রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে মাছ ও মুরগির দাম বেড়েছে। তবে মৌসুমি সবজির বাজারে রয়েছে স্বস্তি। অধিকাংশ সবজির দাম অপরিবর্তিত থাকলেও গরুর মাংসের দামও স্থিতিশীল রয়েছে। ব্যবসায়ীদের মতে, মাসের শুরুতে সরবরাহ কমে যাওয়ায় মাছ ও মুরগির দামে সাময়িক ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর রামপুরা, গুলশান, বাড্ডাসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।
বাজারে কাঁকরোল, ধুন্দল, চিচিঙ্গা, পটল, ঝিঙে ও পেঁপেসহ বেশিরভাগ মৌসুমি সবজি প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে লম্বা ও গোল বেগুনের দাম বেড়ে কেজিপ্রতি ১০০ টাকায় উঠেছে, যা গত সপ্তাহের তুলনায় ২০ টাকা বেশি। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা কেজিতে।
মাছের বাজারে ইলিশের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও অন্যান্য মাছের দাম বেড়েছে। এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা কেজিতে। ৬০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা কেজি। মাঝারি আকারের রুই ও কাতলা মাছ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা কেজিতে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেশি। তেলাপিয়ার দাম বেড়ে হয়েছে ২৭০ টাকা কেজি। সিলভার কার্পসহ অন্যান্য মাছের দামও কিছুটা বেড়েছে।
রামপুরা বাজারের মাছ বিক্রেতা সুপন বর্মণ জানান, ইলিশের দাম বাড়েনি। তবে আড়তে সরবরাহ কম থাকায় রুই, কাতলা ও তেলাপিয়ার দাম কয়েকদিনের ব্যবধানে বেড়েছে।
মুরগির বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। ব্রয়লার মুরগি বর্তমানে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা আগের তুলনায় ১০ থেকে ১৫ টাকা বেশি। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজিতে। প্রতি ডজন ডিমের দাম রয়েছে ১২০ টাকা। তবে গরুর মাংসের দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি।
জোয়ার সাহারা বাজারের বিক্রেতা সুমন বলেন, মাসের শুরুতে সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি থাকায় মুরগির দাম বেড়েছে। তবে বিক্রিতে এর কোনো প্রভাব পড়েনি।
ক্রেতাদের অভিযোগ, সবজির দাম সহনীয় থাকলেও মাছ ও মুরগির দাম বেড়ে যাওয়ায় সংসারের খরচ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
ব্যবসায়ীদের আশা, আগামী সপ্তাহে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে মাছ ও মুরগির বাজারে আবারও কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে।