বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ
Topic Ads 1
বেতন বাড়ানোর দাবিতে গাজীপুরে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ

বেতন বাড়ানোর দাবিতে গাজীপুরে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক এলাকায় বেতন বাড়ানোর দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেছেন একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে শুরু হওয়া এই অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই দিকেই যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। সর্বশেষ বেলা সোয়া একটার দিকেও অবরোধ চলছিল। পুলিশ ও শ্রমিকদের সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল ১০টার দিকে কালিয়াকৈরের আকলিচালা এলাকায় এসেনশিয়াল ক্লোথিং লিমিটেড কারখানার সামনে বেতন বাড়ানোর দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকেরা। পরে তাঁরা মিছিল নিয়ে কালিয়াকৈর-ফুলবাড়িয়া আঞ্চলিক সড়কে অবস্থান নেন। এ সময় আশপাশের বিভিন্ন কারখানায় ছুটি দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন বিক্ষোভকারীরা। একপর্যায়ে কয়েকটি কারখানার ফটকে ইটপাটকেল ছোড়া হয়। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এলাকার ১৫টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বেলা ১১টার দিকে শ্রমিকেরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মৌচাক থেকে কোনাবাড়ী পর্যন্ত বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে অবরোধ করেন। মহাসড়ক বন্ধ থাকায় উভয় দিকে যান চলাচল বন্ধ আছে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শ্রমিক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বাজারে সবকিছুর দাম বেড়েছে, কিন্তু শ্রমিকের মূল্য বাড়েনি। আমাদের বেতন বাড়াতে হবে, না হলে আন্দোলন চালিয়ে যাব।’ শ্রমিক কারিমা বেগমের অভিযোগ, ‘বর্তমানে যে বেতন পাচ্ছি, তা দিয়ে সংসার চলছে না। খুবই হিমশিম খেতে হচ্ছে। স্বামী-স্ত্রী দুজনই চাকরি করি, তারপরও টানাটানি করে চলতে হয়। তাই বেতন বাড়ানোর দাবিতেই আমরা সড়কে নেমেছি।’ এ বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। কোনাবাড়ী এলাকায় বাসে আটকে থাকা যাত্রী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বাসে আটকা পড়ে আছি। কোনো দিকেই যানবাহন চলছে না। এমনিতেই প্রচণ্ড গরম, তার ওপর যানজটে একেবারে নাজেহাল অবস্থা।’ শিল্প পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে আছেন বলে জানান গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন। তিনি জানান, পুলিশ শ্রমিকদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

টঙ্গীতে শিশুকে যৌন নিপীড়নের মামলায় মাদ্রাসাশিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি মাদ্রাসার সাত বছর বয়সী এক কন্যাশিশুকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার মাদ্রাসাশিক্ষক মুসলিম আহম্মেদের (৩০) জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ রোববার গাজীপুরের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ওমর হায়দার শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। গাজীপুর মেট্রোপলিটন আদালতের পরিদর্শক আহসানুল্লাহ চৌধুরী তাঁর জামিন নামঞ্জুর করার বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেন। গ্রেপ্তার মুসলিম আহম্মেদ টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার একটি মাদ্রাসার শিক্ষক। ভুক্তভোগী শিশুটি ওই মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গত বুধবার ওই শিক্ষককে মারধর করে পুলিশে দেওয়া হয়। পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। গত বৃহস্পতিবার সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শিক্ষককে আদালতে পাঠানো হয়। একই দিন বিকেলে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। এদিকে অভিযোগের তদন্তে গতকাল শনিবার টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার ওই মাদ্রাসা পরিদর্শন করে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে পুলিশ। ঘটনার সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্যও নেওয়া হয়। তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুটিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান। তবে তদন্ত এখনো চলমান। ১৯ অক্টোবর মাদ্রাসার নিচতলার সিঁড়িতে প্রথম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন করা হয় বলে অভিযোগ করে তার পরিবার। ঘটনার পর শিশুটি মাদ্রাসায় যেতে চাইছিল না। পরিবারের সদস্যরা কারণ জানতে চাইলে প্রথমে সে কিছু বলেনি। পরে মা-বাবার জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনা খুলে বলে। এরপর ২১ অক্টোবর (বুধবার) দুপুরে শিশুটির স্বজনেরা মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজনও সেখানে জড়ো হন। এ সময় শিক্ষককে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে শিশুটির বাবা থানায় মামলা করেন। অন্যদিকে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ আলমাছ হোসেনের অভিযোগ, শিশুটির বাবার নেতৃত্বে ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি দল মাদ্রাসায় ঢুকে শিক্ষককে মারধর করেছে। তাঁকে বাঁচাতে গেলে অন্য শিক্ষক-শিক্ষিকা ও নিরাপত্তাকর্মীরাও মারধরের শিকার হন। এ সময় মাদ্রাসার কার্যালয় ভাঙচুর, ১৭ লাখ টাকা ও ৫টি মুঠোফোন লুটের অভিযোগ করেন তিনি। এ নিয়ে থানায় পৃথক অভিযোগ দিয়েছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। পরে সংবাদ সম্মেলন করে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন শিশুটির বাবা। তিনি দাবি করেন, মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাইতে তিনি মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন; কোনো ধরনের ‘মব’ সৃষ্টি করতে নয়। মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও ১৭ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। শিক্ষককে মারধরের ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। শিশুকে নিপীড়নের অভিযোগ এবং পরবর্তী সময়ে মাদ্রাসায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের তদন্ত করছে পুলিশ।

