রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ
Topic Ads 1
লংমার্চের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন বিএনপির, নজরও রাখছে

লংমার্চের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন বিএনপির, নজরও রাখছে

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১১–দলীয় ঐক্যের লংমার্চসহ ধারাবাহিক কর্মসূচির ওপর বিএনপি নজর রাখছে। একইসঙ্গে বিরোধী দলের এমন কর্মসূচির রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতা নিয়ে ক্ষমতাসীন দলটির নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন। বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা জানান, সংসদে ও রাজনৈতিক বক্তব্যে জবাব দিলেও তারা বিরোধী দলের এসব কর্মসূচিকে এখনই বড় কোনো রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করছেন না।  এমনকি পাল্টা কোনো কর্মসূচির কথাও ভাবছেন না বলেও উল্লেখ করেন তারা। সরকারে থেকে বিরোধীদের কর্মসূচির পাল্টা কর্মসূচি দেওয়ার চেয়ে সংশ্লিষ্ট সমস্যার সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে বিএনপির নেতারা জানান, সরকার সেদিকেই মনোযোগ দিচ্ছে। তবে দলের নেতাদের একটি অংশ মনে করেন, জনসম্পৃক্ত ইস্যুতে বিরোধীরা ধারাবাহিকভাবে মাঠে থাকলে তা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। জ্বালানি, বিদ্যুৎ–সংকটসহ বিভিন্ন ইস্যুতে মাঠের কর্মসূচি পালন করছে জামায়াতের নেতৃত্বে বিরোধী দলগুলো। লংমার্চসহ এসব কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারকে চাপে রাখার চেষ্টা করছে তারা।  অপরদিকে বিএনপির কোনো পাল্টা কর্মসূচি নেই। এমতাবস্থায় বিরোধীদের তৎপরতাকে ক্ষমতাসীন দল কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে, সেই প্রশ্নও রাজনৈতিক মহলে উঠেছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমরা বিরোধী দলের লংমার্চ কর্মসূচিকে গণতান্ত্রিক চর্চার একটা অংশ হিসেবে দেখছি। রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করার অধিকার সবার আছে। আমরা এটাকে সেভাবেই দেখছি, এর বেশি কিছু না।’ তবে বিএনপির এই অবস্থানকে জামায়াতে ইসলামী ভিন্নভাবে দেখছে।  দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘বিরোধী দলের কর্মসূচিকে গুরুত্ব না দিলে কি সংসদে প্রতিক্রিয়া দেয়? আমরা মনে করি, সরকারি দলের পাল্টা কর্মসূচি দেওয়ার ক্যাপাসিটি নেই, বিএনপির আগের সেই নৈতিক অবস্থানও নেই।’ জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ–সংকটের সমাধান, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের চেতনা ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে জামায়াতের নেতৃত্বে ১১–দলীয় জোট ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লংমার্চ করে। আজ জোটের রংপুর অভিমুখে লংমার্চ। পর্যায়ক্রমে খুলনা ও সিলেটসহ অন্যান্য বিভাগীয় শহর অভিমুখেও একই কর্মসূচি করার ঘোষণা রয়েছে জোটের। এর আগে, প্রথম দফা লংমার্চের বিভিন্ন পথসভা থেকে সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিরোধী দলের নেতারা। একাধিক পথসভায় জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, দেশে বিদ্যুৎ নেই, গ্যাস নেই, জ্বালানি তেল নেই। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। চারদিকে নাই আর নাই শব্দ। ফেনীর মহিপালের পথসভায় সরকারকে আরও সরাসরি আক্রমণ করে তিনি বলেন, এ সরকার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা শুরু করেছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কারও চোখ রাঙানি সহ্য করব না। আমরা যেখানে বাধা পাব, সেখানে প্রতিরোধ গড়ে তুলব।’ বিরোধীদের এসব বক্তব্য ও কর্মসূচির প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি এখন পর্যন্ত সংসদ ও রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যেই সীমিত থাকছে। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানও লংমার্চের উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এদিকে জ্বালানিসংকটের সমাধানে লংমার্চ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদে বলেন, ‘আমরা দেখলাম, একটি বিশাল গাড়ির লংমার্চ আয়োজন করা হয়েছিল। বাইরে বিভিন্ন মানুষ একটি কথা বলে যে জনগণকে অযথা উত্তেজিত করে অন্য কিছু করার অপচেষ্টা করা হয়েছিল কি না? গাড়ির লংমার্চ করে যদি গ্যাস বা বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান করাই যেত, তাহলে আমরাই সবচেয়ে আগে লংমার্চের আয়োজন করতাম।’ পাশাপাশি বিরোধীদের লংমার্চের সমালোচনা করেছেন সরকারি দলের অন্য নেতারাও। তাদের বক্তব্যে মূলত এই কর্মসূচির যৌক্তিকতা, জ্বালানিসংকটের বাস্তবতা এবং সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়গুলো সামনে আসছে। বিএনপির উচ্চপর্যায়ের নেতাদের ভাষ্য, বিরোধী দলগুলোর ধারাবাহিক কর্মসূচির কারণে এখনই এমন কোনো রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করছেন না, যার জন্য দলকে পাল্টা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামতে হবে। বিরোধীদের কর্মসূচি নজরে রাখলেও রাজপথে একই ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে জবাব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন না তারা। দলটির নেতাদের ধারণা, কর্মসূচি পালন বিরোধী দলের রাজনৈতিক অধিকার। তবে কোনো কর্মসূচির মাধ্যমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হলে বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে সরকার সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। ফলে আপাতত সরকারি কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে বিরোধীদের মোকাবিলার কৌশলেই থাকছে বিএনপি। বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের বক্তব্য ও সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করে রাজনৈতিক কর্মীদের অনেকে মনে করছেন, বিরোধীদের কর্মসূচিকে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে না ক্ষমতাসীন দল। দলটির নেতাদের একটি অংশেরও বক্তব্য, ক্ষমতায় আসার পর বিএনপির রাজনৈতিক অগ্রাধিকার বদলেছে। প্রায় দুই দশক বিরোধী রাজনীতিতে থাকার সময় রাজপথের আন্দোলন ছিল দলের প্রধান রাজনৈতিক হাতিয়ার। এখন সরকার পরিচালনাই প্রধান দায়িত্ব। তাই বিরোধীদের কর্মসূচির জবাবে একই ধরনের কর্মসূচিতে যাওয়ার তাগিদ নেই। তবে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও দ্রব্যমূল্যের মতো জনসম্পৃক্ত ইস্যুতে বিরোধীরা নিয়মিত কর্মসূচি দিতে থাকলে সরকারের রাজনৈতিক ব্যাখ্যা জনগণের কাছে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার প্রয়োজন হতে পারে- বলে দলের ভেতরেই কেউ কেউ মনে করছেন। ক্ষমতায় আসার পর দলীয় সংগঠন কতটা সক্রিয় রয়েছে, সেই প্রশ্নও বিএনপির সামনে আসছে। দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের বড় অংশ ব্যস্ত মন্ত্রিসভা, সংসদ ও প্রশাসনিক কাজে। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে।  এদিকে এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিকভাবে বিএনপি কতটা সক্রিয় হয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিরোধী দলগুলো নিয়মিত কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের রাজনৈতিক উপস্থিতি জানান দেওয়ায় ক্ষমতাসীন দলের সাংগঠনিক তৎপরতার বিষয়টিও আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে।  

