ব্যক্তিদের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। মাদক প্রসঙ্গে শরীফুল আলম বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সঙ্গে মাদক ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে। শুধু পুলিশের পক্ষে মাদক নির্মূল ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এ জন্য সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। অপরাধীদের সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অপরাধী যে পরিচয়ই বহন করুক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। দেশের অর্জনগুলো নষ্ট করতে একটি মহল ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাদের উদ্দেশ্য বুঝতে হবে। তারা যেন কোনো ধরনের অরাজকতা সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে। নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়ার সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী-১ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন, নরসিংদী-৩ (শিবপুর) আসনের সংসদ সদস্য মনজুর এলাহী, নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন বকুল এবং নরসিংদীর পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুক।

গত ১৭ বছরের শতভাগ বিদ্যুতায়নের সাইনবোর্ড ছিল শুভঙ্করের ফাঁকি: বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী

সপরিবারে ‘নিখোঁজ’ ব্যবসায়ী, বন্ধকী স্বর্ণ আত্মসাতের অভিযোগ

চাঁদপুরে গ্রাহকদের বন্ধক রাখা স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করে পিন্টু দাস নামে এক ব্যবসায়ী সপরিবারে পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। তবে পিন্টু দাস নিখোঁজ না কি আত্মগোপনে রয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত করে জানাতে পারেনি পুলিশ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পিন্টু দাসের বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায়। ৫-৬ মাস আগে তিনি চাঁদপুর শহরের আখন্দ মার্কেটে দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। মার্কেটের নিচতলায় ‘এসকে শিল্পালয়’ নামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছিল তাঁর। সেখানে বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক কম টাকায় স্বর্ণ বন্ধক রেখে টাকা দিতেন তিনি। আজ বুধবার পিন্টু দাসের স্বজন ও চাঁদপুর শহরের গুয়াখোলা রোডের বাসিন্দা উপমা দে জানান, স্ত্রী রিমি, ছেলে প্রিয়ম ও রুপম দাসকে নিয়ে শহরে ভাড়া বাসায় থাকতেন পিন্টু দাস। বিভিন্ন কারণে তিনি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। আজ বাসায় গিয়ে তাঁদের পাওয়া যায়নি। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, পিন্টু দাস স্বর্ণ বন্ধক রেখে টাকা দেওয়ার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে স্বর্ণ বন্ধক নিয়ে টাকা দেওয়ার পর নির্ধারিত সময়ে স্বর্ণ ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সমিতি থেকেও ব্যবসার জন্য ঋণ নেওয়ায় তিনি আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন। শহরের রঘুনাথপুরের বাসিন্দা রাসেল খান বলেন, পিন্টু দাসের কাছে আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার ৫০ হাজার টাকায় বন্ধক রেখেছিলাম। পরে টাকা ফেরত দিয়ে স্বর্ণালংকার নিতে গেলে পিন্টু দাস আমাকে একদিন পর যেতে বলেন। এরপর জানতে পারি, সপরিবারে তিনি বাসা ছেড়ে চলে গেছেন। এ ঘটনায় সদর থানায় অভিযোগ দিয়েছি। শহরের দক্ষিণ গুণরাজদীর বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম ১২ আনা এবং শুভঙ্কর মজুমদার ১০ আনা স্বর্ণ পিন্টু দাসের কাছে বন্ধক রাখার দাবি করেছেন। বন্ধকী স্বর্ণ ফেরত পাওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন তারাও। বিষয়টি নিয়ে সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফেরদৌস বলেন, পিন্টু দাস সপরিবারে আত্মগোপনে থাকলে খুঁজে পাওয়া কঠিন। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকেও কোনো নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়নি। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ বলেন, পিন্টু দাসসহ তাঁর পরিবারের ৪ সদস্যকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানতে পেরেছি। তাঁর কাছে বন্ধক রাখা স্বর্ণ অনেকে তা ফেরত পাচ্ছেন না। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।

সপরিবারে ‘নিখোঁজ’ ব্যবসায়ী, বন্ধকী স্বর্ণ আত্মসাতের অভিযোগ

মেঘনায় জেলের জালে ১৬ কেজির কোরাল, ২৪ হাজার টাকায় বিক্রি

ভোলার মনপুরায় মেঘনা নদীতে জেলের জালে ধরা পড়েছে ১৬ কেজি ওজনের একটি কোরাল মাছ। মাছটি প্রতি কেজি ১ হাজার ৫০০ টাকা দরে মোট ২৪ হাজার টাকায় নিলামে বিক্রি হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার ৫ নম্বর কলাতলী ইউনিয়নের ডালচর মৎস্যঘাটে জোবায়ের হাসান রাজিব চৌধুরীর মৎস্য আড়তে মাছটি বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন জেলে কামাল মাঝি। পরে নিলামে ২৪ হাজার টাকায় কোরাল মাছটি কিনে নেন মৎস্য ব্যবসায়ী জুবায়ের হাসান রাজিব চৌধুরী। জেলে কামাল মাঝি জানান, মঙ্গলবার মেঘনায় জাল ফেলে মাছ শিকারের সময় অন্যান্য ছোট আকারের ইলিশের সঙ্গে বিশাল আকৃতির কোরাল মাছটি ধরা পড়ে। পরে অন্যান্য মাছের সঙ্গে কোরাল মাছটিও মৎস্য আড়তে নিয়ে নিলামে বিক্রি করা হয়। মৎস্য ব্যবসায়ী শামীম তালুকদার জানান, তিনি ছাড়াও কয়েকজন ব্যবসায়ী নিলামে অংশ নেন। পরে রাজিব চৌধুরীর মৎস্য আড়তের কর্মচারী মাছটি কিনে নেন। মাছটি লঞ্চযোগে ঢাকার কারওয়ান বাজারে পাঠানো হবে। সেখানে আরও বেশি দামে মাছটি বিক্রি করা যাবে বলে আশা করছেন তিনি। এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু বলেন, বর্তমানে মেঘনায় ইলিশের সংকট চলছে। এর মধ্যে বড় আকৃতির কোরাল বা পাঙ্গাশ মাছ জেলের জালে ধরা পড়লে তা জেলেদের জন্য কিছুটা স্বস্তির। সামনে ইলিশের পাশাপাশি আরও বড় আকৃতির অন্যান্য মাছ ধরা পড়বে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

