বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ
Topic Ads 1
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত স্ত্রী, মারা গেলেন দুজনেই

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত স্ত্রী, মারা গেলেন দুজনেই

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় গবাদিপশুর ঘাস কাটার বৈদ্যুতিক মেশিনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে অমরেন্দ্র নাথ ভৌমিক (৭০) ও তার স্ত্রী মিনা রানী ভৌমিক (৬০) মারা গেছেন। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে গোয়ালঘরে গবাদিপশুর খাবারের জন্য বৈদ্যুতিক মেশিনে ঘাস কাটছিলেন অমরেন্দ্র নাথ ভৌমিক। এ সময় অসাবধানতাবশত তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ছটফট করতে থাকেন। স্বামীকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট অবস্থায় দেখে উদ্ধারের জন্য এগিয়ে যান মিনা রানী। এ সময় তিনিও বিদ্যুতায়িত হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে প্রতিবেশীরা বিষয়টি টের পেয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। এরপর দুজনকে উদ্ধার করে দ্রুত শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আসাদুজ্জামান জোহা বলেন, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই ওই দম্পতির মৃত্যু হয়েছে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার কারণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। শৈলকুপা থানার ওসি হুমায়ুন কবির মোল্লা বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। স্বামী-স্ত্রীর একসঙ্গে এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে মাধবপুর গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।  

শিশু নাঈমকে বাঁচাতে সহায়তার আকুতি বাবা-মায়ের

‘ডাক্তার বলেছে, তিন মাসের মধ্যে আমার ছেলের হার্টে অপারেশন করাতে হবে। তা না হলে অকালে মারা যাবে। আপনারা একটু সহায়তা করলে আমার ছেলেটা আমার বুকেই থাকবে।’কথাগুলো বলতে বলতে অঝোরে কাঁদছিলেন ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার আলুকদিয়া গ্রামের সাজিয়া খাতুন। তাঁর ছোট ছেলে নাঈম হোসেন হৃদরোগে আক্রান্ত। জরুরি অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজন তিন থেকে চার লাখ টাকা। কিন্তু সন্তানের চিকিৎসায় পরিবারের সব সঞ্চয় শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন সেই অর্থ জোগাড় করা তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।নাঈম আলুকদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র। কাঠমিস্ত্রি মাসুদ মুন্সি ও সাজিয়া খাতুন দম্পতির ছোট ছেলে সে। মাত্র দুই মাস বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয় নাঈম। এরপর থেকে দীর্ঘদিন ধরে চলছে তার চিকিৎসা।বর্তমানে ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে নাঈমের চিকিৎসা চলছে। সেখানে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে তার হৃদযন্ত্রে অস্ত্রোপচার করাতে হবে। সময়মতো অস্ত্রোপচার না হলে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।নাঈমের বাবা মাসুদ মুন্সি স্থানীয় একটি কাঠের দোকানে কাজ করেন। তাঁর প্রতিদিনের আয় দিয়ে চার সদস্যের সংসার চালানোর পাশাপাশি বড় মেয়ের হেফজখানার পড়াশোনার খরচ বহন করতেই হিমশিম খেতে হয়। এর মধ্যে ছেলের দীর্ঘদিনের চিকিৎসায় পরিবারের সঞ্চয়ও শেষ হয়ে গেছে।এ অবস্থায় ছেলের অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজনীয় তিন থেকে চার লাখ টাকা সংগ্রহ করা তাঁর পক্ষে প্রায় অসম্ভব। তাই সন্তানের চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবান ও দানশীল মানুষের সহায়তা চেয়েছেন নাঈমের মা-বাবা।কোটচাঁদপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, জটিল রোগের ক্ষেত্রে সরকারি তহবিল থেকে এককালীন অনুদান দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। পরিবার আবেদন করলে যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে নাঈমের পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।তবে চিকিৎসকের দেওয়া সময় অনুযায়ী হাতে রয়েছে মাত্র তিন মাস। এই সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করে অস্ত্রোপচার করাতে না পারলে নাঈমের জীবন আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।নাঈমকে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য সবার প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন তার অসহায় বাবা-মা। সহায়তা পাঠানোর মাধ্যম: নগদ: ০১৯১৮৫২৮৭৬৩ বিকাশ ও নগদ: ০১৯৯১৯৭৬০২৬

