বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ
Topic Ads 1
চট্টগ্রামে দুই শিশুর পেটে মিলল সাড়ে ৭ হাজার ইয়াবা

চট্টগ্রামে দুই শিশুর পেটে মিলল সাড়ে ৭ হাজার ইয়াবা

মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে ৯ ও ১২ বছর বয়সী দুই শিশুর পেটে করে চট্টগ্রামে পাচার করা হচ্ছিল সাড়ে ৭ হাজারের বেশি ইয়াবা। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার তৈলারদ্বীপে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে এক নারীসহ দুই শিশুকে আটক করে র‍্যাব-৭। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়ার পর পয়োনিষ্কাশনের মাধ্যমে ধাপে ধাপে শিশু দুটির পেট থেকে এসব ইয়াবা বের করে আনা হয়। আটক দুই শিশুর নাম শাহরিয়ার (১২) ও আবু বকর (৯)। তাদের বিস্তারিত পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। র‍্যাবের দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ এড়াতে অপরাধী চক্র শিশুদের ব্যবহার করে ইয়াবা পাচারের এই বিপজ্জনক পথ বেছে নিয়েছে। র‍্যাব-৭ এর অধিনায়ক মো. লে. কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বাচ্চা দুটির পেটের ভেতর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭ হাজার ইয়াবা পাওয়া গেছে। ক্যাপসুলের ভেতরে এসব ইয়াবা ছিল। একেকটি ক্যাপসুলে ৪০ থেকে ৫০টি করে ইয়াবা পাওয়া গেছে। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার গণনা চলছে। গণনা শেষে প্রকৃত সংখ্যা জানা যাবে।’ তিনি বলেন, বর্তমানে দুই শিশু সুস্থ আছে। তবে তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ইয়াবা পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা করা হবে। র‍্যাবের অধিনায়ক আরও বলেন, আটক নারীর সঙ্গে দুই শিশুর কোনো রক্তের সম্পর্ক নেই বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ওই নারীই শিশু দুটিকে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলেন। র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে, শিশু দুটির সঙ্গে কথা বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন, ইয়াবা পাচারের জন্য একজন ব্যক্তি তাঁদের জনপ্রতি ৪ হাজার টাকা করে মোট ৮ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। চট্টগ্রামে চালান পৌঁছে দেওয়ার পর তাঁদের আরও টাকা দেওয়ার কথা ছিল। এর আগেও তাঁরা দুবার পেটের ভেতরে করে ইয়াবা নিয়ে চট্টগ্রামে এসেছিল বলে র‍্যাবকে জানিয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে দুই শিশুসহ ওই নারীকে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে শিশু দুটিকে পেডিয়াট্রিক সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়। গতকাল রোববার বিকেল পৌনে ৫টা পর্যন্ত শিশু দুটির পেট থেকে প্রায় ৬ হাজার ইয়াবা বের করে আনা হয়। এরপর রাতের দিকে তাঁদের পেট থেকে ক্যাপসুলে থাকা সাড়ে ৭ হাজারের বেশি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে র‍্যাব সূত্রে জানা যায়। এক্স-রে করে শিশু দুটির পেটের ভেতরে বিপুলসংখ্যক সন্দেহজনক বস্তুর উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছিল। পরবর্তী এক্স-রেতে তাঁদের পেট পরিষ্কার পাওয়া যায়। চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান বলেন, সাধারণত ইয়াবা প্লাস্টিকে পেঁচিয়ে ছোট ছোট ক্যাপসুলের মতো বানিয়ে গিলে পেটে নেওয়া হয়। এভাবে মাদক বহন করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কোনো ক্যাপসুল দুর্ঘটনাবশত অন্ত্রে আটকে গেলে বা ফুটো হয়ে গেলে বহনকারীর গুরুতর শারীরিক জটিলতা এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। তিনি বলেন, ক্যাপসুলের ভেতরের মাদকদ্রব্য শরীরে ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত বিষক্রিয়া হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। র‍্যাব-৭-এর অধিনায়ক জানান, শিশু দুটিকে হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে ইয়াবা পাচারের সঙ্গে জড়িত চক্রের সদস্যদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে। এ ঘটনায় আজ সোমবার বিস্তারিত ব্রিফিং করা হবে বলেও জানান তিনি।