টঙ্গীতে শিশুকে যৌন নিপীড়নের মামলায় মাদ্রাসাশিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

গেটে জং ধরা তালা, কাঁটাতারের বেড়া সরিয়ে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শন করলেন এমপি

আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে স্বাস্থ্যখাতের এক করুণ চিত্র দেখতে পেয়েছেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এসএম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র হঠাৎ পরিদর্শনে যান তিনি।  এসময় তিনি গিয়ে দেখেন প্রধান ফটকে জং ধরা তালা ঝুলছে। তবে গেট বন্ধ থাকলেও ভেতরে গল্পগুজবে ব্যস্ত কয়েকজন মাঠকর্মী, এ সময়ে তাদের মাঠে থাকার কথা। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর পাশের ভাঙা দেয়ালের ওপর থেকে কাঁটাতারের বেড়া সরিয়ে সেই দেওয়াল টপকে ভেতরে ঢুকেন তিনি। এদিন আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে এ চিত্র দেখতে পান তিনি। এসময় ক্ষোভ প্রকাশ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানান। সাংবাদিকদের অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, গেটে লাগানো তালা দেখে মনে হলো, বহুদিন আগে লাগানো, ইদানিং খোলা হয়নি। তালায় জং ধরে গেছে। এখানে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত জনবলও নাই। প্রত্যন্ত এএ অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়াটা জরুরি। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকের পক্ষেই শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়া সহজ নয়। ঢাকায় গিয়েও চিকিৎসা নেওয়া তাদের জন্য কষ্টসাধ্য। তাই স্থানীয় পর্যায়েই এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সেবা কার্যক্রম সচল থাকা প্রয়োজন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জনবল সংকটের বিষয়টিও উঠে আসে তার পরিদর্শনে। তাৎক্ষণিকভাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। জানা যায়, এমপির পরিদর্শনের সময় স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির ভেতরে ছিলেন গাজীপুর ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক হাসান আল মামুন। তিনি স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির পার্শ্ববর্তী আজুগিরচালা গ্রামের বাসিন্দা। এ বিষয়ে হাসান আল মামুন বলেন, আমি এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কেউ নই। আমি পরিবার পরিকল্পনা সেক্টরের। তবে ওই কেন্দ্রে কোনো পদে কেউ না থাকায় আমরা পরিবার পরিকল্পনার কর্মীদের নিয়ে মিটিং করি, মাঝে মধ্যে বসি। এ কারণে আমার কাছে চাবি নিয়ে রেখেছি। ওই এলাকার বাসিন্দা হাবিবুল্লাহ হক বলেন, সাত থেকে আট বছর ধরে এভাবে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পড়ে আছে। কোনো ডাক্তার নেই, কর্মী নেই। ইউনিয়ন পর্যায়ের এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ মানুষ।  চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি আধুনিকায়ন ও ১০ শয্যায় উন্নীত করার জন্য আবেদন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আবেদনের ভিত্তিতে স্থানীয় এমপি অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু ডিও লেটার দিয়েছেন। ডিও লেটার দেওয়ার পর হঠাৎ স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শনে এসে তিনি গতকাল এমন দৃশ্য দেখতে পান।      

গেটে জং ধরা তালা, কাঁটাতারের বেড়া সরিয়ে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শন করলেন এমপি