মেঘনায় জেলের জালে ১৬ কেজির কোরাল, ২৪ হাজার টাকায় বিক্রি

নামের মিলে নবজাতক বদল, তোপের মুখে মমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক পরিবারের নবজাতককে ভুল করে অন্য পরিবারের কাছে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি ধরা পড়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শিশুটিকে ফিরিয়ে আনে। মঙ্গলবার সকালে দুই পরিবারের কাছে নিজ নিজ নবজাতক বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার জগন্নাথবাড়ি এলাকার নাদিরা ও মাসুদ ইসলাম দম্পতির কন্যাসন্তানের জন্ম হয় গত বৃহস্পতিবার। জামালপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে জন্মের পর শিশুটির শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে গত শনিবার তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে সোমবার বিকেল ৫টার দিকে শিশুটিকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।অন্যদিকে, ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার পুম্বাইল গ্রামের আবু রায়হান ও নাদিরা দম্পতির কন্যাসন্তানেরও জন্ম হয় গত বৃহস্পতিবার। ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাভাবিক প্রসবের পর শিশুটির শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এনআইসিইউতে ভর্তি করা হয়।গৌরীপুরের পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, সোমবার বেলা ১১টার দিকে শিশুটির মা এনআইসিইউতে গিয়ে সন্তানকে দুধ পান করান। এরপর শিশুকে ছাড়পত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। তবে এনআইসিইউতে ভর্তির সময় দেওয়া টোকেন পেতে দেরি হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা সন্ধ্যা ৬টার দিকে নবজাতককে নিতে যান।এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা তাঁদের কাছে একটি নবজাতক হস্তান্তরের চেষ্টা করেন। শিশুটিকে দেখে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। আবু রায়হান বলেন, এটি তাঁদের সন্তান নয় এবং শিশুটির চেহারার সঙ্গে তাঁদের সন্তানের মিল নেই। এরপর শিশুটির পরিচয় যাচাই করতে বলা হয়।পরিবারের অভিযোগ, শুরুতে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে তাঁরা সন্তোষজনক সাড়া পাননি। পরে তাঁরা বিষয়টি নিয়ে উত্তেজিত হয়ে উঠলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যাচাই শুরু করে। কয়েক ঘণ্টা পর জানা যায়, গৌরীপুরের পরিবারের নবজাতককে ভুল করে সরিষাবাড়ীর পরিবারের কাছে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। ততক্ষণে ওই পরিবার শিশুটিকে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে চলে যায়।পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জামালপুরের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। রাত ৩টার দিকে হাসপাতালের লোকজন নিজেদের উদ্যোগে শিশুটিকে নিয়ে হাসপাতালে ফিরে আসেন। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে দুই পরিবারের কাছে তাঁদের নিজ নিজ সন্তান বুঝিয়ে দেওয়া হয়।গৌরীপুরের পরিবারের পক্ষ থেকে রুহুল আমিন বলেন, নবজাতকের পায়ে থাকা টোকেনে বাবা-মায়ের নাম ও সিরিয়াল নম্বর লেখা থাকে। মায়ের নাম একই হলেও দুই পরিবারের বাবার নাম আলাদা। এরপরও কীভাবে এমন ভুল হলো, তা খতিয়ে দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জামালপুরের নবজাতকের বাবা মাসুদ ইসলাম বলেন, তাঁরা নিজেদের সন্তানই তাঁদের কাছে দেওয়া হয়েছে বলে ধরে নিয়েছিলেন। পরে রাতে হাসপাতালের লোকজন এসে শিশুটিকে নিয়ে যান। তাঁর সন্তানকে আনতে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে গেছেন বলে জানান তিনি।এ বিষয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. জাকিউল ইসলাম বলেন, দুই নবজাতকের মায়ের নাম একই হওয়ায় ভুলটি হয়েছিল। বিষয়টি ধরা পড়ার পর রাতেই নবজাতককে ফিরিয়ে আনা হয়। পরে মঙ্গলবার সকালে প্রকৃত নবজাতককে নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নামের মিলে নবজাতক বদল, তোপের মুখে মমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ

নিখোঁজের ১২ ঘণ্টা পর পুকুরে মিলল দুই শিশুর মরদেহ

শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে নিখোঁজের প্রায় ১২ ঘণ্টা পর রোহান ও ইসমাইল নামে দুই শিশুর মরদেহ পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।সোমবার (২৪ আগস্ট) ভোরে উপজেলার কলসপাড় ইউনিয়নের মধ্যনাকশী গ্রামের একটি পুকুরে তাদের মরদেহ ভেসে ওঠে।নিহত রোহান মধ্যনাকশী গ্রামের হযরত আলীর ছেলে। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। একই গ্রামের ওবায়দুল আসলামের ছেলে ইসমাইল স্থানীয় বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত।পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে দুই শিশু বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর তারা আর বাড়িতে ফেরেনি। দীর্ঘ সময় পার হলেও ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় তাদের খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।সোমবার ভোরে গ্রামের একটি বড় পুকুরে দুই শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে স্বজনেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করেন।এলাকাবাসী জানান, রোহান ও ইসমাইল মাঝেমধ্যে স্থানীয় জলাশয়ে মাছ ধরতে নামত। তবে তারা ভালোভাবে সাঁতার জানত না। নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান বলেন, পুকুর থেকে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধারের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা করা হয়েছে।

