বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ
Topic Ads 1
রাতে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

রাতে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে আজ রাতে টোকিওর উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকালে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, মেট্রোরেলসহ চলমান অবকাঠামো প্রকল্পের ব্যয় ও ঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়ে আলোচনা, জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী সোমবার ২৬ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত জাপানে অবস্থান করবেন। সফরকালে তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শীর্ষ বৈঠক, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা, শিল্প ও জ্বালানি স্থাপনা পরিদর্শন এবং বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেবেন। সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাবেন। প্রধানমন্ত্রী টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে অবস্থান করবেন। আরও পড়ুনআরও পড়ুনপ্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে একাধিক সমঝোতা স্মারক সইয়ের আশা সফরের প্রথম দিন সোমবার বিকালে প্রধানমন্ত্রী জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগের সভাপতি তারো আসোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এ সময় লিগের জ্যেষ্ঠ সদস্য এবং জাপানের ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী তাতসুনোরি ইবায়াশিও উপস্থিত থাকবেন। একই দিন জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকি এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর পৃথক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সন্ধ্যায় তিনি নিপ্পন ফাউন্ডেশন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের সম্মানসূচক চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়ার দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেবেন। সফরের দ্বিতীয় দিন ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকের আগে তাকে আনুষ্ঠানিক গার্ড অব অনার দেওয়া হবে। শীর্ষ বৈঠক শেষে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর যৌথ সংবাদ সম্মেলন এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বিশেষ করে ঢাকার মেট্রোরেল প্রকল্পের ব্যয় কমানো এবং জাপান থেকে নেওয়া ঋণের সুদের হার হ্রাসের বিষয়গুলো সফরের আলোচনায় গুরুত্ব পাবে। মেট্রোরেল ছাড়াও অন্যান্য অবকাঠামো প্রকল্পের বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এবং নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পগুলো সম্পন্ন করার বিষয়েও আলোচনা হবে। একই দিন প্রধানমন্ত্রী জাপানের চিবা প্রিফেকচারের ফুতসু শহরে জেরা (জেইআরএ)-এর স্থলভিত্তিক তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করবেন। পরে ইচিকাওয়া শহরে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে। সফরের তৃতীয় দিন ২৮ অক্টোবর জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নর কাজুহিকো আমাকাওয়ার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ হবে। পরে তিনি জাপানের তৈরি পোশাক প্রতিষ্ঠান ইউনিক্লোর সদর দপ্তরে প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। একই দিন জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) প্রেসিডেন্ট সুসুমু কাতাওকার সঙ্গে বৈঠক ও তার দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া মিৎসুই অ্যান্ড কোম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশন এবং জেরার প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করবেন তিনি। জাপানের আরও ১৪টি বিশিষ্ট কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে দুটি দলীয় বৈঠকও অনুষ্ঠিত হবে। এসব বৈঠকে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পায়ন, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বিকালে টোকিওর জেট্রো ভবনে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এ ফোরামে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। একই দিন সন্ধ্যায় বাংলাদেশ দূতাবাসে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নবিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরকারীদের সঙ্গে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে টোকিওর হোটেল নিউ ওতানিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে একটি কমিউনিটি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। সফরের শেষ দিন ২৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শিনকানসেন বা বুলেট ট্রেনে টোকিও থেকে নাগোয়া যাবেন। সেখানে তিনি টয়োটা মোটর করপোরেশনের মটোমাচি কারখানা পরিদর্শন করবেন। পরে টয়োটা সুসো করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তোশিমিতসু ইমাইয়ের দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন। নাগোয়ায় টয়োটা কমেমোরেটিভ মিউজিয়াম অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড টেকনোলজিও পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর বুলেট ট্রেনে টোকিও ফিরে নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন। বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে তার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। গত ২০ অক্টোবর বাংলাদেশ ও জাপান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ সফরের ঘোষণা দেয়। পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, সফরে কৃষি, মৎস্যসম্পদ, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসামরিক বিমান পরিবহন, সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হবে। এসব খাতে প্রায় আটটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে তিন থেকে চারটি স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে পৃথকভাবে বেশ কিছু সমঝোতা স্মারক বিনিময়ের কর্মসূচিও রয়েছে। পররাষ্ট্রসচিব বলেন, বাংলাদেশের অগ্রাধিকার অনুযায়ী কারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হবে। এ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশ, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ডিজিটাল উদ্ভাবন ও গবেষণার মতো নতুন ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরিত হওয়ায় দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। আরও পড়ুনআরও পড়ুনপ্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন গতির আশা টোকিওর প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানো, বিনিয়োগসংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং ব্যবসায়িক আস্থা জোরদারের বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাবে। স্বাধীনতার পর থেকে জাপান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। দেশটি ঢাকার মেট্রোরেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও যোগাযোগ প্রকল্পে সহযোগিতা দিয়ে আসছে। স্বাধীনতার পর দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারে বিভিন্ন সময়ে উচ্চপর্যায়ের সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ ও ১৯৮০ সালে জাপান সফর করেন। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও ১৯৯৪ ও ২০০৫ সালে দেশটি সফর করেন। এসব সফরের ধারাবাহিকতায় অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সফরে দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও শান্তিপূর্ণ সমাধান, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি-স্থিতিশীলতা এবং জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতা নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মো. শাকিরুল ইসলাম খানসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা জাপান যাবেন। বিনিয়োগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০২৬-৩১ মেয়াদে জাপানের সঙ্গে ১২টি অগ্রাধিকার খাতে ১৩.৮ বিলিয়ন ডলারের একটি বিনিয়োগ ও সহযোগিতা প্যাকেজের প্রস্তাব প্রস্তুত করছে বাংলাদেশ। প্রস্তাবিত প্যাকেজের কিছু উদ্যোগ বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয় (বিআইজি-বি) উদ্যোগের আওতাভুক্ত। এতে পরিবহণ ও নগর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ৩.৪৫ বিলিয়ন ডলার, মাতারবাড়ীসহ সমন্বিত শিল্প, বন্দর ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র গড়ে তুলতে ৩.১৪ বিলিয়ন ডলার, উৎপাদন ও ইলেকট্রনিকস খাতে ১.৫৭ বিলিয়ন ডলার, জ্বালানি ও সবুজ রূপান্তরে ১.২৬ বিলিয়ন ডলার এবং জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো উন্নয়নে ৯৪০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব রয়েছে। এ ছাড়া কৃষি, ওষুধশিল্প, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, ব্লু ইকোনমি, পর্যটন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পসহ অন্যান্য খাতে ৩.৪৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর: দিল্লির জবাবের অপেক্ষায় ঢাকা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ সফরের জন্য ‘সহায়ক পরিবেশ’ তৈরির বিষয়ে ভারতের অবস্থান জানতে চাইছে ঢাকা। দিল্লির জবাব পাওয়ার পরই এ বিষয়ে বাংলাদেশের পরবর্তী অবস্থান নির্ধারণ করা হবে।ঢাকা ও দিল্লির সরকারি সূত্রগুলো বলছে, শেখ হাসিনার বিষয়ে ভারতের স্পষ্ট অবস্থান জানতে চায় বাংলাদেশ। কারণ, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর আয়োজন এবং দুই দেশের সম্পর্ককে ইতিবাচক পথে এগিয়ে নিতে পারস্পরিক আস্থা গুরুত্বপূর্ণ। আর বর্তমানে ঢাকা-দিল্লির আস্থার সংকটের অন্যতম প্রধান বিষয় দিল্লিতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা।বাংলাদেশের কূটনীতিকদের মতে, শেখ হাসিনার বিষয়ে ভারত তাদের অবস্থান স্পষ্ট করলে দুই দেশের মধ্যে আস্থার সংকট অনেকটাই কমতে পারে। গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে শেখ হাসিনার প্রকাশ্য মতবিনিময়ের ঘটনায় ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন করে যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, তা গত দুই সপ্তাহে বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের মাধ্যমে ভারতকে জানিয়েছে বাংলাদেশ।প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যের বিষয়ে ভারতের উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ।একটি বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ভারতে যাচ্ছেন না—এমন কথা বাংলাদেশ বলেনি। বরং সফরের বিষয়ে ভারতের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষা করা হচ্ছে।তিনি জানান, ভারতের হাইকমিশনার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেন, বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চায় ঢাকা এবং এ বিষয়ে অগ্রগতি জানতে চায়।এ ছাড়া আন্দোলনের পর নির্বাচনের আগে একটি বিশেষ সময়ে শহীদ ওসমান হাদী হত্যার সঙ্গে অভিযুক্ত একজনকে ভারতে গ্রেপ্তারের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। তাকেও বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের দাবি জানানো হয়েছে।সালেহ শিবলী বলেন, এই দুই বিষয়ে ভারতের প্রতিক্রিয়া জানতে চায় বাংলাদেশ। ভারতের জবাবের ওপর প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর কখন হতে পারে, সেটিও অনেকটা নির্ভর করছে। তবে বাংলাদেশ সফর বাতিল করছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারতের প্রতিক্রিয়ার জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। জবাব পাওয়ার পর দুই পক্ষের মধ্যে এ বিষয়ে আরও আলোচনা হবে। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলমান রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর: দিল্লির জবাবের অপেক্ষায় ঢাকা

