বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ
Topic Ads 1
ওয়াজ মাহফিল থেকে ফেরার পথে ডাকাতের কবলে রফিকুল ইসলাম মাদানী

ওয়াজ মাহফিল থেকে ফেরার পথে ডাকাতের কবলে রফিকুল ইসলাম মাদানী

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে এশিয়ান হাইওয়ে সড়কে ডাকাত দলের হামলার মুখে পড়েছেন ‘শিশু বক্তা’ নামে পরিচিত রফিকুল ইসলাম মাদানী। গতকাল রোববার রাতে কুমিল্লায় একটি ওয়াজ মাহফিল শেষে ঢাকায় ফেরার পথে উপজেলার পাকুন্ডা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে তিনি জানিয়েছেন। ফেসবুক লাইভে রফিকুল ইসলাম মাদানী বলেন, ‘বস্তল থেকে গাউসিয়াগামী সড়কের পাকুন্ডা এলাকায় পৌঁছালে একদল ডাকাত তাঁদের গাড়ির গতিরোধের চেষ্টা করে। এ সময় সড়কের ওপর বড় বড় ইট-পাথর ফেলে রাখা ছিল।’ মাদানী দাবি করেন, পরিস্থিতি বুঝতে পেরে চালক দ্রুত গাড়িটি প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ গজ পেছনে সরিয়ে নেন। চালকের উপস্থিত বুদ্ধি ও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে তাঁরা বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পান। মাদানী আরও দাবি করেন, ডাকাতেরা আশপাশের কয়েকজন যাত্রীর কাছ থেকে টাকা-পয়সা ও অন্যান্য মালামাল ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ডাকাতেরা দ্রুত পালিয়ে যায়। ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রফিকুল ইসলাম মাদানী বলেন, ওয়াজ মাহফিল শেষে ফেরার পথে এমন পরিস্থিতির মুখে পড়া উদ্বেগজনক। মহান আল্লাহর রহমতে তাঁরা প্রাণে বেঁচে গেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ সময় পুলিশের তৎপরতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই বক্তা। এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, পুলিশ দুই মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। পুলিশ কাছাকাছি উপস্থিত না থাকলে এত অল্প সময়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছানো সম্ভব হতো না। তবে, এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে, কারখানা ও পরিবহন খাতে স্বস্তি

নারায়ণগঞ্জে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ায় শিল্পকারখানা ও গণপরিবহন খাতে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। এক মাসের বেশি সময় গ্যাস সংকটে ভোগার পর গতকাল বুধবার থেকে গ্যাসের চাপ কিছুটা বাড়ায় কারখানাগুলোতে উৎপাদন বেড়েছে। তবে ব্যবসায়ীরা শতভাগ উৎপাদনের জন্য গ্যাসের চাপ আরও বাড়ানো এবং সরবরাহ স্থিতিশীল রাখার দাবি জানিয়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত ৫০ পিএসআই লাইনে এত দিন গ্যাসের চাপ ছিল ৩ থেকে ৪ পিএসআই। এতে কারখানাগুলোর উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসে। একই সঙ্গে খরচ ও অপচয়ের পরিমাণ বাড়ে। গ্যাসের চাপ কম থাকায় প্রতিষ্ঠান পরিচালকেরা সব মেশিন চালাতে পারতেন না। শ্রমিকদের অলস বসিয়ে রেখেই কারখানার কার্যক্রম চালাতে হতো। ফলে মালিকদের লোকসানের পরিমাণ বাড়ছিল। লোকসান ঠেকাতে অনেক কারখানা শ্রমিকদের ছুটি দিয়ে দিতে বাধ্য হয়। পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিলেন ব্যবসায়ীরা। গ্যাস সংকট মোকাবিলায় ব্যবসায়ীদের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার দাবিও জানিয়েছিলেন বিকেএমইএর প্রেসিডেন্ট। সরকারের পক্ষ থেকে গত সোমবার বলা হয়, মঙ্গলবার গ্যাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। তবে মঙ্গলবার পুরোপুরি স্বাভাবিক না হলেও বুধবার থেকে গ্যাসের চাপ বাড়তে শুরু করে। এতে কারখানাগুলোতে উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। ফতুল্লা ডাইং অ্যান্ড ক্যালেন্ডারিং মিলসের প্রধান প্রকৌশলী ফজলুল হক তুষার বলেন, ‘আমাদের এত দিন উৎপাদন হয়েছে ৫০ শতাংশ। গ্যাসের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ উৎপাদন করা যাচ্ছে। বর্তমানে আমরা মেইন লাইনে ৮ পিএসআই চাপের গ্যাস পাচ্ছি। এটি যদি ১৫ পিএসআই পর্যন্ত উন্নীত হয়, তাহলে শতভাগ উৎপাদনে যাওয়া সম্ভব। আমাদের প্রতিদিন ১৮ টন কাপড় প্রস্তুত করার সক্ষমতা রয়েছে। এত দিন ৮ থেকে ৯ টন কাপড় প্রস্তুত হতো। আজ আমরা ১৩ টনের মতো কাপড় প্রস্তুত করতে পেরেছি।’ গ্যাসের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বস্তি ফিরেছে পরিবহন খাতেও। এত দিন পাম্পে গ্যাস থাকলেও চাপ কম থাকায় চালকেরা পর্যাপ্ত গ্যাস নিতে পারতেন না। অল্প পরিমাণ গ্যাস নিয়ে বারবার রিফুয়েলিংয়ের জন্য লাইনে দাঁড়াতে হতো। ফলে সময় অপচয় হতো বেশি, ভাড়া খাটতে পারত কম। গতকাল সকাল থেকে গ্যাসের চাপ বাড়ায় চালকেরা গাড়িতে বেশি পরিমাণ গ্যাস নিতে পেরেছেন। ফলে স্বস্তি নিয়ে গাড়ি চালাতে পেরেছেন তাঁরা। বিকেএমইএর পরিচালক মিনহাজুল হক বলেন, ‘গ্যাসের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় আমাদের কারখানাগুলোতে উৎপাদন বেড়েছে। তবে সেটা শতভাগ নয়। শতভাগ উৎপাদনের জন্য গ্যাসের চাপ আরও বাড়ানো এবং এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার অনুরোধ থাকবে সরকারের কাছে।’

গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে, কারখানা ও পরিবহন খাতে স্বস্তি

বিএনপি সরকার জনগণের সঙ্গে ভাঁওতাবাজি করছে: ডা. শফিকুর রহমান

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘নারায়ণগঞ্জবাসী, আপনাদের কি ২০২৪ সালের কথা মনে পড়ে? স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে এই রাস্তায় রক্ত ঢেলেছেন, মনে পড়ে? আপনাদের সঙ্গে লড়াই করা শহীদ সঙ্গীদের দাবি পূরণ হয়েছে? হয়নি। আর সেই দাবি পূরণ করার জন্যই আমরা রাস্তায় নেমেছি। দাবি পূরণ করেই আমরা ঘরে ফিরব।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের রাস্তায় নামার কারণ হলো গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, ’২৪-এর চার্টার বাস্তবায়ন, আপনাদের জুলাই ফিরিয়ে দেওয়া এবং মানুষের ঘরে বিদ্যুৎ ও বাতি জ্বালানোর ব্যবস্থা করা।’ গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-গ্যাস ও সারসংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন এবং দলীয়করণ বন্ধসহ ছয় দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই সরকার জনগণের সঙ্গে ভাঁওতাবাজি করছে। প্রতারণা করছে এবং কথা দিয়ে কথার বরখেলাপ করছে। জনগণ তাদের ক্ষমা করবে না। ১১ দল আপনাদের পাশে আছে, আপনারাও আমাদের সঙ্গে থাকবেন। দেখবেন, ইনশা আল্লাহ আমাদের ঐক্যবদ্ধ এই প্রয়াস, এই চেষ্টা আল্লাহ কবুল করবেন এবং আমরা সফল হয়ে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ব, ইনশা আল্লাহ।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এই লংমার্চ আজ শুরু হলেও এটি শেষ নয়। আমরা বিজয় নিয়েই ঘরে ফিরব।’ নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি মাওলানা আবদুল জব্বারের সভাপতিত্বে পথসভায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় এনপিপি নেতা ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমীন, এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, কেন্দ্রীয় খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক, নারায়ণগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি এবং এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

বিএনপি সরকার জনগণের সঙ্গে ভাঁওতাবাজি করছে: ডা. শফিকুর রহমান

লকআপে বসেই ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান, দুই পুলিশকে প্রত্যাহার

সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের পক্ষে মিছিলের প্রস্তুতির সময় আটক ১০ কিশোর-তরুণ থানা হাজতে বসে স্লোগানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানার ভেতরে এ ঘটনা ঘটে বলে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে। ভিডিওটি ‘আজমেরী ওসমান’ নামে একটি ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়েছে। পুলিশি হেফাজতে থাকা ব্যক্তিরা হাজতের ভেতরে মোবাইল ফোন কীভাবে পেলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।  এ ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।  তারা হলেন-ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম ও কনস্টেবল জাহাঙ্গীর হোসেন। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে এক তরুণকে কিছু বক্তব্য দেওয়ার পর ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলতে শোনা যায়। এরপর সেখানে থাকা অন্য তরুণেরাও একই স্লোগান দেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ মহাসড়কের সাইনবোর্ড এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ব্যানারে মিছিলের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল।  এর আগে, গ্র্যান্ড চাঁদনী রেস্টুরেন্টের বিপরীতে ঢাকামুখী প্রধান সড়ক থেকে ১০ জনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের বয়স ১৫ থেকে ২০ বছরের মধ্যে। তাদের একজন নগরীর পাইকপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং বাকিরা ফতুল্লার বিসিক এলাকার বাসিন্দা। আটকের পর তাদের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে মামলা করা হয় এবং রোববার সকালে তাদের আদালতে পাঠানো হয় বলেও জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন ফেরদৌস (১৮), আবরার আহম্মেদ (১৮), ইয়াসিন (১৮), রাব্বি (২০), শিমুল (২০) ও নয়ন (১৮)। এ ছাড়া বাকি চারজন অপ্রাপ্তবয়স্ক। সবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়া ও ফতুল্লার পঞ্চবটি বিসিক এলাকায়। ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুব আলম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনটির পক্ষে মিছিলের প্রস্তুতির সময় শনিবার রাতে ওই ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাদের থানার হাজতখানায় রাখা হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী আটকের বিষয়টি অভিভাবকদের ফোন করে জানানোর কথা। ওসি বলেন, থানার হাজতখানায় থাকা অবস্থায় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য এসআই মনিরুল ইসলাম সরল বিশ্বাসে তাদের মুঠোফোন ব্যবহার করতে দিয়েছিলেন। কোনো এক ফাঁকে তারা কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনটির পক্ষে স্লোগান দিয়ে ভিডিও ধারণ করেন এবং তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন। এদিকে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের গতকাল আদালতে হাজির করা হলে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয় তাদের। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে তাদের বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ।

লকআপে বসেই ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান, দুই পুলিশকে প্রত্যাহার

নিখোঁজের পর পুকুর থেকে একে একে তোলা হলো ৪ কন্যাশিশুর মরদেহ

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে পুকুরের পানিতে ডুবে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার দুপ্তারা ইউনিয়নের খানপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। একই সাথে চারশিশুর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।  মৃত শিশুরা হলো—ওজাইফা (১০), আফসা (১২), রিয়া মনি (৮) ও রুবাইয়া (৮)। তাদের বাড়ি দুপ্তারা খানপাড়া এলাকায়। নিহতদের মধ্যে ওজাইফার ওই এলাকার আলআমিন, আফসা একই এলাকার মুন্না এবং রিয়া মনির একই এলাকার জাহাঙ্গীর ও রুবাইয়ার একই এলাকার রাকিবের মেয়ে। তারা সবাই স্থানীয় স্কুলের বিভিন্ন শ্রেণীতে পড়ালেখা করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে শিশুদের বাড়িতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে মুন্নার বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ে শিশুদের জুতা-স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখে তাদের সন্দেহ হয়। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন পুকুরে নেমে চার শিশুকে পানির নিচ থেকে উদ্ধার করেন। সন্ধ্যায় উদ্ধারের পর দুই শিশুকে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং অপর দুই শিশুকে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চার শিশুকেই মৃত ঘোষণা করেন। এলাকাবাসী জানায় তারা, চারজন একই সঙ্গে গোসল করতে নেমেছিলেন।  আড়াইহাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মেহেদী হাসান  শিমুল জানান, দুটি শিশুর আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স  ও অন্য দুই শিশু ক্লিনিকে নিয়েছে। চারজনই হাসপাতালে আনার আগেই  মারা গেছে।  আড়াইহাজার থানার ওসি মো. সবজেল হোসেন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ নেই। মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের করা হয়েছে।