নারীদের গোসলের ছবি তোলার জেরে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৫০

হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে নারীদের গোসলের সময় ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। আজ রোববার সকালে উপজেলার পুকড়া ইউনিয়নের কাটখাল গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ সেপ্টেম্বর স্থানীয় বিএনপি নেতা কাজী লুৎফুর রহমানের বাড়ির পেছনের পুকুরে তাঁদের পরিবারের নারীরা গোসল করছিলেন। এ সময় একই গ্রামের বাসিন্দা ও বিএনপি নেতা এজারত মিয়ার পক্ষের দুই ছেলে গোপনে ওই নারীদের ছবি তোলেন। পরবর্তীতে ঘটনাটি কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বিরোধ ও চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এরই জের ধরে রোববার সকালে কাজী লুৎফুর রহমান ও এজারত মিয়ার সমর্থকেরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হন। খবর পেয়ে বানিয়াচং থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিন রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাজমুল হক জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং পুনরায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

নারীদের গোসলের ছবি তোলার জেরে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৫০

পবিত্র কাবা শরীফকে সাক্ষী রেখে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিলেন বিএনপি নেতা

সৌদি আরবে পবিত্র কাবা শরীফের সামনে দাঁড়িয়ে কাবা শরীফকে সাক্ষী রেখে বিএনপির রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন মো. সাদ্দাম হাওলাদার নামে এক বিএনপি নেতা। সাদ্দাম হাওলাদার বর্তমানে জিয়া সাইবার ফোর্সের বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি। একইসঙ্গে বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সাংগঠনিক পদ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকেও পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। সোমবার (৩১ আগস্ট) নিজের ফেসবুক আইডি থেকে পবিত্র কাবা শরীফকে সাক্ষী রেখে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ার একটি ভিডিও পোস্ট করেন তিনি। একইসঙ্গে ওই ভিডিও'র কমেন্টে দীর্ঘ একটি স্ট্যাটাস লিখে বিএনপির রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দেন তিনি।যেটি মুহুর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়েছে। তবে হঠাৎ করে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির রাজনীতি ছাড়ার এমন সিদ্ধান্তের পিছনে কোন রহস্য রয়েছে কিনা, সেই ব্যাপারে সাদ্দাম হোসেনের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তিনি সৌদি আরবে অবস্থান করায় কোন বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। ফেসবুক পোস্টে মো. সাদ্দাম লিখেন, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। প্রিয় বাংলাদেশ, প্রিয় মাতৃভূমি, প্রিয় জন্মভূমি বরিশালের গৌরনদী-আগৈলঝাড়াবাসী আপনারা সবাই কেমন আছেন। আশা করি সকলে ভালো আছেন, আমিও আল্লাহর অশেষ রহমতে ও আপনাদের দোয়া এবং ভালোবাসায় অনেক ভালো আছি। শুকরিয়া আলহামদুলিল্লাহ্।  আপনারা সকলেই অবগত আছেন যে, বাংলাদেশের বৃহত্তম দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সঙ্গে দীর্ঘদিন যাবত আমি, আমার পরিবার বাবা ও চাচাসহ বংশের ৯০% সকলেই এই দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম। আমি, মো. সাদ্দাম হাওলাদার, জাতীয় উপ-নির্বাচন কমিটির (সাবেক) সদস্য ও ৪নং মডেল গৈলা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক প্রার্থী ও একজন একটিভ সদস্য এবং বর্তমানে আগৈলঝাড়া উপজেলা জিয়া সাইবার ফোর্সের সহ-সভাপতি দায়িত্বরত অবস্থায় আছি।  বিএনপির এই নেতা বলেন, আপনারা সকলেই জানেন, বর্তমানে আমি একজন সৌদি প্রবাসী ও রেমিটেন্সযোদ্ধা, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতি প্রেক্ষাপটে আমার দ্বারা রাজনীতি করা সম্ভব নয়। আমরা বই পুস্তকে পড়েছিলাম রাজনীতি হল জনগণের সেবা করা, এখন দেখছি ভিন্ন হাজারও কথা/অভিযোগ থাকলেও দলের প্রতি আমার বিন্দু পরিমাণ কোন অভিযোগ নেই। আমি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ভালোবাসি, ভালোবাসি দেশ নায়ক তারেক রহমানের সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকে, ভালোবাসি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে।  আমি কোন বড় রাজনীতিবিদ না বা ত্যাগী নেতাকর্মী নয় ,আমার চাইতে হাজারও লক্ষ কোটি নেতাকর্মী এখন দলের কাছে বোঝা ও অবহেলিত। তাই আমি স্ব-সম্মানে সজ্ঞানে বাংলাদেশ নামক সকল রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছি এবং পদত্যাগ করলাম। আজকের পর থেকে আমি কোন দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় জানিয়ে সাদ্দাম বলেন, আল্লাহতায়ালার ঘর পবিত্র কাবা শরীফকে সামনে রেখে তওবা করলাম, সকলে আমার জন্য দোয়া করবেন এবং আমার রাজনৈতিক জীবনে যদি জানা/অজানা কাউকে বিন্দু পরিমাণ কষ্ট দিয়ে থাকি তাহলে আমাকে আপনাদের কারও ছেলে, ভাই, বন্ধু বা সন্তান হিসেবে ক্ষমা করে দিবেন। আমি সকলের কাছে বিনয়ের সঙ্গে মাফ চাই। সবশেষে বিশেষ দ্রষ্টব্য দিয়ে তিনি লিখেন, রাজনীতি ছিল আমার আবেগ ও মনের খোড়াক, ভেবে ছিলাম জনগণের সেবা করবো। তবে সেটা রাজনীতি দিয়ে হইলো না, তবে রাজনীতির বাইরে ওযে মানব সেবা করা যায়, সেটা আমি সাদ্দাম প্রমাণ করে দিবে আল্লাহভরসা। বিগতদিনে যেমন অসহায় হতদরিদ্র মানুষের পাশে সর্বদা ছিলাম, ভবিষ্যতে আমার সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ। এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোল্লা বশির আহমেদ পান্না বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তাছাড়া সাদ্দাম হাওলাদার কর্মের সুবাধে দীর্ঘদিন থেকে সৌদি আরবে রয়েছেন। কারও সাথে কোন ধরনের বিরোধ থেকে সাদ্দাম হাওলাদার ক্ষোভের কারণে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কিনা সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তিনি আরও বলেন, পাশাপাশি সাদ্দাম হাওলাদার লিখিতভাবে কোন পদত্যাগপত্র না পাঠিয়ে কি কারণে ফেসবুকে ভিডিও ছেড়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছেন, সে ব্যাপারেও খোঁজখবর নিয়ে বিস্তারিত বলা যাবে।        

