গোপালগঞ্জে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে ফকিরকান্দি ও ঘোষেরচর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকালে গোপালগঞ্জ শহরতলির ঘোষেরচর এলাকার একটি মাঠে দুই গ্রামের মধ্যে ফুটবল খেলা চলাকালে বিরোধের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। এ সময় ফকিরকান্দির কয়েকজনের বিরুদ্ধে ঘোষেরচরের বাসিন্দা হান্নান মোল্লাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করার অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার পর দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সন্ধ্যার পর টর্চের আলো জ্বালিয়ে ও মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে দুই পক্ষের লোকজন জড়ো হন। পরে তারা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এ সময় পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। পরিস্থিতি সামাল দিতে শতাধিক পুলিশ সদস্য কাজ করেন বলে জানা গেছে। গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে নতুন করে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় জৈনপুর পরিবহনের বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার এক নারী যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অটোরিকশার চালকসহ আরও চার যাত্রী আহত হয়েছেন। শনিবার সকালে উপজেলার- নারায়ণপুর সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সাদিয়া আক্তার (২৩) খাদেরগাঁও ইউনিয়নের গিলাতলী গাজী বাড়ির প্রবাসী ইসমাইল হোসেন গাজীর স্ত্রী। তার তিন বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। আহতরা হলেন অটোরিকশাচালক মো. ফারুক (৪২), যাত্রী মো. জিলানী (৩২), হোসনে আরা (৪৫) ও পারভীন বেগম (৩৭)। তাদের সবার বাড়ি গিলাতলী গ্রামে। তারা পরস্পর আত্মীয়। স্থানীয়রা জানান, ফজরের নামাজের পর সাদিয়া আক্তারসহ চার যাত্রী অটোরিকশায় করে নাগদা গ্রামের এক আত্মীয়ের জানাজায় অংশ নিতে যাচ্ছিলেন। নাগদা বড় বাড়ির সামনে অটোরিকশাটি থামানো অবস্থায় চাঁদপুর থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী জৈনপুর পরিবহনের একটি বাস পেছন থেকে সেটিকে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে গিয়ে চালক ও যাত্রীরা আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে সাদিয়া আক্তারকে মৃত অবস্থায় নেওয়া হয়। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নুরে আলম তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে পারভীন বেগম, হোসনে আরা ও জিলানীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মতলব দক্ষিণ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দেলোয়ার হোসেন বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। হাসপাতালে নিহত নারীর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান মানিক বলেন, দুর্ঘটনার পর জৈনপুর পরিবহনের বাসের চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছেন। বাস ও অটোরিকশা পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাস্থলে পুলিশ অবস্থান নিয়েছে।
মতলব দক্ষিণ (চাঁদপুর) সংবাদদাতা চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে বাসের চাপায় সাদিয়া আক্তার (২৬) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ইজিবাইক চালকসহ গুরুতর আহত হয়েছেন আরো চারজন। দুর্ঘটনার পর বাসচালক কাউসারকে আটক করা হয়েছে এবং ওই সড়কে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। শনিবার সকাল ৬টার দিকে মতলব-গৌরীপুর-পেন্নাই সড়কের নাগদা বড় বাড়ির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন উপজেলার নায়েরগাঁও এলাকার ইজিবাইক চালক রোমান হোসেন (৪৫), খাদেরগাঁও ইউনিয়নের ঘিলাতলী গ্রামের গাজী বাড়ির খোরশেদা বেগম (৫৮), জিলানী (২৮) ও পারভীন (৪০)। অন্যদিকে, নিহত সাদিয়া তাদের স্বজন। তার স্বামী সৌদি প্রবাসী ইসমাইল হোসেন। তাদের চার বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। নিহত ইজিবাইক চালক রোমান হোসেন নায়েরগাঁও এলাকার বাসিন্দা। তিনি মতলব পৌর শহরে ভাড়া বাসায় থাকতেন। নিহতের স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শী মো: ইয়াছিন মিয়া জানান, তার জেঠাতো ভাই রহুল আমিনের মা রাজিয়া (৫০) শুক্রবার রাত ৭টার দিকে অসুস্থতায় মারা যান। আজ শনিবার সকাল ৮টায় তার জানাজা ও দাফনের সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। তিনি বলেন, সকাল ৬টার দিকে তারা বাড়ির সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা জৈনপুর পরিবহনের একটি বাস ইজিবাইকটিকে চাপা দেয়। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মতলব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। এদিকে, দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা বাসচালক কাউসারকে আটক করে বড় বাড়ির মসজিদসংলগ্ন কাছারি ঘরে রাখে। পরে মতলব দক্ষিণ থানার উপ-পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন তাকে আটক করেন এবং বাসটি জব্দ করে। বাসচালক কাউসারের বাড়ি পৌরসভার ঢাকিরগাঁও এলাকায়। দুর্ঘটনার পর থেকে মতলব-গৌরীপুর-পেন্নাই সড়কে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাফিজুর রহমান মানিক বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বাসচালককে আটক করা হয়েছে এবং বাসটি জব্দ করা হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ঢাকা-ভাঙ্গা হাইওয়ে এক্সপ্রেসওয়ের মালিগ্রাম এলাকায় অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় সালাউদ্দিন মোল্লা (২২) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলে থাকা আরও দুই যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার সন্ধ্যায় বৃষ্টির মধ্যে হাইওয়ে এক্সপ্রেসওয়ের ঢাকাগামী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সালাউদ্দিন মোল্লা নগরকান্দা উপজেলার কুমারদিয়া গ্রামের আদম মোল্লার ছেলে। আহত দুজন হলেন একই এলাকার সাব্বির শেখ (১৮) ও তামিম হোসেন (২৮)। তারা তিনজন বন্ধু ছিলেন এবং একই মোটরসাইকেলে করে ঢাকার দিকে যাচ্ছিলেন। শিবচর হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মামুন মিয়া জানান, মোটরসাইকেলে করে তিন বন্ধু ভাঙ্গা হাইওয়ে এক্সপ্রেসওয়ের ঢাকাগামী লেনে যাচ্ছিলেন। এ সময় পেছন থেকে দ্রুতগতির একটি অজ্ঞাত গাড়ি তাদের মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে তাদের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে আহত দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নিহতের মরদেহ ও দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেছি। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে। দুর্ঘটনার জন্য দায়ী অজ্ঞাত গাড়িটি শনাক্তে তদন্ত চলছে।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।