শিশু নাঈমকে বাঁচাতে সহায়তার আকুতি বাবা-মায়ের

নিখোঁজের চার দিন পর পুকুরে মিলল প্রতিবন্ধী মফিজুলের মরদেহ

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে নিখোঁজের চার দিন পর বাড়ির পাশের পুকুর থেকে মফিজুল ইসলাম (৩৫) নামে এক প্রতিবন্ধী ব্যক্তির গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার হরিনদিয়া ঝামাঘাটা পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। মফিজুল ওই এলাকার মৃত মসলেম উদ্দিনের ছেলে। স্থানীয়রা জানান, মফিজুল ইসলাম মৃগীরোগে ভুগছিলেন। গত ১৭ আগস্ট সকাল থেকে তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে বাড়ির পাশের আসাদুল ইসলামের পুকুরে দুর্গন্ধ ছড়ালে স্থানীয়রা সেখানে গিয়ে পানিতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন। পরে স্থানীয়রা মরদেহটি মফিজুল ইসলামের বলে শনাক্ত করেন। মফিজুলের মেয়ে মাহফুজা খাতুন বলেন, চার দিন ধরে তাঁর বাবাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। বৃহস্পতিবার সকালে পুকুরপাড়ের কাঠালগাছের কাছে মরদেহটি ভাসতে দেখা যায়। এ ঘটনায় থানায় কোনো সাধারণ ডায়েরি করা হয়নি, তবে পুলিশকে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। স্থানীয়রা জানান, মফিজুল এক কন্যাসন্তানের বাবা। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাঁর স্ত্রী আগেই তাকে ছেড়ে চলে গেছেন। কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মফিজুল মৃগীরোগে আক্রান্ত ছিলেন। পুকুরের পানিতে তাঁর মরদেহ পাওয়া গেছে। মরদেহ উদ্ধারের পর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা হবে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানান ওসি।