পবিত্র কাবা শরীফকে সাক্ষী রেখে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিলেন বিএনপি নেতা

৪৫ বছর পর মিলল মোজাফফরের ফোনে জিয়া হত্যার নতুন তথ্য

শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে নতুন তথ্য পাওয়া গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন তদন্তের দায়িত্ব পাওয়া বিশেষ প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা। হত্যাকাণ্ডের স্থান পরিদর্শন করে তিনি জানান, এবার অনেক অমীমাংসিত রহস্যের সুরাহা হবে। আর এসব ঘটনায় তাদের পথ দেখাচ্ছে মোজাফফরের ফোন। গত ১৫ জুলাই রাতে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যায় জড়িত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ৪৫ বছর ধরে পলাতক ছিলেন। ঐতিহাসিক বিভিন্ন বর্ণনা অনুযায়ী, ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জিয়াউর রহমান হত্যার সময় তার কাছেই উপস্থিত ছিলেন মোজাফফর। ঘটনার পর ওই কক্ষে নথিপত্র তল্লাশি এবং মরদেহ সরানোর কাজে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। তিনি গ্রেপ্তার হওয়ার পর কিছু অমীমাংসিত প্রশ্নের উত্তর খোঁজা শুরু হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে কার কী ভূমিকা ছিল, তা জানতে অনুসন্ধান চলছে। খোঁজা হচ্ছে ডিজিটাল এভিডেন্সও। চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসসহ বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করে নতুন কিছু তথ্য পাওয়ার দাবি করেছেন তদন্তের দায়িত্বে থাকা বিশেষ প্রসিকিউটর। জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্তের দায়িত্ব পাওয়া বিশেষ প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা বলেন, জিয়াউর রহমানের মৃত্যুটা নিয়ে কিন্তু এখনো অনেক রহস্য রয়েছে। সে রহস্য উন্মোচনের ক্ষেত্রে মোজাফফর আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। কারণ, তার সঙ্গে দেশের ভেতর এবং দেশের বাইরের বেশ কিছু লোকের যোগাযোগ আমরা পেয়েছি। তারা আসলে কেউ রাষ্ট্রীয় কোনো ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কি না, কেনইবা এতদিন পর মোজাফফরের সঙ্গে তারা যোগাযোগ করেছেন এবং কীভাবে মোজাফফর বাংলাদেশে প্রবেশ করল, কোন কারণে তিনি প্রবেশ করেছেন, কার পৃষ্ঠপোষকতায় তিনি থেকেছেন, কার ছত্রচ্ছায়ায় তিনি ব্যাংকে বিভিন্ন লেনদেন করেছেন সবকিছুই আমরা তদন্তের আওতায় আনছি। জিয়াউর রহমান খুন হওয়ার পর সেনানিবাসে ফিরে আসা কর্মকর্তাদের মধ্যে দৃশ্যমান উচ্ছ্বাস ছিল। সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী ছিলেন মেজর জেনারেল মঞ্জুর। গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাকে পুলিশ হেফাজত থেকে সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত কে দিয়েছিল, সে প্রশ্নেরও উত্তর খোঁজা হচ্ছে। জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্তের দায়িত্ব পাওয়া বিশেষ প্রসিকিউটর আরও বলেন, কেন তৎকালীন প্রশাসক তাকে সেনা হেফাজতে নিয়েছিলেন, কোন আইনের বলে যেহেতু এটা একটি সিভিল হত্যাকাণ্ড, সিভিল এলাকায় মৃত্যু সংঘটিত হয়েছে পুলিশের হেফাজতে থাকা একজন সেনা কর্মকর্তাকে কারা নিয়ে গেল এবং পরবর্তীতে তার মৃত্যুর খবর সেখানে কীভাবে নিশ্চিত করা হলো, তার পোস্টমর্টেম কে করেছিলেন এবং সেখানে যে গুলি করা হয়েছিল, সেই তথ্য থাকলেও কমিশন তা নির্ণয় করতে পারেনি। আসলে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে কে গুলি করেছিল এবং মঞ্জুর কীভাবে নিহত হয়েছিলেন, সে বিষয়টি এখনো অমীমাংসিত। তিনি বলেন, তবে আশা করি, সেই সময়কার জীবিত যেসব সেনা কর্মকর্তা রয়েছেন অথবা তার ইমিডিয়েট জুনিয়ররা যারা রয়েছেন, সেই সঙ্গে গোয়েন্দা ও অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে রিপোর্টগুলো রয়েছে সবকিছুর সমন্বয়ে আমরা হয়তো এই মৃত্যুর কারণ কী ছিল, তা বের করতে পারব। এই ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তারা কী চেয়েছিল, সেটিও তদন্ত করা হবে। তিনি আরও বলেন, আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রেসিডেন্টের পক্ষে একটি সিক্রেট পেপার তারা খোঁজার চেষ্টা করেছিল এ মর্মে আমরা কিছু তথ্য পেয়েছি। সেই সিক্রেট পেপারটি আসলে কী এবং তাকে হত্যা করার পর সে বিষয়টি নিয়ে কেন তাদের এত আগ্রহ ছিল, সেটিও আমরা তদন্ত করছি। হত্যাকাণ্ডে লেফটেন্যান্ট মোসলেহ উদ্দিন, মেজর ফজলুল হক, ক্যাপ্টেন সালাউদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ মো. মুনির এবং ক্যাপ্টেন মো. ইলিয়াসের সম্পৃক্ততাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এই প্রসিকিউটর। সূত্র: চ্যানেল টুয়েন্টিফর