সরকারের ১৮০ দিনের হানিমুন পিরিয়ড শেষ করেছি: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের ‘হানিমুন পিরিয়ড’ শেষ হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে শিক্ষা খাতের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এখন সেগুলো সমাধানে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।সোমবার (১৭ আগস্ট) আয়োজিত কিউএস বাংলাদেশ ফোরাম ২০২৬ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান আরও উন্নত করা প্রয়োজন। কিউএস র‌্যাংকিং শুধু উন্নত দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সার্কভুক্ত দেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও বিবেচনায় আনা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।তিনি বলেন, ‘কিউএস রেটিং উন্নত দেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শুধু কেন করবে? সার্কভুক্ত দেশের মধ্যে কেন নয়? সেটা করলে আমরাও এগিয়ে থাকতাম।’বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষায় গবেষণা ও পিএইচডি কার্যক্রমের প্রসঙ্গ তুলে শিক্ষামন্ত্রী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কেন এতদিনে পিএইচডি ডিগ্রি চালু করতে পারলেন না? শেষ ২০ বছর আপনারা মুখ বন্ধ করে ছিলেন?’তিনি আরও বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনেক মেধাবী গবেষক রয়েছেন, যারা বিদেশের বিভিন্ন দেশের উন্নয়ন ও গবেষণায় নিজেদের জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগাচ্ছেন। কিন্তু দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা ব্যবস্থায় তাদের যথাযথভাবে কাজে লাগানো যাচ্ছে না।শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও অনেক গবেষক আছেন, যারা অন্য দেশের বিনির্মাণে নিজের জ্ঞান ঢেলে দেন। কিন্তু আমরা তাদের খুঁজে বের করতে পারি না। এটা আমাদের ব্যর্থতা।’তিনি জানান, দেশের গবেষক ও মেধাবীদের খুঁজে বের করে শিক্ষা ও গবেষণার কাজে সম্পৃক্ত করার বিষয়টিতে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি চালু এবং আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান শক্তিশালী করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

