বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ
Topic Ads 1
চট্টগ্রামে এনসিপি নেতার মৃত্যু, ছিলেন জুলাইযোদ্ধা

চট্টগ্রামে এনসিপি নেতার মৃত্যু, ছিলেন জুলাইযোদ্ধা

চট্টগ্রামে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা তানভীরুল ইসলামের (২৬) মৃত্যু হয়েছে। অসুস্থ হয়ে পড়ার পর মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।  তানভীরুল ইসলাম এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং বায়েজিদ থানা কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব ছিলেন। তার বাড়ি কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার হিলপাড়া গ্রামে। তার বাবা মো. আবু ইউসুফ ও মা তাসলিমা বেগম। তিনি চট্টগ্রামের বায়েজিদ থানার টেক্সটাইল এলাকার জামাল উদ্দিনের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বায়েজিদ থানার টেক্সটাইল এলাকার ভাড়া বাসায় তানভীরুল গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি গতকাল রাতে জানাজানি হয়। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির সদস্য সচিব আরিফ মইনুদ্দিন বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন তানভীরুল। তার কোমরের এক পাশ দিয়ে বুলেট ঢুকে অন্য পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। তিনি তালিকাভুক্ত আহত জুলাইযোদ্ধা ছিলেন। গুলির ক্ষত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তিনি শারীরিক কষ্টে ভুগছিলেন। ক্ষতস্থানে সংক্রমণ হওয়ায় তাকে নিয়মিত হাসপাতালে যেতে হতো। এদিকে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান চমেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নূরুল আলম আশেক। অন্যদিকে তানভীরুল ইসলামের মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত দলটি। এনসিপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ শোক বার্তা জানানো হয়।    

চট্টগ্রাম ডুবলে হাঁটু পানিতে শুটিংয়ের নাটক আর দেখতে চাই না: সারজিস

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা ও নগর অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আগামী বর্ষার আগেই এই সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। একইসঙ্গে তিনি জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের লোক দেখানো কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘বর্ষা এলেই হাঁটু বা কোমর পানিতে নেমে শুটিং করার যে নাটক দেখা যায়, ২০২৭ সালে তা আর দেখতে চাই না।’ সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের স্টেশন রোড এলাকার একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সারজিস আলম। এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক বলেন, ‘বর্ষা শেষ হয়ে শরৎ, হেমন্ত ও শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, এমপি, ক্ষমতাসীন দল ও মেয়ররা চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার কথা ভুলে যাবেন। পরবর্তী বর্ষায় আবার চট্টগ্রাম ডুবে গেলে তারা জামাকাপড় পরে হাঁটু বা কোমর পানিতে নামবেন, কেউ নৌকা বা মাচা নিয়ে আসবেন- এমন লোক দেখানো কর্মকাণ্ড আর দেখতে চাই না।’ তিনি বলেন, ‘এই নাটক ২০২৭ সালে আমরা আর ক্ষমতাসীন দল বিএনপির পক্ষ থেকে দেখতে চাই না। এই নাটক আমরা এই চট্টগ্রামের মেয়র, প্রশাসক কিংবা এমপিদের থেকে আর দেখতে চাই না।’ সারজিস আলম বলেন, ‘সরকারের হাতে প্রায় এক বছর সময় রয়েছে। বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী, লাইফলাইন ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ নগরী হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামকে শুধু লোক দেখানোর স্বার্থে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করলে চট্টগ্রামবাসীর এমন ‘সেবক’-এর প্রয়োজন নেই।’ নগরবাসীর জন্য কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের স্টেশন রোড এলাকার একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে সারজিস আলম। চট্টগ্রামের রাস্তাঘাটের দুরবস্থার কথা তুলে ধরে সারজিস আলম বলেন, ‘পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা থেকে শুরু করে নগরের বিভিন্ন সড়ক ও আবাসিক এলাকার অবস্থা তিনি ঘুরে দেখেছেন। এসব সড়কের অবস্থা এমন যে, অসুস্থ মানুষের হাসপাতালে যাওয়ার চেয়ে ঘরে বসে থাকাই ভালো বলে তাদের মনে হয়েছে।’ চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যসেবা নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘বাণিজ্যিক রাজধানীর একজন মানুষকে চিকিৎসার জন্য কেন ঢাকায় যেতে হবে? চট্টগ্রামকে যদি বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক নগরী বলা হয়, তাহলে এখানকার মানুষের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা জরুরি।’ তিনি বলেন, ‘শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাস্তাঘাট, পয়ঃনিষ্কাশন ও পানি ব্যবস্থাপনাসহ নগরবাসীর মৌলিক প্রয়োজনগুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে।’ আগামী বর্ষার আগেই এসব সমস্যা সমাধানে আগামী এক বছরের মধ্যে চট্টগ্রামকেন্দ্রিক আলাদা একটি মেগা পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। সারজিস আলম বলেন, ‘চট্টগ্রামকে শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হলে লোক দেখানো কর্মকাণ্ড বাদ দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।’  নগরের পানি নিষ্কাশন, রাস্তাঘাট, পয়ঃনিষ্কাশন, পানি ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাকে সমন্বিতভাবে উন্নয়নের আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। এ সময় চট্টগ্রামের জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আগামী বর্ষার আগেই দৃশ্যমান ও টেকসই পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান সারজিস আলম। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি জাতীয় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি তুলে ধরার কথা জানান।