৪৫ বছর পর মিলল মোজাফফরের ফোনে জিয়া হত্যার নতুন তথ্য

সপ্তাহখানেকের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে: রিজভী

সপ্তাহখানেকের মধ্যেই দেশে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে আশাবাদ জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতিকে বৈশ্বিক সংকট হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘দেশে চলমান বিদ্যুৎ-জ্বালানি পরিস্থিতি একটি বৈশ্বিক সংকট। তবে সরকার হাত গুটিয়ে বসে নেই।’ গ্যাসের সরবরাহ প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশাবাদী। সরকার ও দল হিসেবে বিএনপি একে অপরের সহযোগী বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রিজভী বলেন, চ্যালেঞ্জ ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে সরকারের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তিনি দ্রুত সব ধরনের সংকটের সমাধান হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

সপ্তাহখানেকের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে: রিজভী

জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানালেন নতুন রাষ্ট্রপতি

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (২১ আগস্ট) জুমার নামাজের পর তিনি শ্রদ্ধা জানান বলে জানিয়েছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান। আরও পড়ুনআরও পড়ুনসন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির শপথ নেবেন মির্জা ফখরুল তিনি বলেন, নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে শপথ নেওয়ার আগেই জুমার নামাজের পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, সুরা ফতেহা পাঠ ও মোনাজাত করেছেন।

জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানালেন নতুন রাষ্ট্রপতি

অপেক্ষার প্রহর শেষ হচ্ছে কাল, রাষ্ট্রপতি পদে আগাম নাম প্রকাশ করবে না বিএনপি

বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছেন। ইতোমধ্যে মনোনীত প্রার্থীর সম্মতিপত্রে মির্জা ফখরুল স্বাক্ষর করেছেন বলেও সূত্রটি জানিয়েছে।তবে বিএনপি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল ৪টা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। এরপরই বিএনপির প্রার্থিতা আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট হবে।দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপির স্থায়ী কমিটি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষমতা দলের চেয়ারম্যানের ওপর ন্যস্ত করেছে। এ কারণে আগেভাগে প্রার্থীর নাম প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।এদিকে বিএনপির পক্ষে নির্বাচন কমিশন থেকে দুটি পৃথক মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। একই প্রার্থীর সমর্থনে একাধিক মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ থাকায় কৌশলগত কারণেই একাধিক ফর্ম সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।অন্যদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থনপুষ্ট ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নাম ইতোমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের বিশেষ অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটে দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার কথা রয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে অন্য কোনো প্রার্থীকে ভোট দিলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের পদ বাতিল হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধান হুইপ।

অপেক্ষার প্রহর শেষ হচ্ছে কাল, রাষ্ট্রপতি পদে আগাম নাম প্রকাশ করবে না বিএনপি

আমার সহধর্মিণী আমার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি: মির্জা ফখরুল

