বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ
Topic Ads 1
বেতন বাড়ানোর দাবিতে গাজীপুরে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ

বেতন বাড়ানোর দাবিতে গাজীপুরে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক এলাকায় বেতন বাড়ানোর দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেছেন একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে শুরু হওয়া এই অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই দিকেই যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। সর্বশেষ বেলা সোয়া একটার দিকেও অবরোধ চলছিল। পুলিশ ও শ্রমিকদের সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল ১০টার দিকে কালিয়াকৈরের আকলিচালা এলাকায় এসেনশিয়াল ক্লোথিং লিমিটেড কারখানার সামনে বেতন বাড়ানোর দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকেরা। পরে তাঁরা মিছিল নিয়ে কালিয়াকৈর-ফুলবাড়িয়া আঞ্চলিক সড়কে অবস্থান নেন। এ সময় আশপাশের বিভিন্ন কারখানায় ছুটি দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন বিক্ষোভকারীরা। একপর্যায়ে কয়েকটি কারখানার ফটকে ইটপাটকেল ছোড়া হয়। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এলাকার ১৫টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বেলা ১১টার দিকে শ্রমিকেরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মৌচাক থেকে কোনাবাড়ী পর্যন্ত বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে অবরোধ করেন। মহাসড়ক বন্ধ থাকায় উভয় দিকে যান চলাচল বন্ধ আছে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শ্রমিক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বাজারে সবকিছুর দাম বেড়েছে, কিন্তু শ্রমিকের মূল্য বাড়েনি। আমাদের বেতন বাড়াতে হবে, না হলে আন্দোলন চালিয়ে যাব।’ শ্রমিক কারিমা বেগমের অভিযোগ, ‘বর্তমানে যে বেতন পাচ্ছি, তা দিয়ে সংসার চলছে না। খুবই হিমশিম খেতে হচ্ছে। স্বামী-স্ত্রী দুজনই চাকরি করি, তারপরও টানাটানি করে চলতে হয়। তাই বেতন বাড়ানোর দাবিতেই আমরা সড়কে নেমেছি।’ এ বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। কোনাবাড়ী এলাকায় বাসে আটকে থাকা যাত্রী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বাসে আটকা পড়ে আছি। কোনো দিকেই যানবাহন চলছে না। এমনিতেই প্রচণ্ড গরম, তার ওপর যানজটে একেবারে নাজেহাল অবস্থা।’ শিল্প পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে আছেন বলে জানান গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন। তিনি জানান, পুলিশ শ্রমিকদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

টঙ্গীতে শিশুকে যৌন নিপীড়নের মামলায় মাদ্রাসাশিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি মাদ্রাসার সাত বছর বয়সী এক কন্যাশিশুকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার মাদ্রাসাশিক্ষক মুসলিম আহম্মেদের (৩০) জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ রোববার গাজীপুরের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ওমর হায়দার শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। গাজীপুর মেট্রোপলিটন আদালতের পরিদর্শক আহসানুল্লাহ চৌধুরী তাঁর জামিন নামঞ্জুর করার বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেন। গ্রেপ্তার মুসলিম আহম্মেদ টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার একটি মাদ্রাসার শিক্ষক। ভুক্তভোগী শিশুটি ওই মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গত বুধবার ওই শিক্ষককে মারধর করে পুলিশে দেওয়া হয়। পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। গত বৃহস্পতিবার সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শিক্ষককে আদালতে পাঠানো হয়। একই দিন বিকেলে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। এদিকে অভিযোগের তদন্তে গতকাল শনিবার টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার ওই মাদ্রাসা পরিদর্শন করে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে পুলিশ। ঘটনার সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্যও নেওয়া হয়। তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুটিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান। তবে তদন্ত এখনো চলমান। ১৯ অক্টোবর মাদ্রাসার নিচতলার সিঁড়িতে প্রথম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন করা হয় বলে অভিযোগ করে তার পরিবার। ঘটনার পর শিশুটি মাদ্রাসায় যেতে চাইছিল না। পরিবারের সদস্যরা কারণ জানতে চাইলে প্রথমে সে কিছু বলেনি। পরে মা-বাবার জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনা খুলে বলে। এরপর ২১ অক্টোবর (বুধবার) দুপুরে শিশুটির স্বজনেরা মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজনও সেখানে জড়ো হন। এ সময় শিক্ষককে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে শিশুটির বাবা থানায় মামলা করেন। অন্যদিকে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ আলমাছ হোসেনের অভিযোগ, শিশুটির বাবার নেতৃত্বে ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি দল মাদ্রাসায় ঢুকে শিক্ষককে মারধর করেছে। তাঁকে বাঁচাতে গেলে অন্য শিক্ষক-শিক্ষিকা ও নিরাপত্তাকর্মীরাও মারধরের শিকার হন। এ সময় মাদ্রাসার কার্যালয় ভাঙচুর, ১৭ লাখ টাকা ও ৫টি মুঠোফোন লুটের অভিযোগ করেন তিনি। এ নিয়ে থানায় পৃথক অভিযোগ দিয়েছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। পরে সংবাদ সম্মেলন করে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন শিশুটির বাবা। তিনি দাবি করেন, মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাইতে তিনি মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন; কোনো ধরনের ‘মব’ সৃষ্টি করতে নয়। মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও ১৭ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। শিক্ষককে মারধরের ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। শিশুকে নিপীড়নের অভিযোগ এবং পরবর্তী সময়ে মাদ্রাসায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের তদন্ত করছে পুলিশ।