চট্টগ্রাম ডুবলে হাঁটু পানিতে শুটিংয়ের নাটক আর দেখতে চাই না: সারজিস

এসএসসির রেজাল্ট দেখতে বেরিয়ে নিখোঁজ পরীক্ষার্থী ৪ দিন পর উদ্ধার

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল দেখতে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হওয়া এক শিক্ষার্থীকে চার দিন পর রাজধানী ঢাকার গোপীবাগ এলাকা থেকে উদ্ধার করেছেন স্বজনরা। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে গোপীবাগ এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি শিক্ষার্থীর বাবা নিশ্চিত করেছেন। পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের করইয়ানগর এলাকা থেকে ওই শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়। সে উপজেলার একটি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী এবং ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। প্রকাশিত ফলাফলে সে একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, ফলাফল আশানুরূপ না হওয়ায় অভিমান করে মা-বাবাকে কিছু না জানিয়েই ঢাকায় চলে যায় ওই শিক্ষার্থী। সেখানে গোপীবাগ এলাকার এক ব্যবসায়ীর হেফাজতে ছিল সে। তবে বিষয়টি পরিবারের কাউকে জানানো হয়নি। নিখোঁজ হওয়ার পর তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় চরম উৎকণ্ঠায় পড়েন স্বজনরা। গত চার দিন ধরে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মীয়স্বজনরা তাকে খুঁজছিলেন। শিক্ষার্থীর বাবা জানান, শুক্রবার দুপুরের দিকে হঠাৎ তার মোবাইল ফোনটি চালু হয়। পরে স্বজনরা ফোন করলে এক ব্যক্তি ফোনটি রিসিভ করে জানান, ওই শিক্ষার্থী গোপীবাগে তাদের হেফাজতে রয়েছে। এরপর তাঁর ভাইসহ কয়েকজন স্বজন গোপীবাগে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। তিনি বলেন, ছেলে ফিরে আসায় এখন সবচেয়ে বড় স্বস্তি পেয়েছেন তারা। ফল খারাপ হওয়ায় অভিমান করে সে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। পরিবারের প্রত্যাশা, এখন সে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আবার পড়াশোনায় মনোযোগ দেবে। এর আগে শিক্ষার্থীর নিখোঁজের ঘটনায় তার বাবা সাতকানিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। নিখোঁজের পর পুলিশও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে উদ্ধারে কাজ করছিল।

এসএসসির রেজাল্ট দেখতে বেরিয়ে নিখোঁজ পরীক্ষার্থী ৪ দিন পর উদ্ধার

চট্টগ্রাম বন্দর জলসীমায় দুই জাহাজের সংঘর্ষ, তেলবাহী ট্যাংকারে ফাটল

চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় প্রায় ৩৩ হাজার মেট্রিক টন ডিজেলবাহী একটি তেলবাহী ট্যাংকারের সঙ্গে নোঙর করে থাকা একটি বাল্ক ক্যারিয়ারের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ট্যাংকারটির ইঞ্জিনকক্ষের পেছনের বাঁ পাশে প্রায় এক বর্গমিটার ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। ফাটল দিয়ে পানি ঢুকে সাময়িকভাবে জাহাজটির বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। তবে ডিজেলভর্তি কার্গো ট্যাংক অক্ষত রয়েছে এবং সাগরে কোনো তেল ছড়িয়ে পড়েনি।শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় দেওয়া এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটের দিকে ‘এমটি সি স্পাইক’ নামের তেলবাহী ট্যাংকারের সঙ্গে নোঙর করে থাকা ‘এমভি সান শাইন’ নামের বাল্ক ক্যারিয়ারের সংঘর্ষ হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তীব্র স্রোতের কারণে তেলবাহী জাহাজটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে তদন্ত শেষে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।সংঘর্ষের পর ‘সি স্পাইক’-এর কোনো কার্গো ট্যাংকে পানি ঢোকেনি এবং ডিজেলও নিঃসরণ হয়নি। তবে ইঞ্জিনকক্ষের পেছনের বাঁ পাশে ফাটল দিয়ে পানি ঢোকার কারণে সাময়িক বিদ্যুৎ-বিপর্যয় দেখা দেয়। জরুরি ব্যাটারির মাধ্যমে জাহাজটির বেতার যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখা হয়েছে। জাহাজটিকে স্থিতিশীল রাখতে দুটি নোঙর ফেলা হয়েছে।বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জোয়ার-ভাটার হিসাব অনুযায়ী ভাটার সময়ও জাহাজটি নিরাপদে ভেসে থাকার কথা।চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, দুর্ঘটনার পর বন্দর কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রমে অংশ নিয়েছে। বন্দরের টাগবোট ‘কান্ডারি-৮’ ঘটনাস্থলে কাজ করছে।তিনি আরও জানান, জাহাজে থাকা ডিজেল দ্রুত খালাসের জন্য শিপিং এজেন্ট প্রাইড শিপিংকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ফাটল মেরামত ও জাহাজ উদ্ধারে একটি উদ্ধারকারী প্রতিষ্ঠানকে কাজে লাগানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জাহাজের মাস্টারের সঙ্গে বন্দর কর্তৃপক্ষ সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দুর্ঘটনার কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের চ্যানেলে জাহাজ চলাচলে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।

চট্টগ্রাম বন্দর জলসীমায় দুই জাহাজের সংঘর্ষ, তেলবাহী ট্যাংকারে ফাটল