নিজের স্ত্রী রাহাত আরা বেগমকে জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাজনৈতিক জীবনের নানা কঠিন সময়ে স্ত্রীর সাহস, ত্যাগ ও সহযোগিতার কথাও স্মরণ করেছেন তিনি।সম্প্রতি একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া ভিডিও সাক্ষাৎকারে পারিবারিক জীবন ও রাজনীতিতে স্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন মির্জা ফখরুল।স্ত্রী সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমার সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম আমার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি। আমি আল্লাহর কাছে সবসময় শুকরিয়া আদায় করি। আমি খুব ভাগ্যবান যে তার সঙ্গে আমার বিয়ে হয়েছিল। তিনি আমার জীবনসঙ্গী হয়েছেন।’মির্জা ফখরুল জানান, বিয়ের পর থেকেই তার কর্মজীবনে বিভিন্ন জায়গায় বদলি ও পদায়ন হয়েছে। পরে তিনি রাজনীতিতে যুক্ত হন। ফলে তার জীবন অনেকটা অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে চলেছে। এই সময়ে স্ত্রী তাকে সবসময় সহযোগিতা করেছেন।তিনি জানান, তার স্ত্রী দীর্ঘদিন একটি বীমা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন। চাকরির পাশাপাশি সন্তানদের পড়াশোনা ও পরিবারের দায়িত্বও সামলাতে হয়েছে তাকে। মেয়েদের হলিক্রস স্কুলে পড়ানোর সময় পরিবারের সদস্যদের গণপরিবহনে যাতায়াতসহ নানা ধরনের কষ্ট করতে হয়েছে।মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তিনি নিজে চাকরি করেছেন, দীর্ঘদিন ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে কাজ করেছেন। তার চেষ্টাতেই আমার মেয়েরা লেখাপড়া শিখেছে। হলিক্রসে পড়াশোনা করেছে এবং অনেক কষ্ট করেছেন। আমার মেয়েরা ও আমার স্ত্রী টেম্পোতে যাতায়াত করত। এই কষ্টটা তিনি অনেক করেছেন।’রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন সংকটময় সময়েও স্ত্রীর দৃঢ়তার কথা তুলে ধরেন বিএনপির এই নেতা। তিনি জানান, রাজনৈতিক কারণে পুলিশ তাকে নিয়ে যাওয়ার সময়ও স্ত্রী সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন।মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রত্যেকটা বিপদের সময় উনি সাহস করে দাঁড়াতেন। আমাকে যখন পুলিশ নিয়ে যাচ্ছে, তখন উনি খুব সাহস করে আমার ব্যাগ গুছিয়ে দিয়েছেন। ২০২৩ বা ২০১৪ সালের দিকে এক রাতে পুলিশ রেইড করল। উনি বললেন, আমি দরজা খুলব না। ভোর হওয়ার আগে পর্যন্ত আমি দরজা খুলব না। ইতোমধ্যে মিডিয়াতে খবর দেওয়ায় মিডিয়ার লোকজন চলে এসেছে। পরে ভোরবেলা উনি দরজা খুলেছেন, আমাকে পুলিশ নিয়ে গেছে।’স্ত্রীর এমন সাহসিকতার প্রশংসা করে মির্জা ফখরুল বলেন, রাজনীতি করার কারণে স্ত্রী কখনো তার ওপর বিরক্ত হননি। বরং প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তিনি সবসময় পাশে থেকেছেন।দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নানা চড়াই-উতরাইয়ে স্ত্রীর সহযোগিতা ও ত্যাগের মূল্য অনেক বলেও উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল।

আমার সহধর্মিণী আমার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি: মির্জা ফখরুল