টঙ্গীতে শিশুকে যৌন নিপীড়নের মামলায় মাদ্রাসাশিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

চকবাজারে মনসুর খান প্লাজায় আগুন পুরোপুরি নিভল ৩৭ ঘণ্টা পর

দীর্ঘ ৩৭ ঘণ্টা পর রাজধানীর চকবাজারের চকবাজারে মনসুর খান প্লাজায় আগুন পুরোপুরি নিভেছে। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৬টায় আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণ সম্ভব হয়েছে বলে জানায় ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্স। ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (মিডিয়া) মো. শাহজাহান শিকদার সকালে এ তথ্য জানান। এর আগে ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল ৫টা ২ মিনিটে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। ৫টা ৪ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়। বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। প্রথমে পাঁচটি ইউনিট কাজ করলেও পরে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় ইউনিটের সংখ্যা বাড়ানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মনসুর খান প্লাজার দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ তলা পর্যন্ত দোকান ও পঞ্চম থেকে সপ্তম তলা পর্যন্ত গোডাউন রয়েছে। এসব গোডাউনে ভ্যানিটি ব্যাগ, প্রসাধনসামগ্রীসহ বিভিন্ন পণ্য মজুত করা হয়। অধিকাংশ গোডাউনই মালামালে পরিপূর্ণ ছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, আজ বিকেলে ভবনটির ষষ্ঠ তলার এক পাশে প্রথমে আগুন লাগে। আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর দোকান ও গোডাউনের মালিক-কর্মচারীরা সেগুলো বন্ধ করে বেরিয়ে যান। অধিকাংশ গোডাউন তালাবদ্ধ থাকায় ভেতরে প্রবেশ করে আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের বেগ পেতে হয়। গোডাউনগুলোতে বিপুল পরিমাণ মালামাল থাকায় আগুনের তীব্রতাও বাড়তে থাকে। তীব্রতার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগে পেতে হয় ফায়ার ফাইটারদের। ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে পরদিন গতকাল মঙ্গলবার ভোর ৫টা ২০ মিনিটে। তবে এর পরও মনসুর খান প্লাজায় পুড়ে যাওয়া গোডাউনগুলো থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। এ কারণে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নির্বাপণের কাজ চালিয়ে যেতে থাকেন। তাঁদের দীর্ঘ চেষ্টার পর ভোরবেলা মনসুর প্লাজায় আগুন পুরোপুরি নিভেছে।

চকবাজারে মনসুর খান প্লাজায় আগুন পুরোপুরি নিভল ৩৭ ঘণ্টা পর

‘আরিয়ানকে এনে দাও’—গাড়িচাপায় ৬ বছরের ছেলেকে হারিয়ে কাঁদছেন মা

সকালে খাবার খেয়ে বাড়ির উঠানে খেলছিল ছয় বছরের আরিয়ান খাঁ। খেলতে খেলতে একসময় সে চলে যায় বাড়ির পাশের সড়কে। সেখানেই ইট ভাঙার যন্ত্রবাহী একটি গাড়ির চাপায় প্রাণ যায় শিশুটির। আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে মাদারীপুর সদর উপজেলার নয়াচর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় আরিয়ানকে মাদারীপুরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ছেলের মৃত্যুর পর আরিয়ানের বাবা আরমান খাঁ বারবার ফিরে যাচ্ছেন সকালের সেই সময়টায়। তিনি বলেন, ‘আরিয়ান ঘরের মধ্যে দুষ্টুমি করছিল। খাবার খেয়ে বাড়ির উঠানে খেলছিল। হঠাৎ কী থেকে কী হয়ে গেল, বুঝলাম না।’ বাড়িতে এখন কান্না থামছে না। আরিয়ানের মা ‘আরিয়ানকে এনে দাও’ বলে শুধু কেঁদে চলেছেন। আরমান খাঁ বলেন, ‘ওর মা পাগলের মতো কান্নাকাটি করছে।’ পুলিশ, স্বজন ও স্থানীয় লোকজনের বর্ণনা অনুযায়ী, আজ সকাল সাড়ে আটটার দিকে মাদারীপুর পৌরসভার চরমুগরিয়া থেকে ইট ভাঙার একটি যন্ত্র নিয়ে কয়েকজন শ্রমিক সদর উপজেলার তেয়ারপুর ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রামের দিকে যাচ্ছিলেন। নয়াচর এলাকায় সড়ক পার হওয়ার সময় গাড়িটি শিশুটিকে চাপা দেয়। আরমান খাঁর অভিযোগ, গাড়িটির কোনো ব্রেক ছিল না। তিনি বলেন, ‘তবু এ ধরনের গাড়ি রাস্তা দিয়ে চলাচল করছে। এগুলো কেউ দেখার নেই। আমার ছেলের মৃত্যুর জন্য দায়ী চালকের বিচার চাই।’ মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, গাড়িটি থ্রি-হুইলার (তিন চাকার যান) ধরনের। এসব গাড়ির কোনো বৈধতা নেই। নিহত শিশুর পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে গাড়ি ও চালকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

