রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ
Topic Ads 1
পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে জিয়াউর রহমানের লেখা ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’

পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে জিয়াউর রহমানের লেখা ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা নিবন্ধ ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে। সেই সঙ্গে তাঁর তৎকালীন ঐতিহাসিক একটি ডায়েরির ছবিও বইয়ে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এনসিটিবি জানিয়েছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা সাহিত্য’ পাঠ্যপুস্তকে নতুন অধ্যায় হিসেবে এটি স্থান পাচ্ছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অন্যতম স্মৃতিকথা হিসেবে বহুল আলোচিত এই দলিলটিকে পাঠ্যভুক্ত করার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি (এনসিসিসি)। বিষয়টি নিশ্চিত করে এনসিটিবির চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা বলেন, ‘আগামী বছরের শিক্ষাবর্ষ থেকে নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা সাহিত্য’ বইয়ে জিয়াউর রহমানের লেখা ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ নিবন্ধটি অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে এনসিসিসি চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। যার যতটুকু অবদান, তা নিরপেক্ষ ও নির্মোহভাবে পাঠ্যবইয়ে তুলে ধরতেই সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ আগস্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে সচিবের সভাপতিত্বে জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসিসি) এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক বলেন, ‘এনসিসিসি সভায় নিবন্ধটি সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ও নির্মোহ ইতিহাস জানতে পারবে।’ এনসিটিবির কারিকুলাম সংশ্লিষ্টরা জানান, নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা সাহিত্য’ পাঠ্যপুস্তকের ২২ নম্বর গদ্যের লেখক পরিচিত অংশে জিয়াউর রহমানকে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, সাবেক রাষ্ট্রপতি, সেনাপ্রধান, জেড ফোর্সের অধিনায়ক, ১ নম্বর সেক্টর কমান্ডার ও ‘বীর উত্তম’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে এই প্রেক্ষাপটে মুক্তিযুদ্ধকে সর্বাত্মক ‘জনযুদ্ধ’ হিসেবে চিহ্নিত করে ২৫শে মার্চের গণহত্যার পর শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেপ্তার হলে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা ছিল মুক্তিকামী মানুষের জন্য ‘তুর্যধ্বনির মতো’। এনসিটিবি জানায়, প্রবন্ধটির মূল বর্ণনা শুরুর আগে কিছু ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। ব্যাখ্যায় ১৯৭২ সালে ‘দৈনিক বাংলা’য় প্রকাশিত ‘একটি জাতির জন্ম’ ও ১৯৮০ সালে অধুনালুপ্ত ‘দৈনিক দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ নিবন্ধ দুটিকে মুক্তিযুদ্ধের এক অনন্য দলিল হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোনো একক ব্যক্তি বা দলের কৃতিত্ব নয়। এতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদকে বাংলাদেশের ইতিহাসের অনিবার্য নাম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। কারিকুলাম সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, গদ্যের প্রবন্ধে ১৯৭১ সালের মার্চে চট্টগ্রাম থেকে সশস্ত্র বিদ্রোহের মাধ্যমে স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনা, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা ও সম্মুখসমরের আত্মত্যাগের এক অনন্য আলেখ্য চিত্রিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সশস্ত্র দায়িত্ব গ্রহণের অনুভূতির কথা বর্ণনা করতে গিয়ে নিবন্ধে জিয়াউর রহমান লিখেছেন—‘সবাই আমরা যুদ্ধ করেছি। সৈনিক, জনগণ সবাই। জাতির চরম সংকটের মুহূর্তে কাউকে না কাউকে সামনে এগিয়ে আসতে হয়। নিতে হয় দায়িত্ব। আমি কেবল সেই দায়িত্ব পালন করেছি। নেতারা যখন উধাও হয়ে গেল—সিদ্ধান্ত দেওয়ার কেউ থাকল না, তখন জাতির পক্ষ থেকে সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত আমাকে ঘোষণা করতে হলো...