নিখোঁজের চার দিন পর পুকুরে মিলল প্রতিবন্ধী মফিজুলের মরদেহ

দোকানি নেই, মানুষকে বিশ্বাস করেই ৪ বছর ধরে চলছে যে দোকান

দোকানের ঝাঁপ খোলা। সামনে সাজানো চা, পান, বিস্কুট, কেকসহ নানা পণ্য। পাশে চুলার ওপর চায়ের কেটলি। দোকানে প্রয়োজনীয় সবকিছু থাকলেও নেই কোনো দোকানি। চা খেতে বা পণ্য কিনতে আসা মানুষই এখানে ক্রেতা, আবার তাঁরাই বিক্রেতা। নিজের হাতে চা বানিয়ে খাচ্ছেন, পণ্য নিচ্ছেন এবং দাম হিসাব করে ক্যাশবাক্সে রেখে চলে যাচ্ছেন। কেউ প্রয়োজন হলে বাকিও নিচ্ছেন, পরে এসে পরিশোধ করছেন।এভাবেই ব্যতিক্রমী এই দোকানটি চলছে টানা চার বছর ধরে। দোকানটির অবস্থান ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার চারাতলা বাজারে।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দোকানে বসে কয়েক কাপ চা তৈরি করছেন বৃদ্ধ হারুনুর রশিদ। পাশে বেঞ্চে বসে আছেন আরও কয়েকজন। প্রথম দেখায় মনে হতে পারে, তিনিই দোকানি। তবে কিছুক্ষণ পর বোঝা গেল, তিনিও অন্যদের মতোই একজন ক্রেতা। নিজের জন্য চা বানানোর পাশাপাশি সঙ্গে থাকা অন্যদের জন্যও চা তৈরি করছেন তিনি। চা পান শেষে প্রত্যেকে নিজের বিল হিসাব করে টাকা রেখে চলে যাচ্ছেন।হারুনুর রশিদ বলেন, ‘দোকানে বেশির ভাগ সময় বিক্রেতা থাকেন না। চা খেতে ইচ্ছা করলে এসে নিজেই বানিয়ে নিই। সঙ্গে কেউ থাকলে তার জন্যও বানিয়ে দিই। খাওয়া শেষে যত টাকা বিল হয়, দোকানে রেখে চলে যাই। এই দোকানে কেউ কাউকে পাহারা দেয় না। কিন্তু সবাই নিজের দায়িত্ব বুঝে নেয়।’শুধু হারুনুর রশিদ নন, দোকানে আসা প্রায় সব ক্রেতাই একই নিয়ম মেনে চলেন। আফাঙ্গীর হোসেন নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘যাঁর যখন প্রয়োজন, তখন তিনিই দোকানদার। পণ্য নিয়ে বা চা খেয়ে দাম রেখে চলে যাচ্ছেন। টাকা না থাকলে পরে এসে পরিশোধ করছেন। চার বছর ধরে এভাবেই চলছে। পণ্য নিয়ে দাম না দেওয়ার ঘটনা সাধারণত ঘটে না। মানুষের সততার ওপরই দোকানটি চলছে।’মানুষের ওপর বিশ্বাস রেখেই শুরুএই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের পেছনে রয়েছেন পাশের ভালকি গ্রামের মৃত মুরাদ আলী মণ্ডলের ছেলে সমসের আলী। তিনিই দোকানটির মালিক।প্রতিদিন সকালে দোকান খুলে চা, বিস্কুট, কেকসহ প্রয়োজনীয় পণ্য সাজিয়ে রাখেন তিনি। চুলায় কেটলি বসিয়ে আগুন জ্বালিয়ে নিজের অন্য কাজে চলে যান। সময় পেলে দুপুরে এসে দোকানের অবস্থা দেখে যান। রাতে ফিরে সারা দিনের বেচাকেনার হিসাব মিলিয়ে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরেন।সমসের আলী জানান, একসময় তিনি চারাতলা বাজারে অনেকটা সময় কাটাতেন। তখন অন্যের দোকানে বসে না থেকে নিজেই একটি দোকান দেওয়ার চিন্তা করেন। কিন্তু অন্য ব্যবসার কারণে সারাক্ষণ দোকানে বসে থাকা তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না। কর্মচারী রাখার সামর্থ্য বা ইচ্ছাও ছিল না। শেষ পর্যন্ত মানুষের ওপর আস্থা রাখার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।সমসের আলী বলেন, ‘সকালে এসে দোকান খুলে পণ্য সাজিয়ে রাখি। চুলা জ্বেলে দিয়ে চলে যাই। যার যখন প্রয়োজন হয়, নিজের মতো করে চা-পান বানিয়ে খান। প্রতিদিন ৪০০-৫০০ টাকা লাভ হয়। মানুষের সততার ওপর ভরসা রেখেই দোকানটি চলছে। মানুষের ওপর এতটা ভরসা করেও কখনো ঠকতে হয়নি।’বিশ্বাস আর সততার গল্পসদর উপজেলার সাধুহাটি এলাকা থেকে চারাতলা বাজারে বেড়াতে আসা আব্দুল খালেকও দোকানটির এই ব্যবস্থা দেখে বিস্মিত। তিনি বলেন, ‘এমন ঘটনা খুবই বিরল। মানুষের প্রতি দোকানির বিশ্বাস আর মানুষের সততা আমাকে মুগ্ধ করেছে। মানুষ সৎ হলে জীবন কত সহজ আর সুন্দর হতে পারে, এখানে এসে সেটাই বুঝলাম।’চার বছর ধরে দোকানটি চলছে কোনো পাহারাদার বা বিক্রেতা ছাড়াই। চায়ের কাপে ধোঁয়া উঠছে, বসছে মানুষের আড্ডা; আর প্রতিদিনের লেনদেনে নীরবে টিকে আছে পারস্পরিক বিশ্বাস ও সততার এক ব্যতিক্রমী গল্প।

দোকানি নেই, মানুষকে বিশ্বাস করেই ৪ বছর ধরে চলছে যে দোকান