‘আরিয়ানকে এনে দাও’—গাড়িচাপায় ৬ বছরের ছেলেকে হারিয়ে কাঁদছেন মা

কিশোরগঞ্জে এইচআইভিতে আক্রান্ত ২৬ জন, সরকারি হিসাবে শূন্য

কিশোরগঞ্জে ২০২০ থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত ২৬ জন এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ‘বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’ নামের একটি আন্তর্জাতিক সমাজসেবী সংস্থা। তাদের মধ্যে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছেন ৯ জন। তবে সরকারি স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাবে, কিশোরগঞ্জে এখন পর্যন্ত কোনো এইচআইভি রোগী শনাক্ত হয়নি। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, শনাক্ত ২৬ জনের মধ্যে ২২ জন ভৈরব কার্যালয়ের আওতাধীন ভৈরব, কুলিয়ারচর, বাজিতপুর, নিকলী, অষ্টগ্রাম ও কটিয়াদী উপজেলা থেকে। বাকি সাতটি উপজেলা নিয়ে গঠিত কিশোরগঞ্জ কার্যালয়ের আওতাধীন এলাকা থেকে শনাক্ত হয়েছেন চারজন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত শনাক্ত ৯ জনের মধ্যে ভৈরব কার্যালয়ের আওতাধীন উপজেলাগুলো থেকে পাঁচজন এবং কিশোরগঞ্জ কার্যালয়ের আওতাধীন এলাকা থেকে চারজন শনাক্ত হয়েছেন। স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, সংস্থাটি কিশোরগঞ্জে গোপনে এইচআইভি শনাক্তকরণ ও অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ২০১০ সাল থেকে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এ কার্যক্রম চলছে। তবে শনাক্ত ব্যক্তিদের পরিচয় বা তাঁদের বসবাসের নির্দিষ্ট এলাকা প্রকাশ করতে রাজি হয়নি সংস্থাটি। তারা জানিয়েছে, এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিদের পরিচয় অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গোপনীয় বিষয়। সেই গোপনীয়তা রক্ষা করেই তাদের পরীক্ষা করা হয়েছে। সংস্থাটির ম্যানেজার জানান, কারও শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হলে তাঁকে অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (এআরটি) চিকিৎসার আওতায় আনা হয়। বিনা মূল্যে এ চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত ফলোআপ করা হয়। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে এইচআইভি শনাক্তের কাজ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ভাসমান মানুষ, হিজড়া জনগোষ্ঠী, ট্রাকচালকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ, ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারী, যৌনকর্মী, পোশাকশ্রমিক ও বিদেশফেরত ব্যক্তিরা রয়েছেন। তবে শনাক্ত ২৬ জনের মধ্যে কোন জনগোষ্ঠীর কতজন রয়েছেন, সে তথ্য প্রকাশ করেনি সংস্থাটি। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন স্থানীয় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। সমন্বয় সমাজকল্যাণ সংস্থার সভাপতি আতা মোহাম্মদ ওবায়েদ বলেন, ‘এটি অবশ্যই উদ্বেগের বিষয়। কিশোরগঞ্জ হাওরবেষ্টিত জেলা। ভৈরবে গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে জংশন রয়েছে। এ ছাড়া সড়ক ও নৌপথেও মানুষের চলাচল রয়েছে। এসব কারণে এইচআইভি সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’ কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সানজিদ আহমেদ বলেন, ‘এইচআইভির বিস্তার শুধু স্বাস্থ্যগত সমস্যা নয়, এটি সামাজিক ও মানবিক সংকটও। সচেতনতার ঘাটতি, ভুল তথ্য, সামাজিক স্টিগমা ও ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ মানুষকে সংক্রমণের ঝুঁকিতে ফেলছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।’ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (মেডিসিন) আবিদুর রহমান ভূইয়া বলেন, অনিরাপদ যৌন সম্পর্ক, সংক্রমিত রক্ত গ্রহণ এবং ব্যবহৃত বা অপরিষ্কার সুচ ও সিরিঞ্জ ভাগাভাগির মাধ্যমে এইচআইভি ছড়াতে পারে। আক্রান্ত মায়ের মাধ্যমেও গর্ভাবস্থা, প্রসব বা বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় শিশুর সংক্রমণ হতে পারে। তিনি বলেন, প্রবাসফেরত জনগোষ্ঠীসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে নিয়মিত পরীক্ষা ও সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। তবে সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থায় এখন পর্যন্ত কিশোরগঞ্জে কোনো এইচআইভি রোগী শনাক্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন জেলার সিভিল সার্জন মোহাম্মদ সাইদুর রহমান। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে প্রতিটি উপজেলায় এইচআইভি শনাক্তের জন্য পর্যাপ্ত পরীক্ষার কিট সরবরাহ করা হচ্ছে। সরকারি ব্যবস্থায় এখন পর্যন্ত জেলায় কোনো এইচআইভি রোগী শনাক্ত হয়নি। সিভিল সার্জন আরও বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে এবং স্বাস্থ্য বিভাগের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