লাল ফিতা কেটে বাঁশের সাঁকো উদ্বোধন করলেন বিএনপি নেতা

বরিশালের উজিরপুর পৌরসভায় স্থানীয়দের উদ্যোগে নির্মিত একটি অস্থায়ী বাঁশের সাঁকো আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছেন পৌর বিএনপির সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম খান। লাল ফিতা কাটা, ঢোল-বাদ্য এবং মিষ্টি বিতরণের মধ্য দিয়ে সাঁকো উদ্বোধনের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উজিরপুর পৌরসভার ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের চলাচলের সুবিধার্থে নিজেদের অর্থায়নে প্রায় ২০০ ফুট দীর্ঘ সাঁকোটি নির্মাণ করা হয়েছে। সাঁকো তৈরিতে বাঁশের পাশাপাশি সুপারিগাছও ব্যবহার করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার বিকেলে সাঁকো উদ্বোধনের সময় স্থানীয়রা ফুল ও বেলুন দিয়ে আশপাশের এলাকা সাজান। আয়োজন করা হয় ঢোল-বাদ্যের। পাশাপাশি বয়াতিদের গান পরিবেশনের ব্যবস্থাও ছিল। পরে অনুষ্ঠানে উপস্থিত নারী-পুরুষদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।সাঁকো উদ্বোধনের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে। অনেকে ঘটনাটিকে ‘উন্নয়নের নামে লোকদেখানো প্রদর্শনী’ হিসেবে মন্তব্য করে প্রশ্ন তুলেছেন—যোগাযোগের মতো মৌলিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান না করে একটি অস্থায়ী বাঁশের সাঁকো নির্মাণে দীর্ঘমেয়াদি ভোগান্তি কতটা কমবে।অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের নিজেদের অর্থায়নে অর্থ সংগ্রহ করে সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগকে প্রশংসা করেছেন অনেকে। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের চলাচলের সমস্যা সাময়িকভাবে হলেও কমাতে এলাকাবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগটি ইতিবাচক।বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে উজিরপুর পৌর বিএনপির সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম খান বলেন, ‘সাঁকোটি উদ্বোধনের জন্য আগাম কোনো প্রস্তুতি আমার জানা ছিল না। এলাকার নারী-পুরুষ ও শিক্ষার্থীরা চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়ছিলেন। এ কারণে স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে সুপারিগাছ ও বাঁশ দিয়ে সাঁকোটি তৈরি করেন।’তিনি আরও বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বিকেলে স্থানীয়রা জড়ো হয়ে আমাকে সেখানে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে উপস্থিত দেড় থেকে দুই শত মানুষ লাল ফিতা ধরে আমাকে কাটার অনুরোধ করলে আমি তা করি। এর মধ্যেই গান-বাজনা ও মিষ্টি বিতরণের আয়োজন করা হয়। পুরো বিষয়টিই এলাকাবাসীর উৎসাহে হয়েছে।’তবে স্থানীয়দের দীর্ঘমেয়াদি চলাচলের সমস্যা সমাধানে একটি স্থায়ী সেতু বা উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

লাল ফিতা কেটে বাঁশের সাঁকো উদ্বোধন করলেন বিএনপি নেতা

আপনি কি গুপ্ত আওয়ামী লীগ, জবাবে যা বললেন রুমিন ফারহানা

সাংবাদিক ও উপস্থাপক খালেদ মুহিউদ্দীনের ‘ঠিকানা’ টকশোতে আওয়ামী লীগের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ নিয়ে কথা বলেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তাকে ‘গুপ্ত আওয়ামী লীগ’ বলা হচ্ছে—এমন প্রশ্নের সরাসরি জবাব দিয়ে রুমিন বলেন, তিনি আওয়ামী লীগ করেন না।সম্প্রতি আওয়ামী লীগ ঘেঁষা বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে টকশোতে খালেদ মুহিউদ্দীন রুমিন ফারহানার কাছে জানতে চান, তিনি গোপনে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন কি না।জবাবে রুমিন বলেন, ‘না, আমি আওয়ামী লীগ করি না; অবশ্যই আমি আওয়ামী লীগ করি না।’আলোচনায় খালেদ মুহিউদ্দীন বলেন, গত এক বছরে রুমিন ফারহানার বক্তব্য পছন্দ করা অনেকের মধ্যেই এমন অভিযোগ তৈরি হয়েছে যে, তিনি আওয়ামী লীগকে বাঁচিয়ে রাখছেন এবং আওয়ামী লীগের ন্যারেটিভ ধরে রাখার কাজ করছেন।এর জবাবে রুমিন ফারহানা বলেন, যদি এসব অভিযোগ সত্য ধরেও নেওয়া হয়, তাহলে তিনি নিজেকে ‘লাইফ সেভিং মেশিন’-এর সঙ্গে তুলনা করবেন। তার ভাষায়, বিএনপি যখন ‘আইসিইউতে’ থাকে, তখন তিনি বিএনপিকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন; আবার আওয়ামী লীগ যখন ‘আইসিইউতে’ থাকে, তখন আওয়ামী লীগকেও বাঁচানোর চেষ্টা করেন।রুমিন বলেন, ‘যখন আপনার প্রতিপক্ষের হাত থেকে তলোয়ার পড়ে যাবে, তখন তাকে আঘাত করা সবচেয়ে বড় কাপুরুষের কাজ। আমি আপনাকে তখনই বীর বলব, যখন আপনার প্রতিপক্ষ সর্বোচ্চ শক্তিশালী অবস্থায় থাকা অবস্থায় তাকে আঘাত করবেন।’আওয়ামী লীগ ক্ষমতাবান থাকা অবস্থায় যারা তাদের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন, তাদের প্রসঙ্গও টানেন তিনি। রুমিনের মতে, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অন্যায় হলে তার রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে প্রতিবাদ করা উচিত।আলোচনায় আওয়ামী লীগের অতীত কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে খালেদ মুহিউদ্দীন প্রশ্ন করেন, আওয়ামী লীগ যদি দীর্ঘদিন অন্যায় করে থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে অন্যায় পদ্ধতি ব্যবহার করে প্রতিবাদ করা কেন হবে না।জবাবে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘ঘৃণার পালটা ঘৃণা যখন আপনি শুরু করবেন, তখন ঘৃণার চাষের বাইরে আপনি কিছু দেখবেন না।’তিনি বলেন, কেউ যদি আওয়ামী লীগের চেয়ে ভালো হওয়ার দাবি করে, তাহলে আওয়ামী লীগের করা একই ধরনের কাজ পুনরায় করা উচিত নয়। অন্যায়, মামলা ও রাজনৈতিক হয়রানির বিরোধিতা করতে হলে তা সবার ক্ষেত্রেই সমানভাবে করতে হবে।রুমিন ফারহানা বলেন, ব্যক্তি দেখে প্রতিবাদের সিদ্ধান্ত নিলে সেটি ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নয়। তার ভাষায়, ‘যখন আমি ব্যক্তি দেখে প্রতিবাদ বেছে নিই, তার মানে আমি আসলে ন্যায়কে সমর্থন করি না।’টকশোর আলোচনায় তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কারও প্রতি অন্যায় হলে তার প্রতিবাদ করা তার কাছে নীতিগত অবস্থানের বিষয়। একই নীতি সব রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

