দুই মাসের ছুটি শেষে আবারও দুবাইয়ে কর্মস্থলে ফিরছিলেন প্রবাসী লিটন। তাকে বিদায় জানাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মাইক্রোবাসে করে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন তার স্ত্রী মমতাজ বেগম। কিন্তু সেই বিদায়যাত্রাই পরিণত হয় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার কুসুমপুর বউবাজার এলাকায় একটি নোয়া মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন মমতাজ বেগম (৩৫)। আহত হন তার স্বামীসহ আরও ১০ জন স্বজন।
নিহত মমতাজ বেগম মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার নাহাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং প্রবাসী লিটনের স্ত্রী। আহতদের মধ্যে রয়েছেন লিটন (৪০), তার দুই মেয়ে, এক ছেলে, আত্মীয়-স্বজন ও মাইক্রোবাস চালক। গুরুতর আহত পাঁচজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুর ১২টার দিকে পরিবারের সদস্যরা মাইক্রোবাসে করে বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হন। সিরাজদিখানের কুসুমপুর বউবাজার এলাকায় পৌঁছালে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধারকাজ চালিয়ে আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মমতাজ বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন ইমরান জানান, আহতদের মধ্যে লিটনের মা আলেয়া বেগম ও ভাইয়ের স্ত্রী ফরিদা বেগমের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, খবর পেয়ে সিরাজদিখান ফায়ার স্টেশনের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। পরে আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
সিরাজদিখান থানার ওসি মো. আলাউদ্দিন বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বর্তমানে ওই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
স্বামীকে বিদায় জানাতে গিয়ে স্ত্রীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যু এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।