কিশোরগঞ্জে এইচআইভিতে আক্রান্ত ২৬ জন, সরকারি হিসাবে শূন্য

মোহাম্মদপুরে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপিকে ধরে দিল ছাত্রদল নেতা কর্মীরা

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার মো. আজিজুল হক আরজুকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন ছাত্রদলের নেতা কর্মীরা। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করে মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশ। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে লালমাটিয়ার মিনা বাজারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তার খন্দকার মো. আজিজুল হক আরজু (৬৯) পাবনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ওই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর বাড়ি পাবনার আমিনপুরের নাটিয়াবাড়ী এলাকায়। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মোহাম্মদপুরের লালমাটিয়ায় মিনা বাজারের সামনে স্থানীয় ছাত্রদলের নেতা কর্মীরা আরজুকে আটক করেন। পরে তাঁকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আটকের সময় ধস্তাধস্তিতে তিনি সামান্য আঘাত পান। মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশ জানিয়েছে, আরজু হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত। আটকের পর তাঁর শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে পুলিশি প্রহরায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁকে চিকিৎসকের কাছে পাঠানো হয়। ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার জুয়েল রানা আজকের পত্রিকাকে বলেন, স্থানীয় ছাত্রদলের নেতা কর্মীদের সহযোগিতায় আওয়ামী লীগের সাবেক এই সংসদ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলার বিষয়ে যাচাই-বাছাই ও তদন্ত শেষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মোহাম্মদপুরে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপিকে ধরে দিল ছাত্রদল নেতা কর্মীরা

রায়েরবাজারে ৬ গ্যারেজের চারটিতেই অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ, গ্রেপ্তার ১

রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থান এলাকায় ছয়টি অটোরিকশা গ্যারেজে অভিযান চালিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের ট্রাফিক ও ক্রাইম ইউনিট। চারটি গ্যারেজে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ থাকার অভিযোগে একটি গ্যারেজের মালিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ট্রাফিক তেজগাঁও বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গতকাল রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি ও অন্যান্য সংস্থা সমন্বিতভাবে অংশ নেয়। এ ছাড়া মোহাম্মদপুর ট্রাফিক জোনের ২০ জন সদস্য অভিযানে অংশ নেন। ছয়টি গ্যারেজের মধ্যে দুটি গ্যারেজে বিদ্যুৎ সংযোগ সঠিক পাওয়া গেলেও বাকি চারটিতে চুরি করে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে জানিয়েছে ট্রাফিক তেজগাঁও বিভাগ। রায়েরবাজার এলাকার গ্যারেজগুলোতে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে রবিউল নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। চোরাই বিদ্যুৎ লাইনের সরবরাহকারী হিসেবে অভিযুক্ত রবিউলকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে ডিএমপি।

রায়েরবাজারে ৬ গ্যারেজের চারটিতেই অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ, গ্রেপ্তার ১

