শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ

গ্যাসের চাপ না থাকায় থমকে গেছে কারখানার চাকা


ডেক্স রিপোর্ট
ডেক্স রিপোর্ট

গ্যাসের চাপ না থাকায় থমকে গেছে কারখানার চাকা
ছবি: সংগৃহীত

দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে তীব্র গ্যাস সংকটে ব্যাহত হচ্ছে শিল্পকারখানার স্বাভাবিক উৎপাদন। দিনের ১৮ থেকে ১৯ ঘণ্টাই প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ না থাকায় কোনো কোনো কারখানায় উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। আবার কোথাও মেশিন বন্ধ রেখে শ্রমিক-কর্মচারীদের বসিয়ে বেতন দিতে হচ্ছে।

শিল্পসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, গ্যাসের স্বল্পচাপে রূপগঞ্জসহ নারায়ণগঞ্জের অন্তত ২২টি শিল্পকারখানায় উৎপাদন সক্ষমতা ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্পিনিং, নিটিং, ডাইং, টেক্সটাইল ও পোশাকশিল্প। গ্যাসনির্ভর মেশিন ও ক্যাপটিভ জেনারেটর স্বাভাবিকভাবে চালাতে না পারায় অনেক প্রতিষ্ঠান পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না।

উদ্যোক্তারা বলছেন, উৎপাদন কমলেও শ্রমিকের বেতন, ব্যাংকঋণের সুদ, রক্ষণাবেক্ষণ ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় কমছে না। বরং বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে গিয়ে বাড়ছে অতিরিক্ত খরচ। এতে প্রতিদিনই লোকসানের পরিমাণ বাড়ছে। সংকট দীর্ঘায়িত হলে কারখানা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে শ্রমিক ছাঁটাই ও কর্মসংস্থান সংকটের আশঙ্কাও রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত গ্যাস সংকটের কারণে রূপগঞ্জে কোনো নির্দিষ্ট কারখানা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।

রূপগঞ্জের ভুলতা এলাকার লিটল স্টার স্পিনিং মিলের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বলেন, প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে গ্যাসের চাপ খুবই কম। কারখানাটির অনুমোদিত গ্যাসচাপ ১০ পিএসআই হলেও পিক আওয়ারে তা এক থেকে দেড় পিএসআইয়ে নেমে আসে। কখনো কখনো লাইনে গ্যাসও থাকে না। এতে দৈনিক ২৬ হাজার পাউন্ড সুতা উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে উৎপাদন প্রায় ১৫ হাজার পাউন্ডে নেমেছে। প্রতি পাউন্ড সুতায় তাদের প্রায় ২৭ টাকা পর্যন্ত লোকসান হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

কাতরারচকের গ্রামটেক নিট ডাইং অ্যান্ড ফিনিশিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের সিনিয়র ম্যানেজার আইয়ুব হোসেন বলেন, গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে স্বাভাবিকভাবে জেনারেটর চালানো যাচ্ছে না। কারখানা সচল রাখতে সিএনজি স্টেশন থেকে বোতলে করে গ্যাস এনে পাইপের সঙ্গে সংযোগ দিয়ে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে। এরপরও মাঝেমধ্যে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

বরপা এলাকার একটি নিটিং, ডাইং ও ফিনিশিং কারখানার দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, গ্যাসের চাপ কম থাকায় জেনারেটর চালাতে ডিজেল ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে মাসে প্রায় এক কোটি টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। তারপরও উৎপাদন কমেছে প্রায় ২০ শতাংশ।

সিএনজি স্টেশনেও সংকট

শিল্পকারখানার পাশাপাশি গ্যাস সংকটে রূপগঞ্জের সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোর কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলার চারটি ফিলিং স্টেশনের কোনোটিতেই স্বাভাবিকভাবে গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

কোনো কোনো দিন গভীর রাতে মাত্র পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা গ্যাস পাওয়া যায়। দিনের বাকি ১৮ থেকে ১৯ ঘণ্টা স্টেশনগুলো বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে মালিকরা লোকসানের মুখে পড়ার পাশাপাশি গ্যাসের জন্য চালকদেরও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