মাদকাসক্ত ছেলের বিরুদ্ধে মায়ের মামলা

বরিশালের বাবুগঞ্জে মাদকাসক্ত ছেলের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন মা। নেশার টাকা না পেয়ে মাকে ও স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগে মাইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে এ মামলা করা হয়। ঘটনাটি উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের ব্রাহ্মন্দিয়া গ্রামের। স্থানীয় ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল খালেক মাস্টারের ছেলে মাইনুল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। নেশার টাকা না পেয়ে তিনি তার মা জাহানারা বেগম এবং স্ত্রী মিম আক্তারকে মারধর করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মিম আক্তার তিন সন্তানের মা। ছেলের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে জাহানারা বেগম বরিশালের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। মামলার পর আদালত মাইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এরপর গত ৫ আগস্ট বাবুগঞ্জ থানা পুলিশ মাইনুলকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। তার গ্রেপ্তারের পর এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। মাইনুলের মা জাহানারা বেগম অভিযোগ করে বলেন, তার সৎছেলে মৃত জাহাঙ্গীর হোসেনের স্ত্রী রাশিদা বেগম মাদক কেনাবেচা করেন। তার কাছ থেকেই মাইনুল মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। তবে রাশিদা বেগমের বিরুদ্ধে মাদক বিক্রির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। বাবুগঞ্জ থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, রাশিদা বেগমের বিষয়ে পুলিশ নজরদারি করছে। মাদকসংক্রান্ত অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মাদকাসক্ত ছেলের বিরুদ্ধে মায়ের মামলা

জুয়ার প্রতিবাদ করে আইসিইউতে কলেজশিক্ষক, স্ত্রীর কোলজুড়ে নবজাতক

মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় হামলার শিকার হয়ে আট দিন ধরে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন লালমনিরহাট সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক আরিফুল ইসলাম (৩৫)। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও এখনো তাঁর জ্ঞান ফেরেনি।আরিফুল ইসলাম লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের সীমান্তঘেঁষা গন্ধমরুয়া এলাকার আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে।মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মাদক, জুয়া, বাল্যবিয়েসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ নামে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠেছে। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ শিক্ষক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এই আন্দোলনের জেলা কমিটিতে রয়েছেন।এরই ধারাবাহিকতায় আরিফুল ইসলাম নিজ এলাকায় মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে স্থানীয়দের সচেতন করছিলেন। এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, গন্ধমরুয়া গ্রামের রহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত।মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, আরিফুল তাঁদের ডেকে অনলাইন জুয়া থেকে সরে আসার আহ্বান জানান। অন্যথায় বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হবে বলে সতর্ক করেন। এরপর থেকেই তাঁর ওপর ক্ষোভ তৈরি হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।গত ১ আগস্ট কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে আরিফুলের ওপর আগে থেকে ওত পেতে থাকা একটি দল হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করে গুরুতর আহত করে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। আট দিন ধরে চিকিৎসাধীন থাকলেও এখনো তাঁর জ্ঞান ফেরেনি।এদিকে, আরিফুলের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী গত বৃহস্পতিবার অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দিয়েছেন।আরিফুলের বাবা আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘আট দিন ধরে আইসিইউতে আমার ছেলে মৃত্যুর প্রহর গুনছে। অন্যদিকে তাঁর স্ত্রী অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ছেলে সন্তানের জন্ম দিয়েছে। একদিকে ছেলে, অন্যদিকে ছেলের বউ ও নবজাতক—দুই দিক সামলাতে গিয়ে আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি।’তিনি আরও বলেন, ‘সমাজকে আলোকিত করতে গিয়ে আজ আমার ছেলে অন্ধকারে মৃত্যুর প্রহর গুনছে।’নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, রহিদুল ও তাঁর সহযোগীরা এলাকায় অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত। তাঁদের কারণে অনেক তরুণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তাঁরা। জুয়ার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে হামলা বা মিথ্যা মামলার ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।তাঁদের দাবি, আরিফুল শুধু অনলাইন জুয়া নয়, বিভিন্ন সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করতেন। এ কারণে তাঁর ওপর হামলা করা হয়েছে।এ ঘটনায় আরিফুলের বাবা আবু বক্কর সিদ্দিক বাদী হয়ে গত ২ আগস্ট রহিদুলকে প্রধান আসামি করে ১০ জনের বিরুদ্ধে আদিতমারী থানায় মামলা করেন।পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলার পর আটজন আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নিতে পরিবারকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তবে প্রধান অভিযুক্ত রহিদুল পলাতক থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব সজীব বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত করে নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। প্রধান অভিযুক্ত পলাতক থাকায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তাঁকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জুয়ার প্রতিবাদ করে আইসিইউতে কলেজশিক্ষক, স্ত্রীর কোলজুড়ে নবজাতক