২৬শে মার্চ রাতের প্রথম প্রহরে সেই চূড়ান্ত সময়টি এল। যার জন্য গোটা মাস আমরা রুদ্ধশ্বাস হয়ে প্রতীক্ষা করছিলাম।’ চট্টগ্রামে পাক বাহিনীর ষড়যন্ত্র অনুধাবন ও ১লা মার্চ থেকে শুরু হওয়া সন্দেহজনক গতিবিধির বিবরণ দিয়ে মেজর জিয়া উল্লেখ করেন—‘১লা মার্চ থেকে ২০ তম বেলুচ রেজিমেন্টের রহস্যজনক গতিবিধি থেকে আমরা সুস্পষ্ট আঁচ করতে পারছিলাম কী ঘটতে যাচ্ছে...১৩ই মার্চ নেতাদের সঙ্গে ইয়াহিয়ার গোলটেবিল বৈঠক শুরু হলো। এর মধ্যেই পাকিস্তানি জেনারেলরা একের পর এক বিমানে আসতে লাগলেন...এ ছিল সর্বাত্মক হামলার এক ভীতিকর পূর্বাভাস...দ্রুত ঘনিয়ে এলো পঁচিশ-ছাব্বিশের সে রাতটি। রাত ১১টায় চট্টগ্রাম বন্দরে জেনারেল আনসারীর কাছে রিপোর্ট করার জন্য ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার আমার কাছে নির্দেশ পাঠালেন। নৌ-বাহিনীর একটি ট্রাক পাঠানো হলো আমাকে এসকর্ট করে নিয়ে যাওয়ার জন্য...’ নিবন্ধে জিয়াউর রহমান আরও লেখেন, ‘আগ্রাবাদের এক ব্যারিকেডের সামনে ট্রাক থেমে গেল...ঠিক সে সময়ে মেজর খালিকুজ্জামান সেখানে আমার সঙ্গে দেখা করলেন। অনুচ্চস্বরে বললেন, ওরা ক্যান্টনমেন্টে হামলা শুরু করেছে। শহরেও অভিযান চালিয়েছে। হতাহত হয়েছে বহু নিরীহ মানুষ। যে সময়ের জন্য এতদিন অপেক্ষা করছিলাম, সে সময় এসে গেছে। সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলাম, ‘উই রিভোল্ট’। নির্দেশ দিলাম, ষোলোশহর ছুটে যাও। পাকিস্তানি অফিসারদের আটক করো। যুদ্ধের জন্য তৈরি করে রাখো ব্যাটালিয়নের সবাইকে।’ জিয়াউর রহমান লিখেছেন-‘ষোলোশহর এসে মুহূর্তে একটি রাইফেল কেড়ে নিলাম তাদের একজনের কাছ থেকে...ব্যাটালিয়নের সব অফিসার আর জোয়ানদের এক জায়গায় একত্র করে সংক্ষিপ্ত ভাষণ দিলাম। বললাম, আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধে নেমেছি। তারা এই ঘোষণাটির জন্যই উন্মুখ হয়ে অপেক্ষা করছিল। সঙ্গে সঙ্গে সবাই উল্লাসধ্বনি করে সাড়া দিল। পর মুহূর্তেই সশস্ত্র স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল। রাত তখন ২টা ১৫ মিনিট। ২৬শে মার্চ ১৯৭১। জাতির জন্যে অবিস্মরণীয় সেই মুহূর্তটি।’ পটিয়ার পাহাড়ে প্রথম মুক্তাঞ্চল গঠন ও সামরিক কৌশলের বর্ণনা দিয়ে মেজর জিয়া লেখেন—‘রাত ৪টায় রেললাইন ধরে পটিয়ার পাহাড়ের দিকে যাত্রা করলাম। পথে ইপিআর-এর একশজন আমাদের সঙ্গে যোগ দিল...২৬শে মার্চের মধ্যেই তিনশ সদস্যের বাহিনীকে চট্টগ্রাম পাঠানো হলো হানাদারের মোকাবিলার জন্য। প্রচণ্ড যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল। সেই প্রথম সম্মুখসমর, পাকিস্তানি শিবিরে তখন আতঙ্ক। তাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলো।’ কালুরঘাট স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে ঐতিহাসিক স্বাধীনতা ঘোষণার স্মৃতিচারণ করে নিবন্ধে জিয়াউর রহমান লিখেছেন—‘দিনটি ছিল ২৭শে মার্চ...সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রেডিও স্টেশনে এলাম। হাতের কাছে একটি এক্সারসাইজ খাতা পাওয়া গেল। তার একটি পৃষ্ঠায় দ্রুতহাতে স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম ঘোষণার কথা লিখলাম—স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বভার নিয়েছি, সে কথাও লেখা হলো সেই প্রথম ঘোষণায়...বেতার তরঙ্গের সে ঘোষণা বিশ্বের প্রায় প্রতিটি রেডিওতে ধরা পড়ল। আর বিশ্ববাসী সেই প্রথম শুনল: বাংলাদেশ একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের ঘোষণা নিয়ে যুদ্ধে নেমেছে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে...২৭শে মার্চ, সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে ইথারে ঘোষণাটি উচ্চারিত হওয়ার পর মুহূর্তেই বিশ্বমানচিত্রে অঙ্কিত হয়ে গেল ‘স্বাধীন বাংলাদেশ’ কথাটি। ‘সে ছিল সত্যি এক অলৌকিক ব্যাপার!’

নিজ জেলায় রাষ্ট্রপতি ফখরুলের প্রথম সফর, উচ্ছ্বসিত ঠাকুরগাঁও

রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আসছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আগামী ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর দুই দিনের সরকারি সফরে জন্মভূমি ঠাকুরগাঁওয়ে অবস্থান করবেন তিনি। তাঁর আগমন ঘিরে পুরো জেলায় বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে ঠাকুরগাঁও শহরের বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সাজানো হয়েছে আলোকসজ্জা, বর্ণিল তোরণ, ব্যানার ও ফেস্টুনে। প্রিয় নেতাকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবার নিজ জেলায় বরণ করে নিতে প্রস্তুতি নিয়েছেন স্থানীয়রা। সফরের প্রথম দিন ৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে রাষ্ট্রপতিকে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়ার আয়োজন করা হয়েছে। এতে সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা। ঠাকুরগাঁও নাগরিক সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. আবু মোহাম্মদ খয়রুল কবির বলেন, ‘আমাদের ঘরের সন্তান দেশের সর্বোচ্চ পদে আসীন হয়েছেন—এটি ঠাকুরগাঁওবাসীর জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে একটি স্মরণীয় ও জমকালো সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’ রাষ্ট্রপতির এ সফরে ঠাকুরগাঁওবাসীর জন্য রয়েছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন। সফরের দ্বিতীয় দিন ৭ সেপ্টেম্বর তিনি ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে জামালপুর এলাকায় এ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। এ নিয়ে জেলার শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিক্ষানুরাগীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁও শহর ও তাঁর যাতায়াতের পথে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। অনুষ্ঠানস্থল ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজ জেলায় তাঁর প্রথম সফরকে ঘিরে ঠাকুরগাঁওবাসীর মধ্যে তৈরি হয়েছে গর্ব, আবেগ ও উৎসবের আবহ। চেনা শহর ও চেনা মানুষ এখন অপেক্ষায়—নিজের জেলার সন্তানকে এবার রাষ্ট্রপতি হিসেবে বরণ করে নেওয়ার।

নিজ জেলায় রাষ্ট্রপতি ফখরুলের প্রথম সফর, উচ্ছ্বসিত ঠাকুরগাঁও

যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে ভিসা বন্ড ব্যবস্থা আরও সহজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

বাংলাদেশের ব্যবসায়ী ও প্রকৃত পর্যটকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের ক্ষেত্রে বর্তমানে চালু ‘ভিসা বন্ড’ ব্যবস্থা পর্যালোচনা ও সহজ করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটসহ দেশের কৃষি খাতের উন্নয়নে অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ ও সহযোগিতার কথা স্মরণ করে এ খাতে মার্কিন অধিকতর বিনিয়োগ ও সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেন। রাষ্ট্রপতি এ সময় দেশের জ্বালানি খাতের উন্নয়নে মার্কিন প্রতিষ্ঠান শেভরনের বিনিয়োগ ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন এবং বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি, অবকাঠামো, স্বাস্থ্য, ও উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর শিল্পসহ বিভিন্ন খাতের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি এ সময় বিভিন্ন খাতে প্রযুক্তি ও দক্ষতা হস্তান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। রাষ্ট্রপতি রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করেন। এ প্রসঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূত সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন এবং আসিয়ান দেশসমূহের সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ করেন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান মার্কিন রাষ্ট্রদূত। রাষ্ট্রপতি মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ও বাণিজ্য অংশীদার। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশ সকল দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণে বিশ্বাসী উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ, পারস্পরিক সম্মান ও সমতার নীতিকে সর্বাগ্রে গুরুত্ব দেয় বাংলাদেশ। ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিন্ন স্বার্থ সুরক্ষার মাধ্যমে আরও সম্প্রসারিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পাদিত পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির (Agreement on Reciprocal Trade) প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে উভয় দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে এ চুক্তিকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক করার সুযোগ রয়েছে, রাষ্ট্রপতি বলেন। এ সময় মার্কিন রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করতে তাঁর দেশের আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিবেরা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে ভিসা বন্ড ব্যবস্থা আরও সহজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদন

সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল ১০টা ২২ মিনিটে জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রবেশ করে বীর শহীদদের প্রতি তিনি শ্রদ্ধা জানান। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের অগণিত বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন তিনি। এ সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। ​শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জাতীয় স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইয়ে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে স্বাক্ষর করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির এই সফরকে কেন্দ্র করে স্মৃতিসৌধ ও এর আশপাশের এলাকায় নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এর আগে শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে বঙ্গভবনের দরবার হলে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন বিএনপির সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদন

রাষ্ট্রপতির শপথ ঘিরে বঙ্গভবন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করতে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জাতীয় সংসদ সদস্যদের মোট ৩৪৩টি ভোটের মধ্যে ২৫৫ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।  শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় শপথ নেবেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বঙ্গভবন ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। শুক্রবার বিকালে বঙ্গভবন ও এর আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। শপথ অনুষ্ঠান উপলক্ষে বঙ্গভবনের ভেতরেও নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি।  বঙ্গভবনের দরবার হলে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে।  রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম জানিয়েছেন, শপথ অনুষ্ঠানের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। শপথ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। আরও পড়ুনআরও পড়ুননতুন রাষ্ট্রপতি বরণে প্রস্তুত বঙ্গভবন রাষ্ট্রপতির শপথ উপলক্ষে বঙ্গভবনে ১২ শতাধিক অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক দলের নেতা, কূটনীতিকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এদিকে, শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে বঙ্গভবন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। বঙ্গভবনের প্রবেশপথ ও আশপাশের সড়কে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রবেশের বিষয়েও নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। নিরাপত্তার স্বার্থে বঙ্গভবনকেন্দ্রিক এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যদিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। শপথ নেওয়ার মধ্যদিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রাষ্ট্রপতির শপথ ঘিরে বঙ্গভবন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার

মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে ইসির প্রজ্ঞাপন

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নির্বাচিত ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার রাতে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ। বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১-এর ১১ ধারা এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিধিমালা, ১৯৯১-এর ১২ (৬) বিধি অনুযায়ী নির্বাচনি কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ঘোষণার ভিত্তিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত ঘোষণা করা হলো। প্রজ্ঞাপনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাবা হিসেবে মির্জা রুহুল আমিনের নাম এবং ঠিকানা হিসেবে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ঠাকুরগাঁও পৌরসভার কালিবাড়ী গ্রামের ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে।

মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে ইসির প্রজ্ঞাপন

প্রার্থী হয়েও ভোট দিতে পারছেন না অলি আহমদ

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে। জাতীয় সংসদের ৩৪৯ জন সদস্য এ নির্বাচনের ভোটার হলেও প্রার্থী হয়েও নিজের ভোট দিতে পারছেন না জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। কারণ, তিনি জাতীয় সংসদের সদস্য নন।অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী ও দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংসদ সদস্য হওয়ায় নিজের প্রার্থিতার পক্ষে নিজেই ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ সদস্যরাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার। বর্তমানে সংসদে থাকা ৩৪৯ জন সদস্যকে ভোটার তালিকায় রাখা হয়েছে। তবে আদালতের নির্দেশে চট্টগ্রাম-৪ আসনের নির্বাচিত প্রার্থী অযোগ্য ঘোষিত হওয়ায় ওই আসনটি বর্তমানে শূন্য রয়েছে।সংসদের সাধারণ আসনগুলোর মধ্যে বিএনপির ২১১ জন, জামায়াতে ইসলামীর ৬৮ জন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ছয়জন, অন্যান্য দলের সাতজন এবং স্বতন্ত্র সাতজন সংসদ সদস্য রয়েছেন। সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর ৩৬ জন, জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের ১৩ জন এবং একজন স্বতন্ত্র সদস্য রয়েছেন।এই হিসাব অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদ সদস্যের সমর্থন বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর প্রার্থীর পক্ষেই রয়েছে।গত ৬ আগস্ট ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয়ে প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেন।এরপর ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অলি আহমদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।দুই প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে সংসদ সদস্য না হওয়ায় ভোটার তালিকায় অলি আহমদের নাম নেই। ফলে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও নিজের পক্ষে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না তিনি।

প্রার্থী হয়েও ভোট দিতে পারছেন না অলি আহমদ

অপেক্ষার প্রহর শেষ হচ্ছে কাল, রাষ্ট্রপতি পদে আগাম নাম প্রকাশ করবে না বিএনপি

বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছেন। ইতোমধ্যে মনোনীত প্রার্থীর সম্মতিপত্রে মির্জা ফখরুল স্বাক্ষর করেছেন বলেও সূত্রটি জানিয়েছে।তবে বিএনপি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল ৪টা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। এরপরই বিএনপির প্রার্থিতা আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট হবে।দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপির স্থায়ী কমিটি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষমতা দলের চেয়ারম্যানের ওপর ন্যস্ত করেছে। এ কারণে আগেভাগে প্রার্থীর নাম প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।এদিকে বিএনপির পক্ষে নির্বাচন কমিশন থেকে দুটি পৃথক মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। একই প্রার্থীর সমর্থনে একাধিক মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ থাকায় কৌশলগত কারণেই একাধিক ফর্ম সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।অন্যদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থনপুষ্ট ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নাম ইতোমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের বিশেষ অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটে দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার কথা রয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে অন্য কোনো প্রার্থীকে ভোট দিলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের পদ বাতিল হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধান হুইপ।

অপেক্ষার প্রহর শেষ হচ্ছে কাল, রাষ্ট্রপতি পদে আগাম নাম প্রকাশ করবে না বিএনপি

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে জোটের শীর্ষ নেতাদের জরুরি বৈঠক শেষে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়।বৈঠক শেষে জোটের অন্যতম প্রধান শরিক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে অলি আহমদের নাম ঘোষণা করেন। তিনি জানান, জোটের শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সর্বসম্মতিক্রমে অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ড. হামিদুর রহমান আযাদ, জাগপার সভাপতি রাশেদ প্রধান, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীসহ জোটের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।এর আগে শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে এককভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়। পরে শরিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর অলি আহমদকে জোটের প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়।নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ক্ষমতাসীন দল বিএনপিও ইতোমধ্যে নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে।১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে অলি আহমদের নাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। জাতীয় সংসদের বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের ভোটেই দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার কথা।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০ আগস্ট, তপশিল ঘোষণা

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে। এ লক্ষ্যে নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ তপশিল ঘোষণা করেন। ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ১৩ আগস্ট, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২০ আগস্ট। এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্যদের নামসংবলিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা নির্বাচন কমিশনে পাঠায় সংসদ সচিবালয়। ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, কমিশন ভোটার তালিকা গ্রহণ করেছে এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে। উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। এরপর সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান রয়েছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০ আগস্ট, তপশিল ঘোষণা