নিখোঁজের ১২ ঘণ্টা পর পুকুরে মিলল দুই শিশুর মরদেহ

গফরগাঁওয়ে কমিউটার ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল, সোয়া দুই ঘণ্টা পর চলাচল শুরু

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে দেওয়ানগঞ্জগামী কমিউটার ট্রেনের ইঞ্জিনে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় প্রায় সোয়া দুই ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন ট্রেনটির যাত্রীরা। শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটের দিকে গফরগাঁও রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছানোর পর ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা দেওয়ানগঞ্জ কমিউটার ট্রেনটির ইঞ্জিনে ত্রুটি দেখা দেয়। পরে চালক, পরিচালক ও রেলওয়ের কর্মীরা ত্রুটি মেরামতের কাজ করেন। সকাল ১০টা ৪৮ মিনিটে ট্রেনটি পুনরায় ময়মনসিংহের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকতার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গফরগাঁও স্টেশনে পৌঁছানোর পর ট্রেনটির ইঞ্জিনে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। পরে ত্রুটি মেরামত শেষে সকাল ১০টা ৪৮ মিনিটে ট্রেনটির চলাচল স্বাভাবিক হয়। ওসি আরও বলেন, ইঞ্জিন বিকলের কারণে গফরগাঁও স্টেশনের ২ নম্বর লাইন কিছু সময়ের জন্য বন্ধ ছিল। তবে ১ নম্বর লাইন দিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে অন্যান্য ট্রেনের চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়। এদিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে প্রায়ই ইঞ্জিন বিকলের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। তাঁদের অভিযোগ, ট্রেনের ইঞ্জিনে ত্রুটির কারণে মাঝপথে দীর্ঘ সময় আটকে থেকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এ ধরনের ঘটনা কমাতে ট্রেনের ইঞ্জিন ও যন্ত্রাংশের কার্যকর রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

গফরগাঁওয়ে কমিউটার ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল, সোয়া দুই ঘণ্টা পর চলাচল শুরু