রাজধানীর শাহবাগ এলাকা থেকে দুজনের মরদেহ উদ্ধার

রাজধানী শাহবাগ এলাকার পৃথক স্থান থেকে দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাদের বয়স হবে আনুমানিক ৬৫ ও ৪৫ বছর। তবে তাদের নাম-পরিচয় এখনো জানা যায়নি। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী দুজনই ভবঘুরে প্রকৃতির ছিলেন। আজ শনিবার দুপুর ১২টার দিকে জাতীয় ঈদগাহর প্রধান ফটকের সামনের ফুটপাত এবং কদম ফোয়ারা মোড় থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে শাহবাগ থানা-পুলিশ। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য দুটি মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তৌফিক হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, লোক মারফত খবর পেয়ে সুপ্রিম কোর্ট সংলগ্ন ফুটপাত ও জাতীয় ঈদগাহের পাশ থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এসআই তৌফিক হাসান আরও জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা গেছে যে, ওই দুই ব্যক্তি ভবঘুরে প্রকৃতির ছিল। অসুস্থতার কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিচয় শনাক্তে সিআইডি ফরেনসিক টিমকে খবর দেওয়া হয়েছে।

রাজধানীর শাহবাগ এলাকা থেকে দুজনের মরদেহ উদ্ধার

কেরানীগঞ্জে ১১ বছরের শিশুর বিয়ে, বর-কনের বাবা-ঘটকের কারাদণ্ড

ঢাকার কেরানীগঞ্জে ১১ বছরের এক শিশুর বাল্যবিবাহের ঘটনায় বর, মেয়ের বাবা ও ঘটককে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই ঘটনায় ছেলের বোনকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া বিয়ের সঙ্গে জড়িত কাজীকে আটকের চেষ্টা চলছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) কেরানীগঞ্জ উপজেলার শাক্তা ইউনিয়নের রামেরকান্দা ও কোলচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এসব দণ্ড দেওয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—বর ফরহাদ (১৯), মেয়ের বাবা আজিজুল হক (৪০) এবং ঘটক হাসান (৪৫)। এর মধ্যে বর ফরহাদকে এক মাসের কারাদণ্ড এবং আজিজুল হক ও ঘটক হাসানকে ১৫ দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ছেলের বোনকে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। জানা গেছে, প্রায় এক সপ্তাহ আগে রামেরকান্দা গ্রামের ভাড়াটে ১১ বছর বয়সী ওই মেয়ের সঙ্গে কোর্ট ম্যারেজ হয় কোলচর গ্রামের ভাড়াটে ফরহাদের। বাল্যবিবাহের বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে। মেয়ের বাবা আজিজুল হকের অভিযোগ, তার মেয়েকে ছেলের পরিবারের লোকজন জোর করে বিয়ে করেছে। এ বিয়েতে তাদের পরিবারের কোনো সম্মতি ছিল না এবং কোনো কাগজে তারা স্বাক্ষরও করেননি। তিনি বলেন, আমরা বিচার চাইতে এসে আসামি হলাম। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ছেলের মা বলেন, দুই পক্ষের সম্মতিতেই বিয়ে হয়েছে। তার দাবি, তারা বড় মেয়েকে দেখতে গিয়েছিলেন। পরে মেয়ের পরিবারের আগ্রহেই ছোট মেয়ের সঙ্গে তার ছেলের বিয়ে দেওয়া হয়। ছেলের মায়ের আরও অভিযোগ, তৃতীয় পক্ষের একজন তাদের কাছে দুই বোতল মদ চেয়েছিলেন। সেই আবদার পূরণ করতে না পারায় পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে ঝামেলা তৈরি হয়েছে। কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওমর ফারুক বলেন, বাল্যবিবাহ বন্ধে উপজেলা প্রশাসন বদ্ধপরিকর। বিষয়টি জানতে পেরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। বাল্যবিবাহ আয়োজন ও সহযোগিতার দায়ে বর, মেয়ের বাবা ও ঘটককে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কাজীকেও আটকের চেষ্টা চলছে।

কেরানীগঞ্জে ১১ বছরের শিশুর বিয়ে, বর-কনের বাবা-ঘটকের কারাদণ্ড

গত ১৭ বছরের শতভাগ বিদ্যুতায়নের সাইনবোর্ড ছিল শুভঙ্করের ফাঁকি: বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট আজকে তৈরি হয়নি, এটি দীর্ঘদিনের সমস্যা বলে মন্তব্য করেছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের কাছে বিদ্যুৎ ও গ্যাস পৌঁছে দিতে স্থায়ী সমাধানের পরিকল্পনা করছে। এ জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন। আজ সোমবার সকালে নরসিংদী জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জেলার আইনশৃঙ্খলা, উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম সমন্বয়ের লক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছর বিভিন্ন জায়গায় সাইনবোর্ড টানিয়ে বলা হতো, ওই এলাকা শতভাগ বিদ্যুতায়িত হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এসবই ছিল ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’। বিদ্যুতের স্থায়ী সমাধান না করে কুইক রেন্টালের নামে বিশেষ ব্যক্তিদের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। মাদক প্রসঙ্গে শরীফুল আলম বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সঙ্গে মাদক ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে। শুধু পুলিশের পক্ষে মাদক নির্মূল ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এ জন্য সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। অপরাধীদের সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অপরাধী যে পরিচয়ই বহন করুক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। দেশের অর্জনগুলো নষ্ট করতে একটি মহল ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাদের উদ্দেশ্য বুঝতে হবে। তারা যেন কোনো ধরনের অরাজকতা সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে। নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়ার সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী-১ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন, নরসিংদী-৩ (শিবপুর) আসনের সংসদ সদস্য মনজুর এলাহী, নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন বকুল এবং নরসিংদীর পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুক।

গত ১৭ বছরের শতভাগ বিদ্যুতায়নের সাইনবোর্ড ছিল শুভঙ্করের ফাঁকি: বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী

মেঘনায় জেলের জালে ১৬ কেজির কোরাল, ২৪ হাজার টাকায় বিক্রি

ভোলার মনপুরায় মেঘনা নদীতে জেলের জালে ধরা পড়েছে ১৬ কেজি ওজনের একটি কোরাল মাছ। মাছটি প্রতি কেজি ১ হাজার ৫০০ টাকা দরে মোট ২৪ হাজার টাকায় নিলামে বিক্রি হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার ৫ নম্বর কলাতলী ইউনিয়নের ডালচর মৎস্যঘাটে জোবায়ের হাসান রাজিব চৌধুরীর মৎস্য আড়তে মাছটি বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন জেলে কামাল মাঝি। পরে নিলামে ২৪ হাজার টাকায় কোরাল মাছটি কিনে নেন মৎস্য ব্যবসায়ী জুবায়ের হাসান রাজিব চৌধুরী। জেলে কামাল মাঝি জানান, মঙ্গলবার মেঘনায় জাল ফেলে মাছ শিকারের সময় অন্যান্য ছোট আকারের ইলিশের সঙ্গে বিশাল আকৃতির কোরাল মাছটি ধরা পড়ে। পরে অন্যান্য মাছের সঙ্গে কোরাল মাছটিও মৎস্য আড়তে নিয়ে নিলামে বিক্রি করা হয়। মৎস্য ব্যবসায়ী শামীম তালুকদার জানান, তিনি ছাড়াও কয়েকজন ব্যবসায়ী নিলামে অংশ নেন। পরে রাজিব চৌধুরীর মৎস্য আড়তের কর্মচারী মাছটি কিনে নেন। মাছটি লঞ্চযোগে ঢাকার কারওয়ান বাজারে পাঠানো হবে। সেখানে আরও বেশি দামে মাছটি বিক্রি করা যাবে বলে আশা করছেন তিনি। এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু বলেন, বর্তমানে মেঘনায় ইলিশের সংকট চলছে। এর মধ্যে বড় আকৃতির কোরাল বা পাঙ্গাশ মাছ জেলের জালে ধরা পড়লে তা জেলেদের জন্য কিছুটা স্বস্তির। সামনে ইলিশের পাশাপাশি আরও বড় আকৃতির অন্যান্য মাছ ধরা পড়বে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

মেঘনায় জেলের জালে ১৬ কেজির কোরাল, ২৪ হাজার টাকায় বিক্রি

ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪৬৪, মামলা ৫২

রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৬৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ৫২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।ডিএমপি জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের মধ্যে রমনা বিভাগে ৩৫ জন, লালবাগে ৪১, ওয়ারীতে ৫৩, মতিঝিলে ৪৮, তেজগাঁওয়ে ৫৮, মিরপুরে ১২৩, গুলশানে ৪৪, উত্তরা বিভাগে ৫৪ এবং গোয়েন্দা বিভাগে আটজন রয়েছেন।অভিযান চলাকালে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া একটি বিদেশি রিভলবার, দুটি সামুরাই, একটি ছুরি এবং একটি আংশিক ব্লেডও উদ্ধার করেছে পুলিশ।মাদকবিরোধী অভিযানে ৮৬ কেজি ৫৯০ গ্রাম গাঁজা, ৩ হাজার ৭৬৩টি ইয়াবা ও ৩ দশমিক ৩৫ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি এক বোতল বিদেশি মদ ও তিন বোতল দেশি মদ উদ্ধার করা হয়।এদিকে অভিযানে ট্রেনের টয়লেট থেকে চারটি স্টিলের ট্যাপ ও পাঁচটি প্লাস্টিকের ট্যাপ, ১০টি মোবাইল ফোন এবং ২১ দশমিক ২ লিটার ঔষধের কেমিক্যাল উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে একজন ভিকটিমকেও উদ্ধার করা হয়। ডিএমপি জানায়, রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় পরিচালিত নিয়মিত অভিযানে এসব অস্ত্র, মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানে সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তারের পর তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪৬৪, মামলা ৫২