নিখোঁজের পর পুকুর থেকে একে একে তোলা হলো ৪ কন্যাশিশুর মরদেহ

ভাবিকে পিটিয়ে খুন, দেবরসহ গ্রেফতার ৩

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে নাসিমা বেগম (৪৫) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর দেবর ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহতের দেবর আলাল মিয়াসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের আমলাবো এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত নাসিমা বেগম আমলাবো এলাকার বাবুল মীরের স্ত্রী। তাঁদের সংসারে তিন ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে।গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—নিহত নাসিমা বেগমের দেবর আলাল মিয়া, তাঁর স্ত্রী জোসনা বেগম এবং মেয়ের জামাই শাকিল মিয়া।রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন জানান, আমলাবো এলাকায় বাবুল মীর তাঁর জমিতে একটি ভবন নির্মাণ করছিলেন। ভবন নির্মাণের সময় জমির সীমানা নিয়ে তাঁর ভাই আলাল মিয়া আপত্তি জানান। এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে বেশ কয়েক দিন ধরে বিরোধ চলছিল।বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিয়ে নাসিমা বেগমের সঙ্গে আলাল মিয়ার তর্ক-বিতর্ক হয়। একপর্যায়ে আলাল মিয়া, জোসনা বেগম, শাকিল মিয়াসহ কয়েকজন নাসিমা বেগমকে রড দিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।পরে তাঁকে মুমূর্ষু অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।এ ঘটনায় পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে রূপগঞ্জ থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়েরের পর আলাল মিয়া, জোসনা বেগম ও শাকিল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওসি জানান, ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। গ্রেপ্তার তিনজনকে নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ভাবিকে পিটিয়ে খুন, দেবরসহ গ্রেফতার ৩

