বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ
Topic Ads 1
সরকারের ১৮০ দিনের হানিমুন পিরিয়ড শেষ করেছি: শিক্ষামন্ত্রী

সরকারের ১৮০ দিনের হানিমুন পিরিয়ড শেষ করেছি: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের ‘হানিমুন পিরিয়ড’ শেষ হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে শিক্ষা খাতের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এখন সেগুলো সমাধানে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।সোমবার (১৭ আগস্ট) আয়োজিত কিউএস বাংলাদেশ ফোরাম ২০২৬ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান আরও উন্নত করা প্রয়োজন। কিউএস র‌্যাংকিং শুধু উন্নত দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সার্কভুক্ত দেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও বিবেচনায় আনা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।তিনি বলেন, ‘কিউএস রেটিং উন্নত দেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শুধু কেন করবে? সার্কভুক্ত দেশের মধ্যে কেন নয়? সেটা করলে আমরাও এগিয়ে থাকতাম।’বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষায় গবেষণা ও পিএইচডি কার্যক্রমের প্রসঙ্গ তুলে শিক্ষামন্ত্রী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কেন এতদিনে পিএইচডি ডিগ্রি চালু করতে পারলেন না? শেষ ২০ বছর আপনারা মুখ বন্ধ করে ছিলেন?’তিনি আরও বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনেক মেধাবী গবেষক রয়েছেন, যারা বিদেশের বিভিন্ন দেশের উন্নয়ন ও গবেষণায় নিজেদের জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগাচ্ছেন। কিন্তু দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা ব্যবস্থায় তাদের যথাযথভাবে কাজে লাগানো যাচ্ছে না।শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও অনেক গবেষক আছেন, যারা অন্য দেশের বিনির্মাণে নিজের জ্ঞান ঢেলে দেন। কিন্তু আমরা তাদের খুঁজে বের করতে পারি না। এটা আমাদের ব্যর্থতা।’তিনি জানান, দেশের গবেষক ও মেধাবীদের খুঁজে বের করে শিক্ষা ও গবেষণার কাজে সম্পৃক্ত করার বিষয়টিতে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি চালু এবং আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান শক্তিশালী করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

এসএসসিতে অকৃতকার্যদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রীর বার্তা: ফলাফল তোমার পরিচয় নয়

এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, পরীক্ষার ফল কোনো শিক্ষার্থীর পরিচয় নয়; এটি নির্দিষ্ট একটি দিনে কয়েক ঘণ্টার পরীক্ষায় খাতায় লেখা উত্তরের একটি হিসাব মাত্র।মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে এ কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।তিনি বলেন, ‘আজকের ফলাফল তোমার পরিচয় নয়, সেটি কেবল পরীক্ষার সেই নির্দিষ্ট দিনে, নির্দিষ্ট কয়েক ঘণ্টায় তোমার খাতায় লেখার একটা হিসাব মাত্র। তোমার পরিশ্রম, তোমার স্বপ্ন, এসবের কোনো নম্বর হয় না।’শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ফল প্রকাশের দিনটি অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য বেদনা ও হতাশার হতে পারে। বন্ধুদের আনন্দ, পরিবারের নীরবতা এবং নিজের ভেতরের অস্বস্তি—সব মিলিয়ে মনে হতে পারে, সবকিছু থেমে গেছে। তবে বাস্তবে কিছুই থেমে যায়নি।তিনি বলেন, প্রতিবেশীর কৌতূহল, আত্মীয়ের তুলনা ও সহপাঠীদের উপেক্ষা অনেক শিক্ষার্থীর মধ্যে গভীর হতাশা তৈরি করতে পারে। এ অবস্থায় হতাশ না হয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।অভিভাবকদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ফল খারাপ হওয়া শিক্ষার্থীরা এ সময় সবচেয়ে বেশি ভয় পেতে পারে বাবা-মায়ের মুখোমুখি হতে। তাই তাদের বকাঝকা বা ভর্ৎসনা না করে আদর, স্নেহ ও সহযোগিতার মাধ্যমে পাশে দাঁড়াতে হবে।তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আপনার একটি কঠিন বাক্য, উপেক্ষা, ভর্ৎসনার চেয়ে দরকার একটু আদর, স্নেহময় কথা। ঘরটিকে ওর জন্য আদালত নয়, আশ্রয় করে তুলুন।’শিক্ষকদের প্রতি অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কেন তারা পিছিয়ে পড়েছে, সেই কারণ খুঁজে বের করা শিক্ষকদের দায়িত্ব। ব্যর্থতার দায় শুধু শিক্ষার্থীর নয়, এর সঙ্গে অন্যদেরও দায়িত্ব রয়েছে।শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আশাবাদ ব্যক্ত করে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, তাদের জীবনের গল্প এখনো শেষ হয়নি। ভবিষ্যতে সফল হওয়ার পর তারা আজকের দিনটির দিকে ফিরে তাকালে মনে হবে, সেদিন অযথাই হতাশ হয়েছিল।তিনি বলেন, ‘তোমার জীবনের গল্প আজ শেষ হয়নি; একসময় দেখবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়টি এখনো লেখা হয়নি।’শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন, এসব শিক্ষার্থী একদিন দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। তাদের সেই যাত্রায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় পাশে আছে, ছিল এবং থাকবে।এর আগে সোমবার (১০ আগস্ট) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।ফল প্রকাশের পর কোনো পরীক্ষার্থী প্রাপ্ত ফল নিয়ে অসন্তুষ্ট হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করার সুযোগও রাখা হয়েছে।

এসএসসিতে অকৃতকার্যদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রীর বার্তা: ফলাফল তোমার পরিচয় নয়