মাত্র দেড় টাকা পুঁজি আর একটি দা নিয়ে ১৯৯৪ সালে যাত্রা শুরু হয়েছিল। আজ সেই ছোট্ট উদ্যোগই রূপ নিয়েছে ‘মিথুন কুঠির শিল্প’-এ, যার তৈরি কাঠের কলম পৌঁছে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও জার্মানির মতো দেশে।
বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার ধনপোতা গ্রামের দুই ভাই অসিত পাল ও অরুণ পালের হাত ধরে গড়ে ওঠা এই কুটির শিল্পে এখন মাসে প্রায় ৬ হাজার কাঠের কলম উৎপাদিত হয়। প্রতিটি কলম তৈরিতে পেরোতে হয় ৩৬টি ধাপ, আর এর পেছনে থাকে দীর্ঘ সময়ের পরিশ্রম ও কারিগরি দক্ষতা।
পরিবেশবান্ধব ও নান্দনিক এই কাঠের কলম দেশের পাশাপাশি বিদেশেও প্রশংসা কুড়িয়েছে। তবে উৎপাদকদের অভিযোগ, ন্যায্যমূল্য না পাওয়া, আধুনিক প্রযুক্তির অভাব, আর্থিক সংকট এবং সরাসরি রপ্তানির সুযোগ না থাকায় তারা কাঙ্ক্ষিত সাফল্য থেকে এখনও অনেক দূরে।
সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, সহজ শর্তে ঋণ এবং সরাসরি রপ্তানির সুযোগ পেলে বাংলাদেশের এই ঐতিহ্যবাহী কুটির শিল্প বিশ্ববাজারে আরও বড় অবস্থান তৈরি করতে পারবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ছোট্ট একটি স্বপ্ন, তিন দশকের সংগ্রাম আর অদম্য পরিশ্রম—ফকিরহাটের কাঠের কলম এখন বাংলাদেশের গর্বের এক অনন্য গল্প।