রংধনু ফিলিং স্টেশনের প্রকৌশলী মশিউর রহমান জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানে ১৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। দীর্ঘসময় স্টেশন বন্ধ থাকলেও এখন পর্যন্ত কাউকে ছাঁটাই করা হয়নি। মালিকপক্ষ লোকসান বহন করে প্রতিষ্ঠানটি সচল রাখার চেষ্টা করছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে প্রতিষ্ঠানটি আবার লাভজনক অবস্থায় ফিরবে—এমন আশাতেই কর্মীদের ধরে রাখা হয়েছে।

শ্রমিকদের কাজ কমলেও বেতন দিতে হচ্ছে

নাবিল গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক নাঈম ভূঁইয়া বলেন, তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টাই উৎপাদন বন্ধ রাখতে হচ্ছে। প্রায় এক হাজার ২০০ শ্রমিকের হাতে পর্যাপ্ত কাজ না থাকলেও তাদের বেতন দিতে হচ্ছে। এভাবে লোকসান অব্যাহত থাকলে প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

শাহরিয়ার টেক্সটাইলের মালিক তারিকুল ইসলাম শাকিল ভূঁইয়া বলেন, গ্যাস সংকট এখন জাতীয় দুর্যোগের মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছে। বর্তমানে কারখানার চার ভাগের এক ভাগ চালু রেখে বাকি অংশ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে কোনো শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়নি।

মশিউর স্পিনিং অ্যান্ড টেক্সটাইলের মালিক মশিউর রহমান ভূঁইয়া বলেন, গ্যাসচালিত জেনারেটর প্রায় সারাদিন বন্ধ থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। লোডশেডিংয়ের কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। প্রায় দুই হাজার শ্রমিককে এখন পর্যন্ত ছাঁটাই করা হয়নি। তবে প্রায় ১২ ঘণ্টা কাজ না থাকলেও তাদের বসিয়ে রেখে বেতন দিতে হচ্ছে।

এ-ওয়ান পোলার লিমিটেডের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. শাহেদ হোসাইন বলেন, গ্যাস সংকটের প্রভাব শ্রমিকদের আয়েও পড়েছে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় অনেক কারখানায় অতিরিক্ত সময়ের কাজ বন্ধ রয়েছে। ফলে শ্রমিকদের বাড়তি আয়ও কমে গেছে।

রপ্তানিতেও বাড়ছে শঙ্কা

গ্যাস সংকটের কারণে রপ্তানিমুখী শিল্পেও উদ্বেগ বাড়ছে। নির্ধারিত সময়ে উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহ করতে না পারলে বিদেশি ক্রেতাদের অর্ডার হারানোর আশঙ্কা করছেন উদ্যোক্তারা। বিশেষ করে স্পিনিং, নিটিং ও ডাইং শিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হলে এর প্রভাব তৈরি পোশাকশিল্পের পুরো সরবরাহব্যবস্থায় পড়তে পারে।

বিটিএমএর সাবেক সহসভাপতি মো. সালেউদ জামান খান বলেন, রূপগঞ্জ দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি শিল্পাঞ্চল। এখানকার উৎপাদন ব্যাহত হলে এর প্রভাব রপ্তানি আয় ও জাতীয় অর্থনীতিতেও পড়বে। পরিবহন খাতও গ্যাস সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই দ্রুত সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, সাময়িকভাবে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করে উৎপাদন চালু রাখা গেলেও দীর্ঘদিন এভাবে কারখানা পরিচালনা করা সম্ভব নয়। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমবে এবং রপ্তানি ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সংশ্লিষ্ট গ্যাস বিতরণকারী সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়া এবং লাইনের সংস্কারকাজ চলমান থাকায় সাময়িকভাবে গ্যাসের চাপ কমেছে। সংস্কারকাজ শেষ হলে ধীরে ধীরে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছেন তারা।

উদ্যোক্তাদের দাবি, লোকসান হলেও তারা এখন পর্যন্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। তবে গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে এই পরিস্থিতি কতদিন ধরে রাখা সম্ভব হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। শিল্পকারখানা ও কর্মসংস্থান রক্ষায় দ্রুত প্রয়োজনীয় চাপসহ নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বিষয় : নারায়ণগঞ্জ

বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ

শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬


গ্যাসের চাপ না থাকায় থমকে গেছে কারখানার চাকা

প্রকাশের তারিখ : ১৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে তীব্র গ্যাস সংকটে ব্যাহত হচ্ছে শিল্পকারখানার স্বাভাবিক উৎপাদন। দিনের ১৮ থেকে ১৯ ঘণ্টাই প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ না থাকায় কোনো কোনো কারখানায় উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। আবার কোথাও মেশিন বন্ধ রেখে শ্রমিক-কর্মচারীদের বসিয়ে বেতন দিতে হচ্ছে।

শিল্পসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, গ্যাসের স্বল্পচাপে রূপগঞ্জসহ নারায়ণগঞ্জের অন্তত ২২টি শিল্পকারখানায় উৎপাদন সক্ষমতা ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্পিনিং, নিটিং, ডাইং, টেক্সটাইল ও পোশাকশিল্প। গ্যাসনির্ভর মেশিন ও ক্যাপটিভ জেনারেটর স্বাভাবিকভাবে চালাতে না পারায় অনেক প্রতিষ্ঠান পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না।

উদ্যোক্তারা বলছেন, উৎপাদন কমলেও শ্রমিকের বেতন, ব্যাংকঋণের সুদ, রক্ষণাবেক্ষণ ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় কমছে না। বরং বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে গিয়ে বাড়ছে অতিরিক্ত খরচ। এতে প্রতিদিনই লোকসানের পরিমাণ বাড়ছে। সংকট দীর্ঘায়িত হলে কারখানা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে শ্রমিক ছাঁটাই ও কর্মসংস্থান সংকটের আশঙ্কাও রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত গ্যাস সংকটের কারণে রূপগঞ্জে কোনো নির্দিষ্ট কারখানা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।

রূপগঞ্জের ভুলতা এলাকার লিটল স্টার স্পিনিং মিলের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বলেন, প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে গ্যাসের চাপ খুবই কম। কারখানাটির অনুমোদিত গ্যাসচাপ ১০ পিএসআই হলেও পিক আওয়ারে তা এক থেকে দেড় পিএসআইয়ে নেমে আসে। কখনো কখনো লাইনে গ্যাসও থাকে না। এতে দৈনিক ২৬ হাজার পাউন্ড সুতা উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে উৎপাদন প্রায় ১৫ হাজার পাউন্ডে নেমেছে। প্রতি পাউন্ড সুতায় তাদের প্রায় ২৭ টাকা পর্যন্ত লোকসান হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

কাতরারচকের গ্রামটেক নিট ডাইং অ্যান্ড ফিনিশিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের সিনিয়র ম্যানেজার আইয়ুব হোসেন বলেন, গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে স্বাভাবিকভাবে জেনারেটর চালানো যাচ্ছে না। কারখানা সচল রাখতে সিএনজি স্টেশন থেকে বোতলে করে গ্যাস এনে পাইপের সঙ্গে সংযোগ দিয়ে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে। এরপরও মাঝেমধ্যে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

বরপা এলাকার একটি নিটিং, ডাইং ও ফিনিশিং কারখানার দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, গ্যাসের চাপ কম থাকায় জেনারেটর চালাতে ডিজেল ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে মাসে প্রায় এক কোটি টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। তারপরও উৎপাদন কমেছে প্রায় ২০ শতাংশ।

সিএনজি স্টেশনেও সংকট

শিল্পকারখানার পাশাপাশি গ্যাস সংকটে রূপগঞ্জের সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোর কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলার চারটি ফিলিং স্টেশনের কোনোটিতেই স্বাভাবিকভাবে গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

কোনো কোনো দিন গভীর রাতে মাত্র পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা গ্যাস পাওয়া যায়। দিনের বাকি ১৮ থেকে ১৯ ঘণ্টা স্টেশনগুলো বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে মালিকরা লোকসানের মুখে পড়ার পাশাপাশি গ্যাসের জন্য চালকদেরও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