সরকারের ১৮০ দিনের হানিমুন পিরিয়ড শেষ করেছি: শিক্ষামন্ত্রী

২০-২৫ আগস্টের মধ্যে ভারত সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২০ থেকে ২৫ আগস্টের মধ্যে ভারত সফরে যেতে পারেন। সফরের সম্ভাব্য তারিখ চূড়ান্ত করতে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে আলোচনা চলছে বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে। সূত্র অনুযায়ী, ২০–২১ অথবা ২১–২২ আগস্ট—এই দুই সময়সীমার একটি সফরের জন্য বিবেচনায় রয়েছে। ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর ঢাকায় ফেরার পর সফরের তারিখ চূড়ান্ত হতে পারে। গত ১০ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী। পরদিন নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি। এর পর থেকেই সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি হবে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর। কূটনৈতিক সূত্রের মতে, দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি বাণিজ্য, জ্বালানি, পানি বণ্টন ও আঞ্চলিক যোগাযোগের বিষয়গুলো সফরে গুরুত্ব পেতে পারে। তবে সফরের তারিখ ও কর্মসূচি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।

২০-২৫ আগস্টের মধ্যে ভারত সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জ্বালানিসহ দেশের প্রতিটি খাতকে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও স্বনির্ভর করতে সরকার বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।শনিবার (৮ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগের অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তের কারণে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সংকট তৈরি হয়েছে। বর্তমান সরকার দেশ ও জনগণকে এ সংকট থেকে বের করে আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট ধীরে ধীরে কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।স্বাস্থ্য খাত প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, সরকারের নীতি হলো ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর’। রোগের কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে মানুষকে শুরু থেকেই সচেতন করা গেলে অনেক রোগ প্রতিরোধ ও নিরাময় সম্ভব। এ লক্ষ্যেই বিদ্যমান চিকিৎসাব্যবস্থার পাশাপাশি আরও এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।তিনি বলেন, এসব স্বাস্থ্যকর্মী জনগণকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে সচেতন করবেন। তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের নেতৃত্ব দিতে হবে।রাজনীতিতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও পেশাজীবীদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রভাব ফেলে। তাই নিজ নিজ মতাদর্শ অনুযায়ী রাজনৈতিকভাবে সচেতন বা সংগঠিত থাকা অযৌক্তিক নয়। তবে অতিমাত্রায় রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যেন পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি না করে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।তিনি আরও বলেন, প্রথাগত রাজনীতির বাইরে এসে রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি।এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হল প্রাঙ্গণে নিম ও অর্জুন গাছের চারা রোপণ করেন। পরে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে চিকিৎসক সমাবেশের উদ্বোধন করেন।সমাবেশে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ড্যাবের নেতাকর্মী ও চিকিৎসকেরা অংশ নেন। ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ডা. জুবাইদা রহমান, সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং ড্যাব মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিলসহ অনেকে বক্তব্য দেন।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী