রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ
Topic Ads 1
গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে, কারখানা ও পরিবহন খাতে স্বস্তি

গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে, কারখানা ও পরিবহন খাতে স্বস্তি

নারায়ণগঞ্জে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ায় শিল্পকারখানা ও গণপরিবহন খাতে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। এক মাসের বেশি সময় গ্যাস সংকটে ভোগার পর গতকাল বুধবার থেকে গ্যাসের চাপ কিছুটা বাড়ায় কারখানাগুলোতে উৎপাদন বেড়েছে। তবে ব্যবসায়ীরা শতভাগ উৎপাদনের জন্য গ্যাসের চাপ আরও বাড়ানো এবং সরবরাহ স্থিতিশীল রাখার দাবি জানিয়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত ৫০ পিএসআই লাইনে এত দিন গ্যাসের চাপ ছিল ৩ থেকে ৪ পিএসআই। এতে কারখানাগুলোর উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসে। একই সঙ্গে খরচ ও অপচয়ের পরিমাণ বাড়ে। গ্যাসের চাপ কম থাকায় প্রতিষ্ঠান পরিচালকেরা সব মেশিন চালাতে পারতেন না। শ্রমিকদের অলস বসিয়ে রেখেই কারখানার কার্যক্রম চালাতে হতো। ফলে মালিকদের লোকসানের পরিমাণ বাড়ছিল। লোকসান ঠেকাতে অনেক কারখানা শ্রমিকদের ছুটি দিয়ে দিতে বাধ্য হয়। পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিলেন ব্যবসায়ীরা। গ্যাস সংকট মোকাবিলায় ব্যবসায়ীদের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার দাবিও জানিয়েছিলেন বিকেএমইএর প্রেসিডেন্ট। সরকারের পক্ষ থেকে গত সোমবার বলা হয়, মঙ্গলবার গ্যাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। তবে মঙ্গলবার পুরোপুরি স্বাভাবিক না হলেও বুধবার থেকে গ্যাসের চাপ বাড়তে শুরু করে। এতে কারখানাগুলোতে উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। ফতুল্লা ডাইং অ্যান্ড ক্যালেন্ডারিং মিলসের প্রধান প্রকৌশলী ফজলুল হক তুষার বলেন, ‘আমাদের এত দিন উৎপাদন হয়েছে ৫০ শতাংশ। গ্যাসের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ উৎপাদন করা যাচ্ছে। বর্তমানে আমরা মেইন লাইনে ৮ পিএসআই চাপের গ্যাস পাচ্ছি। এটি যদি ১৫ পিএসআই পর্যন্ত উন্নীত হয়, তাহলে শতভাগ উৎপাদনে যাওয়া সম্ভব। আমাদের প্রতিদিন ১৮ টন কাপড় প্রস্তুত করার সক্ষমতা রয়েছে। এত দিন ৮ থেকে ৯ টন কাপড় প্রস্তুত হতো। আজ আমরা ১৩ টনের মতো কাপড় প্রস্তুত করতে পেরেছি।’ গ্যাসের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বস্তি ফিরেছে পরিবহন খাতেও। এত দিন পাম্পে গ্যাস থাকলেও চাপ কম থাকায় চালকেরা পর্যাপ্ত গ্যাস নিতে পারতেন না। অল্প পরিমাণ গ্যাস নিয়ে বারবার রিফুয়েলিংয়ের জন্য লাইনে দাঁড়াতে হতো। ফলে সময় অপচয় হতো বেশি, ভাড়া খাটতে পারত কম। গতকাল সকাল থেকে গ্যাসের চাপ বাড়ায় চালকেরা গাড়িতে বেশি পরিমাণ গ্যাস নিতে পেরেছেন। ফলে স্বস্তি নিয়ে গাড়ি চালাতে পেরেছেন তাঁরা। বিকেএমইএর পরিচালক মিনহাজুল হক বলেন, ‘গ্যাসের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় আমাদের কারখানাগুলোতে উৎপাদন বেড়েছে। তবে সেটা শতভাগ নয়। শতভাগ উৎপাদনের জন্য গ্যাসের চাপ আরও বাড়ানো এবং এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার অনুরোধ থাকবে সরকারের কাছে।’