আপনি কি গুপ্ত আওয়ামী লীগ, জবাবে যা বললেন রুমিন ফারহানা

ক্ষমতার পালাবদলে বিএনপিও একই চরিত্র দেখাচ্ছে: সারজিস

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘ ১৬ বছর নিপীড়নের শিকার হওয়ার পরও ক্ষমতার পালাবদলের পর বিএনপি আগের সরকারের মতো একই ধরনের আচরণ শুরু করেছে।বুধবার (৫ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে সাবেক এনসিপি নেতা গাজী সালাউদ্দিন তানভীরের গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি এ মন্তব্য করেন।সারজিস আলম জানান, হবিগঞ্জ ও সিলেটে হামলার ঘটনা এবং আলিফ নামে এক ব্যক্তির চোখ নষ্ট হওয়ার ঘটনার পর গাজী সালাউদ্দিন তানভীর ফেসবুকে তারেক রহমানকে নিয়ে একটি পোস্ট করেছিলেন। বিষয়টি জানার পর এনসিপির পক্ষ থেকে তাকে জানানো হয়, এ ধরনের মন্তব্য দল সমর্থন করে না। পরে তিনি পোস্টটি মুছে ফেলেন এবং আরেকটি পোস্টে দুঃখ প্রকাশ করে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না বলে আশ্বাস দেন।তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার জেরে দলীয়ভাবে তানভীরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয় এবং সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপরও বগুড়া জেলা বিএনপির এক নেতার করা মামলায় বুধবার ভোর ৪টার দিকে ঢাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করেন সারজিস।ফেসবুক পোস্টে সারজিস আলম লেখেন, ‘একজন মানুষ একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পোস্ট করেছিল। পরে সেটি মুছে ফেলে প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করেছে, ভবিষ্যতে এমন কিছু না করার অঙ্গীকার করেছে। দলীয়ভাবেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এরপরও তাকে গ্রেপ্তার করা হলো। এটি ক্ষমতার প্রদর্শন ছাড়া আর কিছু নয়।’তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত দুই বছরে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের অনেক নেতাকর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এনসিপিকে নিয়ে নানা ধরনের আপত্তিকর মন্তব্য করলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।সবশেষে সারজিস আলম দাবি করেন, ‘যে জুলুমের শিকার হয়ে বিএনপি ১৬ বছর কাটিয়েছে, এখন ক্ষমতার পালাবদলের পর তারাও একই চরিত্রের পরিচয় দিচ্ছে। অথচ রড দিয়ে আঘাত করে ছাত্রদলের যে সন্ত্রাসীরা আলিফের চোখ নষ্ট করেছে, তাদের একজনকেও এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়নি।’

ক্ষমতার পালাবদলে বিএনপিও একই চরিত্র দেখাচ্ছে: সারজিস