দোকানি নেই, মানুষকে বিশ্বাস করেই ৪ বছর ধরে চলছে যে দোকান

দোকানের ঝাঁপ খোলা। সামনে সাজানো চা, পান, বিস্কুট, কেকসহ নানা পণ্য। পাশে চুলার ওপর চায়ের কেটলি। দোকানে প্রয়োজনীয় সবকিছু থাকলেও নেই কোনো দোকানি। চা খেতে বা পণ্য কিনতে আসা মানুষই এখানে ক্রেতা, আবার তাঁরাই বিক্রেতা। নিজের হাতে চা বানিয়ে খাচ্ছেন, পণ্য নিচ্ছেন এবং দাম হিসাব করে ক্যাশবাক্সে রেখে চলে যাচ্ছেন। কেউ প্রয়োজন হলে বাকিও নিচ্ছেন, পরে এসে পরিশোধ করছেন।এভাবেই ব্যতিক্রমী এই দোকানটি চলছে টানা চার বছর ধরে। দোকানটির অবস্থান ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার চারাতলা বাজারে।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দোকানে বসে কয়েক কাপ চা তৈরি করছেন বৃদ্ধ হারুনুর রশিদ। পাশে বেঞ্চে বসে আছেন আরও কয়েকজন। প্রথম দেখায় মনে হতে পারে, তিনিই দোকানি। তবে কিছুক্ষণ পর বোঝা গেল, তিনিও অন্যদের মতোই একজন ক্রেতা। নিজের জন্য চা বানানোর পাশাপাশি সঙ্গে থাকা অন্যদের জন্যও চা তৈরি করছেন তিনি। চা পান শেষে প্রত্যেকে নিজের বিল হিসাব করে টাকা রেখে চলে যাচ্ছেন।হারুনুর রশিদ বলেন, ‘দোকানে বেশির ভাগ সময় বিক্রেতা থাকেন না। চা খেতে ইচ্ছা করলে এসে নিজেই বানিয়ে নিই। সঙ্গে কেউ থাকলে তার জন্যও বানিয়ে দিই। খাওয়া শেষে যত টাকা বিল হয়, দোকানে রেখে চলে যাই। এই দোকানে কেউ কাউকে পাহারা দেয় না। কিন্তু সবাই নিজের দায়িত্ব বুঝে নেয়।’শুধু হারুনুর রশিদ নন, দোকানে আসা প্রায় সব ক্রেতাই একই নিয়ম মেনে চলেন। আফাঙ্গীর হোসেন নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘যাঁর যখন প্রয়োজন, তখন তিনিই দোকানদার। পণ্য নিয়ে বা চা খেয়ে দাম রেখে চলে যাচ্ছেন। টাকা না থাকলে পরে এসে পরিশোধ করছেন। চার বছর ধরে এভাবেই চলছে। পণ্য নিয়ে দাম না দেওয়ার ঘটনা সাধারণত ঘটে না। মানুষের সততার ওপরই দোকানটি চলছে।’মানুষের ওপর বিশ্বাস রেখেই শুরুএই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের পেছনে রয়েছেন পাশের ভালকি গ্রামের মৃত মুরাদ আলী মণ্ডলের ছেলে সমসের আলী। তিনিই দোকানটির মালিক।প্রতিদিন সকালে দোকান খুলে চা, বিস্কুট, কেকসহ প্রয়োজনীয় পণ্য সাজিয়ে রাখেন তিনি। চুলায় কেটলি বসিয়ে আগুন জ্বালিয়ে নিজের অন্য কাজে চলে যান। সময় পেলে দুপুরে এসে দোকানের অবস্থা দেখে যান। রাতে ফিরে সারা দিনের বেচাকেনার হিসাব মিলিয়ে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরেন।সমসের আলী জানান, একসময় তিনি চারাতলা বাজারে অনেকটা সময় কাটাতেন। তখন অন্যের দোকানে বসে না থেকে নিজেই একটি দোকান দেওয়ার চিন্তা করেন। কিন্তু অন্য ব্যবসার কারণে সারাক্ষণ দোকানে বসে থাকা তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না। কর্মচারী রাখার সামর্থ্য বা ইচ্ছাও ছিল না। শেষ পর্যন্ত মানুষের ওপর আস্থা রাখার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।সমসের আলী বলেন, ‘সকালে এসে দোকান খুলে পণ্য সাজিয়ে রাখি। চুলা জ্বেলে দিয়ে চলে যাই। যার যখন প্রয়োজন হয়, নিজের মতো করে চা-পান বানিয়ে খান। প্রতিদিন ৪০০-৫০০ টাকা লাভ হয়। মানুষের সততার ওপর ভরসা রেখেই দোকানটি চলছে। মানুষের ওপর এতটা ভরসা করেও কখনো ঠকতে হয়নি।’বিশ্বাস আর সততার গল্পসদর উপজেলার সাধুহাটি এলাকা থেকে চারাতলা বাজারে বেড়াতে আসা আব্দুল খালেকও দোকানটির এই ব্যবস্থা দেখে বিস্মিত। তিনি বলেন, ‘এমন ঘটনা খুবই বিরল। মানুষের প্রতি দোকানির বিশ্বাস আর মানুষের সততা আমাকে মুগ্ধ করেছে। মানুষ সৎ হলে জীবন কত সহজ আর সুন্দর হতে পারে, এখানে এসে সেটাই বুঝলাম।’চার বছর ধরে দোকানটি চলছে কোনো পাহারাদার বা বিক্রেতা ছাড়াই। চায়ের কাপে ধোঁয়া উঠছে, বসছে মানুষের আড্ডা; আর প্রতিদিনের লেনদেনে নীরবে টিকে আছে পারস্পরিক বিশ্বাস ও সততার এক ব্যতিক্রমী গল্প।

দোকানি নেই, মানুষকে বিশ্বাস করেই ৪ বছর ধরে চলছে যে দোকান