গাজীপুরে প্রায় ৮০০ কারখানায় ৩ দিনের ছুটি, সড়কে ‘ঈদযাত্রার’ চাপ

গ্যাস সরবরাহ সংকট ও সরকারি ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করে গাজীপুরের প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ শিল্পকারখানায় টানা ৩ থেকে ৪ দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে ঢাকা–ময়মনসিংহ ও ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কে ঘরমুখো শ্রমিকদের ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গাজীপুরের মোট কারখানার প্রায় ২০ থেকে ২২ শতাংশ এ ছুটির আওতায় এসেছে। বুধবারের সরকারি ছুটির সঙ্গে বৃহস্পতিবার এবং সাপ্তাহিক শুক্র-শনিবার মিলিয়ে অনেক কারখানা টানা ছুটি দিয়েছে।বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, চান্দনা চৌরাস্তা, চন্দ্রা ত্রিমোড়, সফিপুর, কোনাবাড়ী ও মাওনা চৌরাস্তাসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘরমুখো শ্রমিকদের উপচে পড়া ভিড়। পরিবহন সংকটের কারণে অনেককে বৃষ্টির মধ্যেও যানবাহনের অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায়। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে স্থানীয় বাসগুলো দূরপাল্লার রুটে চলাচল শুরু করেছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও উঠেছে।গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ট্রাফিক) এসএম আশরাফুল আলম জানান, মঙ্গলবার বিকেল থেকে ঢাকা–টাঙ্গাইল ও ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। রাতভর যানজট অব্যাহত ছিল এবং বুধবার সকালেও চাপ বজায় ছিল।কোনাবাড়ী হাইওয়ে পুলিশের পরিদর্শক জাফর আলী বলেন, সরকারি ছুটির সঙ্গে অতিরিক্ত ছুটি মেলায় বিপুলসংখ্যক শ্রমিক গ্রামের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। এতে চন্দ্রা ত্রিমোড়সহ আশপাশের এলাকায় যান চলাচল ধীরগতির হয়ে পড়ে।শিল্পমালিকরা বলছেন, গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং সময়মতো রপ্তানি আদেশ সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেক কারখানায় উৎপাদন সীমিত করা হয়েছে, কোথাও কিছু উৎপাদন লাইন বন্ধ রাখা হয়েছে, আবার কোথাও রাতের শিফটে উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।গাজীপুরে তিতাস গ্যাসের সিস্টেম অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স শাখার ব্যবস্থাপক মো. সাইফুজ্জামান জানান, জেলায় দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট, অথচ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ প্রায় ৪৫ শতাংশ গ্যাস ঘাটতি রয়েছে, যার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে কালিয়াকৈর, শ্রীপুর ও টঙ্গী বিসিক শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে।গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের সুপার (এসপি) মো. আমজাদ হোসেন বলেন, গ্যাসের স্বল্প চাপ, কাঁচামালের সংকট, অর্ডার কমে যাওয়া এবং সরকারি ছুটির কারণে অনেক কারখানা অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণা করেছে। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের গাজীপুরের উপমহাপরিদর্শক প্রকৌশলী এম এম মামুন-অর-রশিদ জানান, কোনো কোনো কারখানা তিন দিনের, আবার কোনোটি চার দিনের ছুটি দিয়েছে। সব মিলিয়ে জেলার প্রায় ২০–২২ শতাংশ শিল্পকারখানা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গাজীপুরে প্রায় ৮০০ কারখানায় ৩ দিনের ছুটি, সড়কে ‘ঈদযাত্রার’ চাপ