গ্যাসের চাপ না থাকায় থমকে গেছে কারখানার চাকা

দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে তীব্র গ্যাস সংকটে ব্যাহত হচ্ছে শিল্পকারখানার স্বাভাবিক উৎপাদন। দিনের ১৮ থেকে ১৯ ঘণ্টাই প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ না থাকায় কোনো কোনো কারখানায় উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। আবার কোথাও মেশিন বন্ধ রেখে শ্রমিক-কর্মচারীদের বসিয়ে বেতন দিতে হচ্ছে।শিল্পসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, গ্যাসের স্বল্পচাপে রূপগঞ্জসহ নারায়ণগঞ্জের অন্তত ২২টি শিল্পকারখানায় উৎপাদন সক্ষমতা ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্পিনিং, নিটিং, ডাইং, টেক্সটাইল ও পোশাকশিল্প। গ্যাসনির্ভর মেশিন ও ক্যাপটিভ জেনারেটর স্বাভাবিকভাবে চালাতে না পারায় অনেক প্রতিষ্ঠান পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না।উদ্যোক্তারা বলছেন, উৎপাদন কমলেও শ্রমিকের বেতন, ব্যাংকঋণের সুদ, রক্ষণাবেক্ষণ ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় কমছে না। বরং বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে গিয়ে বাড়ছে অতিরিক্ত খরচ। এতে প্রতিদিনই লোকসানের পরিমাণ বাড়ছে। সংকট দীর্ঘায়িত হলে কারখানা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে শ্রমিক ছাঁটাই ও কর্মসংস্থান সংকটের আশঙ্কাও রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত গ্যাস সংকটের কারণে রূপগঞ্জে কোনো নির্দিষ্ট কারখানা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।রূপগঞ্জের ভুলতা এলাকার লিটল স্টার স্পিনিং মিলের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বলেন, প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে গ্যাসের চাপ খুবই কম। কারখানাটির অনুমোদিত গ্যাসচাপ ১০ পিএসআই হলেও পিক আওয়ারে তা এক থেকে দেড় পিএসআইয়ে নেমে আসে। কখনো কখনো লাইনে গ্যাসও থাকে না। এতে দৈনিক ২৬ হাজার পাউন্ড সুতা উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে উৎপাদন প্রায় ১৫ হাজার পাউন্ডে নেমেছে। প্রতি পাউন্ড সুতায় তাদের প্রায় ২৭ টাকা পর্যন্ত লোকসান হচ্ছে বলেও জানান তিনি।কাতরারচকের গ্রামটেক নিট ডাইং অ্যান্ড ফিনিশিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের সিনিয়র ম্যানেজার আইয়ুব হোসেন বলেন, গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে স্বাভাবিকভাবে জেনারেটর চালানো যাচ্ছে না। কারখানা সচল রাখতে সিএনজি স্টেশন থেকে বোতলে করে গ্যাস এনে পাইপের সঙ্গে সংযোগ দিয়ে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে। এরপরও মাঝেমধ্যে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।বরপা এলাকার একটি নিটিং, ডাইং ও ফিনিশিং কারখানার দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, গ্যাসের চাপ কম থাকায় জেনারেটর চালাতে ডিজেল ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে মাসে প্রায় এক কোটি টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। তারপরও উৎপাদন কমেছে প্রায় ২০ শতাংশ।সিএনজি স্টেশনেও সংকটশিল্পকারখানার পাশাপাশি গ্যাস সংকটে রূপগঞ্জের সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোর কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলার চারটি ফিলিং স্টেশনের কোনোটিতেই স্বাভাবিকভাবে গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।কোনো কোনো দিন গভীর রাতে মাত্র পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা গ্যাস পাওয়া যায়। দিনের বাকি ১৮ থেকে ১৯ ঘণ্টা স্টেশনগুলো বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে মালিকরা লোকসানের মুখে পড়ার পাশাপাশি গ্যাসের জন্য চালকদেরও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।রংধনু ফিলিং স্টেশনের প্রকৌশলী মশিউর রহমান জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানে ১৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। দীর্ঘসময় স্টেশন বন্ধ থাকলেও এখন পর্যন্ত কাউকে ছাঁটাই করা হয়নি। মালিকপক্ষ লোকসান বহন করে প্রতিষ্ঠানটি সচল রাখার চেষ্টা করছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে প্রতিষ্ঠানটি আবার লাভজনক অবস্থায় ফিরবে—এমন আশাতেই কর্মীদের ধরে রাখা হয়েছে।শ্রমিকদের কাজ কমলেও বেতন দিতে হচ্ছেনাবিল গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক নাঈম ভূঁইয়া বলেন, তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টাই উৎপাদন বন্ধ রাখতে হচ্ছে। প্রায় এক হাজার ২০০ শ্রমিকের হাতে পর্যাপ্ত কাজ না থাকলেও তাদের বেতন দিতে হচ্ছে। এভাবে লোকসান অব্যাহত থাকলে প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।শাহরিয়ার টেক্সটাইলের মালিক তারিকুল ইসলাম শাকিল ভূঁইয়া বলেন, গ্যাস সংকট এখন জাতীয় দুর্যোগের মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছে। বর্তমানে কারখানার চার ভাগের এক ভাগ চালু রেখে বাকি অংশ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে কোনো শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়নি।মশিউর স্পিনিং অ্যান্ড টেক্সটাইলের মালিক মশিউর রহমান ভূঁইয়া বলেন, গ্যাসচালিত জেনারেটর প্রায় সারাদিন বন্ধ থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। লোডশেডিংয়ের কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। প্রায় দুই হাজার শ্রমিককে এখন পর্যন্ত ছাঁটাই করা হয়নি। তবে প্রায় ১২ ঘণ্টা কাজ না থাকলেও তাদের বসিয়ে রেখে বেতন দিতে হচ্ছে।এ-ওয়ান পোলার লিমিটেডের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. শাহেদ হোসাইন বলেন, গ্যাস সংকটের প্রভাব শ্রমিকদের আয়েও পড়েছে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় অনেক কারখানায় অতিরিক্ত সময়ের কাজ বন্ধ রয়েছে। ফলে শ্রমিকদের বাড়তি আয়ও কমে গেছে।রপ্তানিতেও বাড়ছে শঙ্কাগ্যাস সংকটের কারণে রপ্তানিমুখী শিল্পেও উদ্বেগ বাড়ছে। নির্ধারিত সময়ে উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহ করতে না পারলে বিদেশি ক্রেতাদের অর্ডার হারানোর আশঙ্কা করছেন উদ্যোক্তারা। বিশেষ করে স্পিনিং, নিটিং ও ডাইং শিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হলে এর প্রভাব তৈরি পোশাকশিল্পের পুরো সরবরাহব্যবস্থায় পড়তে পারে।বিটিএমএর সাবেক সহসভাপতি মো. সালেউদ জামান খান বলেন, রূপগঞ্জ দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি শিল্পাঞ্চল। এখানকার উৎপাদন ব্যাহত হলে এর প্রভাব রপ্তানি আয় ও জাতীয় অর্থনীতিতেও পড়বে। পরিবহন খাতও গ্যাস সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই দ্রুত সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, সাময়িকভাবে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করে উৎপাদন চালু রাখা গেলেও দীর্ঘদিন এভাবে কারখানা পরিচালনা করা সম্ভব নয়। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমবে এবং রপ্তানি ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।সংশ্লিষ্ট গ্যাস বিতরণকারী সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়া এবং লাইনের সংস্কারকাজ চলমান থাকায় সাময়িকভাবে গ্যাসের চাপ কমেছে। সংস্কারকাজ শেষ হলে ধীরে ধীরে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছেন তারা। উদ্যোক্তাদের দাবি, লোকসান হলেও তারা এখন পর্যন্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। তবে গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে এই পরিস্থিতি কতদিন ধরে রাখা সম্ভব হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। শিল্পকারখানা ও কর্মসংস্থান রক্ষায় দ্রুত প্রয়োজনীয় চাপসহ নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