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ৩ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে তিন হাজার ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—জামাল উদ্দিন (৩৯) ও মো. শাহীন আলম (৩৮)। পুলিশের দাবি, তারা চিহ্নিত মাদক কারবারি। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে ডিএমপি এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। সিটিটিসি সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিটিটিসির ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম বিভাগের একটি দল সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে আটক করে তল্লাশি চালানো হলে তাদের কাছ থেকে তিন হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে জামাল উদ্দিন ও শাহীন আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ৩ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২

৭ শিক্ষকের ১০ পরীক্ষার্থী, পাস করেনি একজনও

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দপুর উচ্চবিদ্যালয় থেকে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১০ শিক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি। তাদের সবাই ইংরেজি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। সাতজন শিক্ষক কর্মরত থাকা বিদ্যালয়টির এমন ফলাফলে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা।সোমবার (১০ আগস্ট) এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর বিদ্যালয়টির ফলাফল নিয়ে এ তথ্য জানা যায়। ১০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে আটজন নিয়মিত এবং দুজন অনিয়মিত পরীক্ষার্থী ছিল।অর্জুনা ইউনিয়নের দুর্গম চরাঞ্চলে অবস্থিত বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৭৩ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। তাদের পাঠদানে কর্মরত রয়েছেন সাতজন শিক্ষক।অভিভাবকদের অভিযোগ, সাতজন শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও ১০ পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হওয়া বিদ্যালয়টির পাঠদানের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এমন ফলাফল কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে তারা শিক্ষার মানোন্নয়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বলেছে, এবারের ফলাফল থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে ভালো ফল করার চেষ্টা করবে তারা। এজন্য নিয়মিত পড়াশোনার কোনো বিকল্প নেই বলেও তারা মনে করে।বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আশরাফ আলী বলেন, ‘এবারই প্রথম এমন ফলাফল হয়েছে। ভৌগোলিক কিছু সমস্যাও রয়েছে। সামনে যাতে ভালো ফলাফল করা যায়, সে জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’ভূঞাপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (চলতি দায়িত্ব) শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। জবাব পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

৭ শিক্ষকের ১০ পরীক্ষার্থী, পাস করেনি একজনও

পল্লবীতে আবার গুলিতে আহত দুজন, মাদক কারবারের জের ধারণা পুলিশের

রাজধানীর পল্লবীতে চলন্ত গাড়ি থেকে গুলি ছোড়ার ঘটনায় আলমগীর হোসেন (৪৫) ও জ্যোৎস্না নামের এক পথচারী নারী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত দুজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আলমগীরের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মাদক কারবারকে কেন্দ্র করে আলমগীরকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ল্যাংড়া রুবেল ও মুসলিম নামের দুজনের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশ বলছে, তারা এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি। তবে ঘটনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।শুক্রবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে পল্লবী থানার সেকশন-১১, ব্লক-বি, লাইন-২-এর ২৬ নম্বর বাসার সামনে ইমনের চায়ের দোকানের কাছে এ ঘটনা ঘটে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি চলন্ত প্রাইভেটকার থেকে আলমগীরকে লক্ষ্য করে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। এতে তাঁর মাথা, পেট ও নিতম্বসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলি লাগে। এ সময় পাশ দিয়ে যাওয়া জ্যোৎস্না নামের এক নারীও গুলিবিদ্ধ হন।পরে আলমগীরকে প্রথমে পল্লবীর ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।আলমগীরের চাচা মো. আশিক জানান, আলমগীরের বাসা মিরপুর সেকশন-১১-এর ৩ নম্বর রোডে। তিনি ঢাকার নবাবগঞ্জ থানা বিএনপির সদস্য এবং পেশায় মাছ ব্যবসায়ী।আশিকের দাবি, বিকেলে মিল্লাত ক্যাম্পের সামনে একটি প্রাইভেটকারে চারজন ব্যক্তি এসে আলমগীরকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে দ্রুত চলে যান। এতে আলমগীরের মাথার ডান পাশ, পেটের ডান পাশ ও নিতম্বে গুলি লাগে।ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, আলমগীর নামের একজন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে এসেছেন। তাঁর মাথাসহ শরীরের কয়েকটি স্থানে গুলি লেগেছে। জরুরি বিভাগে তাঁর চিকিৎসা চলছে।পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশীর বলেন, ‘একটি গাড়ি থেকে দুর্বৃত্তরা তিন রাউন্ড গুলি ছোড়ে। প্রাথমিকভাবে মাদক কারবারকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে হামলার পেছনের কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত চলছে।’ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোস্তাক সরকার বলেন, ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।এদিকে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পল্লবী ও আশপাশের এলাকায় আবারও গুলির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর আগে গত মাসে মিরপুরের কাফরুলে ভাড়াটে শ্যুটারদের গুলিতে যুবদল কর্মী ইউসুফ নিহত হন।ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ডিবি ও মিরপুর মডেল থানা-পুলিশ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আটজনকে গ্রেপ্তার করে।ডিবির তদন্ত অনুযায়ী, কাফরুল থানা যুবদলের সদস্যসচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার জন্য একই থানার স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে সিএনজি হাফিজ ভাড়াটে শ্যুটার নিয়োগ করেছিলেন। তবে ওই হামলায় বাবু বেঁচে গেলেও গুলিতে ইউসুফ নিহত হন। আহত হন সবজি বিক্রেতা নালাম সরদার ও মনির হোসেন।ডিবির ভাষ্য, হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ঢাকার বাইরে থেকে শ্যুটার এনে ২৫ লাখ টাকায় ভাড়া করা হয়েছিল। গ্রেপ্তার আটজনের মধ্যে চারজন সরাসরি গুলি চালান এবং বাকিরা সহযোগী হিসেবে কাজ করেন।

