বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ

গাজীপুরে প্রায় ৮০০ কারখানায় ৩ দিনের ছুটি, সড়কে ‘ঈদযাত্রার’ চাপ



গাজীপুরে প্রায় ৮০০ কারখানায় ৩ দিনের ছুটি, সড়কে ‘ঈদযাত্রার’ চাপ
মঙ্গলবার বিকেল থেকে বুধবার বিকেল পর্যন্ত ঢাকা—ময়মনসিংহ ও ঢাকা—টাঙ্গাইল মহাসড়কে বাড়ি ফেরা শ্রমিকদের ভিড় দেখা গেছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

গ্যাস সরবরাহ সংকট ও সরকারি ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করে গাজীপুরের প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ শিল্পকারখানায় টানা ৩ থেকে ৪ দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে ঢাকা–ময়মনসিংহ ও ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কে ঘরমুখো শ্রমিকদের ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গাজীপুরের মোট কারখানার প্রায় ২০ থেকে ২২ শতাংশ এ ছুটির আওতায় এসেছে। বুধবারের সরকারি ছুটির সঙ্গে বৃহস্পতিবার এবং সাপ্তাহিক শুক্র-শনিবার মিলিয়ে অনেক কারখানা টানা ছুটি দিয়েছে।

বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, চান্দনা চৌরাস্তা, চন্দ্রা ত্রিমোড়, সফিপুর, কোনাবাড়ী ও মাওনা চৌরাস্তাসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘরমুখো শ্রমিকদের উপচে পড়া ভিড়। পরিবহন সংকটের কারণে অনেককে বৃষ্টির মধ্যেও যানবাহনের অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায়। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে স্থানীয় বাসগুলো দূরপাল্লার রুটে চলাচল শুরু করেছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও উঠেছে।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ট্রাফিক) এসএম আশরাফুল আলম জানান, মঙ্গলবার বিকেল থেকে ঢাকা–টাঙ্গাইল ও ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। রাতভর যানজট অব্যাহত ছিল এবং বুধবার সকালেও চাপ বজায় ছিল।

কোনাবাড়ী হাইওয়ে পুলিশের পরিদর্শক জাফর আলী বলেন, সরকারি ছুটির সঙ্গে অতিরিক্ত ছুটি মেলায় বিপুলসংখ্যক শ্রমিক গ্রামের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। এতে চন্দ্রা ত্রিমোড়সহ আশপাশের এলাকায় যান চলাচল ধীরগতির হয়ে পড়ে।

শিল্পমালিকরা বলছেন, গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং সময়মতো রপ্তানি আদেশ সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেক কারখানায় উৎপাদন সীমিত করা হয়েছে, কোথাও কিছু উৎপাদন লাইন বন্ধ রাখা হয়েছে, আবার কোথাও রাতের শিফটে উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

গাজীপুরে তিতাস গ্যাসের সিস্টেম অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স শাখার ব্যবস্থাপক মো. সাইফুজ্জামান জানান, জেলায় দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট, অথচ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ প্রায় ৪৫ শতাংশ গ্যাস ঘাটতি রয়েছে, যার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে কালিয়াকৈর, শ্রীপুর ও টঙ্গী বিসিক শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের সুপার (এসপি) মো. আমজাদ হোসেন বলেন, গ্যাসের স্বল্প চাপ, কাঁচামালের সংকট, অর্ডার কমে যাওয়া এবং সরকারি ছুটির কারণে অনেক কারখানা অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণা করেছে।

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের গাজীপুরের উপমহাপরিদর্শক প্রকৌশলী এম এম মামুন-অর-রশিদ জানান, কোনো কোনো কারখানা তিন দিনের, আবার কোনোটি চার দিনের ছুটি দিয়েছে। সব মিলিয়ে জেলার প্রায় ২০–২২ শতাংশ শিল্পকারখানা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিষয় : জেলার খবর ঢাকা বিভাগ গাজীপুর ঢাকা জেলা সংকট গণপরিবহন পোশাক শ্রমিক গ্যাস

বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ

বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬


গাজীপুরে প্রায় ৮০০ কারখানায় ৩ দিনের ছুটি, সড়কে ‘ঈদযাত্রার’ চাপ

প্রকাশের তারিখ : ০৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

গ্যাস সরবরাহ সংকট ও সরকারি ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করে গাজীপুরের প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ শিল্পকারখানায় টানা ৩ থেকে ৪ দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে ঢাকা–ময়মনসিংহ ও ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কে ঘরমুখো শ্রমিকদের ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গাজীপুরের মোট কারখানার প্রায় ২০ থেকে ২২ শতাংশ এ ছুটির আওতায় এসেছে। বুধবারের সরকারি ছুটির সঙ্গে বৃহস্পতিবার এবং সাপ্তাহিক শুক্র-শনিবার মিলিয়ে অনেক কারখানা টানা ছুটি দিয়েছে।

বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, চান্দনা চৌরাস্তা, চন্দ্রা ত্রিমোড়, সফিপুর, কোনাবাড়ী ও মাওনা চৌরাস্তাসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘরমুখো শ্রমিকদের উপচে পড়া ভিড়। পরিবহন সংকটের কারণে অনেককে বৃষ্টির মধ্যেও যানবাহনের অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায়। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে স্থানীয় বাসগুলো দূরপাল্লার রুটে চলাচল শুরু করেছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও উঠেছে।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ট্রাফিক) এসএম আশরাফুল আলম জানান, মঙ্গলবার বিকেল থেকে ঢাকা–টাঙ্গাইল ও ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। রাতভর যানজট অব্যাহত ছিল এবং বুধবার সকালেও চাপ বজায় ছিল।

কোনাবাড়ী হাইওয়ে পুলিশের পরিদর্শক জাফর আলী বলেন, সরকারি ছুটির সঙ্গে অতিরিক্ত ছুটি মেলায় বিপুলসংখ্যক শ্রমিক গ্রামের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। এতে চন্দ্রা ত্রিমোড়সহ আশপাশের এলাকায় যান চলাচল ধীরগতির হয়ে পড়ে।

শিল্পমালিকরা বলছেন, গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং সময়মতো রপ্তানি আদেশ সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেক কারখানায় উৎপাদন সীমিত করা হয়েছে, কোথাও কিছু উৎপাদন লাইন বন্ধ রাখা হয়েছে, আবার কোথাও রাতের শিফটে উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

গাজীপুরে তিতাস গ্যাসের সিস্টেম অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স শাখার ব্যবস্থাপক মো. সাইফুজ্জামান জানান, জেলায় দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট, অথচ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ প্রায় ৪৫ শতাংশ গ্যাস ঘাটতি রয়েছে, যার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে কালিয়াকৈর, শ্রীপুর ও টঙ্গী বিসিক শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের সুপার (এসপি) মো. আমজাদ হোসেন বলেন, গ্যাসের স্বল্প চাপ, কাঁচামালের সংকট, অর্ডার কমে যাওয়া এবং সরকারি ছুটির কারণে অনেক কারখানা অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণা করেছে।

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের গাজীপুরের উপমহাপরিদর্শক প্রকৌশলী এম এম মামুন-অর-রশিদ জানান, কোনো কোনো কারখানা তিন দিনের, আবার কোনোটি চার দিনের ছুটি দিয়েছে। সব মিলিয়ে জেলার প্রায় ২০–২২ শতাংশ শিল্পকারখানা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।


বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ



কপিরাইট © ২০২৬ বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
গাজীপুরে প্রায় ৮০০ কারখানায় ৩ দিনের ছুটি, সড়কে ‘ঈদযাত্রার’ চাপ
0:00 0:00
1.0x