চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশে অন্তত ২০ হাজার শ্রমিক চাকরিচ্যুত বা ছাঁটাইয়ের শিকার হয়েছেন। অধিকাংশই তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিক। একই সময়ে অন্তত ২৭টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজারো শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন।
শিল্প পুলিশ, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ-এর তথ্য অনুযায়ী, গাজীপুর, সাভার-আশুলিয়া, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ক্রমেই বাড়ছে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘটনা।
গাজীপুরের ইউনিক ওয়াশিং অ্যান্ড ডায়িং ও ইউনিক ডিজাইনার্স কারখানা গত ১৬ জুন স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এতে ১ হাজার ৮০০ শ্রমিক কাজ হারান। অভিযোগ রয়েছে, এখনো তারা বকেয়া বেতন-ভাতা ও ক্ষতিপূরণ পাননি।
বিজিএমইএর তথ্য বলছে, শুধু তাদের সদস্যভুক্ত ৮০টি কারখানায় ১৯ হাজার ১৮৮ শ্রমিক ছাঁটাই বা চাকরিচ্যুত হয়েছেন। এর মধ্যে ২৭টি কারখানা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
শিল্প পুলিশের হিসাবে, বছরের প্রথম পাঁচ মাসে ৭৯টি কারখানা থেকে ৭ হাজার ৭৮৪ শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ছাঁটাই হয়েছে মার্চ ও মে মাসে।

পোশাকশিল্প মালিকদের দাবি, ক্রয়াদেশ কমে যাওয়া, ব্যাংকঋট সংকট, আর্থিক চাপ ও বৈশ্বিক বাজারের প্রতিযোগিতা শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রধান কারণ। অন্যদিকে শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া শ্রমিকদেরও বিভিন্ন অজুহাতে ছাঁটাই করা হচ্ছে।
বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, ক্রয়াদেশের ঘাটতি, ব্যাংকিং সংকট এবং ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার কারণে কারখানা বন্ধ হচ্ছে। বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, প্রয়োজনীয় ব্যাংক সহায়তা না পাওয়ায় অনেক কারখানা টিকে থাকতে পারছে না।
এদিকে শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবি, অনেক ক্ষেত্রে বেআইনিভাবে শ্রমিক ছাঁটাই করা হচ্ছে এবং বকেয়া বেতন-ভাতা ও ক্ষতিপূরণ যথাযথভাবে পরিশোধ করা হচ্ছে না। তারা এসব ঘটনায় সরকারি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।