পল্লবীতে আবার গুলিতে আহত দুজন, মাদক কারবারের জের ধারণা পুলিশের

গাজীপুরে প্রায় ৮০০ কারখানায় ৩ দিনের ছুটি, সড়কে ‘ঈদযাত্রার’ চাপ

গ্যাস সরবরাহ সংকট ও সরকারি ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করে গাজীপুরের প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ শিল্পকারখানায় টানা ৩ থেকে ৪ দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে ঢাকা–ময়মনসিংহ ও ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কে ঘরমুখো শ্রমিকদের ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গাজীপুরের মোট কারখানার প্রায় ২০ থেকে ২২ শতাংশ এ ছুটির আওতায় এসেছে। বুধবারের সরকারি ছুটির সঙ্গে বৃহস্পতিবার এবং সাপ্তাহিক শুক্র-শনিবার মিলিয়ে অনেক কারখানা টানা ছুটি দিয়েছে।বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, চান্দনা চৌরাস্তা, চন্দ্রা ত্রিমোড়, সফিপুর, কোনাবাড়ী ও মাওনা চৌরাস্তাসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘরমুখো শ্রমিকদের উপচে পড়া ভিড়। পরিবহন সংকটের কারণে অনেককে বৃষ্টির মধ্যেও যানবাহনের অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায়। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে স্থানীয় বাসগুলো দূরপাল্লার রুটে চলাচল শুরু করেছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও উঠেছে।গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ট্রাফিক) এসএম আশরাফুল আলম জানান, মঙ্গলবার বিকেল থেকে ঢাকা–টাঙ্গাইল ও ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। রাতভর যানজট অব্যাহত ছিল এবং বুধবার সকালেও চাপ বজায় ছিল।কোনাবাড়ী হাইওয়ে পুলিশের পরিদর্শক জাফর আলী বলেন, সরকারি ছুটির সঙ্গে অতিরিক্ত ছুটি মেলায় বিপুলসংখ্যক শ্রমিক গ্রামের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। এতে চন্দ্রা ত্রিমোড়সহ আশপাশের এলাকায় যান চলাচল ধীরগতির হয়ে পড়ে।শিল্পমালিকরা বলছেন, গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং সময়মতো রপ্তানি আদেশ সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেক কারখানায় উৎপাদন সীমিত করা হয়েছে, কোথাও কিছু উৎপাদন লাইন বন্ধ রাখা হয়েছে, আবার কোথাও রাতের শিফটে উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।গাজীপুরে তিতাস গ্যাসের সিস্টেম অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স শাখার ব্যবস্থাপক মো. সাইফুজ্জামান জানান, জেলায় দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট, অথচ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ প্রায় ৪৫ শতাংশ গ্যাস ঘাটতি রয়েছে, যার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে কালিয়াকৈর, শ্রীপুর ও টঙ্গী বিসিক শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে।গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের সুপার (এসপি) মো. আমজাদ হোসেন বলেন, গ্যাসের স্বল্প চাপ, কাঁচামালের সংকট, অর্ডার কমে যাওয়া এবং সরকারি ছুটির কারণে অনেক কারখানা অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণা করেছে। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের গাজীপুরের উপমহাপরিদর্শক প্রকৌশলী এম এম মামুন-অর-রশিদ জানান, কোনো কোনো কারখানা তিন দিনের, আবার কোনোটি চার দিনের ছুটি দিয়েছে। সব মিলিয়ে জেলার প্রায় ২০–২২ শতাংশ শিল্পকারখানা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গাজীপুরে প্রায় ৮০০ কারখানায় ৩ দিনের ছুটি, সড়কে ‘ঈদযাত্রার’ চাপ