মায়ের মরদেহ নিয়ে নির্ঘুম রাত, শেষমেশ উঠানেই কবর

গাজীপুরের শ্রীপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মৃত্যুর পরও এক নারীর মরদেহ দাফন করা নিয়ে চরম সংকট তৈরি হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, দাফনের জায়গা না থাকায় প্রায় এক দিন ধরে মরদেহটি বাড়ির বারান্দায় পড়ে ছিল। স্থানীয় মাতব্বর, রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কয়েক দফা সালিসে বসলেও কোনো সমাধান হয়নি। শেষ পর্যন্ত বসতঘরের দরজার পাশের উঠানেই মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন স্বজনরা।মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে শ্রীপুর উপজেলার ২ নম্বর মাওনা ইউনিয়নের আক্তাপাড়া গ্রামে। মৃত নারীর নাম শ্রীমতি মেনোকা (৬০)। তিনি মান্দাই জনগোষ্ঠীর অনুসারী এবং আক্তাপাড়া গ্রামের শ্রী গোপালের স্ত্রী। বার্ধক্যজনিত কারণে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে তার মৃত্যু হয়।স্বজনদের ভাষ্য, গোপাল ও তার পরিবার বংশপরম্পরায় কয়েক দশক ধরে ওই গ্রামে বসবাস করছেন। বর্তমানে প্রায় এক শতাংশ জমির ওপর নির্মিত একটি ছোট ঘরে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস করছেন গোপাল।পরিবারের দাবি, প্রায় এক বছর আগে প্রতিবেশী ছফর উদ্দিনের কাছ থেকে দেড় লাখ টাকায় আরও এক শতাংশ জমি কেনেন গোপাল। তবে মিউটেশন জটিলতার কারণে জমিটি রেজিস্ট্রি করা সম্ভব হয়নি। নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে সই-স্বাক্ষর নেওয়ার পর জমির পুরো টাকা পরিশোধ করা হয়েছিল বলেও দাবি পরিবারের।তবে এখন সেই জমি বিক্রির বিষয়টি অস্বীকার করছেন ছফর উদ্দিন। ফলে ওই জমিতে মেনোকার মরদেহ দাফন করতে গেলেও বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ স্বজনদের।মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, মেনোকার মরদেহ বাড়ির বারান্দায় রাখা হয়েছে। পাশে স্বজনরা অবস্থান করছেন। বাড়ির পাশে কবর খননের চেষ্টা করা হলেও এতে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।মেনোকার ভাই নিবারণ বলেন, ‘আমার ভগ্নিপতি এই জমি কিনেছিলেন। ভেবেছিলেন, প্রয়োজনে ঘরের পাশে স্বজনদের দাফন করা যাবে। এখন জমি কেনার বিষয়টিই অস্বীকার করা হচ্ছে। কবর খনন করতে গেলে ছফর উদ্দিন ও তার স্ত্রী-সন্তানরা লাঠিসোঁটা নিয়ে মারমুখী আচরণ করেন।’তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান, রাজনৈতিক নেতা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা দুপুরের পর থেকে কয়েক দফা সালিসে বসলেও কোনো সমাধান হয়নি।নিহত মেনোকার ছেলে শ্রী সুনিল বলেন, ‘আমাদের পাশে দাঁড়ানোর মতো কাউকে পেলাম না। মায়ের মরদেহ নিয়ে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছি। মেম্বার-চেয়ারম্যান, থানা পুলিশ—সবার কাছে গিয়েছি। কয়েক দফা সালিস হয়েছে, কিন্তু কবর খনন করতে দেওয়া হয়নি।’তিনি আরও বলেন, ‘আমরা নিচু জাতের মানুষ বলে হয়তো আমাদের কথা কেউ গুরুত্ব দিচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে ঘরের দরজার পাশের উঠানেই মায়ের কবর খননের প্রস্তুতি নিচ্ছি।’তবে জমি বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ছফর উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘আমি তার কাছে কোনো জমি বিক্রি করিনি। কোনো টাকা-পয়সাও নিইনি। আমার জমিতে মান্দাই সম্প্রদায়ের ওই নারীকে দাফন করতে দেব না।’মাওনা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক বলেন, ‘ছফর উদ্দিনকে অনেক বুঝিয়েছি। কিন্তু তিনি কারও কথা মানছেন না। এ কারণে কোনো সমাধান হয়নি। এখন পরিবারটি ঘরের দরজার পাশে উঠানেই দাফনের ব্যবস্থা করছে।’শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সাধ্যমতো বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের স্বজনদের আদালতের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ ভূঁইয়া বলেন, ‘একজন আমাকে মেসেজের মাধ্যমে বিষয়টি জানিয়েছেন। পরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দিয়েছিলাম। তিনি শেষ পর্যন্ত কী করেছেন, সে বিষয়ে আমাকে আর আপডেট জানানো হয়নি।’

মায়ের মরদেহ নিয়ে নির্ঘুম রাত, শেষমেশ উঠানেই কবর

সাড়ে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে হাসপাতাল, দুই বছরেও শুরু হয়নি চিকিৎসাসেবা