গ্যাসের চাপ না থাকায় থমকে গেছে কারখানার চাকা

তিন সন্তান রেখে প্রবাসীর টাকা-স্বর্ণালংকার নিয়ে কথিত প্রেমিকসহ লাপাত্তা স্ত্রী

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে মালয়েশিয়াপ্রবাসী এক ব্যক্তির স্ত্রীকে প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্কের জেরে গোপনে তালাক দেওয়ার পর কথিত প্রেমিকের সঙ্গে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় প্রবাসী স্বামীর পাঠানো প্রায় ২০ লাখ টাকা ও ১১ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে ওই নারীসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।বুধবার (১২ আগস্ট) আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সবজেল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে মঙ্গলবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—আড়াইহাজার পৌরসভার নোয়াপাড়া এলাকার রুমা আক্তার (৩২) ও একই এলাকার কবির হোসেন (৪০)।এ ঘটনায় রুমা আক্তারের স্বামী মনির হোসেনের ভাগনে মো. রিফাত মিয়া (২৪) বাদী হয়ে আড়াইহাজার থানায় মামলা করেছেন।মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২৫ বছর আগে রুমা আক্তারের সঙ্গে মালয়েশিয়াপ্রবাসী মনির হোসেনের বিয়ে হয়। তাদের দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। প্রায় চার বছর আগে মনির হোসেন আবার মালয়েশিয়ায় চলে যান। এরপর থেকে তিনি নিয়মিত উপার্জনের টাকা স্ত্রী রুমা আক্তারের কাছে পাঠাতেন।এজাহারে অভিযোগ করা হয়, স্বামী বিদেশে থাকার সুযোগে রুমা আক্তার প্রতিবেশী কবির হোসেনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে গত ২ জানুয়ারি গোপনে মনির হোসেনকে তালাক দেন তিনি। তবে বিষয়টি স্বামীকে না জানিয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন এবং জমি কেনার কথা বলে টাকা ও স্বর্ণালংকার নেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।মামলার নথি অনুযায়ী, প্রায় চার বছরে মনির হোসেন স্ত্রীকে প্রায় ২০ লাখ টাকা এবং প্রায় পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার পাঠান। এসব স্বর্ণালংকারের আনুমানিক মূল্য ১১ লাখ টাকা।বাদীর অভিযোগ, গত ৭ আগস্ট রুমা আক্তার ও কবির হোসেন ওই টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে বাড়ি থেকে চলে যান। চার দিন পর ১১ আগস্ট সকালে তারা কবির হোসেনের বাড়িতে ফিরে এলে বিষয়টি জানাজানি হয়।স্থানীয়রা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা বিয়ে করেছেন বলে জানান। একই সময় রুমা আক্তার তার প্রবাসী স্বামীকে তালাক দেওয়ার বিষয়টিও প্রকাশ করেন।পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তারা এতে রাজি হননি বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় মামলা বা মীমাংসার চেষ্টা করা হলে বাদী ও রুমা আক্তারের সন্তানদের হত্যার পর লাশ গুম করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।পরে স্থানীয়রা দুজনকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের থানায় নিয়ে আসে। এরপর রিফাত মিয়া বাদী হয়ে মামলা করেন। আড়াইহাজার থানার ওসি মো. সবজেল হোসেন বলেন, মামলার পর রুমা আক্তার ও কবির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিন সন্তান রেখে  প্রবাসীর টাকা-স্বর্ণালংকার নিয়ে কথিত প্রেমিকসহ লাপাত্তা স্ত্রী