রংধনু ফিলিং স্টেশনের প্রকৌশলী মশিউর রহমান জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানে ১৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। দীর্ঘসময় স্টেশন বন্ধ থাকলেও এখন পর্যন্ত কাউকে ছাঁটাই করা হয়নি। মালিকপক্ষ লোকসান বহন করে প্রতিষ্ঠানটি সচল রাখার চেষ্টা করছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে প্রতিষ্ঠানটি আবার লাভজনক অবস্থায় ফিরবে—এমন আশাতেই কর্মীদের ধরে রাখা হয়েছে।

শ্রমিকদের কাজ কমলেও বেতন দিতে হচ্ছে

নাবিল গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক নাঈম ভূঁইয়া বলেন, তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টাই উৎপাদন বন্ধ রাখতে হচ্ছে। প্রায় এক হাজার ২০০ শ্রমিকের হাতে পর্যাপ্ত কাজ না থাকলেও তাদের বেতন দিতে হচ্ছে। এভাবে লোকসান অব্যাহত থাকলে প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

শাহরিয়ার টেক্সটাইলের মালিক তারিকুল ইসলাম শাকিল ভূঁইয়া বলেন, গ্যাস সংকট এখন জাতীয় দুর্যোগের মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছে। বর্তমানে কারখানার চার ভাগের এক ভাগ চালু রেখে বাকি অংশ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে কোনো শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়নি।

মশিউর স্পিনিং অ্যান্ড টেক্সটাইলের মালিক মশিউর রহমান ভূঁইয়া বলেন, গ্যাসচালিত জেনারেটর প্রায় সারাদিন বন্ধ থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। লোডশেডিংয়ের কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। প্রায় দুই হাজার শ্রমিককে এখন পর্যন্ত ছাঁটাই করা হয়নি। তবে প্রায় ১২ ঘণ্টা কাজ না থাকলেও তাদের বসিয়ে রেখে বেতন দিতে হচ্ছে।

এ-ওয়ান পোলার লিমিটেডের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. শাহেদ হোসাইন বলেন, গ্যাস সংকটের প্রভাব শ্রমিকদের আয়েও পড়েছে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় অনেক কারখানায় অতিরিক্ত সময়ের কাজ বন্ধ রয়েছে। ফলে শ্রমিকদের বাড়তি আয়ও কমে গেছে।

রপ্তানিতেও বাড়ছে শঙ্কা

গ্যাস সংকটের কারণে রপ্তানিমুখী শিল্পেও উদ্বেগ বাড়ছে। নির্ধারিত সময়ে উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহ করতে না পারলে বিদেশি ক্রেতাদের অর্ডার হারানোর আশঙ্কা করছেন উদ্যোক্তারা। বিশেষ করে স্পিনিং, নিটিং ও ডাইং শিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হলে এর প্রভাব তৈরি পোশাকশিল্পের পুরো সরবরাহব্যবস্থায় পড়তে পারে।

বিটিএমএর সাবেক সহসভাপতি মো. সালেউদ জামান খান বলেন, রূপগঞ্জ দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি শিল্পাঞ্চল। এখানকার উৎপাদন ব্যাহত হলে এর প্রভাব রপ্তানি আয় ও জাতীয় অর্থনীতিতেও পড়বে। পরিবহন খাতও গ্যাস সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই দ্রুত সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, সাময়িকভাবে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করে উৎপাদন চালু রাখা গেলেও দীর্ঘদিন এভাবে কারখানা পরিচালনা করা সম্ভব নয়। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমবে এবং রপ্তানি ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সংশ্লিষ্ট গ্যাস বিতরণকারী সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়া এবং লাইনের সংস্কারকাজ চলমান থাকায় সাময়িকভাবে গ্যাসের চাপ কমেছে। সংস্কারকাজ শেষ হলে ধীরে ধীরে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছেন তারা।

উদ্যোক্তাদের দাবি, লোকসান হলেও তারা এখন পর্যন্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। তবে গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে এই পরিস্থিতি কতদিন ধরে রাখা সম্ভব হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। শিল্পকারখানা ও কর্মসংস্থান রক্ষায় দ্রুত প্রয়োজনীয় চাপসহ নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।


বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ



কপিরাইট © ২০২৬ বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
গ্যাসের চাপ না থাকায় থমকে গেছে কারখানার চাকা
0:00 0:00
1.0x