গাজীপুরের শ্রীপুরে সাড়ে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দমদমা ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি দুই বছর ধরে তালাবদ্ধ পড়ে আছে। প্রশাসনিক অনুমতির জটিলতায় চালু হয়নি হাসপাতালটি। ফলে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ও জনবল নিয়োগও আটকে রয়েছে।আধুনিক ভবন ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত থাকার পরও চিকিৎসাসেবা চালু না হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন আশপাশের তিন উপজেলার মানুষ। দূর-দূরান্ত থেকে রোগীরা এসে চিকিৎসাসেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় নষ্ট হচ্ছে হাসপাতালের ভবন, আসবাবপত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম।স্থানীয়দের দান করা ৪৩ শতাংশ জমিতে ৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে হাসপাতালটি নির্মাণ করে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। ২০২৪ সালের জুনে নির্মাণকাজ শেষে এটি পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে প্রশাসনিক অনুমতি না থাকায় এখনো কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি।পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আবু তাহের মো. সানাউল্লাহ নুরী বলেন, প্রশাসনিক অনুমতি না থাকায় হাসপাতালটি চালু করা যাচ্ছে না। বিষয়টি মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরকে জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। দ্রুত হাসপাতালের কার্যক্রম চালুর আশা করা হচ্ছে।

সাড়ে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে হাসপাতাল, দুই বছরেও শুরু হয়নি চিকিৎসাসেবা

গাজীপুরে প্রায় ৮০০ কারখানায় ৩ দিনের ছুটি, সড়কে ‘ঈদযাত্রার’ চাপ

গ্যাস সরবরাহ সংকট ও সরকারি ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করে গাজীপুরের প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ শিল্পকারখানায় টানা ৩ থেকে ৪ দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে ঢাকা–ময়মনসিংহ ও ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কে ঘরমুখো শ্রমিকদের ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গাজীপুরের মোট কারখানার প্রায় ২০ থেকে ২২ শতাংশ এ ছুটির আওতায় এসেছে। বুধবারের সরকারি ছুটির সঙ্গে বৃহস্পতিবার এবং সাপ্তাহিক শুক্র-শনিবার মিলিয়ে অনেক কারখানা টানা ছুটি দিয়েছে।বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, চান্দনা চৌরাস্তা, চন্দ্রা ত্রিমোড়, সফিপুর, কোনাবাড়ী ও মাওনা চৌরাস্তাসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘরমুখো শ্রমিকদের উপচে পড়া ভিড়। পরিবহন সংকটের কারণে অনেককে বৃষ্টির মধ্যেও যানবাহনের অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায়। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে স্থানীয় বাসগুলো দূরপাল্লার রুটে চলাচল শুরু করেছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও উঠেছে।গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ট্রাফিক) এসএম আশরাফুল আলম জানান, মঙ্গলবার বিকেল থেকে ঢাকা–টাঙ্গাইল ও ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। রাতভর যানজট অব্যাহত ছিল এবং বুধবার সকালেও চাপ বজায় ছিল।কোনাবাড়ী হাইওয়ে পুলিশের পরিদর্শক জাফর আলী বলেন, সরকারি ছুটির সঙ্গে অতিরিক্ত ছুটি মেলায় বিপুলসংখ্যক শ্রমিক গ্রামের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। এতে চন্দ্রা ত্রিমোড়সহ আশপাশের এলাকায় যান চলাচল ধীরগতির হয়ে পড়ে।শিল্পমালিকরা বলছেন, গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং সময়মতো রপ্তানি আদেশ সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেক কারখানায় উৎপাদন সীমিত করা হয়েছে, কোথাও কিছু উৎপাদন লাইন বন্ধ রাখা হয়েছে, আবার কোথাও রাতের শিফটে উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।গাজীপুরে তিতাস গ্যাসের সিস্টেম অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স শাখার ব্যবস্থাপক মো. সাইফুজ্জামান জানান, জেলায় দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট, অথচ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ প্রায় ৪৫ শতাংশ গ্যাস ঘাটতি রয়েছে, যার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে কালিয়াকৈর, শ্রীপুর ও টঙ্গী বিসিক শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে।গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের সুপার (এসপি) মো. আমজাদ হোসেন বলেন, গ্যাসের স্বল্প চাপ, কাঁচামালের সংকট, অর্ডার কমে যাওয়া এবং সরকারি ছুটির কারণে অনেক কারখানা অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণা করেছে। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের গাজীপুরের উপমহাপরিদর্শক প্রকৌশলী এম এম মামুন-অর-রশিদ জানান, কোনো কোনো কারখানা তিন দিনের, আবার কোনোটি চার দিনের ছুটি দিয়েছে। সব মিলিয়ে জেলার প্রায় ২০–২২ শতাংশ শিল্পকারখানা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গাজীপুরে প্রায় ৮০০ কারখানায় ৩ দিনের ছুটি, সড়কে ‘ঈদযাত্রার’ চাপ